Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

লেভন অ্যারোনিয়ান বললেন: “ভ্লাদিমির ক্রামনিকের পেশাদার সাহায্য প্রয়োজন, তাঁর মধ্যে ‘উদ্ধারকর্তা মানসিকতা’ দেখা যাচ্ছে”

আর্মেনিয়ান গ্র্যান্ডমাস্টার লেভন অ্যারোনিয়ান সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রুশ দাবা কিংবদন্তি ভ্লাদিমির ক্রামনিকের আচরণ ও মন্তব্যে উদ্ধারকর্তা মানসিকতা স্পষ্ট। তাঁর মতে, ক্রামনিকের এখন পেশাদার মানসিক সহায়তা প্রয়োজন, কারণ তিনি নিজের ভাবনায় অতিরিক্ত ডুবে যাচ্ছেন এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন।

আর্মেনিয়ান দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার লেভন অ্যারোনিয়ান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও রুশ কিংবদন্তি ভ্লাদিমির ক্রামনিক সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অ্যারোনিয়ানের মতে, ক্রামনিকের সাম্প্রতিক আচরণ ও বিতর্কিত মন্তব্যে একটি "সেভিয়র কমপ্লেক্স" বা 'উদ্ধারকর্তা মানসিকতা' স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা তাঁকে বাস্তবতা থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অ্যারোনিয়ান স্পষ্টভাষায় বলেন, "আমি মনে করি ক্রামনিকের পেশাদার মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি বিষয়ে নিজের মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেন তিনিই সমগ্র দাবা জগৎকে 'রক্ষা' করতে এসেছেন। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে আরও বিচ্ছিন্ন ও একাকী করে তুলছে।"

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভ্লাদিমির ক্রামনিক সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছেন, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে। তাঁর মন্তব্যে অনলাইন দাবার সততা, নবীন গ্র্যান্ডমাস্টারদের আকস্মিক সাফল্য এবং তাদের খেলার ধরন নিয়ে তীব্র সন্দেহ ও সমালোচনা প্রকাশ পেয়েছে, যা দাবা সম্প্রদায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অ্যারোনিয়ান আরও যোগ করেন, "ক্রামনিক এক সময় অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন এবং তাঁর অবদান দাবা ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। কিন্তু বর্তমানে তিনি যেন নিজের অতীত গৌরবের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং সমসাময়িক দাবা জগতের বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ হারাচ্ছেন।"

news image
আরও খবর

২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন থাকা ক্রামনিক তাঁর কর্মজীবনে গ্যারি ক্যাসপারভ, ভিশ্বনাথন আনন্দসহ যুগশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের পরাজিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মন্তব্যের ধরন ও আচরণ অনেক দাবা বিশেষজ্ঞ ও খেলোয়াড়কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

দাবা অঙ্গনে অ্যারোনিয়ানের এই মন্তব্য নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এবং মনে করছেন যে একজন প্রবীণ খেলোয়াড়ের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্যে একজন কিংবদন্তির প্রতি অপ্রয়োজনীয় অসম্মান প্রদর্শিত হয়েছে।

দাবা জগতের দুই প্রজন্মের এই দুই বিশিষ্ট খেলোয়াড়ের মধ্যে এই বাক্‌বিতণ্ডা এখন আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। এই ঘটনা কেবল দাবার কৌশলগত দিকই নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্য, পেশাদার আচরণবিধি এবং প্রবীণ-নবীন প্রজন্মের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও সামনে এনেছে।

Preview image