Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোর বাজারে মালদহে ২৫০ কোটির ব্যবসা! বিপুল বাণিজ্যে খুশির হাওয়া বণিকমহলে

দুর্গাপুজোকে ঘিরে মালদহ জেলায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। অষ্টমীর আগের দিন পর্যন্ত পোশাক, জুতো, প্রসাধনী-সহ বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে খুশি ব্যবসায়ীরা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন: দুর্গাপুজোয় মালদহে প্রায় ২৫০ কোটির ব্যবসা, খুশির হাওয়া বণিকমহলে

পুজোর বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা, বিক্রিতে সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে আনন্দ, উৎসব, নতুন পোশাক আর জমিয়ে কেনাকাটা। পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই বাজারে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। নতুন জামাকাপড় থেকে শুরু করে জুতো, প্রসাধনী এবং সাজসজ্জার নানা সামগ্রী কেনার জন্য দোকানে দোকানে ভিড় জমান মানুষ। এবারের দুর্গাপুজোতেও সেই চেনা ছবি দেখা গেল মালদহ জেলায়। বণিকমহলের দাবি, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। ভালো বিক্রিবাট্টায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি জেলার ব্যবসায়ীরা।

পুজোর বাজারে ক্রেতাদের এই ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। পোশাক, জুতো এবং প্রসাধনীর দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে জেলা সদর ইংলিশবাজার শহরের বিভিন্ন বিপণি, শপিং মল এবং নামী ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানে কেনাকাটার জন্য মানুষের আনাগোনা ছিল যথেষ্ট বেশি।

শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, মালদহের বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারেও পুজোর কেনাকাটা ঘিরে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। চাঁচলের সামসি, গাজোল এবং পুরাতন মালদহের মতো এলাকাতেও ভালো ব্যবসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক দোকানে বিক্রির পরিস্থিতি ভালো ছিল। সব মিলিয়ে পুজোর বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

ইংলিশবাজারে কেনাকাটার ধুম

মালদহ জেলার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ইংলিশবাজার। পুজোর সময় এই শহরের বাজারগুলিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুর্গাপুজোর আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মহালয়ার পর সেই ভিড় আরও বাড়ে। সপ্তমী ও অষ্টমীর সময়েও বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।

শহরের বিভিন্ন শপিং মল এবং নামী ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পুজোয় নতুন পোশাক কেনার পাশাপাশি জুতো, প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছেন ক্রেতারা। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে অনেকেই একসঙ্গে বাজারে এসেছেন।

বণিকমহলের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের পুজোয় মানুষ তুলনামূলকভাবে খোলামনে কেনাকাটা করেছেন। শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি অনেকে। পুজোর আনন্দকে সামনে রেখে পছন্দের পোশাক, জুতো এবং সাজসজ্জার সামগ্রী কিনেছেন তাঁরা। এই প্রবণতা বাজারে বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ইংলিশবাজারের মতো বড় বাজারে ক্রেতাদের এই উপস্থিতি জেলার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বড় বিপণি থেকে ছোট দোকান—বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই পুজোর বাজার থেকে লাভবান হয়েছে বলে বণিকমহলের দাবি।

দু’দিন সপ্তমী, কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময়

এবারের দুর্গাপুজোয় দু’দিন সপ্তমী থাকায় ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পেয়েছেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিমা দর্শন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি অনেকেই কেনাকাটার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সপ্তমীর বিকেলে প্রতিমা দর্শনে বেরিয়েও অনেকে বিভিন্ন দোকানে ঢুকে কেনাকাটা করেছেন। অষ্টমীর প্রস্তুতির জন্য শেষ মুহূর্তে পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হলেও বাজারে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। ফলে পুজোর দিনগুলিতেও দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বজায় ছিল।

সাধারণত পুজোর আগে শেষ কয়েক দিনে বাজারে কেনাকাটার চাপ বাড়ে। অনেকেই কাজের ব্যস্ততা কিংবা অন্যান্য কারণে আগে কেনাকাটা করতে পারেন না। তাঁদের কাছে পুজোর দিনগুলিতে দোকান খোলা থাকা এবং কেনাকাটার সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এবারও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বহু মানুষ।

ব্যবসায়ীদের মতে, পুজোর আগে থেকে শুরু হওয়া কেনাকাটার পাশাপাশি সপ্তমী ও অষ্টমী পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি ভালো বিক্রির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। একাধিক দোকানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গিয়েছে।

ছাড়ের হাত ধরে ক্রেতা টানার চেষ্টা

পুজোর বাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে মালদহ শহরের বিভিন্ন দোকান বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল। পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ থাকায় ক্রেতারা বিভিন্ন দোকানের পণ্য ও দাম তুলনা করে কেনাকাটা করেছেন।

উৎসবের মরশুমে ক্রেতাদের কাছে পছন্দের পণ্য কেনার পাশাপাশি বাজেটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দোকানগুলির দেওয়া ছাড় অনেককে কেনাকাটায় উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য পোশাক কেনার সময় ছাড়ের সুবিধা ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

শহরের বিভিন্ন বিপণিতে একদিকে যেমন নতুন ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা ছিল, অন্যদিকে তেমনই তুলনামূলক কম দামের পোশাকের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গিয়েছে। পুজোর কেনাকাটায় সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ বাজারকে আরও সক্রিয় করেছে বলে ব্যবসায়ীদের মত।

তবে শুধু ছাড় নয়, পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের কেনাকাটার অভ্যাসও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক পরার আনন্দ। সেই ঐতিহ্য মেনেই অনেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনেছেন।

শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ বাজারেও ভালো ব্যবসা

মালদহের পুজোর বাজারের সাফল্য শুধু ইংলিশবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাতেও ভালো কেনাকাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গাজোল, চাঁচলের সামসি এবং পুরাতন মালদহের মতো এলাকায় পুজোর আগে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট ভালো।

গ্রামীণ এলাকার মানুষও পুজোর কেনাকাটার জন্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দোকানে গিয়েছেন। ফলে শহর ও গ্রামের মধ্যে কেনাকাটার ব্যস্ততা ছড়িয়ে পড়েছিল।

চাঁচলের সামসি এবং গাজোলের বিভিন্ন দোকানে পুজোর আগে প্রায় প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় ছিল বলে জানা গিয়েছে। পোশাকের দোকানগুলিতে নতুন জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রীরও চাহিদা দেখা গিয়েছে।

গ্রামীণ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পুজোর মরশুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় উৎসবের আগে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণে পুজোর আগে দোকানে নতুন পণ্য তোলা, দোকান সাজানো এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য নানা প্রস্তুতি নেন ব্যবসায়ীরা।

এবারও সেই প্রস্তুতির সুফল মিলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ। ভালো কেনাকাটা হওয়ায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গিয়েছে।

ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আয় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা

মালদহের পুজোর বাজারে ছোট ও মাঝারি দোকানগুলির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বড় শপিং মল বা নামী ব্র্যান্ডের বিপণির পাশাপাশি স্থানীয় দোকানগুলিও পুজোর কেনাকাটার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

বণিকমহলের দাবি, এবারের দুর্গাপুজোয় জেলার ছোট ও মাঝারি দোকানদাররা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পুজোর কেনাকাটায় স্থানীয় দোকানগুলিও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল।

মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম সদস্য জয়ন্ত কুণ্ডু জানিয়েছেন, এবারের পুজোয় জেলায় ভালো ব্যবসা হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক বিক্রির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে তাঁদের অনুমান।

এই হিসাব অনুযায়ী, পুজোর বাজারে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি দোকানগুলিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিক্রি করেছে। স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বণিকমহলের সদস্যরা।

news image
আরও খবর

ছোট দোকানগুলিতে অনেক সময় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। স্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে দোকানদারদের পরিচিতিও কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। পুজোর মতো বড় উৎসবে এই দোকানগুলিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ে।

তবে বণিকমহলের দেওয়া ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার অঙ্কটি একটি আনুমানিক হিসাব। জেলার সমস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত বিক্রির সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে এটিকে দেখা উচিত নয়।

গাজোলে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ব্যবসার দাবি

মালদহ জেলার গ্রামীণ বাজারগুলির মধ্যে গাজোলের ব্যবসায়িক গুরুত্ব রয়েছে। পুজোর সময় এই এলাকার বাজারেও কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর আগে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছিল এবং ভালো বিক্রি হয়েছে।

গাজোল মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক বিধান রায় জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রামীণ এলাকাতেও প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে।

এই দাবি থেকে বোঝা যায়, পুজোর কেনাকাটায় জেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার সক্রিয় ছিল। শুধু জেলা সদর বা বড় বিপণি নয়, স্থানীয় বাজারগুলিও উৎসবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।

গ্রামীণ এলাকার বাজারে পোশাকের দোকানের পাশাপাশি জুতো, প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানেও কেনাকাটা হয়েছে। পুজোর আগে পরিবারগুলির খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দোকানগুলিতে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ বাজারের এই ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দোকানদার, কর্মী এবং সরবরাহকারীদের কাছে উৎসবের মরশুম অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ নিয়ে আসে। যদিও এই ব্যবসার প্রভাব কতটা হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানার জন্য আলাদা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

মহালয়ার পর থেকেই বাড়তে থাকে ভিড়

মালদহের ব্যবসায়ীদের দাবি, পুজোর বাজার এবার একেবারে শেষ মুহূর্তে শুরু হয়নি। দুর্গাপুজোর প্রায় এক মাস আগে থেকেই কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। মহালয়ার পর দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

মহালয়া বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই সময় থেকেই বহু মানুষ পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেন। নতুন পোশাক কেনা, পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করেন তাঁরা।

এবারও মালদহের বিভিন্ন বাজারে মহালয়ার পর থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পুজোর দিন যত এগিয়েছে, কেনাকাটার ব্যস্ততাও তত বেড়েছে।

অনেক ক্রেতা আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পুজোর আগের দিনগুলির জন্য কেনাকাটা বাকি রেখেছিলেন। ফলে বাজারে একাধিক দিন ধরে ক্রেতাদের উপস্থিতি বজায় ছিল।

ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে কেনাকাটা চলায় দোকানগুলির বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের দোকানগুলিতে পুজোর মরশুমের চাহিদা ভালো ছিল।

মহিলাদের কেনাকাটায় উৎসাহ, খুশি পোশাক বিক্রেতারা

পুজোর বাজারে মহিলাদের কেনাকাটার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পুরাতন মালদহের কাপড় বিক্রেতাদের দাবি, এবার মহিলারা মন খুলে কেনাকাটা করেছেন। তাঁদের হাতে খরচ করার মতো টাকা থাকায় পোশাক কেনার প্রবণতাও ভালো ছিল বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

দুর্গাপুজোর আগে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি এবং অন্যান্য পোশাকের চাহিদা থাকে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও পোশাক কেনেন অনেকে। ফলে এই সময়ে কাপড়ের দোকানগুলিতে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মঙ্গলবাড়ির কাপড় বিক্রেতা পাপাই গুপ্ত জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার তাঁর ভালো ব্যবসা হয়েছে। পুজোর আগে থেকেই প্রতিদিন বিকেলের পর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গিয়েছে। কেনাকাটাও ভালো হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পুরাতন মালদহের মতো এলাকাতেও পুজোর বাজার ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক ছিল। যদিও প্রত্যেক দোকানের বিক্রির পরিমাণ এক ছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

উৎসবের বাজারে স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্ব

দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বহু ছোট ও বড় ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সময়। পুজোর আগে পোশাক, জুতো, প্রসাধনী এবং অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বাড়ে। সেই সঙ্গে দোকানগুলির বিক্রি বাড়লে স্থানীয় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মালদহের ক্ষেত্রে ইংলিশবাজারের বড় বিপণি থেকে শুরু করে গাজোল, সামসি ও পুরাতন মালদহের স্থানীয় দোকান—বিভিন্ন জায়গায় কেনাকাটা হওয়ায় বাজারের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে বলে বণিকমহলের দাবি।

বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে পুজোর বিক্রি বছরের ব্যবসায়িক হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। উৎসবের সময় ভালো বিক্রি হলে দোকানদারদের আয় বাড়ে এবং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষও উপকৃত হওয়ার সুযোগ পায়।

তবে ভালো বিক্রি মানেই সব ব্যবসায়ীর সমান লাভ হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। পণ্য কেনার খরচ, দোকান ভাড়া, কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয়ের উপর নির্ভর করে প্রকৃত লাভের পরিমাণ। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় জেলার ব্যবসায়ীদের মোট মুনাফা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

বণিকমহলের মুখে সন্তোষের সুর

এবারের দুর্গাপুজোয় মালদহ জেলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বণিকমহলের সদস্যরা। ইংলিশবাজারে বড় বিপণি ও ব্র্যান্ডের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়, গ্রামীণ বাজারে ভালো বিক্রি এবং ছোট ও মাঝারি দোকানগুলির ব্যবসা—সব মিলিয়ে পুজোর বাজার নিয়ে সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীদের একাংশ।

মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য জয়ন্ত কুণ্ডুর বক্তব্য এবং গাজোল মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক বিধান রায়ের দেওয়া হিসাবেও পুজোর বাজারে ভালো বিক্রির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে থেকেই শুরু হওয়া কেনাকাটা অষ্টমী পর্যন্ত চলেছে। দু’দিন সপ্তমী থাকায় ক্রেতারা অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন বলেও মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলির দেওয়া ছাড় এবং উৎসবকে ঘিরে মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁদের মত।

সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপুজোয় মালদহের বাজারে কেনাকাটার ছবিকে সন্তোষজনক বলেই ব্যাখ্যা করছে বণিকমহল। প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসার এই আনুমানিক হিসাব জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে উৎসবের মরশুমের একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।

Preview image