বারাণসী প্রথম ঝলকেই কৌতূহল বাড়িয়েছে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও মহেশ বাবুর জুটি সঙ্গে আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক সব মিলিয়ে ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা।
এস এস রাজামৌলীর বহু প্রতীক্ষিত মেগা প্রজেক্ট ‘বারাণসী’ ঘিরে ইতিমধ্যেই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার বাজেটের এই ছবিতে অভিনয় করছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও মহেশ বাবু। দীর্ঘদিন পর ফের ভারতীয় ছবিতে কাজ করছেন প্রিয়ঙ্কা। আর সেই কারণেই শুরু থেকেই এই প্রজেক্ট ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। প্রথম ঝলক প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছেন, এমন ছবিতে তিনি আগে কখনও অভিনয় করেননি। তাঁর কথায়, রাজামৌলী এমন এক সিনেম্যাটিক দুনিয়া তৈরি করেন যা এক কথায় অভূতপূর্ব। ছবির শুটিং হয়েছে বিশ্বের একাধিক প্রান্তে—এমনকি আন্টার্কটিকাতেও। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই নতুন। তিনি নিজেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ছবিটি বড় পর্দায় দেখার জন্য।
নিশ্চয়ই। নিচে আপনার দেওয়া অংশকে ভিত্তি করে প্রায় ২০০০ শব্দের একটি বিস্তৃত, বিশদ এবং ফিচারধর্মী বর্ণনা দেওয়া হল—যা নিউজ পোর্টাল বা ম্যাগাজিন ফরম্যাটে ব্যবহারযোগ্য।
এস এস রাজামৌলীর নতুন ছবি ‘বারাণসী’ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রজেক্ট হিসেবে চর্চায় রয়েছে এই ছবি। প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট, আন্তর্জাতিক মানের লোকেশন, তারকা জুটি—সব মিলিয়ে ‘বারাণসী’ ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছে এক বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা। আর এই ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার প্রত্যাবর্তন।
দীর্ঘদিন হলিউডে কাজ করার পর আবার ভারতীয় মূলধারার ছবিতে অভিনয় করছেন প্রিয়ঙ্কা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই কামব্যাক ঘিরে কৌতূহল ছিল প্রবল। রাজামৌলীর মতো নির্মাতার ছবিতে কাজ করার সুযোগ, তার ওপর বিপরীতে মহেশ বাবুর মতো সুপারস্টার—এই সমীকরণই দর্শকদের প্রত্যাশাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে শুধু অভিনয় নয়, ‘বারাণসী’ ছবিতে যুক্ত হওয়ার আগে একটি স্পষ্ট শর্ত রেখেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। বলিউডে তাঁর ‘দেশি গার্ল’ ইমেজ বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। ‘দেশি গার্ল’, ‘রাম চাহে লীলা চাহে’ কিংবা একাধিক আইটেম ও ডান্স নম্বরে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তাই ভারতে ফিরে তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর এই পরিচিত সত্তাটিও যেন ছবিতে জায়গা পায়।
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই জানান, “আমি সরাসরি বলেছিলাম, আমি ভারতে ফিরছি। আমার জন্য একটা নাচের গান রাখতেই হবে। আমাকে নাচাতেই হবে।” তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, প্রিয়ঙ্কা নিজের তারকা-ইমেজ সম্পর্কে সচেতন এবং দর্শকের প্রত্যাশা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। রাজামৌলীর মতো পরিচালকও তাঁর এই আবদারকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, ছবিতে একটি বড় ডান্স নম্বর রাখা হয়েছে বিশেষভাবে প্রিয়ঙ্কার জন্য। যদিও সেই গানের শুটিং এখনও বাকি। তবে অন্য একটি গানের দৃশ্য ইতিমধ্যেই চিত্রায়িত হয়েছে। সেই গানের কোরিয়োগ্রাফি নাকি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি। প্রিয়ঙ্কাও জানিয়েছেন, ওই গানের শুটিং অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে দারুণ ছিল এবং কোরিয়োগ্রাফারদের কাজ তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
রাজামৌলীর ছবিতে গান মানেই ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিওর। ‘বাহুবলী’ বা ‘আরআরআর’-এ আমরা দেখেছি, গানও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ফলে ‘বারাণসী’-র এই ডান্স নম্বর নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বিপুল। অনেকেই মনে করছেন, এটি হতে পারে প্রিয়ঙ্কার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স।
অন্যদিকে, ছবির পারিশ্রমিক নিয়েও কম জল্পনা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, ‘বারাণসী’-র জন্য প্রিয়ঙ্কা প্রায় ৩০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও এই অঙ্কই ইন্ডাস্ট্রিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর বাজারদর যে যথেষ্ট উঁচু, তা বলাই বাহুল্য।
মহেশ বাবুর পারিশ্রমিকও কম চর্চার বিষয় নয়। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে তিন বছরের একটি বিশেষ চুক্তি হয়েছে। বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা করে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ গোটা প্রজেক্টে তাঁর পারিশ্রমিক দাঁড়াতে পারে বিপুল অঙ্কে। দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও মজবুত করেছে।
১৪০০ কোটি টাকার বাজেট শুধু তারকাদের পারিশ্রমিকেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ছবির শুটিং হয়েছে বিশ্বের একাধিক প্রান্তে। এমনকি আন্টার্কটিকাতেও কিছু অংশের চিত্রায়ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা। কঠিন আবহাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশ—সবকিছুকে অতিক্রম করে তৈরি হচ্ছে এই সিনেমা। আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল টিম, উন্নত ভিএফএক্স, বিশাল সেট—সব মিলিয়ে এটি হতে চলেছে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা।
সিনে বিশ্লেষকদের মতে, ‘বারাণসী’ শুধু একটি ছবি নয়, বরং ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। রাজামৌলীর আগের ছবিগুলোর সাফল্যই প্রমাণ করেছে, তিনি গল্প বলার সঙ্গে প্রযুক্তির নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন। ফলে এই প্রজেক্ট নিয়েও প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া।
নিশ্চয়ই। নিচে আপনার দেওয়া অংশকে বিস্তৃত করে প্রায় ১০০০ শব্দের একটি বিস্তারিত, বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনা দেওয়া হল—যা ফিচার আর্টিকেল বা নিউজ পোর্টালের জন্য উপযোগী।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার জন্য ‘বারাণসী’ নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ মাইলফলক হতে চলেছে। গত এক দশকে তিনি ধীরে ধীরে বলিউডের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। হলিউডে একাধিক সিরিজ ও ছবিতে কাজ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ভারতীয় অভিনেত্রীরাও বিশ্বমঞ্চে সমান দক্ষতায় নিজেদের তুলে ধরতে পারেন। সেই জায়গা থেকে আবার একটি বিশাল ভারতীয় প্রজেক্টে ফেরা—তা-ও এস এস রাজামৌলীর মতো পরিচালকের ছবিতে—প্রিয়ঙ্কার কেরিয়ারের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
এই ছবির মাধ্যমে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং এক পূর্ণাঙ্গ পারফর্মার হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চলেছেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আবেগঘন চরিত্র থেকে অ্যাকশন, গ্ল্যামার থেকে বাস্তবধর্মী অভিনয়—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে ‘বারাণসী’-তে দর্শক যে তাঁকে এক নতুন আঙ্গিকে দেখতে চলেছেন, তার ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যেই। বিশেষ করে একটি বড় নাচের গানের দাবি, তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের ইমেজ সম্পর্কে সচেতনতারই প্রমাণ।
প্রিয়ঙ্কার নাচ বরাবরই দর্শকের আকর্ষণের কেন্দ্র। ‘দেশি গার্ল’ থেকে শুরু করে ‘রাম চাহে লীলা চাহে’—তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং নৃত্যভঙ্গি বারবার ভাইরাল হয়েছে। ফলে ‘বারাণসী’-তে সেই উপাদান থাকছে জেনে অনুরাগীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের গভীরতাও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজামৌলীর ছবিতে চরিত্রগুলো সাধারণত শক্তিশালী, বহুস্তরীয় এবং আবেগে পরিপূর্ণ হয়। ফলে প্রিয়ঙ্কার চরিত্রও যে গল্পের কেন্দ্রে থাকবে, তা অনুমান করা যায়।
অন্যদিকে, মহেশ বাবুর জন্যও ‘বারাণসী’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রজেক্ট। দক্ষিণী সিনেমায় তিনি বহু বছর ধরেই সুপারস্টার। তাঁর প্রতিটি ছবি মুক্তির আগেই বিপুল আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই ছবির মাধ্যমে তিনি আরও বড় প্যান-ইন্ডিয়া দর্শকের কাছে পৌঁছতে চলেছেন। উত্তর ভারতের দর্শকদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ‘বারাণসী’ বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রাজামৌলীর পরিচালনায় কাজ করা মানেই এক ধরনের আন্তর্জাতিক মানের এক্সপোজার। ‘বাহুবলী’ ও ‘আরআরআর’-এর সাফল্য প্রমাণ করেছে, ভাষার সীমা ছাড়িয়ে ভারতীয় সিনেমা বিশ্বজুড়ে দর্শক টানতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বারাণসী’ আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মহেশ বাবুর জন্য এটি হতে পারে এমন একটি ছবি, যা তাঁর কেরিয়ারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের দুই তারকার এই মিলন নিজেই এক বড় আকর্ষণ। বলিউড ও টলিউডের সীমানা আজ অনেকটাই ভেঙে গিয়েছে। প্যান-ইন্ডিয়া ছবির যুগে দর্শক এখন গল্প ও উপস্থাপনার মান দেখেই ছবি বেছে নেন। সেই জায়গায় প্রিয়ঙ্কা ও মহেশের জুটি এক অভিনব সমীকরণ তৈরি করেছে। তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি কেমন হবে, তা দেখার জন্য ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘বারাণসী’ এখন শুধুই একটি আসন্ন সিনেমা নয়—এটি এক বিশাল প্রত্যাশার প্রতীক। ১৪০০ কোটির বাজেট, আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ, তারকাখচিত কাস্ট এবং রাজামৌলীর দৃষ্টিভঙ্গি—সব উপাদান মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক সম্ভাব্য ব্লকবাস্টার। ছবির পারিশ্রমিক নিয়েও যে আলোচনা হয়েছে, তা প্রমাণ করে এই প্রজেক্টের পরিসর কতটা বড়।
প্রিয়ঙ্কার বিশেষ শর্ত, মহেশের বিপুল চুক্তি এবং নির্মাতার উচ্চাভিলাষ—সব কিছু মিলিয়ে ‘বারাণসী’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মুক্তির আগেই যে হারে কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দেয়—এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। দর্শক এখন অপেক্ষায়, কবে বড় পর্দায় এই ভিজ্যুয়াল স্পেক্ট্যাকল দেখা যাবে।
যদি সব প্রত্যাশা পূরণ হয়, তবে ‘বারাণসী’ শুধু একটি সফল ছবি হিসেবেই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।