Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারীরা নতুন গন্তব্যে রফতানি পাঠাচ্ছে: ইউএई, চীন এবং ইউরোপের দিকে প্রবাহ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতের রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। 2025 সালে মার্কিন সরকার ভারতীয় পণ্যের উপর প্রায় ৫০-৫৫% শুল্ক আরোপ করার পর, ভারতের রপ্তানিকারীরা নতুন গন্তব্যে তাদের পণ্য পাঠানো শুরু করেছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, টেক্সটাইল, গয়না, এবং খাদ্য পণ্য মার্কিন বাজারে সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই রপ্তানিকারীরা ইউএই, চীন, ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

ভারতীয় রপ্তানিকারীরা মার্কিন শুল্কের কারণে রফতানির গন্তব্য পরিবর্তন করছে: এশিয়া ও ইউরোপে নতুন দৃষ্টি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারতের রপ্তানির বাজারে এক নতুন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। Indian exporters তাদের পণ্য নতুন গন্তব্যে রফতানি করতে শুরু করেছে, যেখানে UAE, China, Europe সহ বিভিন্ন এশীয় এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। United States-এর কাছ থেকে ভারতের বেশ কিছু প্রধান রপ্তানি খাতে বৃদ্ধি ঘটছিল, তবে মার্কিন শুল্কের কারণে সেগুলোর উপর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে, রফতানিকারীরা তাদের রপ্তানি পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে এবং নতুন বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছানোর জন্য সমন্বয় করছে।


 মার্কিন শুল্কের ফলে ভারতীয় রপ্তানিতে ক্ষতির প্রভাব

২০২৫ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বেশ কিছু প্রধান রপ্তানি খাতের উপর ৫০–৫৫% শুল্ক আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, গয়না, টেক্সটাইল, চামড়া, এবং খাদ্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ভারতের রপ্তানি খাতে এই উচ্চ শুল্ক বা স্টিফ শুল্ক পরিশ্রমী পণ্যগুলির উপর প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল বৃহত্তম বাজার, সেখানে প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাবটি তখন আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, যখন ভারতের রপ্তানি খাত এই ঝুঁকি কমানোর জন্য নতুন মার্কেট খুঁজতে শুরু করে।

এর ফলে, রপ্তানির পথ পরিবর্তন করতে শুরু করে। ভারতীয় রপ্তানিকারীরা চীন, ইউএই, এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ এর দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠে। ভারতীয় পণ্য অ্যাসোসিয়েটেড হ্যান্ডলিং চার্জ এবং অন্যান্য শুল্কের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া শুরু করে এবং মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরতা কমে যেতে শুরু করে।


 নতুন গন্তব্য এবং বাজার খোঁজা: ইউএई, চীন, ইউরোপের দিকে ঝোঁক

মার্কিন শুল্কের কারণে, ভারতের রপ্তানিকারীরা এখন চীন, ইউএई, এবং ইউরোপ এর মতো বিকল্প বাজারে রফতানি পাঠানোর উপর জোর দিচ্ছে। এসব দেশগুলোতে রপ্তানি পণ্য প্রাপ্যতা এবং শুল্ক পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, রপ্তানিকারীরা এখানে তাদের পণ্য পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছে।

টেক্সটাইল ও গয়না খাতের জন্য ইউএई এবং চীন প্রধান গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের গয়না রপ্তানি, যা মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল, এখন ইউএই, হংকং এবং চীনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে।

শিল্প পণ্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের জন্য চীন ও ইউরোপে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ বেশ ভালো দেখা গেছে। এছাড়াও, ইউরোপে অ্যাপ্লায়েন্স এবং অটোমোবাইল খাতে প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, খাদ্য রপ্তানিও ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থান পাচ্ছে, বিশেষত ইউএইতে যেহেতু সেখানে খাদ্য শুল্ক তুলনামূলক কম। এছাড়া, রফতানির খরচ কমানোর জন্য আরো কিছু পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।


 ইউরোপ এবং চীন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত চীন এবং ইউএই-এ ভারতীয় রপ্তানির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনে ভারতের রপ্তানি পণ্য, বিশেষত ইলেকট্রনিকস এবং খাদ্য পণ্য ভালোভাবে চলতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে, ভারতের চীনে রপ্তানি অনেক বেশি বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ চীনের উচ্চ চাহিদা এবং তুলনামূলক কম শুল্ক। এর ফলে, ভারত চীনে পণ্য রপ্তানি আরো সহজ এবং লাভজনক হয়ে উঠেছে।

ইউরোপেও, বিশেষত ইউনাইটেড কিংডম এবং ফ্রান্স, ভারতের কৃষি পণ্য এবং টেক্সটাইল সেক্টর অনেক ভালো সাড়া পেয়েছে। ফ্যাশন এবং গয়না ক্ষেত্রেও ভারতের রপ্তানি লাভ বাড়ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যেখানে কম শুল্ক এবং ফ্রি ট্রেড চুক্তি সুবিধা রয়েছে, সেগুলোর দিকে রফতানি আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 

কি সতর্ক থাকতে হবে?

  • যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভারতের জন্য একটি বড় এক্সপোর্ট মার্কেট: শুল্ক আ고–শেষেও, মার্কিন বাজার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া যায় না। তাই, নতুন গন্তব্যের সঙ্গে parallel রাখতেই হবে।

  • নতুন গন্তব্যে cultural, regulatory, compliance ও logistic চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।

  • পণ্যের গুণগত মান ও supply‑chain stability বজায় রাখতে হবে — কারণ একবার গুণগত মানে ফারাক পেলে নতুন বাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা কঠিন।


 নতুন রপ্তানি বাজারে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে, ভারতের জন্য কিছু নতুন রপ্তানি বাজার খুলে গেছে। তবে, এসব বাজারে প্রবেশের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন, বাজার গবেষণা, প্রযুক্তির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বিপণনের খরচ।

একদিকে নতুন বাজারের বৈচিত্র্য ভারতের জন্য অনেক সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য খরচ এবং পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা জরুরি। নতুন বাজারে প্রবেশ করার জন্য, রপ্তানিকারীদের স্মার্ট মার্কেটিং এবং দক্ষ পণ্যের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং সেখানে রপ্তানির ধরন পরিবর্তন করতে হবে, যাতে ভারতের পণ্যের চাহিদা বাড়ানো যায়।
 

কেন রফতানির গন্তব্য বদলানো হচ্ছে? — কারণ এবং প্রভাব

 কারণ:

 প্রভাব:

  • রপ্তানিকারীদের জন্য ঝুঁকি কমেছে — একক মার্কিন বাজার নির্ভরতা কমে গিয়েছে।

  • নতুন বাজার‑সংযোগ ও বৈচিত্র্য (diversification) রফতানিতে স্থায়িত্ব এনেছে।

  • তবে, নতুন গন্তব্যের বাজার চাহিদা, শুল্ক/ভ্যাট নীতি, লজিস্টিক ও উপযোগিতা যাচাই করতে হবে — যাতে রফতানি ধাপে বাধা না আসে।


 রপ্তানি রেকর্ড এবং ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধি

২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের রপ্তানি প্রায় ৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একেবারে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির চিত্র তৈরি করেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, ভারতের মোট রপ্তানি প্রায় ₹৬৫,০০০ কোটি ছাড়িয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের রপ্তানি সেক্টর স্বল্প সময়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষত নতুন ব্যবসায়িক কৌশল এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে।

এটি ভারতের মোট রপ্তানি লক্ষ্যকে ২০২৫ সালের শেষে ₹৪,০০,০০০ কোটি পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।


 সম্ভাব্য ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধি এবং ঝুঁকি

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির পর, ভারতের রপ্তানি খাতের জন্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, এই বৈচিত্র্যময় রপ্তানি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে। রপ্তানি গন্তব্য পরিবর্তন হলেও, বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা আসবে। ভবিষ্যতে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং ভোক্তা চাহিদার উন্নতি ভারতের রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

যদিও শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, তবে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং স্থানীয় নীতিমালা ভালোভাবে কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতে লাভবান হতে পারে ভারতীয় রপ্তানিকারীরা।
 

  • ২০২৫-এর আগস্ট মাসে, United States Government প্রায় ৫০‑৫৫% শুল্ক (tariff) আরোপ করার পরে, ভারতের রপ্তানি অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। 

  • ফলস্বরূপ, রফতানিকারীরা দ্রুত তাদের কনসিগনমেন্টের গন্তব্য (destination) পরিবর্তন করতে শুরু করেছে — ইউএনই, চায়না, ইউরোপ এবং এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোতে। 

  • উদাহরণস্বরূপ: শুল্ক বৃদ্ধির পর, তুলো ও বস্ত্রজাত পণ্যের রপ্তানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কমে গেলেও, এই পণ্যের রপ্তানি ইতালি–সহ ইউরোপের দেশগুলোতে বাড়েছে। একইসঙ্গে, marine products, gems‑jewellery, leather‑goods ইত্যাদির রফতানি চায়না, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইউএই রূপে দ্রুত পুনরায় সাজানো হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে: উত্তরণ আর অভিযোজনে রফতানি‑নীতি

বর্তমানে, মার্কিন শুল্ক‑উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার মধ্যেও, ভারতের রপ্তানিকারীরা adaptive সিদ্ধান্ত নিচ্ছে: মার্কিন বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে, বৈচিত্র্যময় গন্তব্য চয়ন করছে।

যদি তারা বাজারের চাহিদা, গুণগত মান এবং logistic সুবিধা ঠিক রাখে — তাহলে নতুন গন্তব্যগুলোর মাধ্যমে রফতানি ‘বাঁচিয়ে’ রাখতে পারবে এবং বড় ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।


 সারাংশ

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের রপ্তানি খাতকে কিছুটা বিপর্যস্ত করেছে, তবে ভারতের রপ্তানিকারীরা নতুন গন্তব্যে পণ্য পাঠিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। এই সময়ে, ভারতের ইউএই, চীন এবং ইউরোপ–এ প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য তৈরি করার মাধ্যমে রপ্তানিকারীরা নতুন বিশ্বব্যাপী বাজার উপভোগ করতে পারছে। তবে, এটি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে গেলে বাজার বিশ্লেষণ এবং কার্যকর রফতানি নীতির প্রয়োজন।

ভারতের রপ্তানি খাতে নতুন সূচনার মাধ্যমে, সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, যা বিশ্বের মধ্যে ভারতের ব্যবসায়িক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

Preview image