নৈহাটির বড়মা বিসর্জনের পরদিন ফেরিঘাটে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ২৪ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় গঙ্গাঘাট থেকে ফেরার সময় অতিরিক্ত ভিড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আহতদের নৈহাটি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। প্রশাসন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে। গত বছরও বিসর্জনের পর বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন।
নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মা বিসর্জন উৎসবের পরদিন, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গঙ্গাঘাটে বিসর্জন শেষে ফেরার পথে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিসর্জন উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্ত গঙ্গাঘাটে সমবেত হয়েছিলেন। বিসর্জনের পর ফেরার সময় ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভিড় জমে ওঠে। সীমিত পরিসরে একসঙ্গে অনেক মানুষের চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হন। চিৎকার ও হট্টগোলের মধ্যে আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
আহতদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও মহিলারাও ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাথমিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের দ্রুত নৈহাটি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে নৈহাটি থানার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। নৈহাটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) জানান, "অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ফেরিঘাটে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের অবিলম্বে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তারা এখন চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার জন্য অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর এত বিপুল সংখ্যক ভক্ত বিসর্জনে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "প্রতি বছরই এই সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। আজ আবার এই দুর্ঘটনা ঘটল।"
উল্লেখযোগ্য যে, নৈহাটির বড়মা বিসর্জন উৎসব উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এই উৎসবে অংশ নিতে আসেন এবং গঙ্গাঘাটে মায়ের প্রতিমা বিসর্জন দেন। এই উৎসব শুধু স্থানীয় নয়, আশপাশের এলাকার মানুষেরাও এতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরও নৈহাটিতে বিসর্জনের পর একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তেমন উন্নতি না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।
এবারের দুর্ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করেছেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। বড়মা মন্দির কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে বড়মা বিসর্জন উৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এই আশ্বাস বাস্তবায়িত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে