Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫: কার্তিক ভেঙ্কটরামনের দুরন্ত লড়াইয়ে চতুর্থ রাউন্ডে প্রবেশ, বিদিত-নারায়ণের স্বপ্নভঙ্গ!

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫ এ দুরন্ত পারফরম্যান্সে চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছলেন ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার কার্তিক ভেঙ্কটরামন। তবে হতাশ করল বিদিত গুজরাথি ও এস এল নারায়ণনের প্রস্থান। একদিকে ভারতীয় দাবার নতুন নায়কের উত্থান, অন্যদিকে দুই অভিজ্ঞের বিদায়ে মন খারাপ ভক্তদের।

ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫-এ ভারতীয় দাবার ময়দান থেকে ভেসে এলো আনন্দ ও হতাশার মিশ্র সুর। তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার কার্তিক ভেঙ্কটরামন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা পেয়েছেন, যেখানে তিনি পরাজিত করেছেন একাধিক উচ্চ রেটেড প্রতিপক্ষকে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ দাবাড়ু বিদিত গুজরাথি ও এস. এল. নারায়ণনকে বিদায় নিতে হয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

কার্তিকের পারফরম্যান্স এই টুর্নামেন্টে নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক দাবা বিশেষজ্ঞদের। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার টানা দুটি ম্যাচে অসাধারণ কৌশল এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর নির্ভুল ওপেনিং, মিডল গেমে পজিশনাল খেলা এবং এন্ডগেমে শীতল মাথার সিদ্ধান্ত তাঁকে এনে দিয়েছে জয়।

চতুর্থ রাউন্ডে প্রবেশের পর কার্তিক বলেছেন, “আমি প্রতিটি ম্যাচে শুধু মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ফলাফল নিয়ে ভাবি না, শুধু ভালো চাল খেলার চেষ্টা করি।” তাঁর এই নম্রতা ও দৃঢ় মনোবলই ভারতীয় দাবার ভবিষ্যতের প্রতীক।

অন্যদিকে, বিদিত গুজরাথি, যিনি সম্প্রতি ভারতের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে পরিচিত, দুর্ভাগ্যবশত টাইব্রেকারে হেরে যান। প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে দারুণ শুরু করেও শেষ মুহূর্তে কিছু ভুল তাঁকে হারিয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে বিদিত বলেন, “কখনও কখনও দাবা ভাগ্যের খেলাও হয়ে যায়, আজ আমার দিন ছিল না।”

এস. এল. নারায়ণনের ক্ষেত্রেও গল্প প্রায় একই। তিনি সাহসী ওপেনিং এবং ধারাবাহিক খেলা সত্ত্বেও সামান্য ভুলে পরাজিত হন। তবে তাঁর লড়াইয়ে দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

news image
আরও খবর

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কার্তিকের উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রগনন্দা, গুকেশ, আর্যন চোপড়ার মতো গ্র্যান্ডমাস্টারদের পাশে এখন যুক্ত হলো আরও এক নাম—কার্তিক ভেঙ্কটরামন।

বিশ্ব দাবার এই আসরে ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। যদিও কিছু বড় নাম বাদ পড়েছেন, তবে নতুন প্রতিভাদের উত্থানই প্রমাণ করছে ভারত এখন দাবার নতুন শক্তিকেন্দ্র।

দাবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “কার্তিকের এই পারফরম্যান্স শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং ভারতের নতুন দাবা যুগের সূচনা।”

চতুর্থ রাউন্ডে কার্তিকের সামনে আরও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে, তবে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও কৌশল তাঁকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সবাই।

Preview image