Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ধারের টাকা ফেরত না পেয়ে হত্যাকাণ্ড, প্রৌঢ়কে যাবজ্জীবন দণ্ড

কলকাতার নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত এলাকায় ব্যবসায়ী বুদ্ধদেব সাহাকে (বাবুলাল) ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে কুপিয়ে খুন করে ৬৩ বছর বয়সী রামেশ্বর। ঘটনাটি ঘটেছিল দুই বছর আগে, যখন বুদ্ধদেব সাহা কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত দিতে না পারায় রামেশ্বর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুদ্ধদেব সাহার উপর আক্রমণ করেন রামেশ্বর, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, দীর্ঘকালীন ব্যবসায়িক চাপ এবং ঋণের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালত রায় দিয়েছে, রামেশ্বরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, এবং এই ঘটনা সমাজে ঋণ এবং সহিংসতার দিকে ঝোঁকার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বুদ্ধদেব সাহার পরিবার আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও, তারা জানিয়েছেন, কোনো শাস্তি তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

 

বিগত কিছু বছর ধরে একাধিক ঘটনা সামাজিক ও আইনগত ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল কলকাতার নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত এলাকায়, যা শুধু স্থানীয়দের নয়, সমগ্র কলকাতা শহরকেই স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। এক ব্যবসায়ী, যার নাম বুদ্ধদেব সাহা, যিনি বাবুলাল নামেই পরিচিত, এক ঋণগ্রস্ত মানুষের হাতে প্রাণ হারালেন। এই ঘটনার পেছনে ছিল এক অদৃশ্য, কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারের টাকা এবং তা ফেরত না পাওয়ার অস্থিরতা। এ ঘটনায়, শুধু বুদ্ধদেব সাহা প্রাণ হারাননি, বরং তার পরিবারও শোকাহত হয়ে পড়ে এবং আইন এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। কিন্তু, আদালত অবশেষে তার বিচার প্রদান করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।  এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল দুই বছর আগে, যখন বুদ্ধদেব সাহা, যিনি একজন নির্মাণ ব্যবসায়ী ছিলেন, তাকে ৬৩ বছর বয়সী রামেশ্বর নামক এক ব্যক্তি কয়েক কোটি টাকা ধার দিয়েছিলেন। রামেশ্বর কলকাতার অন্যতম বড় একটি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার অবস্থান বেশ শক্তিশালী ছিল। তবে, যেভাবে টাকা ধার দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল একটি পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে। একসময় এই সম্পর্কটি সাদামাটা ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক চাপের কারণে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে। বুদ্ধদেব সাহা, যিনি পেশায় একজন নির্মাণ ব্যবসায়ী ছিলেন, তার ব্যবসা শুরু হয়েছিল ছোট থেকে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার ব্যবসা বড় হয়ে ওঠে। এক সময় তিনি শহরের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম লেখান। তবে তার ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের ঋণ নিতে হয়। ঋণ নেয়ার সময়ে তাকে রামেশ্বরের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ধার নিতে হয়েছিল। শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তার ব্যবসায়িক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। সেই সময়েই ধারের টাকা ফেরত দিতে না পারার কারণে তিনি চাপে পড়েন এবং রামেশ্বরের কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার চাপ বাড়তে থাকে।  এ ঘটনা ঠিক কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু জানা গেছে যে একদিন রামেশ্বর ধার ফেরত না পাওয়ায় বুদ্ধদেব সাহাকে চাপ দিতে থাকেন। এর পর, এক রাতে বুদ্ধদেব সাহার সঙ্গে রামেশ্বরের তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, রামেশ্বর বেশ কয়েকবার বুদ্ধদেব সাহাকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন, কিন্তু ব্যবসায়িক কারণে সাহা টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না। ক্রমে এই পরিস্থিতি তীব্র আকার নেয় এবং একদিন রামেশ্বর তার হাতে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুদ্ধদেব সাহার উপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করেন। ঘটনাস্থলেই বুদ্ধদেব সাহার মৃত্যু ঘটে। প্রথমে সবাই বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবলেও, তদন্তকারী পুলিশ বাহিনী এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা দ্রুত বিষয়টি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। যখন পুলিশ তদন্ত শুরু করল, তখন জানা যায় যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল এক দীর্ঘকালীন দ্বন্দ্ব, যা ব্যবসায়িক চাপ, ব্যক্তিগত অসন্তোষ এবং ঋণের কারণে আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। রামেশ্বর, যিনি নিজে এক সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন, ধীরে ধীরে ব্যবসার ক্ষতির কারণে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং তাকে বিশ্বাসঘাতক মনে করে প্রৌঢ় বুদ্ধদেব সাহার জীবন কেড়ে নেন।  এই ঘটনাটি ঘটানোর পর রামেশ্বরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা রুজু করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে চলা শুনানি শেষে, কলকাতা জেলা আদালত অবশেষে তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। বিচারক তার রায়ে বলেন, “এই ধরনের হত্যা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা ঋণের কারণে নয়, বরং এটি একটি নৃশংস ঘটনা যেখানে কেবল একজন ব্যক্তির জীবনই শেষ হয়নি, বরং তার পরিবারও চিরকাল শোকগ্রস্ত হয়ে থাকবে।” আদালত রায় দিয়েছে যে রামেশ্বর যতই ঋণের চাপের মধ্যে থাকুক না কেন, তার কাছে আইন ও মানুষের জীবন মূল্যবান ছিল না। আদালতের রায়টি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে ধরেছে। বিশেষভাবে, এই ধরনের হত্যার পেছনে কী কারণে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা কমে যাচ্ছে? কেন ঋণের চাপ মানুষের মনোবল এত কমিয়ে দেয়, যে তারা সহিংসতার দিকে ঝুঁকে পড়ে? আদালত তার রায়ে এই প্রশ্নগুলোও তুলে ধরে এবং সমাজের প্রতি বার্তা পাঠায় যে, যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে তা সমাধান করতে সহিংসতার ব্যবহার কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। বুদ্ধদেব সাহার পরিবার এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা জানিয়েছে, কোনো ধরনের শাস্তি দিয়েও তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী এবং সন্তানেরা, রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার পর তাদের জীবনে এক অদৃশ্য শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তারা একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, “যতদিন জীবিত আছি, বাবুলাল ভাইয়ের কথা স্মরণ করবো এবং তার অবদানকে চিরকাল মনে রাখবো।” তবে এই রায় অবশ্যই তাদের জন্য কিছুটা শান্তির কারণ হয়েছে, কারণ তারা বিশ্বাস করেন, বিচারের রায় সাধারণত সেই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাদের জীবন এমন একটি নিষ্ঠুর ঘটনার কারণে পাল্টে যায়। এই হত্যাকাণ্ডটি সমাজের জন্য একটি গুরুতর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। কেন ঋণ এবং ব্যবসায়িক চাপের কারণে এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির জীবন কেড়ে নিতে পারে? এমনকি কিছু ব্যক্তি কেন খুব সহজেই সহিংসতার দিকে চলে যান? এর কারণ শুধু ব্যবসায়িক চাপ নয়, সমাজের এক একটি দিকের অবনতিও হতে পারে। বিশেষত, মানুষ যখন অর্থনৈতিক দিক থেকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন, তখন তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক চাপও বাড়ে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষ তাদের আচরণে সহিংসতা প্রদর্শন করে। এই ধরনের ঘটনায়, আদালত এবং আইন শৃঙ্খলা বিভাগের রায় শুধুমাত্র অভিযুক্তদের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি শিক্ষা হতে পারে। আইন এবং বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজকে বোঝাতে হবে যে, কোনো সমস্যার সমাধান সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং শান্তিপূর্ণ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে হতে পারে। হত্যার মতো ভয়ানক অপরাধ কোনো সমস্যা সমাধানের পথ নয়। আদালতের রায় সঠিকভাবেই আদালতের কাছে বিচারের পক্ষে ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত এলাকায় ব্যবসায়ী বুদ্ধদেব সাহাকে (বাবুলাল) ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে কুপিয়ে খুন করে ৬৩ বছর বয়সী রামেশ্বর। ঘটনাটি ঘটেছিল দুই বছর আগে, যখন বুদ্ধদেব সাহা কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত দিতে না পারায় রামেশ্বর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুদ্ধদেব সাহার উপর আক্রমণ করেন রামেশ্বর, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে, দীর্ঘকালীন ব্যবসায়িক চাপ এবং ঋণের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালত রায় দিয়েছে, রামেশ্বরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, এবং এই ঘটনা সমাজে ঋণ এবং সহিংসতার দিকে ঝোঁকার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বুদ্ধদেব সাহার পরিবার আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও, তারা জানিয়েছেন, কোনো শাস্তি তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দীর্ঘকালীন দ্বন্দ্ব, যা ঋণ ও ব্যবসায়িক চাপের কারণে আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। রামেশ্বরকে গ্রেফতার করে আদালতে রুজু করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে, কলকাতা জেলা আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। আদালত তার রায়ে বলেন,এটি একটি নৃশংস ঘটনা, যেখানে শুধু একজনের জীবন শেষ হয়নি, তার পরিবারও চিরকাল শোকগ্রস্ত হয়ে থাকবে। বুদ্ধদেব সাহার পরিবার রায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও, তারা জানিয়েছেন যে কোনো শাস্তি তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। এই ঘটনা সমাজে ঋণ এবং চাপের কারণে সহিংসতার দিকে ঝুঁকতে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে, যা একটি গুরুতর সামাজিক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

news image
আরও খবর
Preview image