সব্যসাচীর লেখা চিত্রনাট্যে একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তী তাঁদের সঙ্গে থাকছেন ইশা এবং শুভাশিসও পরিচিত এই শিল্পীদের এক ছবিতে দেখার খবরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বাংলা ছবির দর্শকদের মধ্যে
নতুন বাংলা ছবি জাদুকর সত্যচরণ এ আবার একসঙ্গে দেখা যাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তীকে। জ্যেষ্ঠপুত্র এর পর তাঁদের ফের একই ছবিতে অভিনয়ের খবর বাংলা ছবির দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন সায়ন্তন ঘোষাল। চিত্রনাট্য লিখেছেন সব্যসাচী চৌধুরী তিনি নিজেও ছবিতে অভিনয় করবেন। অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় আরও রয়েছেন ইশা সাহা, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ও অনিরুদ্ধ গুপ্ত। ছবির নামেই রয়েছে জাদুর ইঙ্গিত, তবে নির্মাতাদের বক্তব্য অনুযায়ী গল্পের আকর্ষণ কেবল জাদুর খেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাস্তব ও রহস্যকে পাশাপাশি রেখে এগোবে কাহিনি। তার সঙ্গে থাকবে অভিযান এবং অতিপ্রাকৃত উপাদান। এই মিশ্রণের কেন্দ্রে রয়েছেন সত্যচরণ এমন এক চরিত্র, যাঁর সম্পর্কে গল্প যত এগোবে, দর্শক তত নতুন তথ্য জানতে পারবেন। ঠিক কোন ঘটনার সূত্র ধরে রহস্য শুরু হবে তা অবশ্য নির্মাতারা এখনই প্রকাশ করেননি। সব্যসাচী চৌধুরীর জন্য ছবিটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি তিনি অভিনয় করছেন চন্দন নামের একটি রহস্যময় চরিত্রে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই চরিত্রকে ঘিরেই গল্পের রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে। ফলে পর্দার সামনে ও পেছনে, দুই জায়গাতেই ছবিটির সঙ্গে তাঁর কাজ জড়িয়ে রয়েছে। তবে চন্দনের সঙ্গে সত্যচরণের সম্পর্ক কী, কিংবা গল্পের কোন পর্যায়ে তাঁর গুরুত্ব স্পষ্ট হবে তা জানতে ছবির আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।
প্রসেনজিৎ ও ঋত্বিককে আবার পাশাপাশি দেখার সুযোগও এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ। জ্যেষ্ঠপুত্র এ তাঁদের অভিনয় দেখেছেন দর্শক এবার তাঁরা আসছেন রহস্য ও জাদু ঘিরে তৈরি একটি ভিন্ন গল্পে। নতুন ছবিতে দু’জনের চরিত্রের সম্পর্ক বা তাঁদের পর্দার সমীকরণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। সেই অনিশ্চয়তাই ছবিটি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়াচ্ছে। ইশা সাহা, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক পরিচিত শিল্পীর উপস্থিতি ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের চরিত্র সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রহস্যকাহিনিতে কোন চরিত্র কী জানে, কার সঙ্গে কার যোগাযোগ এবং কোন তথ্য কখন সামনে আসে এসবই দর্শকের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে। তাই চরিত্রগুলি সম্পর্কে নির্মাতাদের সংযত প্রকাশ ছবির রহস্য বজায় রাখার সঙ্গেও মানানসই। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল জানিয়েছেন ছবিতে বাস্তব ও রহস্যের দুটি জগৎকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে। জাদু ও অতিপ্রাকৃতের উপাদান থাকলেও গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে চরিত্রগুলি এবং তাদের ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্ন। অন্যদিকে, প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন ছবির তৈরি করা জগৎ এবং তার কেন্দ্রে থাকা রহস্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। সত্যচরণ চরিত্রটির একাধিক স্তর রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই বক্তব্যগুলি থেকে ছবির আবহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ কাহিনি এখনও আড়ালেই
২৮ সেপ্টেম্বর ছবিটির শুভ মহরতে প্রথম ঝলক প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অক্টোবর মাসে শুটিং শুরু হওয়ার কথা এবং বারাণসীর বিভিন্ন জায়গায় ছবির দৃশ্য ধারণ করা হবে। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে স্টারমার্ক সিনেমাস এন্টারটেইনমেন্ট। ছবিটি কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত দর্শকের নজর থাকবে শুটিংয়ের খবর, পরবর্তী ঝলক এবং চরিত্রগুলির পরিচয় প্রকাশের দিকে। জাদুকর সত্যচরণ নিয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রহস্যঘন গল্প, পরিচিত অভিনয়শিল্পী এবং সব্যসাচীর চিত্রনাট্য এই তিনটি দিক বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। সত্যচরণের জগতে কোনটি বাস্তব কোনটি জাদুর আড়াল, আর চন্দন কীভাবে সেই রহস্যের সঙ্গে যুক্ত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে ছবির গল্পে। তার আগে নির্মাতাদের পরবর্তী ঘোষণাই জানাবে, পর্দায় এই রহস্য ঠিক কোন পথে এগোবে।
বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য আসছে নতুন রহস্যকাহিনি ‘জাদুকর সত্যচরণ’। সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত এই ছবিতে আবার একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ইশা সাহা, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ও অনিরুদ্ধ গুপ্ত। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সব্যসাচী চৌধুরী। অভিনয়শিল্পীদের তালিকাতেও রয়েছে তাঁর নাম। পরিচিত শিল্পীদের এই সমাবেশ এবং গল্পে জাদু ও রহস্যের ইঙ্গিত দুই মিলিয়ে ছবিটির ঘোষণার পর থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ছবির নামের মধ্যেই রয়েছে একজন মানুষকে ঘিরে প্রশ্ন কে এই সত্যচরণ তাঁর জাদু কি কেবল মঞ্চে দেখানো কৌশল, নাকি তাঁর চারপাশে এমন কিছু ঘটে যার সহজ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না নির্মাতারা এখনও গল্পের বিস্তারিত জানাননি। যতটুকু প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে বোঝা যায় বাস্তবের চেনা জগৎ এবং রহস্যে ঢাকা ঘটনার মধ্যে যাতায়াত করবে ছবির কাহিনি। থাকবে অভিযান ও অতিপ্রাকৃতের উপাদানও। তবে কোন ঘটনা থেকে গল্পের শুরু, কার চোখ দিয়ে দর্শক সেই জগৎ দেখবেন এবং রহস্যের শেষ কোথায় এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও আড়ালেই রাখা হয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তীকে একই ছবিতে দেখার বিষয়টি দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ। এর আগে জ্যেষ্ঠপুত্র এ তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। সেই ছবির পরে এবার তাঁরা আসছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহের একটি প্রকল্পে। জাদুকর সত্যচরণ এ তাঁদের চরিত্রগুলির মধ্যে কী সম্পর্ক, তাঁরা একই রহস্যের কোন দিকে দাঁড়িয়ে থাকবেন, কিংবা পর্দায় তাঁদের কতখানি সময় একসঙ্গে দেখা যাবে এ বিষয়ে এখনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তাঁদের যুগলবন্দি নিয়ে আগ্রহ থাকলেও ছবির গল্প বা চরিত্রের সমীকরণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত ধারণা তৈরি করা ঠিক হবে না।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রসেনজিৎ অভিনয় করছেন সত্যচরণ চরিত্রে। অভিনেতা জানিয়েছেন, এই চরিত্রটির একাধিক স্তর রয়েছে এবং গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শক তাঁর সম্পর্কে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারবেন। একটি রহস্যছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রকে এভাবে ধীরে ধীরে চিনতে পারার ইঙ্গিত নিজেই কৌতূহল বাড়ায়। সত্যচরণ নিজের সম্পর্কে কতটা জানান, তাঁর সঙ্গে অন্যদের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে এবং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলির উত্তর কোন পথে পাওয়া যায় সেসব জানার জন্য ছবির অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত এটুকুই স্পষ্ট যে নামচরিত্রকে সহজে বুঝে ফেলার সুযোগ দিতে চান না নির্মাতারা। ছবিটির আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক সব্যসাচী চৌধুরীর দ্বৈত দায়িত্ব। তিনি চিত্রনাট্য লিখেছেন, আবার চন্দন নামের একটি চরিত্রে অভিনয়ও করছেন। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চন্দনকে ঘিরেই গল্পের রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে। কিন্তু চন্দন সত্যচরণের বন্ধু, সহযাত্রী, প্রতিপক্ষ, নাকি অন্য কোনও ভাবে তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত তা এখনও জানানো হয়নি। চরিত্রটি সম্পর্কে এই অল্প তথ্য ছবিটির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখছে। সব্যসাচীর লেখা গল্পে তাঁর অভিনীত চরিত্র কোন জায়গায় দাঁড়ায়, পর্দায় সেটিও দেখার বিষয়।
এই মুহূর্তে ছবিটি নিয়ে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অভিনয়শিল্পীদের তালিকা। প্রসেনজিৎ ও ঋত্বিকের পাশাপাশি ইশা সাহার উপস্থিতি নতুন একটি সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায় ও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ও। শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এবং অনিরুদ্ধ গুপ্তের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সত্যচরণ ও চন্দন ছাড়া অন্যদের চরিত্রের পরিচয় এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কে রহস্যের সূত্র খুঁজবেন, কার কাছে গোপন তথ্য থাকবে বা কার উপস্থিতি গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেবে এসব নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। রহস্যকাহিনিতে অভিনয়শিল্পীদের নাম জানা আর তাঁদের চরিত্র সম্পর্কে জানা এক বিষয় নয়। অনেক সময় পর্দায় কোনও চরিত্রের প্রথম পরিচয় গল্পের এক রকম ধারণা তৈরি করে পরে তাঁর কাজকর্ম সেই ধারণা বদলে দেয়। জাদুকর সত্যচরণ এর ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটবে কি না, তা অজানা। কিন্তু পরিচিত মুখগুলিকে নিয়ে নির্মাতারা যে বিস্তৃত অভিনয়শিল্পীদের দল সাজিয়েছেন, তাতে প্রত্যেকের ভূমিকাই দর্শকের নজরে থাকবে। ছবির প্রচার শুরু হলে তাঁদের চরিত্রের আরও পরিচয় পাওয়া যেতে পারে। তার আগে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে গল্প সাজিয়ে নেওয়া কৌতূহল মেটানোর বদলে বিভ্রান্তিই বাড়াবে।
ছবিটির শুভ মহরতের সময় প্রথম ঝলক প্রকাশ করা হয়েছে। কোনও নতুন ছবির ক্ষেত্রে এই পর্যায়টি দর্শকদের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় তৈরি করে। নাম, অভিনয়শিল্পী এবং গল্পের আবহ সম্পর্কে প্রাথমিক ইঙ্গিত সামনে এলেও অনেক প্রশ্ন তখনও বাকি থাকে। ‘জাদুকর সত্যচরণ’-এর ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে। ছবিটি রহস্যের ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু তার মূল ঘটনাটি সামনে আনেনি। পরবর্তী পোস্টার, চরিত্র পরিচিতি বা প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশিত হলে গল্পের পরিবেশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। বারাণসীর বিভিন্ন জায়গায় দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বারাণসী ছবির গল্পে ঠিক কী ভূমিকা নেবে, কোন চরিত্র সেখানে যাবে, কিংবা কাহিনির কতটা অংশ ওই শহরে ঘটবে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও জানা যায়নি। কোনও শহরে শুটিং হওয়ার খবর থেকে তার পর্দার ভূমিকা আন্দাজ করা সম্ভব হলেও তা নিশ্চিত তথ্য নয়। তাই আপাতত বারাণসীকে ছবিটির ঘোষিত শুটিং লোকেশন হিসেবেই দেখা উচিত। শুটিং এগোলে ছবির পটভূমি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
ছবিটি প্রযোজনা করছে স্টারমার্ক সিনেমাস এন্টারটেইনমেন্ট। প্রযোজনা সংস্থার নাম ঘোষিত হলেও মুক্তির নির্দিষ্ট দিন এখনও জানানো হয়নি। ফলে ছবিটি কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে। শুটিং শুরু, শুটিং শেষ, সম্পাদনা এবং প্রচার একটি ছবির মুক্তির আগে একাধিক ধাপ থাকে। এই মুহূর্তে প্রকাশিত তথ্য কেবল প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের পরিকল্পনা পর্যন্তই সীমিত। মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে কোনও দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। জাদুকর সত্যচরণ ঘিরে আগ্রহের আর একটি কারণ তার গল্প বলার সম্ভাবনা। ছবির বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে জাদু ও অতিপ্রাকৃতের ইঙ্গিত যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাস্তব জগতের সঙ্গে রহস্যের সংঘাত। কিন্তু কোনও ঘটনা সত্যিই অস্বাভাবিক, আর কোনটির পিছনে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা রয়েছে সে সম্পর্কে নির্মাতারা কিছু বলেননি। রহস্যটি এই দুইয়ের মধ্যে দর্শকের প্রশ্ন ধরে রাখতে পারে। ছবিটি শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নের কী উত্তর দেয় তা দেখার বিষয়। আপাতত গল্পের আবহকে ইঙ্গিত হিসেবে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
সত্যচরণ চরিত্রটি সম্পর্কে প্রসেনজিতের মন্তব্যও সেই কৌতূহল বাড়ায়। তাঁর কথায়, গল্পের জগৎ এবং কেন্দ্রে থাকা রহস্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন দর্শক ধাপে ধাপে সত্যচরণের নানা দিক আবিষ্কার করবেন। একটি চরিত্রকে শুরুতেই সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করে না দিয়ে গল্পের সঙ্গে সঙ্গে সামনে আনার এই ধারণা ছবির প্রচারেও জায়গা পাচ্ছে। তবে সত্যচরণের অতীত, তাঁর জাদুর ধরন বা কোনও বিশেষ ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগ সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি। চরিত্রটির প্রকৃত পরিচয় তাই ছবির বড় অজানা বিষয়গুলির একটি। প্রসেনজিৎ ও ঋত্বিকের পাশাপাশি সব্যসাচীর উপস্থিতি গল্পের তিনটি সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণ নিয়ে ভাবায়। কিন্তু পর্দায় কে কাকে কতটা চেনেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কোথায় মেলে বা আলাদা হয়, সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা নেই। তাই এই চরিত্রগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বন্ধুত্বের দাবি করা যাবে না। ছবির আকর্ষণ বরং এখানেই যে পরিচিত অভিনেতাদের নাম ঘোষণা করা হলেও তাঁদের সম্পর্কের মানচিত্র প্রকাশ করা হয়নি। একটি রহস্যছবির ক্ষেত্রে সেই মানচিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসার অপেক্ষা দর্শকের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
ইশা সাহা ও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের চরিত্র নিয়েও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। তাঁরা ছবিতে রয়েছেন এটি ঘোষিত তথ্য। কিন্তু তাঁদের দৃশ্য, চরিত্রের পেশা, সত্যচরণের সঙ্গে সম্পর্ক বা গল্পে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ছবির পরবর্তী প্রচারে যদি তাঁদের চরিত্রের ঝলক আসে, তখন রহস্যের পরিধি কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। তার আগে তাঁদের উপস্থিতিকে ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই উল্লেখ করা যায়। দর্শকদের কাছে এই পরিচিত মুখগুলি দেখার আগ্রহ স্বাভাবিক, কিন্তু তাঁদের জন্য কল্পিত ভূমিকা তৈরি করে দেওয়া উচিত হবে না। বারাণসীতে শুটিংয়ের ঘোষণাও ছবিটি নিয়ে আলাদা আলোচনা তৈরি করেছে। জায়গাটির নাম শুনেই দর্শকের মনে নানা ধরনের দৃশ্যকল্প আসতে পারে। কিন্তু নির্মাতারা এখনও বলেননি গল্পে শহরটিকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে। শুটিং লোকেশন বাস্তব শহর হিসেবেও পর্দায় আসতে পারে, আবার দৃশ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ভূমিকা নিতে পারে। সেই সিদ্ধান্ত জানতে ছবির ঝলক বা নির্মাতাদের বক্তব্যের অপেক্ষা প্রয়োজন। আপাতত নিশ্চিত খবর হল, অক্টোবরের শুটিং পরিকল্পনায় বারাণসী রয়েছে; গল্পে তার তাৎপর্য এখনও অপ্রকাশিত।
ছবির প্রচারের পরবর্তী ধাপে দর্শকের আগ্রহ থাকবে কয়েকটি বিষয়ে। প্রথমত, সত্যচরণকে কীভাবে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চন্দন চরিত্রটির সঙ্গে রহস্যের যোগ কী। তৃতীয়ত, প্রসেনজিৎ ও ঋত্বিকের চরিত্রগুলি গল্পে কীভাবে মিলিত হচ্ছে। পাশাপাশি ইশা, সাহেব, শুভাশিস ও অন্য শিল্পীদের চরিত্রের পরিচয়ও জানার অপেক্ষা থাকবে। এই প্রশ্নগুলির কোনওটির উত্তর এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। তাই নতুন পোস্টার বা ট্রেলার প্রকাশিত হলে তা কেবল ছবির দৃশ্য দেখার সুযোগই দেবে না, এখনকার অনুমানগুলিও যাচাই করার সুযোগ দেবে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জাদুকর সত্যচরণ কে রহস্য, অভিযান ও অতিপ্রাকৃত উপাদানসমৃদ্ধ একটি আসন্ন বাংলা ছবি হিসেবে পরিচয় করানো যায়। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী এবং প্রসেনজিৎ ঋত্বিক ইশাদের অভিনয়শিল্পীদের দল এই পরিচিত নামগুলি ছবিটির প্রতি নজর টানছে। তার সঙ্গে রয়েছে গল্পের কেন্দ্রে থাকা দুই নাম, সত্যচরণ ও চন্দন। তাঁদের সম্পর্কে যত কম জানা যাচ্ছে, প্রশ্ন তত বাড়ছে। নির্মাতারাও আপাতত সেই রহস্য বজায় রাখার পথেই হাঁটছেন। ছবিটি কেমন হবে সে বিচার করার সময় এখনও আসেনি। শুটিং শুরু হওয়ার আগে ঘোষিত ধারণা এবং সম্পূর্ণ ছবি দেখার অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে। তবু প্রাথমিক ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে, নির্মাতারা দর্শককে এমন এক গল্পের দিকে ডাকছেন যেখানে বাস্তবের পাশে অজানা কিছু দাঁড়িয়ে থাকবে। সত্যচরণকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চন্দনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিই এখন অন্যতম কৌতূহল। উত্তর মিলবে পর্দায়; তার আগে অপেক্ষা ছবির আরও খবরের।