Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

**ডাকের সাজে একচালা প্রতিমা, ৫১ বছরের ঐতিহ্য! নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে আজও ঘরোয়া আবহে দুর্গাপুজো**

নদিয়ার নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনায় এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় ৫১ বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে দুর্গাপুজো। ডাকের সাজে সজ্জিত একচালা প্রতিমাই এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সাবেকি ভাবধারা এবং ভক্তির আবহে আজও স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে ফাঁসিতলা মোড়ের এই পুজো।

ডাকের সাজের একচালা প্রতিমাতেই পুজো, নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে ৫১ বছরের ঐতিহ্য

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আনন্দ এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। কোথাও থিমের অভিনবত্ব, কোথাও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, আবার কোথাও সাবেকি প্রতিমা ও প্রাচীন রীতিনীতির মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় উৎসবের আসল আনন্দ। আধুনিকতার এই সময়েও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু পুজো রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ঐতিহ্য ও পরম্পরা ধরে রেখেছে। নদিয়ার নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ের দুর্গাপুজোও তেমনই এক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনায় এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় ৫১ বছর ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পুজো এলাকার মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ডাকের সাজে সজ্জিত একচালা প্রতিমাই এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাবেকি রীতিতে দেবী দুর্গার আরাধনা এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই ফাঁসিতলা মোড়ের পুজো নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে।

৫১ বছরের পরম্পরায় দুর্গার আরাধনা

দুর্গাপুজো শুধুমাত্র কয়েক দিনের উৎসব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের স্মৃতি, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন। বছরের পর বছর ধরে একটি পুজোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে থাকে উদ্যোক্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোও দীর্ঘ ৫১ বছরের পথ অতিক্রম করে ঐতিহ্যের ধারাকে বহন করে চলেছে।

শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনা এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় এই পুজোর আয়োজন করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুর্গাপুজোকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগই এমন আয়োজনের অন্যতম শক্তি। সময়ের সঙ্গে পুজোর পরিবেশ ও উৎসব পালনের ধরনে পরিবর্তন এলেও সাবেকি প্রতিমার প্রতি মানুষের আকর্ষণ আজও অটুট।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পুজো নবদ্বীপের দুর্গোৎসবের পরিসরে এক পরিচিত নাম। পুজোর ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন বারোয়ারি পুজোর গুরুত্ব রয়েছে।

ডাকের সাজে দেবী দুর্গা

ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা। বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে ডাকের সাজের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। সাবেকি দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এই সাজের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

একসময় ডাকযোগে বাইরে থেকে আসা সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহারের সূত্রে ‘ডাকের সাজ’ নামটির প্রচলন হয়েছে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন উপকরণ ও কারুশিল্পের মাধ্যমে এই সাজ তৈরি করা হয়। প্রতিমার অলংকার, সাজের নকশা এবং ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনা দেবী দুর্গার রূপকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

আধুনিক থিমের পুজোয় নানা ধরনের অভিনবত্ব দেখা গেলেও ডাকের সাজের মধ্যে রয়েছে অন্যরকম আকর্ষণ। এখানে সাজের জাঁকজমকের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় সাবেকি শিল্পরীতি ও দেবীর চিরপরিচিত রূপ। ফলে ঐতিহ্যপ্রেমী দর্শনার্থীদের কাছে এমন প্রতিমা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোয় ডাকের সাজের একচালা প্রতিমার মাধ্যমে সেই সাবেকি ধারাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমার এই পরিচিত রূপ পুজোর ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।

একচালা প্রতিমার নিজস্ব আবেদন

বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যে একচালা প্রতিমার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একচালা প্রতিমায় দেবী দুর্গা এবং তাঁর সন্তানদের একই চালচিত্র বা কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা হয়। এই বিন্যাসে দেবী ও তাঁর পরিবারের সম্মিলিত রূপ ফুটে ওঠে।

একচালা প্রতিমার মধ্যে রয়েছে প্রাচীন বাংলার প্রতিমাশিল্পের পরিচিত ছাপ। মৃৎশিল্পীর দক্ষতা, প্রতিমার গড়ন, চালচিত্রের নকশা এবং অলংকরণের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই রূপ। আধুনিক প্রতিমার বিভিন্ন শৈলীর পাশাপাশি একচালা প্রতিমা আজও বহু পুজোয় সমানভাবে সমাদৃত।

নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোয় একচালা প্রতিমার ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে। ডাকের সাজের সঙ্গে এই প্রতিমার মেলবন্ধন পুজোটিকে একটি সাবেকি আবহ দেয়। এই ধারার মধ্যে দিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিমাশিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রকাশ পায়।

আধুনিকতার মাঝেও সাবেকিয়ানার টান

বর্তমান সময়ে দুর্গাপুজোয় থিম, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং নানা ধরনের নতুন ভাবনার গুরুত্ব বেড়েছে। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে অনেক পুজোতেই অভিনব শিল্পকর্ম ও বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেখা যায়। তবে এর পাশাপাশি সাবেকি পুজোগুলির আবেদনও আলাদা।

news image
আরও খবর

ঐতিহ্যবাহী পুজোয় প্রতিমার পরিচিত রূপ, পুজোর রীতি এবং ভক্তির পরিবেশ বিশেষ গুরুত্ব পায়। সেখানে মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে দেবীর আরাধনা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পরম্পরা। বহু দর্শনার্থী এমন পুজোয় এসে খুঁজে পান শৈশবের স্মৃতি, পুরনো দিনের উৎসবের আবহ এবং বাঙালির চিরপরিচিত দুর্গোৎসবের ছবি।

ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোও সেই সাবেকি ধারার সঙ্গে যুক্ত। ৫১ বছর ধরে পুজোর আয়োজন করে আসা এই সমিতির উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী একচালা প্রতিমার মাধ্যমে দুর্গার আরাধনা করা হয়। ফলে পুজোটি কেবল একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পরম্পরার ধারক হিসেবেও পরিচিত।

নবদ্বীপের উৎসবের আবহে ফাঁসিতলা মোড়ের পুজো

নদিয়ার নবদ্বীপ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। সারা বছরই এই শহরের সঙ্গে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মন্দির এবং উৎসবের সম্পর্ক রয়েছে। দুর্গাপুজোর সময়ও শহরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। বিভিন্ন পাড়ার পুজো, প্রতিমা দর্শন এবং মানুষের মিলনমেলায় শহরের জনজীবন হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

এই পরিবেশে ফাঁসিতলা মোড়ের দুর্গাপুজো দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতি এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত এই পুজো এলাকার উৎসবের ধারার সঙ্গে যুক্ত। ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা পুজোটিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।

দুর্গাপুজোর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি মানুষকে একত্রিত করে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পাড়ার পুজোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ সেই সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে।

বারোয়ারি পুজোর সামাজিক গুরুত্ব

বাংলার বারোয়ারি দুর্গাপুজোর ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পুজোর পাশাপাশি বারোয়ারি পুজো বহু মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দারা একসঙ্গে উৎসবের আয়োজন করেন এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যান।

একটি পুজো দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ। প্রতিমা তৈরি, পুজোর আয়োজন, বিভিন্ন প্রস্তুতি এবং উৎসবের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অনেক মানুষের পরিশ্রম জড়িয়ে থাকে। দীর্ঘ ৫১ বছরের ইতিহাস সেই ধারাবাহিকতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোয় শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনা এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতা এই সম্মিলিত উদ্যোগের পরিচয় বহন করে। বছরের পর বছর ধরে পুজোর আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার মানুষ তাঁদের উৎসবের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন।

ঐতিহ্যই যেখানে প্রধান আকর্ষণ

দুর্গাপুজোর সৌন্দর্য শুধু মণ্ডপের আকার বা সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিমার শিল্পরীতি, পুজোর পরম্পরা এবং মানুষের আবেগও উৎসবকে বিশেষ করে তোলে। কোথাও অভিনব থিম দর্শকদের আকৃষ্ট করে, আবার কোথাও সাবেকি প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা অনুভব করেন এক চিরপরিচিত উৎসবের আবহ।

ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা সেই ঐতিহ্যেরই একটি পরিচিত প্রতীক। ফাঁসিতলা মোড়ের পুজোয় এই প্রতিমার মাধ্যমে সাবেকি শিল্পরীতির গুরুত্ব বজায় রাখা হয়েছে। ৫১ বছরের ধারাবাহিকতা পুজোটির ঐতিহ্যবাহী পরিচয়কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্যের টানে ফাঁসিতলা মোড়

নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে শ্রীশ্রী কৃষ্ণকালী বারোয়ারি সমিতির পরিচালনায় এবং স্মৃতি সংঘের সহযোগিতায় ৫১ বছর ধরে হয়ে আসছে দুর্গাপুজো। ডাকের সাজে সজ্জিত একচালা প্রতিমাই এই পুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম। আধুনিকতার পরিবর্তনশীল ধারার মাঝেও সাবেকি প্রতিমার মাধ্যমে ঐতিহ্য ধরে রাখার এই উদ্যোগ পুজোটিকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।

দুর্গাপুজো মানেই নতুনের সঙ্গে পুরনোর মেলবন্ধন। একদিকে যেমন নতুন ভাবনা ও শিল্পের প্রকাশ ঘটে, তেমনই অন্যদিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলি অতীতের স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। ফাঁসিতলা মোড়ের ৫১ বছরের পুজো সেই পরম্পরারই একটি উদাহরণ।

নবদ্বীপের ফাঁসিতলা মোড়ে তাই ডাকের সাজের একচালা প্রতিমায় দেবী দুর্গার আরাধনা শুধু একটি পুজোর আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, ভক্তি এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চার পরিচয়।

Preview image