পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার আনন্দের সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। ভিড়, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অপরিচ্ছন্ন খাবার বা জল থেকে নানা অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে নিরাপদ পানীয় জল সঙ্গে রাখুন, খাবার বেছে খান এবং হাত পরিষ্কার রাখুন। জ্বর, পেটের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সামান্য সতর্কতাই পুজোর আনন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, রাত জেগে ঠাকুর দেখা আর পছন্দের খাবার। অনেকেই কয়েক দিনে যত বেশি সম্ভব মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনায় কখন বেরোবেন, কোথায় খাবেন বা কোন পথে যাবেন—সবই থাকে। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি, গরম, বৃষ্টি এবং বাইরের খাবার ও পানীয়ের কথা ভেবে স্বাস্থ্যের প্রস্তুতি অনেক সময় বাদ পড়ে যায়।
পুজোয় বাইরে বেরোলেই অসুস্থ হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। তবে উৎসবের কয়েকটি সাধারণ পরিস্থিতি অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, ভিড়ভাট্টা বা বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। নিরাপদ নয় এমন খাবার বা জল থেকে পেটের সমস্যা হতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় গরমে হাঁটলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বর্ষার পরে কোথাও জমা জল থাকলে মশার কামড়ের বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার। এই ঝুঁকিগুলি এক ধরনের নয়, তাই সুরক্ষার উপায়ও আলাদা।
সুস্থ থেকে পুজো উপভোগ করার জন্য কঠিন কোনও নিয়মের প্রয়োজন নেই। কখন বিশ্রাম নিতে হবে, কী খাবেন, কখন হাত পরিষ্কার করবেন এবং কোন উপসর্গকে গুরুত্ব দেবেন—এই কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকলেই অনেক সুবিধা হয়।
জনাকীর্ণ মণ্ডপ, লম্বা লাইন, ভিড়ে ঠাসা বাস বা ট্রেন—পুজোর সময়ে এমন পরিবেশ এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়। কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কথা বলা, দীর্ঘ সময় ভিড়ে থাকা এবং বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় অপেক্ষা করার সময় শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়তে পারে। কারও কাশি বা হাঁচি থাকলে তাঁর নিজের এবং আশপাশের মানুষের জন্য সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া বা শরীর খারাপের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে কোন ভাইরাসে সংক্রমণ হয়েছে, তা নিশ্চিত বলা যায় না। ঠান্ডা পানীয় খাওয়া বা বৃষ্টিতে ভেজাকেই সব জ্বর-কাশির কারণ ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। অসুস্থতা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি হলে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় কিছুক্ষণ দাঁড়ান। যাঁদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মণ্ডপের ভিতরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কষ্টকর হতে পারে। ভিড় বেশি হলে সময় বদলে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখুন। ভালভাবে নাক-মুখ ঢাকে এমন মাস্ক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস ছড়ানো ও সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে জনাকীর্ণ জায়গায়। হাত পরিষ্কার রাখা এবং কাশি বা হাঁচির সময় কনুই বা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকাও জরুরি।
নিজের জ্বর ও কাশি থাকলে শরীরের উপর চাপ দিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর বদলে বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবুন। এতে সুস্থ হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকব্যথা বা উপসর্গ দ্রুত বাড়তে থাকলে চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না।
পুজোর আনন্দে খাওয়াদাওয়া বড় অংশ। মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে ফুচকা, চাট, শরবত বা রেস্তরাঁর খাবারের দিকে হাত বাড়ানো স্বাভাবিক। কিন্তু খাবার তৈরির জায়গা, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং ব্যবহৃত জলের মান বোঝা না গেলে সতর্ক থাকা ভাল। খাবার নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, যথেষ্ট রান্না, উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ এবং নিরাপদ জলের উপর জোর দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
অনেকক্ষণ আগে তৈরি খাবার কী ভাবে রাখা হয়েছে, কাটা ফল ঢেকে রাখা আছে কি না, খাবার পরিবেশনের সময় পরিষ্কার হাত ও বাসন ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব দেখে নিন। রাস্তার খাবার খেলেই অসুখ হবে, এমন নয়। একই ভাবে নামী দোকানের খাবার হলেই তা সব অবস্থায় নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তাও নেই। খাবারের সতেজতা ও পরিবেশনের পরিচ্ছন্নতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাইরে বেরোনোর সময় নিজের পানীয় জলের বোতল সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক। বোতল ভরতে হলে জলের উৎস নিরাপদ কি না দেখুন। তেষ্টা পেলেই যেখানে সেখানে তৈরি পানীয় খেয়ে নেওয়ার অভ্যাস এড়ান, বিশেষ করে ব্যবহৃত জল বা বরফ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে। খাবার খাওয়ার আগে সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলির একটি। হাত দৃশ্যত নোংরা না থাকলে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড রাব ব্যবহার করা যায়; হাত ময়লা থাকলে সাবান ও জল ব্যবহার করুন।
পেটব্যথা, বমি বা পাতলা পায়খানা শুরু হলে শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে খাবার স্যালাইন বা ওআরএস শরীরের হারানো জল ও লবণ পূরণে সাহায্য করে। তবে বারবার বমি হলে, জল বা ওআরএস খেতে না পারলে, পায়খানায় রক্ত দেখা গেলে কিংবা খুব দুর্বল লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ছোট শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে দ্রুত জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, তাই তাঁদের উপসর্গে বাড়তি নজর প্রয়োজন।
একটি মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার হিসাব কাগজে সহজ মনে হতে পারে। বাস্তবে লাইনে দাঁড়ানো, যানজট পেরোনো এবং একটানা হাঁটার ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হলে শরীরে জলের চাহিদাও বাড়ে। অনেকেই বারবার শৌচাগারে যেতে হবে ভেবে বাইরে জল কম খান। দীর্ঘ সময় হাঁটার পরিকল্পনায় এই অভ্যাস সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সময় সময় জল পান করুন। দিনের পরিকল্পনায় খাবার ও বিশ্রামের বিরতি রাখুন। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বমি বমি ভাব বা পেশিতে টান লাগলে কিছুক্ষণ থামুন। অপেক্ষাকৃত শীতল জায়গায় বসুন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী জল পান করুন। গরমে শরীর খারাপ হলে জোর করে পরের মণ্ডপে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। গরমজনিত অসুস্থতা এড়াতে ঠান্ডা পরিবেশে থাকা, পর্যাপ্ত জল পান এবং সতর্কতামূলক উপসর্গ চিনে রাখার পরামর্শ দেয় সিডিসি।
দলের সঙ্গে বেরোলে কেউ অসুস্থ বোধ করছেন কি না মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে তারা সব সময় স্পষ্ট করে তেষ্টা বা ক্লান্তির কথা বলতে পারে না। প্রবীণরাও ভিড়ে অন্যদের অসুবিধা হবে ভেবে চুপ করে থাকতে পারেন। তাই শুধু নিজের নয়, সঙ্গীদের অবস্থাও খেয়াল করা জরুরি।
পুজোর সময়ে বৃষ্টি হলে বা তার আগে এলাকায় জল জমে থাকলে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। ডেঙ্গি সংক্রমিত মশার কামড়ে ছড়ায়; পুজোর ভিড়ে কারও পাশে দাঁড়ানোর কারণে এটি সরাসরি ছড়ায় না। মশার কামড় থেকে বাঁচতে শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢাকে এমন পোশাক পরা এবং নির্দেশিকা মেনে মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা জল সরানোও গুরুত্বপূর্ণ।
পুজোয় বেরোনোর সময় শুধু রাতের মশার কথা ভেবে নিশ্চিন্ত থাকবেন না। ডেঙ্গি বহনকারী মশার কামড় দিনের বেলাতেও হতে পারে। বাড়ির টব, পাত্র, ছাদ বা বারান্দায় জল জমে আছে কি না দেখুন। বেড়াতে যাওয়ার আগে বাড়ি ফাঁকা রেখে গেলেও জল জমার সম্ভাব্য জায়গাগুলি পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল।
জ্বরের সঙ্গে চোখের পিছনে ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা গায়ে র্যাশ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এসব উপসর্গ থাকলেই ডেঙ্গি হয়েছে, এমন নয়; পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। বিশেষত তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা অনেক দিন আগে থেকে করা থাকে। ফলে শরীর খারাপ লাগলেও অনেকে বলেন, ‘আজটা কোনও ভাবে ঘুরে নিই।’ কিন্তু জ্বর, বারবার বমি, ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নিজের অসুবিধা বাড়তে পারে। শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গ থাকলে অন্যদের কথাও ভাবতে হবে। প্রয়োজন হলে দিনের কর্মসূচি ছোট করুন অথবা বিশ্রাম নিন।
কোনও অসুস্থতাকেই নিজের মতো করে ‘সামান্য বদহজম’ বা ‘সাধারণ সর্দি’ বলে নিশ্চিত ধরে নেবেন না। উপসর্গের তীব্রতা, কতক্ষণ ধরে রয়েছে এবং অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা আছে কি না—এসব বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। বিশেষ করে শিশুরা, প্রবীণ মানুষ এবং যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
পুজোর আনন্দ চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও অসুস্থ শরীরের উপর তার প্রভাব আরও বেশি দিন থাকতে পারে। তাই একটি দিনের পরিকল্পনা বদলানো অনেক সময় বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
শিশুদের কাছে পুজো মানে আলো, রং এবং অনেকটা হাঁটাহাঁটি। উত্তেজনায় তারা ক্লান্তি বুঝতে পারে না, আবার হঠাৎ বিরক্ত বা নিস্তেজও হয়ে পড়তে পারে। বেরোনোর আগে বয়স অনুযায়ী খাবার খাইয়ে নিন। সঙ্গে পানীয় জল, প্রয়োজনীয় খাবার এবং শিশুর নিয়মিত প্রয়োজনের জিনিস রাখুন।
খাবার কেনার সময় শিশুটি হাত পরিষ্কার করেছে কি না দেখুন। ছোটদের হাতে যে কোনও খাবার তুলে দেওয়ার আগে সেটি কোথায় রাখা ছিল, পরিষ্কার কি না এবং খাওয়ার উপযোগী কি না খেয়াল করুন। গরমে লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার বদলে মাঝে বিরতি দিন। শিশুর প্রস্রাব অস্বাভাবিক কমে গেলে, বারবার বমি হলে, খেতে বা পান করতে না চাইলে কিংবা অস্বাভাবিক নিস্তেজ দেখালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভিড়ের মধ্যে শিশুর শারীরিক অস্বস্তির কথা শোনা কঠিন হতে পারে। তাই তাকে নিয়মিত জিজ্ঞেস করুন, জল চাই কি না, মাথা ঘুরছে কি না বা বসতে ইচ্ছা করছে কি না। ছোট এই কথোপকথনই অনেক সময় সমস্যা দ্রুত বুঝতে সাহায্য করে।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য বা যাঁদের ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ কিংবা শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত বিরতি রাখা ভাল। এক রাতে অনেকগুলি মণ্ডপ দেখার বদলে কম হাঁটতে হয় এমন পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে। বসার জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে এবং বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা কী, সেটিও আগেই ভেবে রাখুন।
নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার সময় যেন ভিড়ের চাপে বাদ না পড়ে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য রাখুন। চিকিৎসক যদি জলপানের পরিমাণ, খাবার বা পরিশ্রমের বিষয়ে আলাদা নির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেই নির্দেশই মেনে চলুন। সবার জন্য একই পরিমাণ জল বা একই ধরনের খাবার উপযুক্ত হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
অসুস্থ বোধ করলে দলের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর চাপ দেবেন না। ভিড় থেকে বেরিয়ে বিশ্রাম, বাড়ি ফেরা বা প্রয়োজন হলে চিকিৎসা—যেটি দরকার, সেটিই আগে করুন।
পুজোর ব্যাগ ভারী করার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি দরকারি জিনিস থাকলেই বাইরে সময় কাটানো সহজ হয়। নিজের পানীয় জলের বোতল, হাত পরিষ্কারের উপকরণ, প্রয়োজনীয় নিয়মিত ওষুধ এবং আবহাওয়া অনুযায়ী ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখতে পারেন। মশার উপদ্রব থাকা এলাকায় বেরোলে উপযুক্ত মশা তাড়ানোর উপকরণও কাজে লাগতে পারে।
জুতো যেন হাঁটার উপযোগী হয়। নতুন জুতো প্রথম দিনই দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য বেছে নিলে পায়ে অস্বস্তি হতে পারে। বেরোনোর আগে কোথায় খাবেন এবং কখন বিরতি নেবেন, তা মোটামুটি ঠিক করে রাখুন। ঘুরতে ঘুরতে খিদে পেলে বা তেষ্টা পেলে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কমবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে পোশাক ঠিক করুন। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সুযোগমতো শুকনো পোশাক বদলে নিন। তবে মনে রাখবেন, ভিজলেই সংক্রমণ হয়—এমন সরল সমীকরণ নেই। অসুস্থতার ধরন বুঝতে উপসর্গের দিকে নজর দিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
একটি মণ্ডপ দেখে বেরিয়ে পরেরটিতে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট থামুন। সকলের শক্তি সমান থাকে না। কেউ হাঁটতে পারছেন বলেই বাকিদেরও একই গতিতে চলতে হবে, এমন নয়। দলের সদস্যদের মধ্যে শিশু বা প্রবীণ থাকলে তাঁদের সুবিধামতো গতি ঠিক করুন।
খাবার খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করুন। নিজের জলের বোতল থেকে সময় সময় জল পান করুন। খুব ভিড় হলে বিকল্প সময় বা অন্য মণ্ডপের কথা ভাবুন। মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে ভিড় থেকে সরে এসে বসুন। ‘আর একটা মণ্ডপ দেখেই বিশ্রাম’—এই সিদ্ধান্ত শরীর খারাপের সময় উপযুক্ত নাও হতে পারে।
অন্য কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ভিড়ের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখবেন না। নিরাপদ ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় নিয়ে যান। পরিস্থিতি গুরুতর মনে হলে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
পুজোয় বাইরে থেকে ফিরে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। বিশ্রাম, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাভাবিক খাবারদাবারের দিকে নজর দিন। তবে পরের দিনও জ্বর, কাশি, পেটের সমস্যা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে তা উপেক্ষা করবেন না। কোথায় গিয়েছিলেন বা কী খেয়েছিলেন, শুধু সেই স্মৃতি থেকে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
কারও জ্বর হলে তাঁর উপসর্গের ধরন লক্ষ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসক পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ শুরু করবেন না। পুজোর মধ্যে দ্রুত সুস্থ হতে চাওয়ার তাগিদ থাকলেও ভুল চিকিৎসা সমস্যা বাড়াতে পারে।
শিশু বা প্রবীণ কেউ বাইরে থেকে ফেরার পর অস্বাভাবিক নিস্তেজ থাকলে, বারবার বমি করলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অপেক্ষা করবেন না। একই ভাবে ডেঙ্গির সন্দেহে সতর্কতামূলক উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
পুজোর ক’দিন বাড়িতে বসে থাকার কথা নয়। বরং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে উৎসব উপভোগ করাই লক্ষ্য। পরিষ্কার খাবার ও নিরাপদ জল বেছে নেওয়া, সময়মতো হাত ধোয়া, ভিড়ে শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষার কথা ভাবা, মশার কামড় এড়ানো এবং হাঁটাহাঁটির ফাঁকে বিশ্রাম—এই অভ্যাসগুলি পুজোর পরিকল্পনার সঙ্গেই রাখা যায়।
সবচেয়ে জরুরি হল উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া। পুজোর দিনে অসুস্থ হলে আনন্দ মাটি হওয়ার ভয় থাকে, তাই অনেকে সমস্যার কথা চাপা দেন। কিন্তু শরীর খারাপের প্রথম সংকেত চিনে সময়মতো থামা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই ভাল সিদ্ধান্ত। সতর্ক থাকলে ঠাকুর দেখার আনন্দও বজায় থাকে, আবার নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা যায়।