Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

**পুজোর দশদিন ডায়েটের ছুটি! মনখারাপের মাঝেও উৎসবের আনন্দে মাততে চান স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়**

সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তবে দুর্গাপুজোর সময়টা তাঁর কাছে একেবারেই আলাদা। মা-বাবাকে হারানোর মনখারাপ পুজোর দিনগুলিতে আরও বেশি করে অনুভব করেন তিনি। সেই আবেগের মাঝেও উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে চান অভিনেত্রী। পুজোর দশদিন ডায়েটের নিয়ম ভেঙে পছন্দের খাবার খাওয়া থেকে বন্ধু-পরিজনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে নিজের মতো করে পুজো কাটাতে চান স্বস্তিকা।

**পুজোর দশদিন ডায়েটের ছুটি! মনখারাপের মাঝেও উৎসবের আনন্দে মাততে চান স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়**
বিনোদন

পুজোর দশদিন আমার ডায়েটের ছুটি: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির জীবনে আনন্দ, আবেগ, নস্টালজিয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ। সারা বছরের কাজের ব্যস্ততা, দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি আর নানা দায়িত্বের মাঝেও বাঙালি অপেক্ষা করে থাকে এই কয়েকটি দিনের জন্য। নতুন পোশাক, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের কাছেও পুজো শুধুমাত্র উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত আবেগ, স্মৃতি এবং প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা।

সারা বছর অভিনয় এবং কাজের ব্যস্ততায় সময় কেটে যায় স্বস্তিকার। কাজের মধ্যে ডুবে থেকে অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনের মনখারাপকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্গাপুজোর মতো আবেগঘন সময়ে সেই শূন্যতা যেন আরও বেশি করে অনুভূত হয়। বিশেষ করে মা-বাবা পাশে না থাকার কষ্ট উৎসবের আনন্দের মাঝেও মনে করিয়ে দেয় তাঁদের অনুপস্থিতির কথা। তবুও জীবনের এই কঠিন অনুভূতিগুলিকে সঙ্গে নিয়েই উৎসবের আনন্দ খুঁজে নিতে চান অভিনেত্রী।

পুজো মানেই আনন্দের পাশাপাশি স্মৃতির টান

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতিরও নাম। ছোটবেলার পুজো, নতুন জামাকাপড়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরনো, বাড়িতে বিশেষ রান্নাবান্না—এই প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর ধরন বদলায়, বদলে যায় জীবনের পরিস্থিতিও। কিন্তু পুরনো স্মৃতিগুলি থেকে যায় একই রকম উজ্জ্বল।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের কথাতেও সেই ব্যক্তিগত অনুভূতির ছাপ স্পষ্ট। মা-বাবাকে হারানোর পর উৎসবের দিনগুলিতে তাঁদের অভাব অনুভব করা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছে এক আবেগের বিষয়। সারা বছর কাজের ব্যস্ততা সেই মনখারাপকে কিছুটা আড়াল করে রাখতে পারে। কিন্তু পুজোর সময় চারপাশে যখন আনন্দ, উৎসব এবং পারিবারিক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়, তখন প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি আরও বেশি করে মনে পড়ে।

উৎসবের এই দ্বৈত অনুভূতি অনেক মানুষের জীবনেই পরিচিত। বাইরে আনন্দের পরিবেশ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের কিছু স্মৃতি মানুষকে নীরবে আবেগপ্রবণ করে তোলে। পুজোর আলো, ঢাকের শব্দ কিংবা পরিচিত কোনও খাবারের গন্ধ হঠাৎ করেই ফিরিয়ে আনতে পারে পুরনো দিনের কথা। স্বস্তিকার অনুভূতির মধ্যেও রয়েছে সেই চেনা বাঙালি আবেগ।

কাজের ব্যস্ততায় মনখারাপকে দূরে রাখেন অভিনেত্রী

বিনোদন জগতের মানুষদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তাঁদেরও রয়েছে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং নানা চ্যালেঞ্জ। শুটিং, নতুন চরিত্রের প্রস্তুতি, কাজের সময়সূচি এবং পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে দিয়ে তাঁদের বছরের বেশির ভাগ সময় কাটে। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যান।

কাজ অনেক সময় মানুষের কাছে শুধু পেশা নয়, মানসিকভাবে সক্রিয় থাকারও একটি উপায়। ব্যস্ততার মধ্যে থাকলে ব্যক্তিগত জীবনের কষ্ট কিছুটা আড়ালে রাখা যায়। কিন্তু বিশেষ দিনগুলিতে সেই ব্যস্ততার আবরণ সরিয়ে মনের অনুভূতিগুলি সামনে চলে আসে। দুর্গাপুজো তেমনই একটি সময়, যখন পুরনো স্মৃতি এবং প্রিয়জনদের কথা আরও গভীরভাবে মনে পড়ে।

স্বস্তিকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে আসে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা—সারা বছর কাজের মধ্যে সময় কেটে গেলেও পুজোর সময় মনখারাপ যেন অন্যভাবে ফিরে আসে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে ব্যক্তিগত শূন্যতা মিশে তৈরি করে এক জটিল অনুভূতি। তবে মনখারাপ থাকা মানেই আনন্দ থেকে দূরে থাকা নয়। বরং নিজের আবেগকে স্বীকার করে নিয়েও উৎসবের সুন্দর মুহূর্তগুলিকে উপভোগ করা যায়।

পুজোর দশদিন ডায়েটের ছুটি

পুজোর সঙ্গে বাঙালির খাওয়াদাওয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত নানা ধরনের খাবার, রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে ফুচকা কিংবা রোল খাওয়া—এসব ছাড়া অনেকের কাছেই পুজো অসম্পূর্ণ। সারা বছর স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা কিংবা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়েট মেনে চলার চেষ্টা থাকলেও উৎসবের সময় অনেকেই কিছুটা ছাড় দিতে চান।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের ‘পুজোর দশদিন আমার ডায়েটের ছুটি’ বক্তব্যটি সেই পরিচিত বাঙালি মানসিকতারই প্রতিফলন। উৎসবের দিনগুলিতে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে পছন্দের খাবার উপভোগ করার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। পুজোর আনন্দের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক এমনই যে, প্রিয় পদ সামনে এলে ডায়েটের নিয়ম কিছুটা শিথিল করার কথা মনে হয়।

তবে ডায়েটের ছুটি মানেই স্বাস্থ্যের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে যাওয়া নয়। বরং উৎসবের সময় নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একই সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনের কথাও মাথায় রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করা, ঘুমের দিকে নজর দেওয়া এবং শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটাচলা করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বস্তিকার কথায় যে উৎসবমুখর মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে, তার মূল কথা হল—সারা বছরের নিয়মের বাইরে গিয়ে কয়েকটা দিন নিজের মতো করে বাঁচার আনন্দ।

বাঙালির পুজো ও খাওয়াদাওয়ার বিশেষ সম্পর্ক

দুর্গাপুজো এলেই বাঙালির খাবারের তালিকায় যুক্ত হয় নানা রকম পদ। অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার পর খিচুড়ি-লাবড়া, পুজোর ছুটিতে বিরিয়ানি, কষা মাংস, রোল, চাউমিন, ফুচকা কিংবা মিষ্টি—সব মিলিয়ে খাবারের উৎসবও শুরু হয়ে যায়। বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ রান্নার আয়োজন হয়। আবার অনেকে প্যান্ডেল ঘোরার ফাঁকে রাস্তার খাবার কিংবা নতুন কোনও রেস্তরাঁর পদ চেখে দেখতে ভালোবাসেন।

খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়; অনেক সময় তা মানুষের স্মৃতি এবং সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে পুজোর কেনাকাটা করতে গিয়ে কিছু খাওয়া, ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্রিয় খাবার কিনে নেওয়া কিংবা বাড়ির বড়দের হাতে তৈরি কোনও বিশেষ পদ—এই সব অভিজ্ঞতা বহু বছর পরেও মনে থেকে যায়।

তাই পুজোর সময় খাবার উপভোগ করার ইচ্ছা স্বাভাবিক। সারা বছর কর্মব্যস্ত জীবনে যাঁরা নিয়ম মেনে চলেন, তাঁদের কাছেও উৎসবের দিনগুলি একটু অন্যভাবে কাটানোর সুযোগ তৈরি করে। স্বস্তিকার ডায়েটের ছুটির কথা সেই চেনা উৎসবের মেজাজকেই সামনে নিয়ে আসে।

উৎসবের আনন্দের মাঝেও মা-বাবার অভাব

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সবচেয়ে আবেগঘন দিক হল মা-বাবাকে হারানোর কষ্ট। প্রিয়জনের অনুপস্থিতি যে কোনও সময়েই বেদনাদায়ক, তবে কিছু বিশেষ দিনে সেই অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দুর্গাপুজোর মতো উৎসবে যাঁরা একসময় পাশে ছিলেন, তাঁদের কথা মনে পড়া খুবই স্বাভাবিক।

পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর স্মৃতি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই স্মৃতির সঙ্গে যখন প্রিয়জনের অনুপস্থিতি জড়িয়ে যায়, তখন আনন্দের মুহূর্তেও মন ভারী হয়ে উঠতে পারে। বাইরে আলো, সাজসজ্জা, মানুষের ভিড় এবং উৎসবের উচ্ছ্বাস থাকলেও মনের মধ্যে চলতে পারে অন্য এক অনুভূতির যাত্রা।

স্বস্তিকার কথায় সেই ব্যক্তিগত শূন্যতার ইঙ্গিত রয়েছে। কাজের ব্যস্ততা তাঁকে সারা বছর অনেকটা সময় ব্যস্ত রাখে, কিন্তু পুজোর আবহে মা-বাবার অভাব আরও বেশি করে অনুভূত হয়। এই অনুভূতি শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; বহু মানুষই উৎসবের সময়ে তাঁদের হারানো প্রিয়জনদের কথা নতুন করে অনুভব করেন।

তবে শোক কিংবা মনখারাপের সঙ্গে বেঁচে থাকার অর্থ আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলি উপভোগ করার পাশাপাশি প্রিয়জনদের স্মৃতিকে সম্মান জানানোও সম্ভব। কেউ পুরনো ছবি দেখেন, কেউ তাঁদের প্রিয় খাবার তৈরি করেন, আবার কেউ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে স্মৃতিকে জীবন্ত রাখেন।

news image
আরও খবর

পুজো মানে নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে প্রত্যেকের আনন্দ করার ধরন আলাদা। কেউ নতুন পোশাক পরে প্যান্ডেলে ঘুরতে ভালোবাসেন, কেউ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে শহর ঘুরে বেড়ান। আবার কেউ নিজের মতো করে নিরিবিলি সময় কাটাতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। উৎসবের আনন্দের কোনও একক সংজ্ঞা নেই।

স্বস্তিকার কথায়ও নিজের মতো করে পুজো উপভোগ করার একটি সহজ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সারা বছরের কাজের চাপ, নিয়মকানুন এবং ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে উৎসবের দিনগুলিতে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে নেওয়া অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয়। পছন্দের খাবার খাওয়া, কাছের মানুষদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা পুরনো স্মৃতিতে ডুবে থাকা—সবই হতে পারে পুজোর ব্যক্তিগত আনন্দের অংশ।

এই সময় নিজের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। চারপাশের মানুষ আনন্দ করছে বলে প্রত্যেককে একইভাবে আনন্দিত থাকতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। কারও কাছে পুজো উচ্ছ্বাসের, কারও কাছে স্মৃতির, আবার কারও কাছে দুয়ের মিশ্র অনুভূতি। নিজের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই উৎসবকে আরও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়: অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্রতা

বাংলা বিনোদন জগতে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় পরিচিত তাঁর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ের জন্য। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত মতামত ও জীবনবোধের কারণেও তিনি আলোচনায় থাকেন। তাঁর বক্তব্যে অনেক সময় উঠে আসে জীবনের সহজ অথচ গভীর অভিজ্ঞতা।

পুজো নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডায়েট, কাজের ব্যস্ততা, মা-বাবার স্মৃতি এবং উৎসবের আনন্দ—সব মিলিয়ে কথাগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক স্তর। এতে যেমন পুজোর সময় একটু স্বাধীনভাবে খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রিয়জনদের অভাব অনুভব করার আবেগ।

সেলিব্রিটিদের উৎসবের পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে। তাঁরা কীভাবে পুজো কাটান, কী ধরনের পোশাক পরেন, কোথায় ঘুরতে যান কিংবা কী খেতে পছন্দ করেন—এসব বিষয় নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল স্বাভাবিক। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত অনুভূতির দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বস্তিকার বক্তব্য সেই দিকটি সামনে আনে।

পুজোর সময় মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব

উৎসবের সময় অনেকের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি একাকিত্ব বা মনখারাপও কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে পারিবারিক উৎসব পুরনো স্মৃতিকে আরও জীবন্ত করে তুলতে পারে। তাই এই সময়ে নিজের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা জরুরি।

কেউ যদি পুজোর সময় মনখারাপ অনুভব করেন, তবে তাঁকে জোর করে আনন্দিত থাকার পরামর্শ দেওয়ার বদলে তাঁর কথা শোনা এবং পাশে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের পছন্দের কাজ করা কিংবা প্রয়োজনে কিছুটা নিরিবিলি সময় নেওয়া মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।

উৎসবের আনন্দের সঙ্গে ব্যক্তিগত কষ্টের সহাবস্থান অস্বাভাবিক নয়। মানুষ একই সময়ে আনন্দিত এবং আবেগপ্রবণ—দুই-ই হতে পারেন। স্বস্তিকার কথায় এই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়। মা-বাবার অভাব অনুভব করলেও পুজোর দিনগুলিকে নিজের মতো করে উপভোগ করার ইচ্ছা জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় বহন করে।

ডায়েট, উৎসব এবং ভারসাম্যের কথা

পুজোর সময় খাবার নিয়ে আনন্দ করার পাশাপাশি শরীরের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ বা স্বাস্থ্যগত কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। উৎসবের সময় সেই নিয়ম কিছুটা বদলাতে পারে। তবে কয়েক দিনের খাবার উপভোগের জন্য নিজের শরীরের প্রয়োজন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

পছন্দের খাবার পরিমিতভাবে খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরির সময় বিশ্রাম নেওয়া সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে কোনও খাবার খাওয়ার জন্য অপরাধবোধে ভোগারও প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের লক্ষ্য হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্য, প্রতিটি উৎসবের দিনকে কঠোর নিয়মের পরীক্ষায় পরিণত করা নয়।

স্বস্তিকার ‘ডায়েটের ছুটি’ মন্তব্যটি তাই পুজোর আনন্দের একটি হালকা, পরিচিত এবং সহজ দিককে তুলে ধরে। উৎসব মানেই নিজের পছন্দকে জায়গা দেওয়া, তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সচেতনতার ভারসাম্যও রাখা যায়।

উৎসবের স্মৃতি, আবেগ আর আনন্দের মেলবন্ধন

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে এমন এক সময়, যখন ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক উৎসব একসঙ্গে মিশে যায়। শহরজুড়ে আলোর সাজ, মণ্ডপে মানুষের ভিড়, ঢাকের আওয়াজ এবং পরিচিত গান উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের পুজোর গল্প আলাদা। কারও কাছে নতুন শুরুর, কারও কাছে পরিবারের সঙ্গে মিলনের, আবার কারও কাছে প্রিয়জনদের স্মৃতিকে ফিরে দেখার সময়।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের কথায় সেই নানা অনুভূতিরই ছাপ রয়েছে। একদিকে রয়েছে পুজোর দশদিন ডায়েট থেকে বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা, অন্যদিকে মা-বাবাকে হারানোর গভীর মনখারাপ। এই দুই অনুভূতি পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং মানুষের জীবনে আনন্দ এবং বেদনা যে পাশাপাশি থাকতে পারে, তা মনে করিয়ে দেয়।

সারা বছরের কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা সম্ভব হলেও উৎসবের সময়ে স্মৃতিগুলি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবুও জীবন থেমে থাকে না। মানুষ স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই নতুন মুহূর্ত তৈরি করেন, প্রিয়জনদের মনে রেখে উৎসব পালন করেন এবং ছোট ছোট আনন্দের মধ্যে স্বস্তি খুঁজে নেন।

সব মিলিয়ে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের পুজোর ভাবনায় রয়েছে বাঙালির চেনা আবেগ—প্রিয় খাবারের প্রতি টান, উৎসবের স্বাধীনতা, কাজের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক মুক্তি এবং মা-বাবার স্মৃতিতে মনখারাপ। পুজোর দশদিন ডায়েটের ছুটি নেওয়ার মন্তব্যটি যেমন উৎসবের হালকা মেজাজকে সামনে আনে, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা মনে করিয়ে দেয় যে আনন্দের মাঝেও স্মৃতি ও আবেগের নিজস্ব জায়গা থাকে।

 

Preview image