থিমের জোয়ারে গা ভাসিয়েছে নবদ্বীপ। অভিনব ভাবনা, শিল্পকলা ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে একের পর এক নজরকাড়া পুজোমণ্ডপ তৈরি করেছে বিভিন্ন পুজো কমিটি। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার বৈচিত্র্য দেখতে নবদ্বীপে উপচে পড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়
নবদ্বীপে জমজমাট থিমের লড়াই, বাঁধভাঙা ভিড় দর্শনার্থীদের
থিমের জোয়ারে গা ভাসিয়েছে নবদ্বীপ। অভিনব ভাবনা, শিল্পকলা ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে একের পর এক নজরকাড়া পুজোমণ্ডপ তৈরি করেছে বিভিন্ন পুজো কমিটি। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার বৈচিত্র্য দেখতে নবদ্বীপে উপচে পড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
শারদোৎসবের আবহে উৎসবের রঙে সেজে উঠেছে নবদ্বীপ। পুজোর দিন যত এগিয়েছে, ততই জমে উঠেছে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপকে ঘিরে দর্শনার্থীদের উন্মাদনা। বিশেষ করে এ বছর থিমের বৈচিত্র্য, অভিনব ভাবনা এবং সৃজনশীল মণ্ডপসজ্জা নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। পুজো কমিটিগুলির মধ্যে যেন শুরু হয়েছে দর্শক টানার এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর সেই প্রতিযোগিতার ফলেই নবদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে একের পর এক নজরকাড়া পুজোমণ্ডপ।
নবদ্বীপ বরাবরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক শিল্পভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে দুর্গাপুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে বিভিন্ন পুজো কমিটি। কোথাও গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে, কোথাও আবার ইতিহাস ও লোকশিল্পকে মণ্ডপসজ্জার মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কোনও মণ্ডপে রয়েছে সামাজিক বার্তা, আবার কোনও মণ্ডপে প্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্পকলার অভিনব ব্যবহার।
থিমের এই বৈচিত্র্যই এবারের নবদ্বীপের দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ বেরিয়ে পড়ছেন মণ্ডপ পরিক্রমায়। ছোটদের চোখে বিস্ময়, তরুণদের মধ্যে ছবি তোলার উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের মধ্যে পুরনো দিনের পুজোর স্মৃতি—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে মুখর নবদ্বীপ।
শুধু নবদ্বীপের বাসিন্দারাই নন, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ পুজোর থিম দেখতে শহরে আসছেন। পুজোর কয়েকদিন নবদ্বীপের রাস্তাঘাটে তাই তৈরি হচ্ছে বাড়তি ব্যস্ততা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপমুখী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছে। এক পুজোমণ্ডপ থেকে অন্য পুজোমণ্ডপে ঘুরে থিম দেখার পাশাপাশি চলছে ছবি তোলা, আড্ডা এবং পুজোর আনন্দ উপভোগ।
আধুনিক দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এখন থিম। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের নির্মাণশৈলী, আলোকসজ্জা এবং সম্পূর্ণ উপস্থাপনাকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। নবদ্বীপের পুজো কমিটিগুলিও সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের পরিকল্পনা করেছে।
কোনও মণ্ডপে দেখা যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের অনুকরণ, কোথাও আবার গ্রামীণ বাংলার পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কোথাও মাটির কাজ, বাঁশের শিল্প, পাট, কাঠ কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। আবার কিছু পুজোয় আধুনিক আলো, শব্দ ও বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বিশেষ বার্তা।
থিমের এই লড়াইকে অনেকেই শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মতে, এর ফলে স্থানীয় শিল্পী ও কারিগররা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন এবং নতুন ধরনের শিল্পচর্চার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। একটি ভালো থিম তৈরি করতে মণ্ডপশিল্পী, প্রতিমাশিল্পী, আলোকশিল্পী এবং বিভিন্ন কারিগরকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে হয়। ফলে পুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় একটি বড় কর্মযজ্ঞ।
নবদ্বীপের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বৈষ্ণব সংস্কৃতি, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বাংলার নানা লোকাচারের সঙ্গে এই শহরের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ছাপ অনেক পুজোমণ্ডপেই দেখা যাচ্ছে।
আবার একই সঙ্গে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আকর্ষণ করতে মণ্ডপে ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব আলোকসজ্জা, আধুনিক নকশা এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা। ফলে একই মণ্ডপে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সুন্দর সমন্বয় তৈরি হচ্ছে।
এই পরিবর্তনই দুর্গাপুজোকে সময়ের সঙ্গে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, একটি সম্পূর্ণ শিল্পকর্ম হিসেবে মণ্ডপকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পুজোর সঙ্গে শিল্প, ইতিহাস ও সামাজিক বার্তার সংযোগ উৎসবের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সন্ধ্যা নামতেই নবদ্বীপের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নামছে। মণ্ডপের সামনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপর হতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজো দেখতে আসা মানুষের পাশাপাশি বন্ধুদের দল এবং তরুণ-তরুণীদের ভিড়ও চোখে পড়ছে।
বিশেষ করে আকর্ষণীয় থিমের পুজোগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় তুলনামূলকভাবে বেশি। মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা থিমের বিভিন্ন অংশ খুঁটিয়ে দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও এই ভিড় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোনও পুজোর অভিনব মণ্ডপ বা প্রতিমার ছবি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকার পুজো সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং সেই মণ্ডপ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এভাবেই একটি পুজোর জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে পুজো মানেই শুধু অঞ্জলি বা প্রতিমা দর্শন নয়, স্মৃতি ধরে রাখারও সময়। তাই প্রতিটি আকর্ষণীয় মণ্ডপের সামনে দেখা যাচ্ছে ছবি তোলার ভিড়। বিশেষ করে মণ্ডপের প্রবেশপথ, প্রতিমার সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ছবি তোলার বিশেষ জায়গা।
অনেক দর্শনার্থী একাধিক পুজোমণ্ডপ ঘুরে ছবি তুলছেন এবং নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করছেন। এর ফলে পুজোর প্রচারও আরও দ্রুত হচ্ছে। একটি সুন্দর মণ্ডপ মুহূর্তের মধ্যেই বহু মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে।
শুধু থিম নয়, আলোকসজ্জাতেও রয়েছে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ আলোয় ঝলমল করে উঠছে। কোথাও রঙিন আলোয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপের স্থাপত্য, আবার কোথাও আলোর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিশেষ দৃশ্য বা গল্প।
আলোকসজ্জার এই বৈচিত্র্য রাতের নবদ্বীপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মণ্ডপের পাশাপাশি রাস্তার বিভিন্ন অংশেও দেখা যাচ্ছে আলোর সাজ। ফলে পুজোর রাতে শহরের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে সম্পূর্ণভাবে।
একটি আকর্ষণীয় থিমের পেছনে থাকে বহু মানুষের পরিশ্রম। শিল্পী, কারিগর, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকশিল্পী—সবাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেন একটি পুজোমণ্ডপ।
অনেক ক্ষেত্রেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয় পুজোর বহু আগে। দিন-রাত পরিশ্রম করে শিল্পীরা একটি ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেন। তাঁদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ফলেই দর্শকদের সামনে উঠে আসে অভিনব মণ্ডপ।
এই শিল্পীদের অনেকেই স্থানীয়। ফলে পুজোর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও কারুশিল্পেরও প্রসার ঘটছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে শুধু মণ্ডপ বা প্রতিমাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুজোর সময় নবদ্বীপের বিভিন্ন বাজার ও দোকানপাটে বাড়ে বিক্রিবাটা। পোশাক, জুতো, প্রসাধনী, খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীর দোকানে দেখা যায় বাড়তি ভিড়।
মণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান ও বিভিন্ন স্টলও বসে। ফুচকা, চটপটি, রোল, মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের ভাজাভুজি এবং অন্যান্য খাবারের দোকানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ফলে পুজোর আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। বড় পুজোমণ্ডপগুলির আশপাশে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভিড় সামলাতে পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়। দর্শনার্থীদের নিরাপদে মণ্ডপ দর্শন এবং বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিপুল জনসমাগমের কারণে পুজোর সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা—সবকিছুর দিকেই নজর দিতে হয়।
দর্শনার্থীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে দুর্গাপুজোর সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টিও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পুজো কমিটি সচেতন হচ্ছে।
থিমের মধ্যেও পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জল সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক বর্জন কিংবা প্রকৃতি রক্ষার মতো বিষয়কে মণ্ডপের ভাবনার অংশ করা হচ্ছে। এর ফলে দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে যাচ্ছে।
থিমের চাকচিক্য যতই বাড়ুক, বাঙালির দুর্গাপুজোর অন্যতম পরিচিত প্রতীক এখনও ঢাকের বাদ্যি। মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ শুরু হতেই উৎসবের আবহ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ, অঞ্জলি এবং আরতির দৃশ্য পুজোর চিরাচরিত ঐতিহ্যকে ধরে রাখে।
আধুনিক থিমের পাশাপাশি এই ঐতিহ্যবাহী আচারগুলিই পুজোকে বাঙালির কাছে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে। তাই নতুনের সঙ্গে পুরনোর মেলবন্ধনই যেন নবদ্বীপের দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
মণ্ডপ ঘুরে দর্শনার্থীদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এবারের থিমগুলিতে বৈচিত্র্য রয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক পুজোমণ্ডপে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা দেখতে পাওয়ায় তাঁদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজো ঘুরে দেখার আনন্দও আলাদা বলে জানাচ্ছেন অনেকে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ করে থিমপুজো নিয়ে উৎসাহ বেশি। তাঁরা এক রাতেই একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় পুজোগুলির তালিকা তৈরি করে সেই অনুযায়ী মণ্ডপ পরিক্রমা করছেন অনেকেই।
পুজো কমিটিগুলির মধ্যে থিমের প্রতিযোগিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য দর্শকদের আনন্দ দেওয়া। একটি সুন্দর মণ্ডপ তৈরি করার মাধ্যমে শিল্প ও সংস্কৃতিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই বড় কথা।
থিমের প্রতিযোগিতা পুজোর আকর্ষণ বাড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার পাশাপাশি নবদ্বীপের নিজস্ব ঐতিহ্যও যেন হারিয়ে না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের ভারসাম্য বজায় রেখে পুজোর আয়োজনই হতে পারে আগামী দিনের পথ।
সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপুজোয় থিমের জোয়ারে নতুন রূপ পেয়েছে নবদ্বীপ। অভিনব মণ্ডপ, নজরকাড়া প্রতিমা, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙা ভিড়—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ এখন তুঙ্গে। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেন চলছে আলোর মেলা, শিল্পের প্রদর্শনী এবং মানুষের মিলনোৎসব।
নবদ্বীপের পুজোয় তাই এবারের বড় আকর্ষণ শুধু দেবীর আরাধনা নয়; থিমের মধ্য দিয়ে গল্প বলা, শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উৎসবকে আরও নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা। পুজো কমিটিগুলির এই সৃজনশীল প্রতিযোগিতাই দর্শকদের আরও বেশি করে মণ্ডপমুখী করছে।