উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি শহরতলির পুজো মণ্ডপগুলিতেও বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। পুজোর মরশুমে ঠাকুর দেখতে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন মণ্ডপে উপচে পড়ছে মানুষের ঢল।
দুর্গাপুজো মানেই কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ, মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় এবং রাতভর ঠাকুর দেখার আনন্দ। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে শহরতলির বিভিন্ন পুজোও দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে শুধু কলকাতার বড় মণ্ডপগুলিতেই নয়, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কল্যাণী, শান্তিপুর ও নৈহাটির মতো শহরগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। এই বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে শিয়ালদহ মেইন লাইনে একাধিক বিশেষ লোকাল ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে রেল।
পুজোর সময়ে বহু মানুষ কলকাতা থেকে শহরতলিতে ঠাকুর দেখতে যান। আবার শহরতলির বহু বাসিন্দাও কলকাতার বিখ্যাত মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখতে আসেন। দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতের দিকে লোকাল ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্যান্ডেল হপিং শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় ট্রেনের ভিড় এবং পরিষেবা পাওয়া নিয়ে অনেকেরই চিন্তা থাকে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কল্যাণী, নৈহাটি ও শান্তিপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর সিটি ও রানাঘাটের উদ্দেশে বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা থাকছে। পুজোর সন্ধ্যায় যাঁরা কলকাতা থেকে শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় ফিরবেন, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শিয়ালদহ থেকে বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর সিটি থেকে শিয়ালদহগামী বিশেষ ট্রেন ছাড়ার সময় রাত ৮টা। রানাঘাট থেকেও শিয়ালদহের উদ্দেশে রাত ৮টা ৮ মিনিটে একটি লোকাল ট্রেন ছাড়বে।
পুজোর সময় সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে অফিসফেরত যাত্রী, পুজো দেখতে যাওয়া পরিবার এবং রাতের দিকে বাড়ি ফেরা দর্শনার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দিনের ট্রেনের সময় ও পরিষেবা চালু থাকার বিষয়টি রেলের সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কল্যাণী ও তার আশপাশের এলাকার পুজো দেখতে প্রতি বছরই বহু মানুষ যাতায়াত করেন। কলকাতা থেকে কল্যাণী এবং কল্যাণী থেকে শিয়ালদহের মধ্যে যাতায়াত করা যাত্রীদের সুবিধার জন্য এই রুটেও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সময়সূচি অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে কল্যাণীর উদ্দেশে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। অন্যদিকে, কল্যাণী থেকে শিয়ালদহগামী বিশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে।
এই পরিষেবার ফলে সন্ধ্যার পর দুই দিকের যাত্রীদের যাতায়াতের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা কলকাতা থেকে কল্যাণীতে ঠাকুর দেখতে যাবেন অথবা কল্যাণী থেকে কলকাতায় ফিরবেন, তাঁদের কাছে এই ট্রেনগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুজোর সময় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীদের যাতায়াতের বিকল্প বাড়ে। তবে কোন ট্রেন কোন স্টেশনে থামবে, সব স্টেশনে পরিষেবা পাওয়া যাবে কি না এবং নির্দিষ্ট দিনে কোনও পরিবর্তন রয়েছে কি না, তা যাত্রার আগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
পুজোর রাতের প্যান্ডেল হপিং শেষ হতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। ফলে বাড়ি ফেরার জন্য রাতের ট্রেন পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট ও নৈহাটির মধ্যে রাতের বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রেলের সময়সূচি অনুযায়ী, রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে একটি বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর থেকে নৈহাটিগামী ট্রেন ছাড়বে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে। নৈহাটি থেকে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ার সময় রাত ২টো।
রাতের এই পরিষেবাগুলি শহরতলির বিভিন্ন স্টেশনের মধ্যে যাতায়াতের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুজোর মণ্ডপ ঘুরে দেরিতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের কাছে রাতের ট্রেনের সময় জানা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রাতের ট্রেনের সময়সূচি সম্পর্কে যাত্রীদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ ট্রেনের সময়, স্টপেজ এবং চলাচলের দিন একাধিক কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু অনলাইন পোস্ট বা পুরনো সময়সূচির উপর নির্ভর না করে যাত্রার আগে স্টেশন, রেলের ঘোষণা অথবা সরকারি রেলওয়ে তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
শুধু শিয়ালদহ মেইন লাইনের দূরপাল্লার শহরতলি সংযোগ নয়, কৃষ্ণনগর ও শান্তিপুরের মধ্যেও বাড়তি লোকাল ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর রুটে বিশেষ EMU লোকাল চালানো হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট রুটের নিয়মিত যাত্রীদের পাশাপাশি পুজোর সময় যাতায়াত করা দর্শনার্থীদেরও সুবিধা হতে পারে। কৃষ্ণনগর ও শান্তিপুরের মধ্যে লোকাল ট্রেন পরিষেবা স্থানীয় যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত পরিষেবা চালু থাকলে যাত্রীদের সামনে আরও একটি যাতায়াতের বিকল্প তৈরি হয়।
সময়সূচি অনুসারে, শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগরগামী বিশেষ লোকাল সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে ছাড়বে। পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রেল এই রুটে যাত্রীদের প্রয়োজন এবং পরিষেবার কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ পাবে।
এছাড়াও কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর এবং শান্তিপুর-রানাঘাট রুটের দুটি লোকাল ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের আগের সময়ের সঙ্গে নতুন সময় মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ঠাকুর দেখার জন্য বহু মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। সাধারণ দিনের তুলনায় উৎসবের সময় স্টেশন ও লোকাল ট্রেনে ভিড় বাড়তে পারে। ফলে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়ানো রেলের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
কলকাতার পাশাপাশি কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কল্যাণী, শান্তিপুর ও নৈহাটির মতো জায়গাতেও একাধিক জনপ্রিয় পুজো অনুষ্ঠিত হয়। ফলে যাত্রীদের যাতায়াত একমুখী নয়। কেউ কলকাতা থেকে শহরতলিতে যান, আবার কেউ শহরতলি থেকে কলকাতায় আসেন। এই দুই দিকের যাত্রীচাপের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা চালু থাকলে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ট্রেন বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিশেষ ট্রেন চালানো হলেই সব ট্রেনে ভিড় কমবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। যাত্রীদের চাপ, ট্রেনের সময় এবং নির্দিষ্ট স্টেশনে পরিষেবা পাওয়ার উপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
পুজোর সময় লোকাল ট্রেনে যাতায়াতের পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।
প্রথমত, যাত্রার দিন ও সময় অনুযায়ী ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচি যাচাই করুন। বিশেষ ট্রেনের পরিষেবা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য চালু থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, ট্রেনটি আপনার গন্তব্য স্টেশনে থামবে কি না, তা নিশ্চিত করুন। তৃতীয়ত, রাতের ট্রেনে যাতায়াত করলে শেষ ট্রেনের সময়ের উপর নির্ভর করে যাত্রার পরিকল্পনা করুন এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা রাখুন।
স্টেশনে যথেষ্ট আগে পৌঁছনো ভালো, কারণ পুজোর সময়ে টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনে ভিড় বাড়তে পারে। প্ল্যাটফর্মে ওঠানামার সময় তাড়াহুড়ো না করে সতর্ক থাকুন। চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামার চেষ্টা করবেন না এবং রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলুন।
সব মিলিয়ে, পুজোর ভিড় সামাল দিতে শিয়ালদহ মেইন লাইনে একাধিক বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা শহরতলির যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর, শিয়ালদহ-রানাঘাট ও শিয়ালদহ-কল্যাণী রুটের পাশাপাশি কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, নৈহাটি ও শান্তিপুরের মধ্যে রাতের পরিষেবা এবং বিশেষ EMU লোকাল চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাঁরা পুজোর দিনগুলিতে কলকাতা কিংবা শহরতলির বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেনের সময়সূচি আগে থেকে জেনে রাখা জরুরি। বিশেষ করে রাতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট রুটের শেষ ও বিশেষ ট্রেনের সময় যাচাই করে নিন।
দ্রষ্টব্য: এখানে উল্লেখ করা সময়সূচি প্রদত্ত রেল-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। যাত্রার আগে পূর্ব রেলের সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা স্টেশন থেকে সর্বশেষ সময়সূচি, পরিষেবা চালু থাকার দিন এবং স্টপেজ যাচাই করে নিন।