কৃষ্ণনগরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান। গত সোমবার, অভিযুক্ত দেশরাজের বিরুদ্ধে ছাত্রী হত্যার ঘটনায় তার ভাই সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালতে দাঁড়িয়ে ভাইটি দিদির খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন, যেখানে তিনি বলেন, খুনের সময় মাকে দেখে দেশরাজ কোনো রকম দয়ামায়া না দেখিয়ে ট্রিগার টেনে দেয়। এই ঘটনায় পুরো পরিবার শোকস্তব্ধ, এবং এখন সকলের চোখ এই মামলার বিচার পক্রিয়ায়। সোমবার, আদালতে দাদুর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যা সম্ভবত এই মামলার পরবর্তী মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের ঘটনায় এজলাসে এক হৃদয়বিদারক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে যখন নিহতের ভাই আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের দিদির খুনের বিবরণ দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যে উঠে এসেছে এক নির্মম সত্য, যেখানে অভিযুক্ত দেশরাজ সিং মায়ের চিৎকার আর মিনতি সত্ত্বেও বারবার ট্রিগার টেনেছিল। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে সোমবার সাক্ষ্য দেবেন নিহতের দাদু, যার থেকে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গত বছরের পঁচিশে আগস্ট সেই কালো দিনটিতে কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়া এলাকায় এক সাধারণ পরিবারের জীবনে নেমে এসেছিল এক অকল্পনীয় দুর্যোগ। দুপুরবেলায় বাড়িতে একা ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক।
সেদিন তার বাবার সাথে কলকাতার ভিক্টোরিয়া কলেজে যাওয়ার কথা ছিল ঈশিতার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে যায়। কে জানত এই ছোট্ট সিদ্ধান্তটাই তার জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠবে। বাবা একা কলকাতা গিয়েছিলেন, মেয়ে থেকে গিয়েছিল বাড়িতে। আর ঠিক সেই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা দেশরাজ সিং। পূর্ব পরিচিত এই যুবক হঠাৎ করেই ঈশিতার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তার হাতে ছিল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। যা ঘটেছিল তার পরের কয়েক মিনিটে, তা এতটাই ভয়াবহ যে আজও স্থানীয় মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দেশরাজ ঈশিতার মাথায় গুলি করেছিল। কিন্তু এই তথ্যের চেয়েও বেশি ভয়ংকর যা বেরিয়ে এসেছে, তা হল মায়ের উপস্থিতিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
নিহতের মা কুসুম মল্লিকের বয়ান অনুযায়ী, গুলির শব্দ শুনে তিনি ছুটে এসেছিলেন মেয়ের ঘরে। কিন্তু যা দেখেছিলেন তা তাকে সারাজীবনের জন্য ভেঙে দিয়েছে। রক্তমাখা মেয়েকে দেখে মা চিৎকার করে উঠেছিলেন, মিনতি করেছিলেন দেশরাজকে। কিন্তু সেই নরপিশাচ থামেনি। মায়ের সামনেই আবারও বন্দুক তাক করেছিল ঈশিতার দিকে। শুধু তাই নয়, মাকে দেখে দেশরাজ তার দিকেও বন্দুক তাক করে এবং ট্রিগার চাপে। ভাগ্যক্রমে সেবার গুলি বের হয়নি। নইলে মা-মেয়ে দুজনকেই হারাতে হতো সেদিন পরিবারকে। এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কুসুম মল্লিক বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি ঈশিতা সেদিন কলকাতায় চলে যেত, তাহলে হয়তো এভাবে প্রাণ হারাতে হতো না তাকে।
এবার আদালতে দাঁড়িয়ে নিহতের ভাই যখন সেই ভয়ংকর দিনের বিবরণ দিয়েছেন, তখন কোর্টরুমে উপস্থিত সকলে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, মা যখন মেয়ের জন্য আর্তনাদ করছিলেন, যখন তিনি দেশরাজের পায়ে পড়ে মিনতি করছিলেন, এমনকি তখনও সেই খুনি থামেনি। মানবিকতার সামান্যতম চিহ্নও ছিল না তার মধ্যে। মাকে দেখেও সে ট্রিগার টেনেছিল, একবার নয় বারবার। ঈশিতার মাথায় দুটি গুলি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কতগুলি গুলি এবং কত দূর থেকে করা হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছিলেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি দিল্পি পাল। মাথার ভিতরে বুলেট রয়েছে নাকি বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে, সেটিও তখন পরিষ্কার ছিল না।
নিহতের ভাই তার জবানবন্দিতে আরও বলেন যে, সেই মুহূর্তগুলো ছিল পরিবারের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো। মা যখন মেয়ের জন্য কাঁদছিলেন, তখন দেশরাজ নির্বিকারভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মাকে বন্দুক দেখিয়ে হুমকিও দিয়েছিল সে। এই পুরো ঘটনাটি এতটাই নির্মম এবং পরিকল্পিত ছিল যে তদন্তকারীরা বিস্মিত হয়েছেন। তারা মনে করছেন, দেশরাজ অনেক আগে থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ চব্বিশে আগস্ট ট্রেনে করে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল দেশরাজের। বিএসএফ-এ কর্মরত বাবা রঘুবেন্দ্র প্রতাপ সিং ট্রেনের টিকিট পর্যন্ত কেটে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ছেলের কাছে। কিন্তু টিকিট হাতে পাওয়ার পরেও ট্রেনে ওঠেনি দেশরাজ। তদন্তকারীদের দৃঢ় বিশ্বাস, ঈশিতাকে খুন করার জন্যই চব্বিশ তারিখে উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার ট্রেনে ওঠেনি সে।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, খুনের আগের দিন সকালে দেশরাজ তার কাঁচরাপাড়ার বন্ধুদের দিয়ে ঈশিতাকে ফোন করিয়েছিল। কনফারেন্স কলের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দেশরাজ। সেখানে ঈশিতাকে সম্পর্ক রাখার জন্য জোড়াজোরি করে। কিন্তু ঈশিতা তাতে রাজি হয়নি। এরপর দেশরাজ তাকে জানায় যে সে আজকেই উত্তরপ্রদেশে ফিরে যাবে। পুলিশ মনে করছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত নাটক। বন্ধুদের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা ছিল এটি। যাতে খুনের পর কেউ তাকে সন্দেহ না করে। এছাড়াও পুলিশ জানতে পেরেছে, দেশরাজ তার কাকাতো ভাই নীতিনের আরেক ভাই অনুরাগ প্রতাপ সিং-এর নামে নেওয়া সিম কার্ড নিয়ে কাঁচরাপাড়া এসেছিল। অনুরাগ মুক ও বধির। এই সিম কার্ড ব্যবহার করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল যাতে পুলিশ ট্র্যাক করে জানতে না পারে যে দেশরাজ নিজে কাঁচরাপাড়া এসেছিল। আর ভাই মুক-বধির হওয়ায় কেউ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
খুনের পর দেশরাজ পালিয়ে যায়। তার খোঁজে তিনটি পুলিশ টিম উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দেয়। তদন্তে জানা যায় যে, খুনের পর প্রথমে মামা কুলদীপ সিং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দেশরাজ। তাকে নানা রকম সাহায্য করেছিল মামা। তাই কুলদীপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মদত দেওয়া, আটকে রাখা, খুনের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। প্রথমে গুজরাটের জামনগর থেকে মামা কুলদীপকে গ্রেফতার করা হয়। তার জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে যে দেশরাজ উত্তরপ্রদেশের দেউড়িয়ায় পৈত্রিক বাড়িতে লুকিয়ে আছে। সেখানে সাত দিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল সে। অবশেষে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরপ্রদেশ-নেপাল সীমান্ত থেকে দেশরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ সুপার কে অমরনাথ জানিয়েছিলেন, ছাত্রীকে খুন করার পর মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে তারা নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
দেশরাজকে গ্রেফতারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে কৃষ্ণনগর থানায় আনা হয়। তারপর শুরু হয় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশ জানতে চায় কীভাবে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এল, এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা। গ্রেফতারের কয়েক দিন পর কৃষ্ণনগর জেলা সংশোধনাগারে টিআই প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঈশিতার মা ও ভাই দেশরাজকে সনাক্ত করেন। এটি ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের মুহূর্ত। যে মানুষটি তাদের প্রিয় মানুষটিকে কেড়ে নিয়েছে, তাকে চোখের সামনে দেখা এবং সনাক্ত করা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা শুধু তারাই বুঝতে পারেন।
এখন মামলা আদালতে চলছে। পরিবারের সদস্যরা একে একে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। নিহতের ভাই যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না হলেও, তার মায়ের কাছ থেকে শোনা বিবরণ এবং পরিবারের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন আদালতে। তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে কীভাবে দেশরাজ মায়ের আর্তনাদ উপেক্ষা করে বারবার ট্রিগার টেনেছিল। এই সাক্ষ্য শুনে আদালতে উপস্থিত সকলে শিউরে উঠেছিলেন। বিচারক থেকে শুরু করে উকিল, সাংবাদিক এবং দর্শক সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এখন সোমবার নিহতের দাদু সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গিয়েছে। তার কাছ থেকে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। দাদু হয়তো পরিবারের ইতিহাস, ঈশিতার জীবনযাপন এবং দেশরাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোকপাত করতে পারবেন।
এই মামলার পুরো ঘটনা একটি প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার গল্প নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের গল্প। দেশরাজ এবং ঈশিতা পূর্বপরিচিত ছিল। তাদের মধ্যে কোনো এক সময় সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু ঈশিতা যখন সেই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অস্বীকার করে, তখন দেশরাজ তা মেনে নিতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে এটাই উঠে এসেছিল যে, সম্পর্কে রাখতে না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেশরাজ এই খুনের পরিকল্পনা করে। কিন্তু যা ঘটেছে তা একটি সাধারণ আবেগপ্রসূত খুন নয়। এটি ছিল একটি পূর্ব পরিকল্পিত, ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। দেশরাজ জানত কখন ঈশিতা একা বাড়িতে থাকবে। সে জানত কোন সময়টা তার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। সে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। সে মিথ্যা আলিবাই তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল, মায়ের সামনে থাকা সত্ত্বেও সে তার পরিকল্পনা থেকে পিছপা হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা এখনও সেই ভয়াবহ দিনটির কথা ভুলতে পারেননি। নিহতের দিদিমা নাতনির স্মৃতি আঁকড়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। মা কুসুম মল্লিক মেয়ের মৃত্যুর পর বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ঈশিতা সেই দিন কলকাতায় চলে যেত, তাহলে হয়তো এভাবে প্রাণ হারাতে হতো না। এই অনুশোচনা তাকে প্রতিদিন তাড়া করে বেড়ায়। তার চোখের সামনে মেয়ে খুন হয়েছে, অথচ তিনি কিছু করতে পারেননি। খুনি তার দিকেও বন্দুক তাক করেছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে গুলি বের হয়নি। এই স্মৃতি তাকে সারাজীবনের জন্য ভারাক্রান্ত করে রেখেছে।
আদালতে মামলার শুনানি চলছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে একের পর এক সাক্ষী হাজির করা হচ্ছে। নিহতের ভাইয়ের সাক্ষ্যের পর এবার দাদুর সাক্ষ্য শোনা হবে। এছাড়া পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারাও সাক্ষ্য দেবেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ব্যালিস্টিক রিপোর্ট, ফরেনসিক প্রমাণ সবকিছুই আদালতে উপস্থাপন করা হবে। দেশরাজের আইনজীবীরাও তাদের যুক্তি তুলে ধরবেন। কিন্তু প্রমাণগুলি এতটাই শক্তিশালী যে মামলার ফলাফল সম্পর্কে অনেকেই আশাবাদী। পরিবারের সদস্যরা চান দেশরাজের কঠোরতম শাস্তি হোক। তারা চান এই নৃশংস খুনের জন্য দেশরাজকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হোক। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি দেখায় যে কীভাবে একজন মানুষ ব্যর্থ প্রেমের হতাশা থেকে খুনিতে পরিণত হতে পারে। এটি দেখায় যে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে একটি তরুণীর জীবন কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল, এই ঘটনা দেখায় যে মানবিকতা কতটা হারিয়ে যেতে পারে। একজন মা যখন মিনতি করছেন, যখন তিনি আর্তনাদ করছেন, সেই মুহূর্তেও দেশরাজ থামেনি। এই নির্মমতা, এই পাষাণ হৃদয়তা সমাজে ভয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষ্ণনগরের মানুষেরা এখনও এই ঘটনার শক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। স্থানীয়রা বলছেন, ঈশিতা ছিল একটি মেধাবী এবং ভালো মেয়ে। তার স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড তার সমস্ত স্বপ্ন, সমস্ত সম্ভাবনা কেড়ে নিয়েছে। তার পরিবার এখন বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিটি শুনানিতে তারা উপস্থিত হচ্ছেন, সাক্ষ্য দিচ্ছেন, আশা করছেন ন্যায়বিচার পাবেন। আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় নিহতের ভাইয়ের মুখ ছিল বেদনায় ভারাক্রান্ত। দিদির খুনের বিবরণ দেওয়া তার জন্য কতটা কষ্টকর ছিল তা তার চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল। কিন্তু তবুও তিনি সাহস করে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন, সত্য তুলে ধরেছিলেন, যাতে দিদির খুনের ন্যায়বিচার হয়।
সোমবার যখন দাদু সাক্ষ্য দেবেন, তখন হয়তো আরও অনেক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হবে আদালতে। একজন দাদুর কাছে নাতনি কতটা প্রিয় সেটা সবাই জানে। তার হারানোর বেদনা কতটা গভীর তা শুধু তিনিই বুঝতে পারেন। তার সাক্ষ্য থেকে হয়তো ঈশিতার শৈশব, তার বেড়ে ওঠা, তার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জানা যাবে। এবং সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হবে যে কতটা মূল্যবান একটি জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রতিটি শুনানি পরিবারের জন্য নতুন করে ক্ষত খুলে দিচ্ছে। কিন্তু তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে বিচার পাওয়া পর্যন্ত তারা থামবেন না। দেশরাজকে অবশ্যই তার কর্মের জন্য শাস্তি পেতে হবে। এবং সেই শাস্তি হতে হবে এতটাই কঠোর যাতে সমাজে একটি বার্তা যায় যে এমন জঘন্য অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই।