Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অপরাজিতা আঢ্য খোলাখুলিভাবে জানালেন রাজনীতি নিয়ে নিজের মতামত

অপরাজিতা আঢ্য রাজনীতি নিয়ে সরল ও স্পষ্টমত প্রকাশ করেছেন।চায়ে পে চর্চা নিয়েও তার উচ্ছ্বাস, কিন্তু রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নয়।নতুন ছবি শ্রী দুর্গা ও বাবা-র মাধ্যমে তিনি দর্শককে মুগ্ধ করছেন।অভিনয়, নাচ ও নিজের জীবন উপভোগ করতেই তার ব্যস্ততা।কাউকে নিয়ে আলোচনা হলেও তিনি তা পজিটিভভাবে দেখেন।

অপরাজিতা আঢ্য—বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের নামই যথেষ্ট নয়, তিনি একটি ব্যক্তিত্ব। বরাবরের মতোই অকপট ও স্পষ্টভাষী, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যিনি সত্যিটা নির্ভয়ে বলতে ভালোবাসেন, তার মধ্য দিয়ে আজকের প্রজন্মের কাছে এক নতুন ধরনের উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তিনি একদিকে যেমন অভিনেত্রী, অন্যদিকে সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও এক সচেতন নাগরিক। সম্প্রতি তিনি রাজনীতি নিয়ে নিজের মতামত খোলাখুলি জানিয়েছেন, যা আবারও প্রমাণ করছে যে তিনি শুধু বড় পর্দার নয়, বাস্তব জীবনের ঘটনাবলীর প্রতিও যথেষ্ট সচেতন।

ডিজিটাল সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্ন ছিল, “চা ভালোবাসেন, তাহলে কি ‘চায়ে পে চর্চা’-তে কখনও বসা যেতে পারে?” প্রশ্নটি ছিল রাজনীতি ঘিরে, কিন্তু অপরাজিতার উত্তরটি একেবারে অন্য মোড়ে ঘুরে গেল। হাসতে হাসতেই তিনি বললেন, “চায়ে পে চর্চা হোক, এটা আমিও চাই! কেউ আমাকে নিয়ে আলোচনা করলে আমি বরং খুশি হই। একদিন দেখেছিলাম, আমাকে নিয়ে গোল টেবিল বৈঠক হচ্ছে। আমি গিয়ে বলেছিলাম, তোমরা আমাকে নিয়ে আলোচনা করছ— এটা আমার খুব ভালো লাগছে!”

এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, অপরাজিতার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন—নেতিবাচক নয়, বরং পজিটিভ। তিনি মনে করেন, মানুষ যদি তাকে নিয়ে কথা বলে, তাহলে তা অন্যের কষ্টকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয়। “আমাকে নিয়ে যখন কেউ কথা বলে, তখন কিছুক্ষণের জন্য সে নিজের কষ্ট ভুলে থাকে। তাই আমি এটাকে খুব পজিটিভভাবে দেখি,” যোগ করেন তিনি। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখায় যে তিনি শুধু নিজের জীবনের স্বার্থই নয়, অন্যের অনুভূতিটিকেও গুরুত্ব দেন।

তবে রাজনীতি নিয়ে তার অবস্থান একদম পরিষ্কার। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি বুঝি না, তাই কখনও যোগ দেব না। সবকিছু সবার জন্য নয়। আমার হাতের রেখাতেও রাজনীতি নেই!” এ কথায় বোঝা যায়, অপরাজিতা নিজের সীমা ও আগ্রহের প্রতি একেবারে সৎ। তিনি জানেন কোন ক্ষেত্রে তিনি খুঁজে পাওয়া বা সম্পৃক্ত হওয়া উচিত নয়। এটি কোনো নিরুৎসাহ নয়, বরং একটি স্ব-সচেতনতা।

অপরাজিতার অভিনয় জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি একাধিক ধরণের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শ্রী দুর্গা’-তে তিনি গৃহবধূর অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্পে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ছবিতে একটি সাধারণ মহিলার সংগ্রাম, আত্মপ্রকাশ এবং আত্মসম্মানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের সমাজে প্রতিদিন ঘটে। অপরাজিতার অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে, কারণ তিনি চরিত্রের অভ্যন্তরীণ জটিলতাগুলোকে খুব প্রাকৃতিকভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

তার আগে বাফতা পুরস্কারে সম্মানিত ‘এটা আমাদের গল্প’-এর সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। এই চলচ্চিত্রে তিনি দেখিয়েছেন যে, একজন অভিনেত্রী শুধু মেকআপ বা অভিনয় দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না, বরং গল্পের সাথে নিজেকে মেলাতে পারার ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজে বলেন, “আমি প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে এমনভাবে নিজেকে মেলাই যেন দর্শক মনে করতে পারে—আমি চরিত্রটি নিজে হয়েছি।” এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরাজিতার অভিনয়কে আরও মানবিক এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

নতুন ছবি ‘বাবা’-তেও দর্শকরা তাঁকে দেখার জন্য আগ্রহী। এই ছবিতে তিনি একটি নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তাঁর অভিনয় পরিসরের নতুন দিক উন্মোচন করবে। অপরাজিতা অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দক্ষ। তিনি মানেন যে, অভিনয় ও নাচ কেবল শৈল্পিক অভিব্যক্তি নয়, বরং এটি আত্মপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

অপরাজিতার জীবনের দর্শনও অভিনয়ের মতোই খোলাখুলি এবং স্পষ্ট। তিনি নিজের জীবনে যে ধরনের নিয়ম মানেন, তা হলো: নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নিজের সীমার প্রতি সতর্কতা। তিনি জানেন কোন ক্ষেত্র তাকে আনন্দ দেয় এবং কোন ক্ষেত্রে তিনি জড়াতে চান না। এইভাবে তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিয়ারকে একটি সুসংহত ও সুষম রূপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণভাবে বলা যায়, অপরাজিতা আঢ্য শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি একজন সচেতন মানুষ, যিনি নিজের মত প্রকাশ করতে জানেন এবং অন্যের প্রতিক্রিয়াকেও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেন। দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে এই সৎ ও খোলাখুলিভাবেই তাকে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।

news image
আরও খবর

চলচ্চিত্র, নাটক, নাচ—যেখানে তিনি উপস্থিত, তার প্রভাব স্পষ্ট। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এতটাই খোলামেলা যে, রাজনীতি বা সামাজিক আলোচনার মতো বিষয়েও নিজের মত প্রকাশ করতে কোনো দ্বিধা অনুভব করেন না। তিনি জানেন কখন কথা বলা দরকার, কখন চুপ থাকা শ্রেয়। এই সংযম ও সচেতনতা তাকে শিল্পী হিসেবে আরও দৃঢ় ও পরিপক্ক করেছে।

অপরাজিতার গল্পে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তার প্রতিটি কাজের পেছনের উদ্দেশ্য। তিনি মনে করেন, শিল্পীর কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া নয়, বরং মানুষকে চিন্তা করতে প্ররোচিত করা। তিনি নিজেও প্রতিটি চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেন—চাইল্ড হেলথ থেকে নারী স্বাধীনতা, সামাজিক বন্ধন থেকে ব্যক্তিগত সংগ্রাম, সবকিছুই তার কাজের অংশ।

এই দিকটি আরও স্পষ্ট হয় যখন তিনি বলেন, “আমার কাজের মাধ্যমে মানুষ যদি কিছু অনুভব করতে পারে, নিজের জীবন বা অন্যের জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারে, তবে সেটাই আমার জন্য সার্থক।” এই বক্তব্যটি অপরাজিতার শিল্পী মনোভাবের পরিচয় দেয়। তিনি শুধুমাত্র বড় পর্দার শখের জন্য অভিনয় করেন না, বরং এটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাঁর সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলো যেমন ‘শ্রী দুর্গা’, ‘বাবা’, এবং পুরস্কৃত ‘এটা আমাদের গল্প’, সবই দেখায় যে অপরাজিতা একাধারে প্রতিভাবান, সচেতন এবং পরিশ্রমী। তিনি নিজেকে এক ধরনের শিল্পী হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করেন, যিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ করতে চায়, যিনি সমাজের বিভিন্ন দিককে আত্মসাৎ করে তার কাজের মধ্যে ফুটিয়ে তোলেন।

রাজনীতি নিয়ে তার স্পষ্ট অবস্থানও এই দৃষ্টিভঙ্গিরই অংশ। তিনি জানেন যে রাজনীতি সবের জন্য নয় এবং সবকিছুতে তিনি নিপুণ হতে পারবেন না। তাই তিনি সেই ক্ষেত্র থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। এটি একটি সচেতন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সিদ্ধান্ত, যা তাকে নিজের কাজের প্রতি আরও নিবদ্ধ ও স্থিতিশীল করে।

সংক্ষেপে, অপরাজিতা আঢ্য কেবল একজন অভিনেত্রী নন; তিনি এক জাগ্রত, সৎ, এবং সৃজনশীল মানুষ। অভিনয়, নাচ, সামাজিক সচেতনতা এবং নিজের জীবনের প্রতি খোলাখুলিভাব—সব মিলিয়ে তিনি আজকের বাংলা বিনোদন জগতে এক অনন্য পরিচয় স্থাপন করেছেন। তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, সত্যবাদিতা, সততা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা কোনো সময়ের বা প্রজন্মের সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রমাণ করছেন, শিল্পী হতে হলে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়, খোলামেলা মনোভাব ও দৃঢ় নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

অপরাজিতার এই ভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের জন্য এক উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন যে, নিজের সীমানা জানা, নিজের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া, এবং অন্যের সঙ্গে ইতিবাচক সংযোগ রক্ষা করা—এই সব কিছুর সমন্বয়েই প্রকৃত শিল্পী ও মানুষ তৈরি হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে তার অবদান এবং ব্যক্তিগত দর্শন এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যাবে।

অপরাজিতা আঢ্য আজও অভিনয়, নাচ, এবং নিজের জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করার মধ্যে ব্যস্ত। তার কাজের মাধ্যমে সমাজ, দর্শক এবং সহশিল্পীরা সবসময় তার উপস্থিতি অনুভব করেন। তিনি সত্যিই প্রমাণ করেছেন যে, একজন শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয় বজায় রাখা, সততা বজায় রাখা, এবং পজিটিভ মনোভাব বজায় রাখা—এই তিনটি মানেই একজনের কেরিয়ার এবং জীবনের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।

Preview image