সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দ্বারকা নদে আরতি শুরুর মাধ্যমে তারাপীঠে পর্যটন পরিকাঠামোয় নতুন পালকের সংযোজন হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই দ্বারকা নদই দূষিত হয়ে পড়েছে। এই নদে জলও নেই বললেই চলে। জল ধরে রাখার জন্য চেক ড্যামের আবেদন জানানো হলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের কাছে দ্বারকায় আরতির আকর্ষণ ধীরে ধীরে কমে এসেছিল। অবশেষে তারাপীঠে দ্বারকা নদের পাড়ে নিত্য আরতি বন্ধ হয়ে গেল। মন্দির কমিটির উপদেষ্টা রবি চট্টোপাধ্যায় বলেন, নদে জল নেই। দূষণ বেড়েছে। ওখানে কিছু যুবক-যুবতীর আচরণও আপত্তিজনক। দু’জন করে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও সেই সমস্যা মেটানো যায়নি। আধ্যাত্মিক পরিবেশ হারিয়ে যাওয়ায় আরতি দেখতে মানুষ সেভাবে আসছিলেন না। অথচ এই আরতির জন্য মাসে দু’লক্ষ টাকা করে খরচ হচ্ছিল। তাই আমরা আরতি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। পরে আবার এবিষয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখব।
তারাপীঠ বরাবরই বাংলার আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে
প্রতিদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও পর্যটক এই পবিত্র তীর্থস্থানে এসে পৌঁছন মা তারার আশীর্বাদ লাভের আশায়
এই ধারাবাহিক যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছিল দ্বারকা নদ এবং তার পাড়ে শুরু হওয়া সন্ধ্যার আরতি
একসময় এই আরতি তারাপীঠের পর্যটন পরিকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল
দ্বারকা নদকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক আলাদা আবেগ এক আলাদা অভিজ্ঞতা
আধ্যাত্মিক আবহে প্রদীপের আলো মন্ত্রোচ্চারণ আর ঢাকের তালে তালে নদীপাড়ে আরতি বহু মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিল এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করে
দ্বারকা নদে জলস্তর ক্রমশ কমতে থাকে
বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় নদী প্রায় শুকনো অবস্থায় পড়ে থাকে
নদীতে জল না থাকায় পবিত্রতার অনুভূতিও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দূষণের সমস্যা
নদীর বুকে জমতে থাকে আবর্জনা নোংরা জল ও অপচনশীল বর্জ্য
ফলে নদী আর আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি
এই অবস্থার উন্নতির জন্য জল ধরে রাখার চেক ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব একাধিকবার প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছিল
কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও সেই প্রস্তাব বাস্তব রূপ পায়নি
নদী যেমন শুকিয়ে যেতে থাকে তেমনই আরতির আকর্ষণও কমতে শুরু করে
আগে যেখানে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় জমত সেখানে ধীরে ধীরে উপস্থিতি কমে আসে
আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় নদীপাড়ের পরিবেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কিছু যুবক যুবতীর অশালীন আচরণ ও অসংযত কার্যকলাপের কারণে আধ্যাত্মিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল
নিরাপত্তার জন্য দুজন করে রক্ষী মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি
পুণ্যার্থী ও পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়
ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে
এই সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ
মন্দির কমিটির উপদেষ্টা রবি চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানান যে নদীতে জল না থাকা দূষণ বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে আরতি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিল না
তিনি আরও জানান যে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ক্ষতিই নয় আর্থিক দিক থেকেও বিষয়টি ভার হয়ে উঠছিল
প্রতি মাসে প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছিল এই আরতির জন্য
কিন্তু দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই খরচ যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছিল না
এই সব কারণ মিলিয়েই অবশেষে দ্বারকা নদীর পাড়ে নিত্য আরতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তারাপীঠের পর্যটন চিত্রে এক বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে
অনেক পুণ্যার্থী ও স্থানীয় মানুষ এই সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না
তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়
ভবিষ্যতে নদীর পুনরুজ্জীবন পরিবেশ উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলালে আবার নতুন করে ভাবনা চিন্তা করা হবে
দ্বারকা নদ যদি আবার জলপূর্ণ হয়
যদি আবার ফিরে আসে পবিত্রতা ও শুদ্ধ পরিবেশ
তবে তারাপীঠে সন্ধ্যার আরতি আবারও নতুন প্রাণ পেতে পারে
তারাপীঠ শুধুমাত্র একটি তীর্থস্থান নয় এটি বাংলার সংস্কৃতি বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিচ্ছবি
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হল যে ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়িত্ব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত
দ্বারকা নদীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রশাসনিক উদ্যোগ সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর
এই পবিত্র নদী ও তারাপীঠের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি
তারাপীঠের ইতিহাস বহু প্রাচীন এবং এই তীর্থস্থান কেবল একটি মন্দিরকেন্দ্রিক এলাকা নয় বরং একটি জীবন্ত ধর্মীয় নগরী
মা তারার মন্দিরকে ঘিরে বছরের প্রতিটি দিনই এখানে পুণ্যার্থীর ভিড় লেগে থাকে
বিশেষ করে অমাবস্যা পূর্ণিমা কালীপুজো ও বিভিন্ন তিথিতে মানুষের ঢল নামে
এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল ব্যবসা প্রসাদ বিক্রেতা ফুল মালার দোকান পরিবহন পরিষেবা গাইড সেবা এবং নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা
দ্বারকা নদীর পাড়ে আরতি শুরু হওয়ার পর এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পেয়েছিল
সন্ধ্যার আরতির সময় অনেক পর্যটক বিশেষভাবে নদীপাড়ে আসতেন
স্থানীয় দোকানপাটেও সেই সময় বিক্রি বাড়ত
অনেকেই আরতির দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতেন যার ফলে তারাপীঠের প্রচার আরও বিস্তৃত হয়েছিল
কিন্তু নদীর অবস্থা যখন ক্রমশ অবনতির দিকে যেতে শুরু করল তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়তে থাকে স্থানীয় অর্থনীতির উপর
নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দৃশ্যত সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়
যেখানে একসময় জলের উপর প্রদীপের আলো প্রতিফলিত হয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করত সেখানে এখন কাদা শুকনো বালু ও আবর্জনা দৃশ্যমান
এই পরিবর্তন বহু মানুষের মনে হতাশা তৈরি করে
পুণ্যার্থীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন কেন নদীর পুনরুদ্ধারে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না
পরিবেশবিদদের মতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি
নদী কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যের অংশ
নদী শুকিয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হয়
জলাভূমি কমে গেলে পাখি মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
এই দিকগুলোও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করেন নদীর পুনর্জাগরণ সম্ভব
প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ
চেক ড্যাম নির্মাণ নদীর পাড় পরিষ্কার রাখা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে
ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণকে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব
মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে যে আরতি বন্ধের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না
অনেক আলোচনা পর্যালোচনা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখা তাদের প্রথম দায়িত্ব
যদি সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বজায় রেখে আরতি চালিয়ে যাওয়ার অর্থ হয় না
এই অবস্থায় আপাতত বিরতি দেওয়া হয়েছে
তবে আশার কথা এই যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে
নদীর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে
স্থানীয় মানুষও চাইছেন সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে
তারাপীঠের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানে নদীর পুনরুজ্জীবন একটি সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে
দ্বারকা নদ কেবল জলের ধারা নয় এটি বহু মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত
এই নদীর পাড়েই বহু সাধক সন্ন্যাসী তপস্যা করেছেন বলে প্রচলিত আছে
অতএব এই নদীর বর্তমান অবস্থা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা পরিবেশগত সমস্যা নয় এটি আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রশ্নও
এই আবেগকে সম্মান জানিয়ে নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন
বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো এক সাময়িক অধ্যায়
কিন্তু এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় তবে ভবিষ্যতে তারাপীঠ আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেতে পারে
সন্ধ্যার আকাশে প্রদীপের আলো মন্ত্রোচ্চারণ আর ঢাকের শব্দে আবারও মুখর হয়ে উঠতে পারে দ্বারকা নদীর পাড়
সেই প্রত্যাশাতেই আজ অপেক্ষা করছে স্থানীয় মানুষ পুণ্যার্থী ও ভক্তরা
দ্বারকা নদকে ঘিরে যে স্বপ্ন একসময় গড়ে উঠেছিল তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছিল না
এটি ছিল তারাপীঠের সামগ্রিক পর্যটন উন্নয়নের একটি পরিকল্পিত অংশ
নদীপাড়কে সাজানো হয়েছিল আলো সজ্জায় পরিষ্কার পথঘাট বসার ব্যবস্থা এবং আরতির জন্য নির্দিষ্ট মঞ্চ তৈরি করে
উদ্দেশ্য ছিল তীর্থযাত্রীদের জন্য এক শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে তারা মন্দির দর্শনের পাশাপাশি নদীর ধারে কিছু সময় কাটাতে পারবেন
এই উদ্যোগের ফলে বহু মানুষ সন্ধ্যার সময় বিশেষভাবে নদীপাড়ে আসতেন
অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে উপস্থিত হতেন
ভক্তিমূলক সঙ্গীত মন্ত্রোচ্চারণ এবং প্রদীপের আলোর আবহ মানুষকে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দিত
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি
নদীর জলস্তর কমতে শুরু করলে আরতির দৃশ্যমান সৌন্দর্য কমে যায়
জলহীন নদীপাড়ে ভক্তির আবহ সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে পড়ে
দূষণের কারণে দুর্গন্ধও অনেক সময় সমস্যা সৃষ্টি করত
এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাতে থাকেন
এছাড়া সামাজিক আচরণগত সমস্যাও বড় হয়ে ওঠে
নদীপাড় যেহেতু খোলা এলাকা তাই সেখানে সবসময় ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি
কিছু মানুষের অসংযত আচরণ নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে
যার ফলে পরিবার নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়
মন্দির কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেও মূল সমস্যা থেকে যায়
শুধু রক্ষী নিয়োগ করে পরিবেশের পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি
এই প্রেক্ষাপটে আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে
প্রতি মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় করে যখন প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না তখন প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না
দুই লক্ষ টাকার মতো মাসিক খরচ বহন করা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব হচ্ছিল না
বিশেষত যখন উপস্থিতি কমে যাচ্ছিল এবং আধ্যাত্মিক আবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল
তবে এই ঘটনা বৃহত্তর এক প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে
ধর্মীয় পর্যটনকে টেকসই করতে গেলে পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
নদীকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ না নিলে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান আয়োজন করে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য পাওয়া যায় না
দ্বারকা নদ যদি পুনরুজ্জীবিত হয় তবে আরতি আবারও নতুন রূপে ফিরতে পারে
তার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতা
স্থানীয় মানুষের আশা এই যে বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর স্তরে আলোচনা শুরু হবে
নদী সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হবে
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করা হবে
পুণ্যার্থীদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করা হবে
এবং তারাপীঠকে একটি আদর্শ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে
তারাপীঠের ঐতিহ্য বহু শতাব্দী পুরোনো
এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল হতে হবে
দ্বারকা নদে নিত্য আরতি আপাতত বন্ধ হলেও মানুষের বিশ্বাস থেমে যায়নি
ভক্তরা এখনও আশা করেন একদিন আবার নদীর বুকে জল ভরবে
আবার প্রদীপের আলো জলে প্রতিফলিত হবে
আবার সন্ধ্যার আকাশে ধ্বনিত হবে মন্ত্র
এবং তারাপীঠ ফিরে পাবে তার পূর্ণ আধ্যাত্মিক জৌলুস
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সচেতনতা
প্রশাসন স্থানীয় মানুষ ব্যবসায়ী সমাজ এবং পুণ্যার্থীরা যদি সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নেন তবে পরিবর্তন সম্ভব
দ্বারকা নদকে ঘিরে নতুন অধ্যায় রচনা করা এখনও সম্ভব
প্রয়োজন কেবল সঠিক পরিকল্পনা এবং দৃঢ় প্রয়াস