Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পঞ্চমীর রাতেই জনস্রোত, ঝলমলে আলোয় জমজমাট পুজোমণ্ডপ—বেলুনওয়ালা থেকে ফুচকাওয়ালার মুখে হাসি

পঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকেই পুজোমণ্ডপগুলিতে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। ঝলমলে আলো, বেলুন-খেলনা আর ফুচকার গন্ধে জমে উঠেছে পুজোর বাজার। ঠাকুর দেখার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়াতেও মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা।

পঞ্চমীর সন্ধ্যা নামতেই যেন বদলে গেল শহরের চেনা ছবি। ঝলমলে আলোর সাজ, ঢাকের বাদ্যি, মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় এবং রাস্তার ধারে নানা খাবারের দোকান—সব মিলিয়ে পুজোর আবহ ক্রমশ জমে উঠল। পঞ্চমীর রাত থেকেই বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে চোখে পড়ল মানুষের ঢল। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর বহু পুজোমণ্ডপ ও তার আশপাশের এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দুর্গাপুজোর আনন্দে সামিল হতে এদিন সকাল থেকেই অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তবে বিকেলের পর থেকেই ভিড়ের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক পরে ছোটদের হাত ধরে অনেক পরিবার মণ্ডপে পৌঁছন। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি বয়স্কদেরও দেখা যায় পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে। কেউ প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত, কেউ মণ্ডপের থিম ও আলোকসজ্জার ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পঞ্চমীর রাতের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে পুজোমণ্ডপগুলির আলোকসজ্জা। কোথাও রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে মণ্ডপ, কোথাও আবার বিশেষ থিমের আলো দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। রাস্তার দু’ধারে আলোর মালা এবং মণ্ডপের প্রবেশপথের সাজসজ্জা উৎসবের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আলোয় আলোকিত রাস্তায় মানুষের ভিড়ও যেন পুজোর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু মণ্ডপের সাজসজ্জাই নয়, পুজোর ভিড়ে বিশেষ আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে ছোটদের মধ্যেও। মণ্ডপের আশপাশে বসেছে বেলুন ও খেলনার দোকান। রঙিন বেলুন, বিভিন্ন ধরনের খেলনা এবং ছোটদের পছন্দের নানা সামগ্রী নিয়ে বিক্রেতারা হাজির হয়েছেন পুজোর বাজারে। মণ্ডপে ঢোকার আগে কিংবা প্রতিমা দেখে বেরিয়ে শিশুদের অনেকেই বেলুন ও খেলনা কেনার জন্য আবদার করছে। ফলে বিক্রেতাদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে।

ঝলমলে আলোর মাঝে বেলুন-খেলনাওয়ালাদের মুখে তাই দেখা যাচ্ছে হাসি। পুজোর কয়েকটি দিন তাঁদের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা বছর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ব্যবসা করলেও দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। পঞ্চমীর রাতেই ভালো বিক্রি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেক বিক্রেতাই আশা করছেন, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মানুষের ভিড় আরও বাড়লে ব্যবসাও আরও ভালো হবে।

তবে পুজোর আনন্দ শুধু আলোর সাজ আর প্রতিমা দর্শনে থেমে নেই। পুজোমণ্ডপের আশপাশে জমে উঠেছে খাবারের বাজারও। ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, রোল, চাউমিন, মোমো, কাবাব থেকে শুরু করে নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান বসেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব দোকানের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ছে। বিশেষ করে ফুচকার দোকানগুলিতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন।

পুজোর সঙ্গে ফুচকার সম্পর্ক যেন আলাদা এক আবেগ। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ফুচকা না খেলে অনেকের কাছেই পুজোর আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ফুচকা খাওয়া, পরিবারের সঙ্গে চটপটি বা ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা মণ্ডপ ঘোরার ফাঁকে রোল-মোমোতে কামড়—পুজোর রাতের চেনা ছবিরই অংশ হয়ে উঠেছে এসব।

বিক্রি ভালো হওয়ায় ফুচকাওয়ালাদের মুখেও ফুটেছে হাসি। সন্ধ্যা থেকেই ক্রেতার চাপ বাড়তে থাকায় অনেক দোকানদারকে প্রায় টানা ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। একদিকে ফুচকা তৈরি, অন্যদিকে ক্রেতাদের অর্ডার নেওয়া—সব মিলিয়ে দোকানগুলিতে ব্যস্ততার শেষ নেই। পুজোর বাকি দিনগুলিতে ভিড় আরও বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁরা।

পুজোর এই ভিড়ের সঙ্গে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও জড়িয়ে রয়েছে। বড় দোকান বা শপিং মলের পাশাপাশি পুজোর সময় রাস্তার ধারের ছোট ব্যবসায়ীরাও মানুষের কেনাকাটার উপর নির্ভর করেন। বেলুন বিক্রেতা, খেলনা বিক্রেতা, ফুচকাওয়ালা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী দোকানদারদের কাছে পুজোর কয়েকটি দিন অতিরিক্ত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়।

পঞ্চমীর রাতের জনস্রোত তাঁদের সেই প্রত্যাশাকে আরও শক্ত করেছে। প্রথম দিনেই যদি মানুষের এমন ভিড় থাকে, তাহলে পুজোর মূল দিনগুলিতে ব্যবসা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন অনেকেই। পুজোর আনন্দ যেমন দর্শনার্থীদের মুখে হাসি এনেছে, তেমনই বিক্রি বাড়ায় ছোট ব্যবসায়ীদের মুখেও স্বস্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, দর্শনার্থীদের মধ্যেও উৎসাহের কোনও ঘাটতি নেই। বহু মানুষ পুজোর দিনগুলিতে রাত পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখতে পছন্দ করেন। কেউ কাছাকাছি কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা করছেন। পঞ্চমী থেকেই অনেকের পুজো পরিক্রমা শুরু হয়ে গিয়েছে।

মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়ের পাশাপাশি রাস্তার ছবিও হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। কোথাও পরিবার নিয়ে হাঁটছেন মানুষ, কোথাও বন্ধুদের দল, আবার কোথাও ছোটরা নতুন জামাকাপড় পরে আনন্দে ছুটে বেড়াচ্ছে। মণ্ডপের সামনে ছবি তোলার জন্যও ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুন্দর আলোকসজ্জা বা আকর্ষণীয় থিমের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এখন পুজোর অন্যতম জনপ্রিয় অভ্যাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে পুজোর এই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করার প্রবণতাও বেড়েছে। অনেকেই মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা, খাবার এবং নিজেদের নতুন পোশাকের ছবি ও ভিডিও তুলছেন। কেউ কেউ সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন। ফলে একটি পুজোমণ্ডপের আনন্দ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মধ্যেও।

পঞ্চমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপগুলিতে মানুষের ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবারের পুজোকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় পর বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে অনেকেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে চাইছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও সবাই যেন পুজোর আনন্দে নিজেদের ভাসিয়ে দিতে চাইছেন।

পুজোর অর্থনীতি এবং উৎসবের আনন্দ—দুই দিক থেকেই তাই পঞ্চমীর এই জনস্রোত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে আনন্দের পরিবেশ, অন্যদিকে স্থানীয় বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটছে আশার হাসি। একটি পুজোমণ্ডপকে ঘিরে শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় অসংখ্য মানুষের জীবিকা।

বেলুন বিক্রেতার রঙিন বেলুন, খেলনা বিক্রেতার সাজানো পসরা, ফুচকাওয়ালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের লাইন, চটপটি-ঝালমুড়ির গন্ধ, আলোর ঝলকানি এবং মানুষের কোলাহল—সবকিছু মিলিয়ে পঞ্চমীর রাত যেন এক পূর্ণাঙ্গ উৎসবের ছবি তুলে ধরেছে। পুজোর আনন্দ যে শুধু মণ্ডপের ভিতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাস্তার প্রতিটি কোণেও তার ছাপ রয়েছে, সেই ছবিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

news image
আরও খবর

অনেকের কাছে পুজো মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। সারা বছর কাজ বা পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কম থাকে। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েন। পঞ্চমীর রাতেও এমন বহু পরিবারকে দেখা যায়, যাঁরা ছোটদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন। ঠাকুর দেখার পাশাপাশি খাবার খাওয়া এবং কেনাকাটাও চলছে সমানতালে।

বন্ধুদের দলেও পুজোর উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে। নতুন পোশাকে সেজে একসঙ্গে ছবি তোলা, মণ্ডপ ঘোরা, ফুচকা খাওয়া কিংবা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আড্ডা—সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও পুজোর আনন্দ স্পষ্ট। অনেকেই পঞ্চমী থেকেই প্যান্ডেল হপিং শুরু করেছেন এবং পরবর্তী দিনগুলিতে আরও বড় পরিকল্পনা করেছেন।

পুজোর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ যেন ছোটদের। নতুন জামা পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মণ্ডপে আসা, প্রতিমা দেখা, আলো দেখা এবং পছন্দের খেলনা বা বেলুন কেনা—সবকিছুতেই তাদের উচ্ছ্বাস। কোনও শিশুর হাতে রঙিন বেলুন, কারও হাতে নতুন খেলনা, আবার কেউ খাবারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয় খাবারের অপেক্ষায়। পুজোর আনন্দের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলিই উৎসবের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

অন্যদিকে, পুজোর বাজারে বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখে বোঝা যাচ্ছে, উৎসবের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও জোরদার হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে মানুষের কেনাকাটা বাড়ে। পোশাক, জুতো, প্রসাধনী, খেলনা থেকে শুরু করে খাবার—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চাহিদা বাড়তে দেখা যায়। পঞ্চমীর ভিড় সেই বাজারের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষ করে অস্থায়ী ছোট দোকানগুলির ক্ষেত্রে পুজোর কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মণ্ডপের আশপাশে দোকান বসিয়ে অনেকেই এই সময়ের আয়ের উপর নির্ভর করেন। পঞ্চমীতে ক্রেতার সংখ্যা ভালো থাকায় তাঁদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমীতে ভিড় আরও বাড়লে ব্যবসার পরিমাণও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পঞ্চমীর রাতের এই চিত্র আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—দুর্গাপুজো এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক মিলন, বিনোদন, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বড় উৎসব। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি আলোকসজ্জা দেখা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং রাস্তার খাবারের স্বাদ নেওয়া—সবকিছুই পুজোর অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছে।

পুজোমণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষের চলাচল যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়ায় মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, পার্কিং এলাকা এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে সেই সব কিছুর মধ্যেও উৎসবের আনন্দে কোনও খামতি নেই। মানুষের মুখে হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের আড্ডা এবং ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাত হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। বহু মানুষের কাছে এই কয়েকটি দিন বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়। তাই পঞ্চমী থেকেই উৎসবের আবহে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতের ছবিতে একসঙ্গে ধরা পড়েছে পুজোর একাধিক রং। কোথাও আলোর ঝলকানি, কোথাও ঢাকের শব্দ, কোথাও প্রতিমা দর্শনের অপেক্ষায় মানুষের লাইন, আবার কোথাও ফুচকার দোকানে জমে উঠেছে আড্ডা। ছোটদের হাতে রঙিন বেলুন, পাশে খেলনার পসরা, আর খাবারের দোকানে ক্রেতার ভিড়—এই দৃশ্যই জানান দিচ্ছে, পুজোর উৎসব ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে।

বেলুন-খেলনাওয়ালার হাসি কিংবা ফুচকাওয়ালার ব্যস্ততা আসলে পুজোর বৃহত্তর ছবিরই অংশ। দর্শনার্থীরা আনন্দ করছেন, আর সেই আনন্দকে কেন্দ্র করে জীবিকা খুঁজে নিচ্ছেন অসংখ্য ছোট ব্যবসায়ী। পঞ্চমীর ভালো বিক্রি তাঁদের পরবর্তী কয়েকটি দিনের জন্য নতুন আশা তৈরি করেছে।

পুজোর এখনও একাধিক দিন বাকি। তাই পঞ্চমীর এই জনস্রোত আগামী দিনগুলিতে আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী-নবমী পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোকসজ্জা, প্রতিমা দর্শন, প্যান্ডেল হপিং এবং খাবারের দোকান—সব মিলিয়ে উৎসবের ব্যস্ততা আরও বাড়বে।

তবে পঞ্চমীর রাতেই যে পুজোর আসল আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছে, তা বলাই যায়। শহর থেকে পাড়া-মহল্লা—বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ভিড়, আলোর রোশনাই এবং উৎসবের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। ঠাকুর দেখার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া যে বাঙালির পুজোর অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ, পঞ্চমীর রাতের ছবিতে সেটিও আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঝলমলে আলোর মাঝে হাসছেন বেলুন-খেলনাওয়ালা, বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ফুচকাওয়ালা, আর পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা। কারও হাতে বেলুন, কারও হাতে ফুচকার প্লেট, কারও মোবাইলে মণ্ডপের ছবি—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তৈরি করছে পঞ্চমীর রাতের বড় উৎসবের ছবি।

অর্থাৎ, পঞ্চমীর জনস্রোত শুধু ভিড়ের পরিসংখ্যান নয়; এর মধ্যে রয়েছে মানুষের আনন্দ, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, শিশুদের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের আড্ডা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর গল্প। পুজোর প্রথম দিকেই এমন জমজমাট পরিবেশ দেখে উৎসবপ্রেমীদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। এখন অপেক্ষা পুজোর পরবর্তী দিনগুলির জন্য—যখন এই জনস্রোত আরও বড় আকার নেবে এবং আলোর উৎসব আরও জমে উঠবে।

পঞ্চমীর রাত তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে—দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। প্রতিমা দর্শন থেকে শুরু করে ফুচকার স্বাদ, বেলুন কেনা থেকে আলোকসজ্জার ছবি তোলা—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে পুজোর চেনা আনন্দ। আর সেই আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ছোট ব্যবসায়ীদের মুখের হাসিই হয়তো এই উৎসবের সবচেয়ে বাস্তব এবং সুন্দর ছবি।

Preview image