Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

News Title ভারতের মহাকাশ পর্যটনে নতুন যুগের সূচনা ইসরোর স্পেস হোটেল গগন বিহারী উদ্বোধন এবং সাধারণ মানুষের মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন আজ সকালে ইসরো তাদের প্রথম স্পেস হোটেল গগন বিহারী এর সফল উৎক্ষেপণ করল এই হোটেলটি সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশ ভ্রমণের দরজা খুলে দিয়েছে এখন আর মহাকাশচারী হওয়ার দরকার নেই টিকিট কেটেই যে কেউ পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসতে পারবেন এবং শূন্য অভিকর্ষের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন  

মানুষের মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে আজকের দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ আজ বাস্তবায়িত হলো ভারতের মাটিতে এতদিন আমরা জানতাম মহাকাশ ভ্রমণ ছিল কেবল কঠোরভাবে প্রশিক্ষিত মহাকাশচারী এবং গুটিকয়েক অতি ধনী কোটিপতিদের একচেটিয়া অধিকার সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন কেবল কল্পবিজ্ঞানের পাতা বা হলিউড সিনেমার রূপোলি পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু আজ ভারতের গর্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো সেই প্রাচীন ধারণাকে চিরতরে বদলে দিল আজ সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক রকেট বাহুবলী মার্ক ৪ এর মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে সফলভাবে পাঠানো হলো ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্পেস হোটেল যার নাম দেওয়া হয়েছে গগন বিহারী এই হোটেলটি সাধারণ মানুষের জন্য মহাকাশ পর্যটনের এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এখন আর বছরের পর বছর ধরে কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই একটি সাধারণ এবং প্রাথমিক মেডিকেল টেস্ট পাস করলেই যে কেউ মহাকাশে গিয়ে ছুটি কাটিয়ে আসতে পারবেন এটি কেবল একটি মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ নয় এটি হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য মহাকাশকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

গগন বিহারী স্পেস হোটেলটি পৃথিবীর মাটি থেকে ঠিক চারশো কিলোমিটার ওপরে লো আর্থ অরবিট বা নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে অত্যন্ত সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এটি আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মতোই প্রতিদিন পৃথিবীকে নির্দিষ্ট গতিতে প্রদক্ষিণ করবে তবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সাথে এর গঠনগত অনেক পার্থক্য রয়েছে গগন বিহারী হোটেলটি দেখতে অনেকটা বিশাল এক সাইকেলের চাকার মতো যা নিজের অক্ষের ওপর ক্রমাগত ঘুরতে থাকবে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এই ঘূর্ণনের ফলে হোটেলের ভেতরের দিকে একটি কৃত্রিম অভিকর্ষ বল বা আর্টিফিশিয়াল গ্র্যাভিটি তৈরি হবে যার ফলে পর্যটকরা হোটেলের মেঝেতে একদম পৃথিবীর মতোই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা দৌড়াতে পারবেন শূন্য অভিকর্ষে দীর্ঘক্ষণ থাকলে মানুষের শরীরের হাড় ও পেশির যে ক্ষয়ক্ষতি হয় এই কৃত্রিম অভিকর্ষ তা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করবে এবং মহাকাশে থাকার সময় পর্যটকদের শারীরিক কোনো সমস্যা বা মোশন সিকনেস হবে না তবে ইসরোর বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের রোমাঞ্চের কথা মাথায় রেখে হোটেলের ঠিক মাঝখানের অংশে একটি বিশেষ জিরো গ্র্যাভিটি জোন বা শূন্য অভিকর্ষ অঞ্চল তৈরি করেছেন যেখানে পর্যটকরা পাখির মতো ভেসে থাকার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন এবং শূন্যে ডিগবাজি খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন

এই বিশালাকায় স্পেস হোটেলটিতে একসঙ্গে কুড়ি জন পর্যটক এবং পাঁচ জন বিশেষ ক্রু মেম্বার অত্যন্ত বিলাসবহুলভাবে থাকতে পারবেন হোটেলের প্রতিটি ঘরে বিশাল বিশাল প্যানোরামিক জানলা রয়েছে যা বিশেষ ধরনের পলিকার্বোনেট কাঁচ দিয়ে তৈরি এই জানলাগুলোর মাধ্যমে পর্যটকরা নিজেদের বিছানায় শুয়ে পৃথিবীর অপূর্ব নীল রূপ সাদা মেঘের আস্তরণ এবং মহাকাশের অসীম অনন্ত অন্ধকার দেখতে পাবেন যখন স্পেস হোটেলটি পৃথিবীর অন্ধকার দিক দিয়ে যাবে তখন পর্যটকরা মহাকাশের কোটি কোটি তারার উজ্জ্বল মেলা এমনভাবে দেখতে পাবেন যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের নিচ থেকে কোনোদিনও দেখা সম্ভব নয় হোটেলের প্রতিটি ঘরেই থাকবে ফাইভ স্টার হোটেলের মতো বিলাসবহুল বিছানা অত্যাধুনিক স্পেস বাথরুম এবং বিনোদনের সমস্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা ঘরের তাপমাত্রা আলো এবং অক্সিজেনের মাত্রা এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং পর্যটকরা তাদের ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন

হোটেলের ভেতরে পর্যটকদের খাওয়াদাওয়ার জন্য একটি অসাধারণ স্পেস রেস্তোরাঁ থাকবে যেখানে পৃথিবীর বিখ্যাত সব খাবার পাওয়া যাবে তবে মহাকাশে খাবার খাওয়ার পদ্ধতি পৃথিবীর থেকে অনেকটাই আলাদা হবে পর্যটকদের জন্য ভারতের ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবরেটরি বিশেষ ধরনের প্যাকেটজাত খাবার এবং পানীয় প্রস্তুত করেছে যা শূন্য অভিকর্ষেও খুব সহজে খাওয়া যায় এখানে স্পেস বিরিয়ানি স্পেস রসগোল্লা থেকে শুরু করে কন্টিনেন্টাল খাবার সবই পাওয়া যাবে খাবারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সেগুলোতে জলের পরিমাণ কম থাকে এবং পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকে একটি বিশেষ ধরনের হিটিং চেম্বারে খাবার গরম করে পর্যটকদের পরিবেশন করা হবে এবং জলের ফোঁটা বাতাসে ভাসিয়ে তা পান করার এক অদ্ভুত সুন্দর অভিজ্ঞতা পর্যটকরা এই রেস্তোরাঁয় পাবেন

গগন বিহারী তে থাকার খরচ নিয়ে সারা দেশের সাধারণ মানুষের মনেই প্রবল কৌতূহল এবং প্রশ্ন জাগছে মহাকাশ পর্যটন সাধারণত অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি বিষয় হলেও ইসরো জানিয়েছে তাদের মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশ ভ্রমণকে ধীরে ধীরে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসা বর্তমানে সাত দিনের একটি কমপ্লিট ট্যুর প্যাকেজের খরচ পড়বে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে মহাকাশে যাওয়া আসা হোটেলে থাকা সমস্ত বেলার খাবার স্পেস স্যুট ভাড়া এবং মহাকাশের সমস্ত বিনোদনমূলক অ্যাক্টিভিটির খরচ ইসরো ইতিমধ্যেই একটি ডেডিকেটেড স্পেস টুরিজম কোম্পানি খুলেছে যার মাধ্যমে আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনেই তাদের টিকিট বুক করতে পারবেন এই বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম ব্যাচের জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে যা প্রমাণ করে মানুষের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে কতটা প্রবল উন্মাদনা রয়েছে অনেক ব্যাংক এখন স্পেস ট্যুরিজম লোন বা মহাকাশ ভ্রমণের জন্য বিশেষ ঋণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে

পৃথিবী থেকে পর্যটকদের মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরো একটি বিশেষ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিইউজেবল মহাকাশযান তৈরি করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে গগনযান ২ এটি দেখতে সাধারণ রকেটের মতো নয় এটি দেখতে অনেকটা আধুনিক সুপারসনিক বিমানের মতো যা রকেটের মাথায় চেপে মহাকাশে যাবে এবং স্পেস হোটেলে ডকিং বা সংযুক্ত হবে ছুটি কাটানো শেষ হলে এই যানটি পর্যটকদের নিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং সাধারণ বিমানের মতোই কোনো রানওয়েতে মসৃণভাবে অবতরণ করবে এই যানের ভেতরে যাত্রীদের বসার জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক এবং শক প্রুফ সিট রয়েছে এবং সুরক্ষার সমস্ত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাত্রার সময় পর্যটকরা লঞ্চ প্যাড থেকে শূন্যে ওঠার সেই অভাবনীয় থ্রিল অনুভব করবেন এবং জানলা দিয়ে দেখতে পাবেন কীভাবে পৃথিবীর নীল বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে কালো মহাকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে

news image
আরও খবর

মহাকাশ পর্যটন কেবল বিনোদন বা অ্যাডভেঞ্চারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না গগন বিহারী তে একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার বা স্পেস ল্যাবরেটরিও থাকবে যেখানে পর্যটকরা চাইলে বিজ্ঞানীরা কীভাবে মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে নতুন ওষুধ তৈরি বা গাছের বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেন তা নিজের চোখে দেখতে পারবেন এবং কিছু নিরাপদ ও ছোটখাটো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিজেরাও অংশ নিতে পারবেন এছাড়াও মহাকাশ থেকে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি বিশেষ অবজারভেশন ডেক থাকবে যেখান থেকে পর্যটকরা নিজের চোখে দেখতে পাবেন কীভাবে আমাদের পৃথিবীর বনভূমি কমে যাচ্ছে বা মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে মহাকাশ থেকে নিজের গ্রহকে এই বিপন্ন অবস্থায় দেখলে মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার প্রতি এক গভীর সচেতনতা তৈরি হবে যাকে বিজ্ঞানীরা ওভারভিউ এফেক্ট বলে থাকেন এই অভিজ্ঞতা পর্যটকদের মানসিকতা সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং তারা পৃথিবীতে ফিরে এসে পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন

ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা রাশিয়া এবং চিনের মতো দেশগুলো যারা মহাকাশ গবেষণায় কয়েক দশক ধরে এগিয়ে আছে তারাও ভারতের এই নিজস্ব স্পেস হোটেল দেখে অত্যন্ত অবাক এবং বিস্মিত হয়েছে ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক স্বনামধন্য পর্যটক ইতিমধ্যেই গগন বিহারী তে যাওয়ার জন্য ইসরোর কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কারণ অন্যান্য দেশের স্পেস ট্যুরিজম কোম্পানির তুলনায় ভারতের প্যাকেজ অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ ইসরো জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তারা পৃথিবীর কক্ষপথে আরও দুটি স্পেস হোটেল পাঠাবে এবং পর্যটকদের থাকার ক্ষমতা বাড়িয়ে একসাথে একশো জন করবে এটি ভারতকে গ্লোবাল স্পেস ট্যুরিজম মার্কেটের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত করবে

এই স্পেস হোটেল এবং মহাকাশ পর্যটন ভারতের অর্থনীতিতেও এক বিশাল এবং অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন মহাকাশ পর্যটন থেকে ভারত প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধি করতে বিশাল সাহায্য করবে এছাড়াও এই সম্পূর্ণ নতুন শিল্পের সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও স্পেস টুর গাইড স্পেস শেফ স্পেস হোটেল ম্যানেজার এবং স্পেস সাইকোলজিস্ট এর মতো নতুন এবং অভিনব পেশার উদ্ভব হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এই শিল্প কর্পোরেট দুনিয়াতেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করছে আধুনিক ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানিগুলো এখন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদে তরুণদের নিয়োগ করছে যাদের প্রধান কাজ হলো স্পেস টুরিজমের জন্য আকর্ষণীয় সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন তৈরি করা ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা এবং মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট তৈরি করে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা এর ফলে যারা সরাসরি মহাকাশে যাচ্ছেন না তারাও রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে এই নতুন শিল্পের বিশাল আর্থিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন

মহাকাশে সাধারণ মানুষের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কিছু শারীরিক এবং মানসিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই তাই মহাকাশে যাওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত পর্যটকদের ইসরোর বিশেষ সেন্টারে এক সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিতে হবে যেখানে তাদের জিরো গ্র্যাভিটি সিমুলেটরে শূন্য অভিকর্ষে চলাফেরা করা শেখানো হবে স্পেস স্যুট কীভাবে পরতে হয় এবং জরুরি অবস্থায় বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কীভাবে ইভাকুয়েশন পড ব্যবহার করে পৃথিবীতে ফিরে আসতে হবে তা হাতে কলমে শেখানো হবে এছাড়াও মহাকাশে থাকার সময় পৃথিবীর কোলাহল থেকে দূরে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে মানুষের মনের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে বা স্পেস আইসোলেশন সিন্ড্রোম এড়াতে কীভাবে মন শান্ত রাখতে হবে তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা তাদের কাউন্সেলিং করবেন তবে ইসরো সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে যে গগন বিহারী তে সর্বদা একজন অভিজ্ঞ স্পেস সার্জন এবং একজন মনোবিজ্ঞানী উপস্থিত থাকবেন যারা পর্যটকদের যেকোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় চব্বিশ ঘণ্টা সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন

পরিবেশবিদরা এত বড় একটি মহাকাশ প্রকল্পের কারণে রকেট উৎক্ষেপণের ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং পরিবেশ দূষণের যে বড় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তারও এক যুগান্তকারী সমাধান বের করেছেন বাহুবলী মার্ক ৪ রকেটে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন প্রোপেলান্ট জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে যা সাধারণ রকেটের বিষাক্ত জ্বালানির তুলনায় অনেক কম কার্বন এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গমন করে যা বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের কোনো ক্ষতি করে না এছাড়াও মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকটিও খুব গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে ইসরো জানিয়েছে স্পেস হোটেলে তৈরি হওয়া সমস্ত কঠিন এবং তরল বর্জ্য পদার্থ আধুনিক রিসাইক্লিং প্রযুক্তির মাধ্যমে শোধন করা হবে এবং বাকি বর্জ্য একটি বিশেষ ফায়ারপ্রুফ ক্যাপসুলে করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেওয়া হবে যা বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ফলে মহাকাশে কোনো স্পেস জাঙ্ক বা আবর্জনা তৈরি হবে না

২০২৬ সালের ৭ই এপ্রিল দিনটি সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করল যে মানুষের অদম্য সাহস এবং স্বপ্নের সত্যি কোনো সীমা নেই যে বিশাল আকাশ এবং মহাকাশ একসময় আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অধরা এবং রহস্যময় ছিল আজ বিজ্ঞান এবং মেধার জোরে তা আমাদের সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে গগন বিহারী কেবল শূন্যে ভাসমান একটি হোটেল নয় এটি হলো মানব সভ্যতার সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার এক চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ ভারত আজ বিশ্বকে পরিষ্কার দেখিয়ে দিল যে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির যদি সঠিক ও মানবকল্যাণমুখী ব্যবহার করা যায় তবে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কতটা রোমাঞ্চকর এবং অবিশ্বাস্য করে তুলতে পারে আমরা আজ থেকে সত্যি এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে পৃথিবীর ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে ওই দূর অসীম মহাকাশই হবে মানুষের পরবর্তী সাধারণ গন্তব্য এবং ভারত হবে সেই মহাকাশ যাত্রার প্রধান পথপ্রদর্শক জয় বিজ্ঞান জয় ভারত

Preview image