Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্ট কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, কী বললেন বিধায়ক অসীম সরকার?

হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্ট কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে চাঞ্চল্য। কর্মীদের অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে মুখ খুললেন বিধায়ক অসীম সরকার। পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।

সমসাময়িক ইস্যু

হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্ট কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়া কর্মীরা এবার একজোট হয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। মূলত বেতন বৃদ্ধি, কাজের নির্দিষ্ট সময়, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং কর্মক্ষেত্রে আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধার দাবিতেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হরিণঘাটার ফ্লিপকার্ট হাবের সামনে কর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কর্মীদের বক্তব্য শোনেন স্থানীয় বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।

বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যে পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সেই তুলনায় তাঁদের বেতন অত্যন্ত কম। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করেও পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক মিলছে না বলে দাবি তাঁদের। অনেক কর্মীর বক্তব্য, কাজের চাপ ক্রমশ বাড়লেও বেতন কাঠামোয় তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বহু পরিবারকে। বিশেষ করে যাঁরা ডেলিভারি বা গুদাম বিভাগের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

কর্মীদের একাংশ জানান, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত সময়ের উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। এছাড়াও ছুটি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, একটি বড় ই-কমার্স সংস্থার কর্মী হিসেবে ন্যায্য সম্মান ও উপযুক্ত বেতন পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। সেই কারণেই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীরা।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক অসীম সরকার। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবি ও সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। কর্মীদের বক্তব্য শোনার পর তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের উপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। তাই তাঁদের সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকলে তা অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

অসীম সরকারের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে আলোচনা এবং আইনি পথেই এগোনো উচিত। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে ছিল দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। অনেকেই জানান, বহুদিন ধরেই তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাতে সেভাবে সাড়া না মেলায় বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে হাঁটতে হয়েছে। কর্মীদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এদিকে ফ্লিপকার্ট কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে সূত্রের খবর, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কর্মীদের অভিযোগ এবং দাবিগুলি খতিয়ে দেখা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও আন্দোলনরত কর্মীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র আশ্বাসে আর ভরসা করা সম্ভব নয়। তাঁরা লিখিতভাবে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ই-কমার্স সেক্টরে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়েছে। অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা বাড়ার ফলে কর্মীদের উপর দায়িত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেতন বা কর্মপরিবেশের উন্নতি যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু হরিণঘাটা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই সময় সময় এমন বিক্ষোভ বা অসন্তোষের ছবি সামনে এসেছে। তাই এই ঘটনাকে বৃহত্তর শ্রমিক অসন্তোষের অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও কর্মীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, কঠোর পরিশ্রম করেও যদি কর্মীরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হবে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত আলোচনায় বসা জরুরি, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমিক আন্দোলন সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষ করে বড় সংস্থার কর্মীদের বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিধায়ক অসীম সরকারের মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মত অনেকের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কর্মী জানান, “আমরা শুধু ন্যায্য বেতন চাই। এত পরিশ্রম করার পরও সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামতে হয়েছে।” আরেক কর্মীর বক্তব্য, “আমরা চাই কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুক। সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে যেতে হতে পারে।”

news image
আরও খবর

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক রয়েছে।

সব মিলিয়ে, হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্ট কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি, বিধায়কের মন্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া— সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। আগামী দিনে কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটাই এখন দেখার।

এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কর্মীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে কম বেতনে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাড়িভাড়ার চাপের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক অবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কর্মীদের এই আন্দোলনকে অনেকেই সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে কিছু মানুষ আবার মনে করছেন, যেকোনও সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন হলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তার প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের উপরও পড়তে পারে। কারণ বর্তমানে অনলাইন শপিংয়ের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে ডেলিভারি পরিষেবা বা গুদামজাতকরণে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব বাজারেও পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-কমার্স শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কাজের ধরন গত কয়েক বছরে অনেক বদলে গিয়েছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক অর্ডার সামলাতে হত, এখন প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য ডেলিভারি ও প্রসেস করতে হয়। উৎসবের মরশুম বা বিশেষ অফারের সময় কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই সময় কর্মীদের অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত সুবিধা না পেলে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

হরিণঘাটার এই বিক্ষোভ সেই বৃহত্তর সমস্যারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকেই। কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা সংস্থার বিরুদ্ধে নন, বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্যই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সংস্থা যদি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তব সমস্যাগুলি বিবেচনা করে, তাহলে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান সম্ভব।

এদিকে বিধায়ক অসীম সরকারের মন্তব্যও এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলায় আন্দোলনকারীদের একাংশ কিছুটা আশাবাদী হয়েছেন। তাঁদের মতে, জনপ্রতিনিধিরা যদি বিষয়টি নিয়ে সরব হন, তাহলে প্রশাসনিক ও কর্পোরেট স্তরেও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু মন্তব্য করলেই হবে না, বাস্তবে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কারণ কর্মসংস্থান, বেতন এবং শ্রমিক সুরক্ষা এখন সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে যে কোনও শ্রমিক আন্দোলন দ্রুত জনসমর্থন পেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বহু মানুষ বর্তমানে ই-কমার্স এবং ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে বড় সামাজিক আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেকে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করেন। কিছু সামাজিক সংগঠনও শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা শুধু একটি সংস্থার দায়িত্ব নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন।

বর্তমানে সকলের নজর রয়েছে ফ্লিপকার্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা হবে কিনা, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেবে— তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে। তবে আন্দোলনরত কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসবেন না। ফলে আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Preview image