Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মঙ্গলসূত্র এখন ব্রেসলেট গিন্নি প্রিয়ঙ্কার গয়নায় নতুন ট্রেন্ড সেট করলেন নিক

নিক জোনাস সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া-র ছবি The Bluff–এর প্রচার করেন ভিডিওতে তাঁর হাতে প্রিয়ঙ্কার মঙ্গলসূত্র দেখা যেতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা ভালোবাসা না কি নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট প্রশ্ন নেটপাড়ায়।

নিক জোনাস ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়া—এই দুই তারকার দাম্পত্য রসায়ন বরাবরই অনুরাগীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বলিউড ও হলিউডের সেতুবন্ধন যেন তাঁদের সম্পর্কেই ধরা পড়ে। কখনও কনসার্টের মঞ্চে নিকের গান, আর দর্শকাসনে বসে প্রিয়ঙ্কার উচ্ছ্বাস—আবার কখনও প্রিয়ঙ্কার ফটোশুটে নিকের ক্যামেরা হাতে হাজির হওয়া। সম্পর্কের প্রকাশ্যে এমন আন্তরিক উপস্থিতি তাঁদের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি সেই সম্পর্কেরই এক নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রকাশ নজর কাড়ল নেটমাধ্যমে। প্রিয়ঙ্কার নতুন ছবি The Bluff–এর প্রচারের উদ্দেশ্যে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন নিক। ভিডিওটি ছিল সাদামাটা, কিন্তু তার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বড় চমক। অনুরাগীদের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে—নিকের হাতে জড়িয়ে রয়েছে প্রিয়ঙ্কার মঙ্গলসূত্র। শুধু পরাই নয়, সেটিকে তিনি ব্রেসলেটের মতো করে ধারণ করেছেন।

এই ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ যেন মুহূর্তে আলোচনার ঝড় তোলে। মঙ্গলসূত্র—ভারতীয় বিবাহপ্রথায় বিবাহিত নারীর এক বিশেষ অলংকার। ঐতিহ্য অনুসারে, স্বামীর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় বিবাহিত মহিলারা এটি পরেন। যুগ যুগ ধরে এটি নারীর পরিচয়, দাম্পত্যের প্রতীক ও সামাজিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু সেই মঙ্গলসূত্র যখন স্বামীর হাতের ব্রেসলেট হয়ে ওঠে, তখন তা নিছক ফ্যাশন থাকে না—একটি বার্তায় রূপ নেয়।

নিক-প্রিয়ঙ্কার সম্পর্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল পারস্পরিক সম্মান ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। বিবাহের পর থেকেই নিককে একাধিক বার ভারতীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। দুর্গাপুজো হোক, দীপাবলি কিংবা গৃহস্থালির পুজোপাঠ—নিক স্বচ্ছন্দেই অংশ নিয়েছেন সবেতেই। ভারতীয় পোশাকেও তাঁকে সমান সাবলীল লাগে। কুর্তা-পাজামা, শেরওয়ানি কিংবা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই প্রশংসিত।

তবে এ বার যে ছবি সামনে এল, তা যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে। মঙ্গলসূত্রকে ব্রেসলেট হিসেবে পরে নেওয়া নিছক প্রচার কৌশল, নাকি একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ—তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। অনেকের মতে, স্ত্রীর ছবির সাফল্য কামনায় ও পাশে থাকার অঙ্গীকার হিসেবেই এই অভিনব প্রয়াস। কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি ফ্যাশনের নতুন ভাষা—যেখানে লিঙ্গভিত্তিক অলংকারের বিভাজন ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে।

ফ্যাশন দুনিয়ায় নিক জোনাস বরাবরই স্টাইল আইকন হিসেবে পরিচিত। মঞ্চে পারফরম্যান্সের সময় তাঁর পোশাক নির্বাচন যেমন নজর কাড়ে, তেমনই রেড কার্পেটেও তিনি সমান আত্মবিশ্বাসী। পাশ্চাত্য স্যুট হোক বা ভারতীয় পোশাক—প্রতিটি লুকে রয়েছে স্বকীয়তা। অন্যদিকে প্রিয়ঙ্কা নিজেও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ। ফলে এই যুগলের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

মঙ্গলসূত্রকে ব্রেসলেট হিসেবে পরার সিদ্ধান্তটি তাই শুধু ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও হতে পারে। ভারতীয় সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাহের চিহ্ন হিসেবে নারীদের ওপরই অধিকাংশ দায়িত্ব বর্তেছে—সিঁদুর, শাঁখা-পলা, মঙ্গলসূত্র ইত্যাদি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন দৃশ্যমান প্রতীক খুব কমই দেখা যায়। নিকের এই পদক্ষেপ তাই অনেকের কাছে সমতার ইঙ্গিত হিসেবেও প্রতিভাত হয়েছে।

অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল বেশ ইতিবাচক। সমাজমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন—এটি সত্যিকারের পার্টনারশিপের উদাহরণ। কেউ বলেছেন, “ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।” আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—ভারতীয় পুরুষেরা কি এমন উদ্যোগ নেবেন?

আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনের সংজ্ঞাও বদলাচ্ছে। এক সময় যে অলংকার বা পোশাক নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা অনেকটাই মুক্ত। ব্রেসলেট, চেন, আংটি—সবই এখন ব্যক্তিত্বের অংশ। সেই জায়গা থেকেই নিকের এই প্রয়াসকে দেখা যেতে পারে নতুন ট্রেন্ডের সূচনা হিসেবে।

প্রিয়ঙ্কার ছবির প্রচার যে মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা স্পষ্ট। কিন্তু সেই প্রচারের ভেতর দিয়ে যে আবেগের ছোঁয়া মিলল, সেটিই মন ছুঁয়ে গেল অনুরাগীদের। প্রচার অনেকেই করেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্পর্শ যোগ করে তাকে স্মরণীয় করে তোলেন খুব কম মানুষই। নিক যেন সেই কাজটাই করলেন।

news image
আরও খবর

সব মিলিয়ে, এটি নিছক একটি ভিডিও পোস্ট নয়। এটি এক দাম্পত্যের গল্প, এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ছবি এবং ফ্যাশনের এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। পুরুষদের ফ্যাশনে মঙ্গলসূত্রের প্রবেশ আদৌ ট্রেন্ড হবে কি না, তা সময় বলবে। তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়—নিকের এই ছোট্ট প্রয়াস ভালোবাসা ও সমতার আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

নিক জোনাস ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়া-কে ঘিরে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাঁদের সম্পর্ককে যেন অন্য এক মাত্রা দিল। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি সাধারণ প্রচারমূলক ভিডিও যে এত গভীর আলোচনার জন্ম দেবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। কিন্তু নিকের হাতে প্রিয়ঙ্কার মঙ্গলসূত্র দেখা যেতেই বিষয়টি নিছক ফ্যাশন বা প্রচারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আবেগ, সংস্কৃতি ও সমতার আলোচনায় পৌঁছে যায়।

অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ছিল মূলত ইতিবাচক। অনেকেই লিখেছেন—এটি “সত্যিকারের পার্টনারশিপ”-এর উদাহরণ। কারও মতে, ভালোবাসার প্রকাশের কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই; আবার কেউ বলেছেন, এ এক নীরব বার্তা—দাম্পত্যে সমতার। ভারতীয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে যেখানে বিবাহের প্রতীকী চিহ্ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর শরীরেই দৃশ্যমান, সেখানে একজন পুরুষের হাতে মঙ্গলসূত্র ধরা পড়া স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

মঙ্গলসূত্র দীর্ঘদিন ধরেই বিবাহিত নারীর পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি শুধু অলংকার নয়; আবেগ, সামাজিক স্বীকৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। সম্পর্কের সমীকরণও বদলাচ্ছে। এখন দাম্পত্য মানে কেবল দায়িত্বের ভাগ নয়, আবেগের সমান ভাগীদারিত্বও। সেই প্রেক্ষাপটে নিকের এই পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার চিহ্ন হিসেবে।

ফ্যাশনের সংজ্ঞা যে ক্রমাগত বদলাচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এক সময় যে পোশাক বা গয়না নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা অনেকটাই ভেঙে গিয়েছে। পুরুষদের কানে দুল, হাতে নানা ধরনের ব্রেসলেট বা চেন—এসব এখন আর অচেনা নয়। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ স্টাইল ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। সেই ধারাতেই মঙ্গলসূত্রের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী অলংকার নতুন ব্যাখ্যা পেতে পারে।

নিক বরাবরই ফ্যাশনে সাহসী। পাশ্চাত্য স্যুটে যেমন স্বচ্ছন্দ, তেমনই ভারতীয় পোশাকেও সমান সাবলীল। বিবাহের পর থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা দিক তিনি গ্রহণ করেছেন খোলা মনে। কখনও উৎসব-পার্বণে অংশগ্রহণ, কখনও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা—সবেতেই তাঁর আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ফলে মঙ্গলসূত্রকে ব্রেসলেট হিসেবে পরার সিদ্ধান্তটি তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অমিল নয়। বরং এটি যেন তাঁর আগের পদক্ষেপগুলোরই স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।

তবে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই আবেগের প্রকাশ, না কি ফ্যাশনের নতুন ট্রেন্ড? হয়তো দু’টোরই মিশেল। প্রিয়ঙ্কার ছবির প্রচার ছিল মূল উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট। কিন্তু সেই প্রচারের মধ্যে ব্যক্তিগত স্পর্শ যুক্ত করে নিক ভিডিওটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছেন। প্রচার অনেকেই করেন, কিন্তু এমনভাবে নিজের সম্পর্কের আবেগকে সামনে আনা বিরল। এতে যেমন ছবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে, তেমনই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের গভীরতাও ফুটে উঠেছে।

ভারতীয় পুরুষেরা কি এমন উদ্যোগ নেবেন? এই প্রশ্নও ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজমাধ্যমে। ভারতীয় সমাজ এখনও অনেক ক্ষেত্রেই প্রথানির্ভর। বিবাহের চিহ্ন হিসেবে পুরুষদের তেমন দৃশ্যমান প্রতীক নেই। ফলে মঙ্গলসূত্র পরা—তা সে ব্রেসলেট হিসেবেই হোক—এখনও অনেকের কাছে সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু সমাজের পরিবর্তন এক দিনে হয় না; তা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। হয়তো এই ধরনের উদ্যোগই নতুন ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

সব মিলিয়ে, ঘটনাটি কেবল একটি ভিডিও পোস্টের গল্প নয়। এটি ভালোবাসার প্রকাশের এক নতুন ভাষা। এটি দেখায়, সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়—তা চলমান, পরিবর্তনশীল। ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাও এক ধরনের সৃজনশীলতা। নিক সেই সৃজনশীলতাকেই সামনে এনেছেন।

মঙ্গলসূত্র পুরুষদের ফ্যাশনে জায়গা করে নেবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়—নিকের এই ছোট্ট প্রয়াস ভালোবাসা, সমতা ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আর সেই কারণেই এটি নিছক ফ্যাশন নয়; এটি এক প্রতীকী বার্তা, যা অনুরাগীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

Preview image