Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভোর ৪টেয় উঠে ছুটতেন মাঠে, শিক্ষকদের বকুনিও পারেনি থামাতে, ছেলের খেলা দেখে ক্রিকেট বুঝেছেন প্রফুল্লের মা

দিদি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট। শিক্ষকেরা দিদির উদাহরণ দিয়ে বকুনি দিতেন প্রফুল্লকে। কিন্তু তার পরেও থামেননি তিনি। সোমবারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে প্রফুল্ল।সোমবার রাতে হায়দরাবাদের উপ্পল স্টেডিয়ামে যখন রাজস্থানের ব্যাটিং আক্রমণে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন এক পেসার, তখন প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে নাগপুরের বাড়িতে টেলিভিশনের সামনে বসে দু’জন। এক জন অবরসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারি। অপর জন গৃহবধূ। চোখের সামনে নিজেদের সব পরিশ্রম সফল হতে দেখছিলেন তাঁরা। দেখছিলেন, কী ভাবে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নাম হয়ে উঠেছেন তাঁদের সন্তান প্রফুল্ল হিঙ্গে।

এ বারের আইপিএল নিলামের সময় বাড়ির কাছের এক ছোট্ট মন্দিরে বসেছিলেন প্রফুল্ল। হাতে ছিল ফোন। সেখানেই নিলাম দেখছিলেন। সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় কেনার পর মন্দিরের মেঝেতেই শুয়ে পড়েন প্রফুল্ল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেন। ফোন করেন দিদিকে। যে দিদির উদাহরণ দিয়ে তাঁকে শিক্ষকেরা বকুনি দিতেন, সেই দিদি তখন অফিস থেকে ফিরছেন। ফোন ধরতে পারেননি। তাই মেসেজ পাঠান প্রফুল্ল। কিছু ক্ষণ পরেই ভিডিয়ো কল দিদির। কাঁদছেন। ভাইয়ের সাফল্যে সামলাতে পারেননি আবেগ। ঠিক যেমনটা পারেননি তাঁর মা।

বাবা প্রকাশ হিঙ্গে একসময় পেসার ছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সরকারি চাকরি করেছেন। ছেলেকে প্রথম বার স্কুটারে চাপিয়ে মাঠে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তার পর আর ওমুখো হননি। ছেলেকে একা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় লেটার নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন প্রফুল্ল।

সারারাত আলো জ্বলত হিঙ্গেদের বাড়িতে। এক ঘরে বসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট হওয়ার প্রস্তুতি নিতেন প্রফুল্লের দিদি। অন্য ঘরে বল নিয়ে সারারাত স্বপ্ন দেখতেন প্রফুল্ল। ভোর ৪টেয় উঠে মাঠে ছুটতেন তিনি। তাঁর দিদি তখনও বই নিয়ে বসে। শিক্ষকেরা অন্যদের বলতেন, প্রফুল্লের মতো হতে যেয়ো না। তা হলে জীবন নষ্ট। পড়াশোনায় ভাল দিদির উদাহরণ দিয়ে প্রফুল্লকে বকতেন। তাতেও তাঁকে টলানো যায়নি। ভাগ্যিস যায়নি। না হলে সোমবার রাতের ওই স্পেল কী ভাবে দেখতে পেতেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ৩৬ উইকেট নিয়েছেন প্রফুল্ল। তার পরেই কোভিডের কারণে খেলায় বিরতি। কোভিডের পর যান চেন্নাইয়ের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে। সেখান থেকে ব্রিসবেনে ১৫দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ সারেন। মাঝে চোটে ছ’মাস বল করতে পারেননি। কিন্তু চোট সারিয়ে আরও ভাল ভাবে ফিরে আসেন। তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে রঞ্জির এক ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ায় তাঁকে ট্রায়ালে ডাকেন হায়দরাবাদের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারন। সেখানেও নজর কাড়েন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাফল্য প্রফুল্লের সামনে আইপিএল খেলার সুযোগ করে দেয়। বিদর্ভের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ১০ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়েছেন ২৬.৬৭ গড়ে। ম্যাচের আগে প্রফুল্ল বলেছিলেন, ‘‘সুযোগ পেলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। প্রথম লক্ষ্য থাকবে দলকে ম্যাচ জেতানো। ট্রফি জেতানোর চেষ্টাও করব।’’ যিনি প্রফুল্লকে আবিষ্কার করেছেন, হায়দরাবাদের সেই বোলিং কোচ অ্যারন বলেন, ‘‘প্রতিভাবান বোলার। পরিশ্রম করতে পারে। ওকে আমরা প্রথম দেখেছিলাম একটা শিবিরে। ট্রায়াল দিতে এসেই নজর কেড়েছিল। তখনও আইপিএল খেলার জায়গায় ছিল না। এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’’

অ্যারন ভুল বলেননি। প্রফুল্লের প্রস্তুতি এত দিন আইপিএলে অপরাজিত থাকা রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং লাইন আপকেই নাড়িয়ে দিল। শুধু কি তাই? প্রফুল্লের বোলিং নাড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদেরও। দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ বলে উইকেট নিয়েছেন। ক্রিকেট জনতা উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে উঠেছে। ঠিক করে বসার আগেই আবার লাফাতে হয়েছে। প্রফুল্ল হায়দরাবাদ সমর্থকদের বেশ কয়েক ক্যালোরি খরচ করিয়ে দেন প্রথম ম্যাচেই। অথচ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞতা বলতে মাত্র এক ম্যাচের। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির সেই ম্যাচে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ৪ ওভার বল করে ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন।

গত ১১ এপ্রিল পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল প্রফুল্লের। তাঁকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামানোর কথা টসের সময় জানিয়েছিলেন ঈশান কিশন। শেষ পর্যন্ত যদিও খেলা হয়নি। রাজস্থানের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করে দিলেন। প্রফুল্ল ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন ২০২৪ সাল থেকে। এর মধ্যেই বিদর্ভের হয়ে রঞ্জি ট্রফি এবং বিজয় হজারে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। প্রথম থেকেই সাফল্য তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে!

স্পেলের দ্বিতীয় বলেই বৈভব সূর্যবংশীকে করেন আউট করেন প্রফুল্ল। সেটাকেই সেরা উইকেট বেছেছেন। বলেছেন, “বৈভব ছন্দে ছিল। তাই প্রথম উইকেটটাই সেরা। দু’-একজনকে বলেওছিলাম যে, প্রথম বলেই বৈভবকে বাউন্সার বা কোনও কঠিন বল করব। প্রথম বলেই ওর উইকেট নিতে চেয়েছিলাম। আমাদের বোলিং কোচ বরুণ ভাইও (অ্যারন) অনেক সাহায্য করেছেন। যাঁরাই আমার পাশে থেকেছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ।”

অতীতে চোট-আঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রফুল্লকে। এখন সে সব সারিয়ে সুস্থ তিনি। বলেছেন, “এখন পুরো ফিট। এমআরএফ অ্যাকাডেমিতে থাকার সময় নবীন স্যর, ফিজ়িয়ো আমার খেয়াল রেখেছিলেন। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর পিছনে ওঁদেরও হাত রয়েছে।”

প্রফুল্লকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন অ্যারন। খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এসে হায়দরাবাদের বোলিং কোচ বলেন, “ওকে বলেছিলাম, মাঠে নেমে খেলা উপভোগ করতে। না হলে আমি কিন্তু রেগে যাব। তার পর দেখলাম, ও শুধু নিজে নয়, গোটা স্টেডিয়াম ওর বোলিং উপভোগ করছে।” বৈভবকে আউট করার নেপথ্যে অ্যারনেরও মস্তিষ্ক ছিল। তিনি বলেন, “প্রফুল্ল বলছিল রাউন্ড দ্য উইকেট বল করবে। আমি বলেছিলাম, ওভার দ্য উইকেটই কর। তুই ওকে আউট করতে পারবি। তোর ল‌েংথ বল ও সামলাতে পারবে না। সেটাই হয়েছে।”

প্রফুল্লের মায়ের ক্রিকেট সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না। শুরুতে ছেলে অনুশীলনে যাওয়ার আগে টিফিন তৈরি করে দিতেন। ঘর সামলানো ছিল তাঁর কাজ। ধীরে ধীরে ফোনে প্রফুল্লের খেলার খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। মাকে খেলার ভিডিয়ো পাঠাতেন প্রফুল্ল। সেই ভিডিয়ো দেখেই ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিতি তাঁর মায়ের। সোমবার যখন ছেলে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নাম হয়ে উঠছে তখন টেলিভিশনের পর্দাতেই চোখ ছিল তাঁর। চোখের সামনে স্বপ্ন সত্যি হতে দেখছিলেন নাগপুরের এক গৃহবধূ।

প্রফুল্লের গল্পটা শুধু একটি ম্যাচের সাফল্যের গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং স্বপ্নপূরণের এক গভীর মানবিক কাহিনি। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা করে নেওয়ার পথ মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তও বিচ্যুত হননি তিনি। আর সেই কারণেই আজ তিনি শুধু একজন প্রতিভাবান বোলার নন, বরং বহু তরুণের অনুপ্রেরণা।

ম্যাচের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি দিয়েই শুরু করা যাক। নিজের স্পেলের দ্বিতীয় বলেই বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করা—এই ঘটনাটি যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বৈভব তখন দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন, ব্যাটে আগুন ঝরাচ্ছিলেন। এমন একজন সেট ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেওয়া যে কোনও বোলারের জন্য বড় সাফল্য। প্রফুল্ল নিজেও সেটাকেই তাঁর সেরা উইকেট হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর কথায় বোঝা যায়, এটি কোনও হঠাৎ পাওয়া সাফল্য নয়, বরং পরিকল্পিত আক্রমণ।

তিনি আগেই ভেবেছিলেন যে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক হতে হবে। এমনকি সতীর্থদেরও জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রথম বলেই কঠিন ডেলিভারি করবেন—সম্ভবত একটি বাউন্সার বা এমন কিছু যা ব্যাটসম্যানকে চাপে ফেলবে। এই মানসিক প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। অনেক সময় বোলাররা প্রথম কয়েকটি বল দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রফুল্ল শুরু থেকেই আক্রমণ করেছেন। এই আগ্রাসী মানসিকতাই তাঁকে সফল করেছে।

news image
আরও খবর

এখানে বোলিং কোচ বরুণ অ্যারনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে তিনি জানতেন, তরুণ বোলারের আত্মবিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রফুল্লকে বলেছিলেন, মাঠে নেমে খেলা উপভোগ করতে। এই কথাটি শুনতে সহজ হলেও এর গভীরতা অনেক। কারণ চাপের মুহূর্তে অনেক খেলোয়াড়ই নিজের স্বাভাবিক খেলা ভুলে যায়। কিন্তু প্রফুল্ল সেই চাপকে উপভোগে পরিণত করেছেন।

অ্যারনের পরামর্শের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কৌশলগত দিকনির্দেশনা। প্রফুল্ল যখন বলছিলেন যে তিনি রাউন্ড দ্য উইকেট বল করতে চান, তখন অ্যারন তাঁকে ওভার দ্য উইকেট বল করার পরামর্শ দেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই লাইন ও লেংথে বৈভব সমস্যায় পড়বেন। এবং ঠিক সেটাই ঘটেছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ক্রিকেট শুধু শারীরিক দক্ষতার খেলা নয়, বরং এটি একটি মানসিক ও কৌশলগত যুদ্ধও।

প্রফুল্লের সাফল্যের পেছনে তাঁর অতীত সংগ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একসময় চোট-আঘাতে জর্জরিত ছিলেন। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার থেমে যায় বা তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু প্রফুল্ল হাল ছাড়েননি। তিনি নিজের শরীরকে আবার প্রস্তুত করেছেন, কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন।

এখানে এমআরএফ অ্যাকাডেমির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে থাকা অবস্থায় কোচ নবীন এবং ফিজিওথেরাপিস্টরা তাঁর যত্ন নিয়েছিলেন। একজন খেলোয়াড়ের পুনর্বাসনের সময় সঠিক গাইডেন্স অত্যন্ত জরুরি। শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রফুল্ল সেই সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন, যা আজ তাঁর সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তবে প্রফুল্লের গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি তাঁর পরিবার, বিশেষ করে তাঁর মা-কে ঘিরে। একজন সাধারণ গৃহবধূ, যিনি শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানতেন না, তিনি ধীরে ধীরে ছেলের খেলার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন। প্রথম দিকে তিনি শুধু ছেলের জন্য টিফিন তৈরি করতেন—যা অনেকটা সাধারণ মায়ের মতোই দায়িত্ব পালন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছেলের খেলার খবর নিতে শুরু করেন, ফোনে কথা বলেন, ভিডিও দেখেন।

প্রফুল্লও মায়ের সঙ্গে নিজের যাত্রাকে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত মাকে নিজের খেলার ভিডিও পাঠাতেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই একটি বড় সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে পরিবারের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই গল্প থেকেই স্পষ্ট।

সোমবার যখন প্রফুল্ল ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করছিলেন, তখন তাঁর মা টেলিভিশনের সামনে বসে সেই মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। একসময় যিনি ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, তিনিই আজ ছেলের সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করছেন। তাঁর চোখের সামনে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আবেগঘন।

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে সাফল্য কখনও একা আসে না। এর পেছনে থাকে অনেক মানুষের অবদান—কোচ, সতীর্থ, পরিবার এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। প্রফুল্লের ক্ষেত্রে এই সমস্ত উপাদান একত্রিত হয়েছে বলেই তিনি আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন।

এছাড়া এই গল্প তরুণদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। অনেক সময় আমরা প্রথম ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়ি বা নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। কিন্তু প্রফুল্ল দেখিয়েছেন, যদি নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার থাকে এবং সেই লক্ষ্যের দিকে অবিচলভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে সাফল্য একদিন আসবেই।

ক্রিকেটের মতো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা অত্যন্ত কঠিন। এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসে, প্রতিযোগিতা তীব্র হয়। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং শেখার আগ্রহ। প্রফুল্ল এই সমস্ত গুণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

তাঁর বোলিংয়ের মধ্যেও সেই আত্মবিশ্বাস এবং পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায়। তিনি শুধু বল করেন না, প্রতিটি ডেলিভারি একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। ব্যাটসম্যানকে কীভাবে ফাঁদে ফেলা যায়, কীভাবে তাকে ভুল করতে বাধ্য করা যায়—এই বিষয়গুলো তিনি ভালোভাবে বোঝেন।

সবশেষে বলা যায়, প্রফুল্লের এই যাত্রা এখনও অনেক বাকি। এটি শুধু শুরু। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ, আরও বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে। কিন্তু যদি তিনি একইভাবে নিজের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং শেখার মানসিকতা বজায় রাখেন, তাহলে ভবিষ্যতে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটে আরও বড় নাম হয়ে উঠবেন, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

এই গল্প শুধু একটি উইকেটের গল্প নয়, এটি একটি স্বপ্নের গল্প—যেখানে একটি সাধারণ পরিবারের ছেলে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করেছে। আর সেই পথচলা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেই থাকবে।

Preview image