Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে মেসি, ২ বিদেশিকে একাদশে রেখে নামছে ইস্টবেঙ্গল

IFA শিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল। প্রাক্তন ক্লাবের মুখোমুখি মেসি, আর দুই বিদেশিকে প্রথম একাদশে রেখেই দল সাজিয়েছে লাল-হলুদ।

IFA Shield 2026-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও পাঞ্জাব এফসি। ম্যাচ ঘিরে শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এক দিকে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নেমেছে ইস্টবেঙ্গল, অন্য দিকে পাঞ্জাব এফসিও নিজেদের সেরা একাদশকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে রয়েছেন অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিও লোপেস হাবাস। ফলে ম্যাচ শুরুর আগেই লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করছে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করাই লাল-হলুদ শিবিরের লক্ষ্য বলে মনে হয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়েছিলেন ডেভিড। প্রতিপক্ষের গোলের দিকে এগিয়ে গিয়ে দূরপাল্লার শট নেন তিনি। তবে তাঁর সেই শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে চলে যায়। সেই সময় পাঞ্জাব এফসির গোলরক্ষক অর্শদীপ সিং গোল ছেড়ে অনেকটা উঠে এসেছিলেন। ফলে শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।

ইস্টবেঙ্গল বনাম পাঞ্জাব এফসি ম্যাচ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা শুরু করে। ইস্টবেঙ্গল বল দখলে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে, পাশাপাশি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমেও বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে পাঞ্জাব এফসি নিজেদের রক্ষণ সংগঠিত রেখে সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছে।

এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের একাদশেও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম। দুই বিদেশি ফুটবলার ক্রিস ইকনোমিডিস এবং দিয়েগো জ়িভুলিচকে প্রথম একাদশে রেখে মাঠে নেমেছে লাল-হলুদ। দু’জনকেই ম্যাচের শুরু থেকেই দলের আক্রমণ এবং মাঝমাঠের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যেতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের বেঞ্চেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মতো বিকল্প। বেঞ্চে রয়েছেন দানি রামিরেজ এবং মহম্মদ রশিদ।

শুধু বিদেশি ফুটবলাররাই নন, ইস্টবেঙ্গল স্কোয়াডে রয়েছেন পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং এবং জিকসন সিংয়ের মতো ভারতীয় ফুটবলাররাও। ফলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচ আন্তোনিও লোপেস হাবাসের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। ম্যাচের গতি বদলাতে দ্বিতীয়ার্ধে এই ফুটবলারদের ব্যবহার করা হতে পারে।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর থাকছে ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটেও। প্রধান কোচ হিসেবে আজ দলের দায়িত্বে রয়েছেন আন্তোনিও লোপেস হাবাস। তাঁর উপস্থিতি ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অভিজ্ঞ এই কোচের কৌশল, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের ব্যবহার—সবকিছুর দিকেই নজর থাকবে। ইস্টবেঙ্গল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে কৌশলগত পরিবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিও দেখার বিষয়।

অন্য দিকে পাঞ্জাব এফসিও কম শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামেনি। তাদের প্রথম একাদশে রয়েছেন অর্শদীপ সিং, মহম্মদ উভাইস, নিখিল প্রভু, প্যাট্রিক, আলফ্রেড পানাস, দিয়েগো এনরিকে অলিভিয়েরা, লুংদিম, বিশু শর্মা, কিপজেন, ঋষিকান্ত মেইতেই এবং রাফায়েল মেসি বাউলি। ফলে দুই দলের কাছেই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্জাব এফসির আক্রমণভাগে রাফায়েল মেসি বাউলির উপস্থিতিও নজর কাড়ছে।

ম্যাচের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ থেকে যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা থেকে গোল না এলেও লাল-হলুদ শিবিরের আক্রমণাত্মক মানসিকতার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ডেভিডের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে চলে যায়। অর্শদীপ গোল ছেড়ে অনেকটা উঠে আসায় সেই মুহূর্তে পাঞ্জাব এফসির রক্ষণ কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে গোল না হওয়ায় ম্যাচের স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।

ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই ম্যাচে উইং এবং কাউন্টার অ্যাটাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দ্রুত বল এগিয়ে নিয়ে গিয়ে পাঞ্জাবের রক্ষণে জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে লাল-হলুদ। একই সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রেও দিয়েগো জ়িভুলিচের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্রিস ইকনোমিডিসও আক্রমণভাগে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারেন।

পাঞ্জাব এফসির ক্ষেত্রেও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে রক্ষণ সামলানো এবং ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণ থামানো। অর্শদীপ সিংয়ের গোলরক্ষকের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের শুরুতেই তিনি গোল ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন এবং ডেভিড সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন। ফলে পরবর্তী সময়ে ইস্টবেঙ্গল কাউন্টার অ্যাটাকে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, সেদিকেও নজর থাকবে।

ইস্টবেঙ্গল বনাম পাঞ্জাব এফসি ম্যাচ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, দুই দলের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেরও পরীক্ষা। ইস্টবেঙ্গল যেখানে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নেমেছে, সেখানে পাঞ্জাব এফসিও নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ের তীব্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই হাবাসের ডাগআউটে থাকা। দলের খেলায় তাঁর কৌশল কতটা প্রভাব ফেলবে, কোন সময় কোন পরিবর্তন করবেন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে কীভাবে পরিচালনা করবেন—এসবই আলোচনায় রয়েছে। ইস্টবেঙ্গল যদি শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেতে পারে।

news image
আরও খবর

অন্য দিকে পাঞ্জাব এফসি চাইবে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের সুযোগ তৈরি করতে। রাফায়েল মেসি বাউলি এবং দলের অন্যান্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা সুযোগ পেলে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। ফলে দুই দলের আক্রমণ বনাম রক্ষণের লড়াই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

ইস্টবেঙ্গলের বেঞ্চেও রয়েছে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার মতো ফুটবলার। দানি রামিরেজ এবং মহম্মদ রশিদ প্রয়োজনে মাঠে নামতে পারেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যদি ইস্টবেঙ্গল আরও আক্রমণাত্মক হতে চায়, তাহলে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং এবং জিকসন সিংয়ের মতো ভারতীয় ফুটবলাররাও ম্যাচে ভূমিকা রাখতে পারেন।

IFA Shield 2026-এ ইস্টবেঙ্গল ও পাঞ্জাব এফসির এই ম্যাচ তাই শুরু থেকেই নজর কেড়েছে। এক দিকে হাবাসের কৌশল, অন্য দিকে পাঞ্জাব এফসির সংগঠিত দল—সব মিলিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা রয়েছে। ইস্টবেঙ্গল শুরুতেই যে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখিয়েছে, তা লাল-হলুদ সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরুতেই ডেভিডের দূরপাল্লার শট গোলের বাইরে চলে গেলেও ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ধার স্পষ্ট হয়েছে। পাঞ্জাব এফসির গোলরক্ষক অর্শদীপ সিংকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল যদি একইভাবে দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরও গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে পাঞ্জাব এফসিও নিশ্চয়ই পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। তাদের প্রথম একাদশে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেল রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের চাপ ভেঙে দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারলে ম্যাচের ছবিও বদলে যেতে পারে।

এই ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত তাই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে গোলের সুযোগ, দুই দলের প্রথম একাদশ, হাবাসের কৌশল, বিদেশি ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং বেঞ্চ থেকে পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নজর থাকবে ক্রিস ইকনোমিডিস ও দিয়েগো জ়িভুলিচের পারফরম্যান্সের দিকে।

সব মিলিয়ে IFA Shield 2026-এর ইস্টবেঙ্গল বনাম পাঞ্জাব এফসি ম্যাচে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ইঙ্গিত। হাবাসের ডাগআউট উপস্থিতি, দুই বিদেশিকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ এবং পাঞ্জাব এফসির শক্তিশালী দল—সব মিলিয়ে ম্যাচটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ম্যাচ যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে কোন দল নিজেদের পরিকল্পনা মাঠে বেশি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারছে। 

ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলে আক্রমণের ঝাঁজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা লাল-হলুদ শিবিরের অন্যতম অস্ত্র হতে পারে। ডেভিডের প্রথম দিকের প্রচেষ্টা থেকেই বোঝা যায়, পাঞ্জাব এফসির রক্ষণকে শুরু থেকেই চাপে রাখতে চাইছে ইস্টবেঙ্গল। দূরপাল্লার সেই শট গোলের বাইরে চলে গেলেও আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট।

অন্যদিকে পাঞ্জাব এফসি চাইবে নিজেদের রক্ষণ শক্ত রেখে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। অর্শদীপ সিংয়ের পাশাপাশি মহম্মদ উভাইস, নিখিল প্রভু এবং অন্যান্য রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের উপরও থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ থামানোর চেষ্টা করবে তারা।

ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে ম্যাচের পরবর্তী সময়ে বেঞ্চের ফুটবলাররাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদের মতো বিকল্প থাকায় ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে হাবাসের হাতে। ফলে প্রথম একাদশের পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে কোচের সিদ্ধান্তও ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

IFA Shield 2026-এর এই লড়াইয়ে তাই শুধু গোল নয়, দুই দলের কৌশল, আক্রমণ, রক্ষণ এবং খেলোয়াড় পরিবর্তনের দিকেও নজর থাকবে।

Preview image