দ্বিতীয় ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে তৃতীয় ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন টিম ইন্ডিয়ার। অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিং ও বোলারদের দাপটে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে জয়ের সরণিতে ফিরল ভারত।
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করল টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৯ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল ভারতকে। কিন্তু তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সেই হারের জবাব দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ২২৩ রান তোলে ভারত। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস থামে ২০৯ রানে। ফলে ১৪ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। এই জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক ম্যাচের সেরা অভিষেক শর্মা। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভারতীয় বোলারদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বোলাররা ২৪৯ রানের বিশাল পুঁজি রক্ষা করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে ছয় উইকেটে হারতে হয়েছিল ভারতকে। সেই হারের পর তৃতীয় ম্যাচে ভারতীয় দলের সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে সফল হয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ব্যাটিং সহায়ক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভারত প্রথম ইনিংসে ২২৩ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ ছিল না। কারণ আগের ম্যাচেই ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, বড় রান তাড়া করার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।
তবে তৃতীয় ম্যাচে ভারতের বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আটকে দেন। ক্যারিবিয়ানরা শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান করতে সক্ষম হয়। ভারত ১৪ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ়ে ফের এগিয়ে যায়। ম্যাচে ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মার বিস্ফোরক ইনিংস যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই বোলিংয়ে আর্শদীপ সিং, নমন ধীর, অক্ষর প্যাটেল এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে দেখা যায় তাঁকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের বিরুদ্ধে বড় শট খেলতে কোনও দ্বিধা করেননি তিনি। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার জন্য অভিষেক শর্মা ইতিমধ্যেই পরিচিত। তৃতীয় ম্যাচেও তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল আগ্রাসী। প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে ভারতকে দ্রুত রান এনে দেন তিনি। তাঁর ইনিংস ভারতীয় দলের স্কোরকে ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।
শুধু ম্যাচের স্কোরবোর্ডেই নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের ক্ষেত্রেও অভিষেকের এই ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম ২,০০০ রান পূর্ণ করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি এবং এই পরিসংখ্যানে সূর্যকুমার যাদবকে পিছনে ফেলার কথা উঠে আসে ম্যাচের প্রতিবেদনে। তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠছে।
অভিষেকের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রান তোলার গতি। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম দিকের ওভারগুলিতে দ্রুত রান উঠলে পরের ব্যাটাররা তুলনামূলক স্বাধীনভাবে খেলতে পারেন। অভিষেক সেই কাজটাই করে দেন। তিনি আউট হওয়ার আগে ভারতীয় দলকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেন, যেখান থেকে অন্য ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে পারেন।
এই ম্যাচে অভিষেকের ব্যাটিং ভারতীয় সমর্থকদের কাছে বিশেষ আনন্দের কারণ। দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য দলের সামনে যে চাপ ছিল, সেই পরিস্থিতিতে তাঁর আক্রমণাত্মক ইনিংস ভারতকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। ম্যাচের সেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে।
অভিষেক শর্মার পর ভারতের রান তোলার দায়িত্ব সামলান ঈশান কিষান। তিনি মাত্র ১৮ বলে ৩৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসও ছিল দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেকের আক্রমণের পর ঈশানের ব্যাটিং ভারতের স্কোরবোর্ড সচল রাখে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় স্কোর গড়তে শুধু একজন ব্যাটারের উপর নির্ভর করলে চলে না। একাধিক ব্যাটারকে দ্রুত রান তুলতে হয়। ঈশান সেই প্রয়োজন পূরণ করেন। অল্প বল খেলে উল্লেখযোগ্য রান করায় ভারতীয় দলের ইনিংসের গতি কমে যায়নি।
অভিষেক এবং ঈশানের মতো ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে পারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর চাপ বাড়ে। তাঁরা নিয়মিত উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ব্যাটারদের আক্রমণ থামানো সহজ ছিল না। ঈশানের ৩৭ রানের ইনিংস তাই ভারতের ২২৩ রানের স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়।
ভারতের হয়ে তিলক বর্মাও কার্যকর ইনিংস খেলেন। মাত্র ১৬ বলে ২৮ রান করে তিনি দলের রান তোলার গতি বজায় রাখেন। দ্রুত উইকেট পড়লেও ভারতীয় ব্যাটাররা বড় শট খেলার চেষ্টা চালিয়ে যান। ফলে ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে রান ওঠার গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়।
নীতীশ কুমার রেড্ডি ১৪ বলে ২১ রান করেন। অন্যদিকে অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২০ রান যোগ করেন। এই ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলি ভারতের মোট রান বাড়াতে সাহায্য করে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষের দিকে ব্যাটারদের দ্রুত রান তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েকটি বাউন্ডারি এবং বড় শটই স্কোরকে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন করে তুলতে পারে।
ভারতের ইনিংসে কোনও ব্যাটার অভিষেকের মতো বড় অঙ্কের রান করতে না পারলেও একাধিক ব্যাটারের অবদান ছিল। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট পড়ার পরেও স্কোরবোর্ড সচল রাখাই ছিল তাঁদের প্রধান কাজ।
অক্ষর প্যাটেল এবং আর্শদীপ সিংয়ের মধ্যে রান নেওয়ার সমন্বয়ের অভাবে অক্ষরের রান আউট হওয়া ভারতের ইনিংসের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সেই উইকেট না পড়লে ভারত আরও কিছু রান তুলতে পারত কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর তৈরি করে ভারত।
ভারতের ব্যাটিং আক্রমণ সামলাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের একাধিক উইকেট নিতে হয়। রস্টন চেস, শামার জোসেফ এবং শামার স্প্রিঙ্গার দুটি করে উইকেট নেন। কিমো পল ও গুডাকেশ মোতি একটি করে উইকেট পান।
নিয়মিত উইকেট পাওয়ার কারণে ভারতীয় দল এক পর্যায়ে বড় জুটি গড়তে পারেনি। তবে অভিষেক, ঈশান এবং তিলক বর্মার দ্রুত রান তোলার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলাররা ভারতকে কম রানে আটকে রাখতে পারেননি। ভারতীয় ব্যাটাররা ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেলার কৌশল বজায় রাখেন। এর ফলে উইকেট পড়লেও দলের মোট রান ২০০ পেরিয়ে যায়।
২২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ওপেনিং জুটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে শুরুতে উইকেট হারানোর পরও ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়নি ক্যারিবিয়ান দল। দ্বিতীয় উইকেটে শিমরন হেটমায়ার এবং কামিল পুরান গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। দুজনে মিলে ৬০ রান যোগ করে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন।
এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তাড়াকে ফের প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট ধরে রাখা এবং রান তোলার গতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হেটমায়ার এবং পুরান সেই কাজটি করার চেষ্টা করেন।
শিমরন হেটমায়ার ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তিনি ৪৩ রান করেন। অন্যদিকে কামিল পুরানের ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। তাঁদের ইনিংসের উপর ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তাড়ার আশা জোরালো হয়।
তবে এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর ক্যারিবিয়ান দলের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে যায়। বড় রান তাড়া করার জন্য শেষ পর্যন্ত একাধিক ব্যাটারের অবদান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অন্য ব্যাটাররা সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
হেটমায়ার এবং পুরানের জুটির পর শেরফান রাদারফোর্ড ও কুইন্টিন স্যাম্পসন রান তোলার চেষ্টা করেন। তাঁদের জুটি থেকে আসে ৪৬ রান। এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ দেয়।
তবে ভারতের বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ায় ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় রান তাড়ার চাপ বাড়তে থাকে। শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রান এবং হাতে থাকা উইকেটের হিসাব ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে।
ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেননি। সাত উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানেই থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন আর্শদীপ সিং। তিনি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তাড়াকে ধাক্কা দেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পাওয়ার ফলে ভারতীয় দলের উপর চাপ কিছুটা কমে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য রক্ষা করার জন্য শুধু রান আটকে রাখাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের জুটি ভাঙাও অত্যন্ত জরুরি। আর্শদীপের বোলিং সেই জায়গায় ভারতকে সাহায্য করে।
নমন ধীর দুটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি একটি করে উইকেট পান। একাধিক বোলারের উইকেট পাওয়ার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিকভাবে চাপের মধ্যে থাকে।
দ্বিতীয় ম্যাচে বড় রান করেও ভারতীয় বোলাররা জয় নিশ্চিত করতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতার পর তৃতীয় ম্যাচে বোলারদের উপর বাড়তি দায়িত্ব ছিল। ২২৩ রান করার পর প্রতিপক্ষকে তার নিচে আটকে রাখার জন্য বোলারদের পরিকল্পনা কার্যকর করা জরুরি ছিল। শেষ পর্যন্ত ভারত সেই কাজ করতে সফল হয়।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে অক্ষর প্যাটেলের বোলিং বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সামনে শেষ ওভারে ৩৬ রান তোলার কঠিন সমীকরণ ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই পরিস্থিতি থেকে জয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হলেও শেষ ওভারে চাপ সামলানো বোলারের কাছে বড় পরীক্ষা।
অক্ষর প্যাটেল অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে শেষ ওভারে ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় শেষ ওভারে ২২ রান সংগ্রহ করে। কিন্তু সেই রান লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
এর আগে ১৯তম ওভারে প্রিন্স যাদব মাত্র ১১ রান দেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং শেষ ওভারের সমীকরণকে ভারতের পক্ষে কিছুটা সহজ করে দেয়। শেষ দিকে বড় শট খেলার চেষ্টা করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি।
শেষ ওভারে ৩৬ রানের লক্ষ্য থাকায় ভারতের সামনে জয় পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপ সামলানো প্রয়োজন ছিল। অক্ষর প্যাটেল সেই দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং ভারতকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কোনও অঘটনের আশঙ্কা থেকে দূরে রাখে।
এই জয়ের গুরুত্ব শুধু একটি ম্যাচ জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৯ রান করেও হারের পর ভারতীয় দলের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বড় রান করার পরেও ম্যাচ জিততে না পারা দলের জন্য হতাশাজনক। তৃতীয় ম্যাচে ভারত সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও কার্যকরভাবে ম্যাচ পরিচালনা করে।
প্রথম ইনিংসে ২২৩ রান করার পর ভারতীয় ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের সামনে লড়াই করার মতো লক্ষ্য রাখেন। এরপর বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে চাপে রাখেন। শেষ ওভারে রান তোলার চেষ্টা সত্ত্বেও ক্যারিবিয়ানরা লক্ষ্য থেকে দূরে থাকে।
এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ায় পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ভারতের সামনে সিরিজ় জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সামনে সিরিজ়ে সমতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৪ রানের জয় ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক শর্মার ৩০ বলে ৬৯ রানের ইনিংস ম্যাচের ভিত তৈরি করে দেয়। ঈশান কিষানের ৩৭ রান, তিলক বর্মার ২৮, নীতীশ কুমার রেড্ডির ২১ এবং অক্ষর প্যাটেলের ২০ রান ভারতকে ২২৩ রানে পৌঁছে দেয়।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে হেটমায়ার ৪৩ এবং কামিল পুরান ৪২ রান করলেও তাঁরা দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। আর্শদীপ সিংয়ের তিন উইকেট, নমন ধীরের দুটি উইকেট এবং অক্ষর প্যাটেল ও নীতীশ কুমার রেড্ডির একটি করে উইকেট ভারতের জয়ের পথ সহজ করে।
শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তার আগে প্রিন্স যাদবের ১৯তম ওভারে মাত্র ১১ রান দেওয়ার ঘটনাও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ২০৯ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।
সব মিলিয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে ভারত। অভিষেক শর্মার ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় ম্যাচের হারের জবাব দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সিরিজ়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় দল।
ম্যাচের ফল: ভারত ১৪ রানে জয়ী।
ভারতের স্কোর: ২২৩ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের স্কোর: ৭ উইকেটে ২০৯ রান।
ম্যাচের সেরা: অভিষেক শর্মা।
সিরিজ়ের অবস্থা: পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
প্রধান আকর্ষণ: অভিষেক শর্মার ৩০ বলে ৬৯ রান, আর্শদীপ সিংয়ের তিন উইকেট এবং শেষ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং।
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এই ফল ভারতীয় সমর্থকদের জন্য স্বস্তির। বড় রান করেও দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর দল যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা প্রমাণ করেছে টিম ইন্ডিয়া। এখন দেখার, পরবর্তী ম্যাচে ভারত এই ছন্দ বজায় রেখে সিরিজ় নিজেদের দখলে নিতে পারে কি না।