মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। ইসরো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে স্থাপন করল ভারতের প্রথম স্থায়ী মনুষ্যবসতি বা লুনার বেস যার নাম দেওয়া হয়েছে চন্দ্রালয়। চারজন ভারতীয় ব্যোমনাট বা মহাকাশচারী আজ সেখানে পা রাখলেন। হিলিয়াম ৩ গ্যাস আহরণ এবং মঙ্গল অভিযানের গেটওয়ে হিসেবে এই ঘাঁটি কাজ করবে। আমেরিকা ও চিনের পর ভারত তৃতীয় দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করল।
আজকের দিনটি কেবল ভারতের জন্য নয় সমগ্র মানবজাতির জন্য এক গর্বের দিন। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ চাঁদকে দূর থেকে দেখে এসেছে এবং তাকে নিয়ে কবিতা লিখেছে বা গান গেয়েছে। কিন্তু আজ সেই চাঁদ আর দূরের কোনো বস্তু নয় বরং তা মানুষের দ্বিতীয় ঘর বা সেকেন্ড হোম হয়ে উঠল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইসরো আজ অসাধ্য সাধন করে দেখাল। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এক দুর্গম গহ্বরের কাছে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না কিন্তু বরফ আছে ঠিক সেখানেই মাথা তুলে দাঁড়াল ভারতের প্রথম স্থায়ী চন্দ্রঘাঁটি বা লুনার বেস। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন চন্দ্রালয়। আজ ভারতীয় সময় দুপুর ২টায় ইসরোর সদর দপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং ইসরোর চেয়ারম্যান সোমনাথ জি যৌথভাবে এই ঘাঁটির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন।
একই সময়ে চাঁদের মাটি থেকে লাইভ ভিডিওতে দেখা যায় চারজন ভারতীয় মহাকাশচারী বা ব্যোমনাট যাদের বুকে তেরঙ্গা পতাকা আঁকা তারা চন্দ্রালয়ের বিশেষ এয়ারলক বা দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করছেন। এই চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন মহিলা। তারা আগামী ছয় মাস এই ঘাঁটিতেই থাকবেন এবং গবেষণা চালাবেন। এই দৃশ্য দেখে সারা ভারতের মানুষ আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। স্কুল কলেজ অফিস আদালত সব জায়গায় কাজ বন্ধ রেখে মানুষ বড় পর্দায় এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন।
চন্দ্রালয় তৈরির নেপথ্য কাহিনী
এই চন্দ্রালয় একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের দশ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং পরিকল্পনা। চন্দ্রযান ৩ এর সাফল্যের পর থেকেই ইসরো বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। ২০২৪ সালে চন্দ্রযান ৪ এবং ২০২৫ সালে রোবোটিক মিশন পাঠিয়ে জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়েছিল। দক্ষিণ মেরুর শ্যাকলটন ক্রেটার বা গহ্বরের কাছে এই জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বরফ বা ওয়াটার আইস আছে। এই বরফ গলিয়ে মহাকাশচারীদের জন্য পানীয় জল এবং রকেটের জ্বালানি বা হাইড্রোজেন তৈরি করা হবে।
চন্দ্রালয়ের গঠনশৈলী অত্যন্ত আধুনিক। পৃথিবী থেকে ইট বা সিমেন্ট নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তাই বিজ্ঞানীরা থ্রি ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। চাঁদের মাটি বা রেগোলিথ ব্যবহার করেই রোবটরা এই ঘাঁটির দেওয়াল তৈরি করেছে। এর ফলে এটি মহাজাগতিক বিকিরণ বা কসমিক রেডিয়েশন এবং উল্কাপাত বা মেটিওর ইমপ্যাক্ট থেকে মহাকাশচারীদের রক্ষা করতে পারবে। ঘাঁটির ছাদ তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ কিন্তু শক্তিশালী পলিমার দিয়ে যা দিয়ে মহাকাশচারীরা পৃথিবী এবং নক্ষত্র দেখতে পাবেন।
ব্যোমনাটদের জীবনযাত্রা
চন্দ্রালয়ের ভেতরে পৃথিবীর মতোই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কৃত্রিম অভিকর্ষ বা আর্টিফিশিয়াল গ্র্যাভিটি নেই তাই মহাকাশচারীদের ভেসে থাকতে হবে। তবে তাদের যাতে পেশির ক্ষয় না হয় তার জন্য বিশেষ জিম বা ব্যায়ামাগার আছে। প্রতিদিন তাদের দুই ঘণ্টা বাধ্যতামূলক ব্যায়াম করতে হবে। খাওয়ার জন্য ডিএফআরএল বা ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবরেটরি থেকে তৈরি বিশেষ স্পেস ফুড বা মহাকাশের খাবার পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইডলি পোলাও এবং চিকেন কারি যা টিউবের মধ্যে পেস্ট আকারে থাকে।
এছাড়াও চন্দ্রালয়ে একটি ছোট হাইড্রোপনিক ফার্ম বা বাগান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে লেটুস এবং পালং শাক চাষ করা হচ্ছে। মহাকাশচারীরা নিজেদের নিঃশ্বাস থেকে বের হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড এই গাছগুলোকে দেবেন এবং গাছগুলো তাদের অক্সিজেন ফিরিয়ে দেবে। এটি একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর বা সেলফ সাস্টেইনেবল ইকোসিস্টেম তৈরির চেষ্টা। জলের প্রতিটি ফোঁটা রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করা হবে। এমনকি মহাকাশচারীদের ঘাম এবং মূত্রও পরিশোধন করে আবার পানীয় জলে পরিণত করা হবে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও মহাকাশে এটিই বাঁচার একমাত্র উপায়।
হিলিয়াম ৩ এবং শক্তির ভবিষ্যৎ
চন্দ্রালয় স্থাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো হিলিয়াম ৩ গ্যাস আহরণ করা। বিজ্ঞানীরা বলছেন হিলিয়াম ৩ হলো ভবিষ্যতের জ্বালানি। পৃথিবীতে এটি পাওয়া যায় না কিন্তু চাঁদের মাটিতে এটি প্রচুর পরিমাণে আছে। এই গ্যাস ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়্যাক্টরে দূষণহীন এবং অফুরন্ত বিদ্যুৎ তৈরি করা সম্ভব। ইসরো জানিয়েছে চন্দ্রালয়ের রোবটরা আগামী এক বছর ধরে মাটি খুঁড়ে এই গ্যাস সংগ্রহ করবে এবং ২০২৭ সালে একটি বিশেষ কার্গো রকেটে করে তা পৃথিবীতে পাঠানো হবে। যদি এটি সফল হয় তবে ভারতের আর কোনোদিন কয়লা বা তেলের প্রয়োজন হবে না। ভারত বিশ্বের শক্তিকেন্দ্র বা এনার্জি হাব হয়ে উঠবে।
মঙ্গল অভিযানের গেটওয়ে
ইসরোর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন চন্দ্রালয় কেবল চাঁদে থাকার জন্য নয় এটি মঙ্গলে যাওয়ার জন্য একটি স্টেশন বা ধাপ হিসেবে কাজ করবে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে রকেট পাঠানো খুব ব্যয়সাপেক্ষ কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা গ্র্যাভিটি খুব বেশি। কিন্তু চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ। তাই এখান থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করতে খুব কম জ্বালানি লাগে। ভবিষ্যতে ইসরো মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর জন্য চন্দ্রালয়কে লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করবে। চাঁদের বরফ থেকে তৈরি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ চাঁদ হবে আমাদের মহাকাশ পেট্রোল পাম্প।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মহাকাশ কূটনীতি
ভারতের এই সাফল্যে নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি বা ইএসএ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। তারা ভারতের সাথে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বলেছেন ভারত এখন আর্টেমিস অ্যাকর্ড বা মহাকাশ চুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অন্যদিকে চীন এবং রাশিয়াও তাদের নিজস্ব লুনার বেস তৈরি করছে। মহাকাশে এখন এক নতুন প্রতিযোগিতা বা স্পেস রেস শুরু হয়েছে। তবে ভারত জানিয়েছে তাদের এই অভিযান শান্তির জন্য। চন্দ্রালয় থেকে পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য ভারত সারা বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেবে।
টেলিস্কোপ এবং মহাকাশ পর্যবেক্ষণ
চন্দ্রালয়ে একটি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ বসানো হয়েছে। পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করার সময় বায়ুমণ্ডল বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই তাই এখান থেকে মহাকাশ অনেক পরিষ্কার দেখা যায়। এই টেলিস্কোপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের শুরুর সময় বা বিগ ব্যাং এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবেন। এছাড়াও পৃথিবী ধেয়ে আসা কোনো গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য এক বড় হাতিয়ার।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্পেস টুরিজম
চন্দ্রালয় স্থাপনের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল। মহাকাশ পর্যটন বা স্পেস টুরিজম এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়। ইসরো জানিয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে তারা সাধারণ মানুষকে চাঁদে ভ্রমণের সুযোগ করে দেবে। এর জন্য অবশ্য কোটি কোটি টাকা খরচ হবে কিন্তু বিশ্বজুড়ে ধনকুবেররা এখনই বুকিং করার জন্য লাইন দিচ্ছেন। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলো যেমন স্কাইরুট এবং অগ্নিকূল এই কাজে ইসরোকে সাহায্য করছে। রকেট তৈরি এবং মহাকাশ গবেষণায় হাজার হাজার নতুন স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সাধারণ মানুষের উল্লাস
ভারতের গ্রামে গঞ্জে আজ উৎসবের মেজাজ। কৃষকরা তাদের জমিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত জোড় করে প্রার্থনা করছেন। তাদের বিশ্বাস চাঁদের বুড়ি আর একা নন তার সাথে এখন ভারতের সন্তানরা আছে। স্কুলের বাচ্চারা যারা বিজ্ঞান বইতে মহাকাশচারীদের ছবি দেখত তারা আজ টিভিতে নিজেদের দেশের মানুষকে চাঁদে হাঁটতে দেখছে। এটি আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। এক রিক্সাচালক বলেন আমি হয়তো কোনোদিন প্লেনে চড়িনি কিন্তু আমার দেশের ছেলেমেয়ে আজ চাঁদে ঘর বানিয়েছে এর চেয়ে বড় গর্ব আর কী হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি
তবে এই অভিযানের ঝুঁকিও কম নয়। চাঁদে উল্কাপাত খুব সাধারণ ঘটনা। যেকোনো সময় ছোট একটি উল্কা বা পাথর বুলেটের গতিতে এসে ঘাঁটিতে আঘাত করতে পারে। যদিও দেওয়ালগুলো শক্তিশালী তবুও ভয়ের কারণ থাকে। এছাড়াও মহাজাগতিক বিকিরণ মানুষের শরীরের ডিএনএ নষ্ট করে দিতে পারে যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইসরো জানিয়েছে চন্দ্রালয়ের চারপাশে একটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় বর্ম বা ম্যাগনেটিক শিল্ড তৈরি করা হয়েছে যা বিকিরণকে প্রতিহত করবে। মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্যের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে একদল ডাক্তার সবসময় বায়োমেট্রিক ডেটা পর্যবেক্ষণ করছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। আলো বা রেডিও সিগন্যাল যেতে সময় লাগে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড। তাই মহাকাশচারীদের সাথে কথা বলার সময় একটু দেরি বা ল্যাগ হয়। ইসরো চাঁদের কক্ষপথে লুনার স্যাট বা বিশেষ উপগ্রহ স্থাপন করেছে যা চন্দ্রালয়ের সাথে পৃথিবীর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করবে। হাই স্পিড ইন্টারনেট বা লেজার কমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে যার মাধ্যমে মহাকাশচারীরা তাদের পরিবারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মহাকাশচারীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন এবং তাদের অভিনন্দন জানাবেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ইসরো জানিয়েছে চন্দ্রালয় হলো প্রথম ধাপ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই ঘাঁটিকে আরও বড় করা হবে। সেখানে আরও বেশি মডিউল যোগ করা হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে সেখানে একসঙ্গে ২০ জন মানুষ থাকতে পারবেন। চাঁদের মাটিতে রোভার বা গাড়ি চালানোর জন্য রাস্তা তৈরি করা হবে। বিজ্ঞানীরা চাইছেন চাঁদে একটি স্থায়ী গবেষণাগার এবং শিল্পতালুক বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরি করতে। যেখানে জিরো গ্র্যাভিটি বা শূন্য অভিকর্ষে বিশেষ ধরনের ফাইবার অপটিক কেবল এবং ওষুধ তৈরি করা হবে যা পৃথিবীতে তৈরি করা সম্ভব নয়।
উপসংহার
২০২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি দিনটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে পা দিয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন এটি মানুষের জন্য একটি ছোট পদক্ষেপ কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল লাফ। আজ ভারত সেই লাফটিকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে গেল। ভারত প্রমাণ করল যে মহাকাশ কারো একার সম্পত্তি নয়। মেধা সাহস এবং প্রযুক্তির জোরে উন্নয়নশীল দেশও মহাকাশে নিজেদের পতাকা ওড়াতে পারে। চন্দ্রালয় কেবল একটি কংক্রিটের কাঠামো নয় এটি ভারতের ১৫০ কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক। আজ রাতে যখন আমরা আকাশের দিকে তাকাব তখন চাঁদকে আর আগের মতো মনে হবে না। মনে হবে ওই উজ্জ্বল গোলকটির মধ্যে আমাদেরই ভাই বোনেরা আছে যারা মানবতার ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জয় বিজ্ঞান জয় ইসরো জয় হিন্দ।