Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোর সাজে নতুন ট্রেন্ড! নজর কাড়ছে কারদানা জামদানি শাড়ি

পুজোর বাজারে শাড়ির চাহিদায় নতুন ট্রেন্ড! কর্মব্যস্ত দিনেও জমজমাট কেনাকাটা, ক্রেতাদের নজর কাড়ছে কারদানা জামদানি ও মিরর ওয়ার্ক জামদানি।

পুজোর আগে জমে উঠেছে কোচবিহারের শাড়ির বাজার। সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিন হলেও সকাল থেকেই ভবানীগঞ্জ বাজারে দেখা গেল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বৃষ্টি মাথায় নিয়েও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ হাজির হয়েছেন পুজোর কেনাকাটা করতে। দিনহাটা, সাহেবগঞ্জ, তুফানগঞ্জ, ঘোকসাডাঙা সহ কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে ভিড় জমিয়েছেন বাজারে। পুজোর নতুন পোশাকের তালিকায় শাড়ির পাশাপাশি বিশেষ নজর কেড়েছে ‘কারদানা জামদানি’ এবং ‘মিরর ওয়ার্ক জামদানি’।

সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ ভবানীগঞ্জ বাজারের ছবি কার্যত উৎসবের আমেজ তৈরি করে। অধিকাংশ দোকান খুলে গেলেও কোথাও কোথাও তখনও দোকান খোলার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তার মধ্যেই বাজারের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে। সাধারণত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বাজারে এমন ভিড় তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও পুজোর আগে ছবিটা একেবারেই আলাদা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শাড়ি, পোশাক ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী কিনতে বাজারে এসেছেন বহু মানুষ।

পুজো মানেই নতুন পোশাক। আর বাঙালির পুজোর কেনাকাটায় শাড়ির গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে পুজোর দিনগুলিতে নতুন শাড়ি পরার প্রবণতা এখনও যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাই পুজোর বাজার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন ধরনের শাড়ির চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। চলতি মরশুমে সেই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে কারদানা জামদানি এবং মিরর ওয়ার্ক জামদানি।

কারদানা জামদানি মূলত জামদানি শাড়ির ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আধুনিক অলঙ্করণের একটি আকর্ষণীয় সংমিশ্রণ। শাড়ির জমিনে সূক্ষ্ম কাজ, নকশা এবং সাজসজ্জার কারণে এই ধরনের শাড়ি ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। অন্যদিকে মিরর ওয়ার্ক জামদানিতে রয়েছে আলোর সঙ্গে ঝলমলে একটি আলাদা আবেদন। পুজোর সন্ধ্যা কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ধরনের শাড়ি পরলে সাজে আলাদা মাত্রা যোগ হয় বলেই অনেক ক্রেতার পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে মিরর ওয়ার্ক জামদানি।

কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে পুজোর কেনাকাটার ভিড় থেকে স্পষ্ট যে উৎসবের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু শহরের বাসিন্দারাই নন, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও পুজোর বাজার করতে কোচবিহার শহরে আসছেন। দিনহাটা থেকে তুফানগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ থেকে ঘোকসাডাঙা—বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের উপস্থিতি বাজারের ব্যস্ততা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃষ্টিও তাঁদের কেনাকাটার উৎসাহে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। ছাতা মাথায় দিয়ে অনেকেই বাজারে পৌঁছে গিয়েছেন। কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য শাড়ি কিনছেন, কেউ নিজের জন্য পছন্দের পোশাক খুঁজছেন, আবার কেউ পুজোর বিভিন্ন দিনের জন্য আলাদা আলাদা পোশাক বেছে নিচ্ছেন। পুজোর দিনগুলিতে কোন দিন কোন শাড়ি পরবেন, তার পরিকল্পনাও অনেকের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।

পুজোর ফ্যাশনে জামদানির জনপ্রিয়তা

বাংলার পোশাকের জগতে জামদানি একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। সময়ের সঙ্গে জামদানির নকশা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জামদানিতে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ডিজাইন ও কাজ। ফলে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।

পুজোর বাজারে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এমন পোশাক খুঁজছেন, যা একই সঙ্গে দেখতে আকর্ষণীয় এবং পরতে আরামদায়ক। জামদানি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারায় পুজোর কেনাকাটায় তার গুরুত্ব রয়েছে। কারদানা জামদানি ও মিরর ওয়ার্ক জামদানির মতো নতুন ধরনের ডিজাইন ক্রেতাদের মধ্যে কৌতূহলও তৈরি করছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শাড়ি পরার প্রবণতা নতুনভাবে ফিরে আসায় ডিজাইনার ও আধুনিক কাজের জামদানি আরও জনপ্রিয় হচ্ছে। পুজোর অষ্টমী, নবমী কিংবা দশমীর মতো বিশেষ দিনে শাড়ি পরার পরিকল্পনা অনেকেরই থাকে। সেই কারণে পুজোর আগে শাড়ির বাজারে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে কেনাকাটার চাপ।

ভবানীগঞ্জ বাজারে সকাল থেকেই ভিড়

সোমবার সকাল ১১টার সময় ভবানীগঞ্জ বাজারে যে ছবি দেখা গিয়েছে, তাতে পুজোর বাজার কতটা জমে উঠেছে তা স্পষ্ট। সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিন হওয়া সত্ত্বেও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশ দোকান খুলে যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক ক্রেতা বিভিন্ন দোকানে ঢুকতে শুরু করেন।

কেউ শাড়ির দোকানে গিয়ে নতুন ডিজাইন দেখছেন, কেউ আবার পছন্দের রং ও নকশা নিয়ে আলোচনা করছেন। পরিবারের একাধিক সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। পুজোর আগে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পরিবারের সকলের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই একটি শাড়ি পছন্দ করতে অনেক সময় পরিবারের একাধিক সদস্যের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

বাজারে এই ভিড় শুধু শাড়ির দোকানেই সীমাবদ্ধ নয়। পুজোর পোশাক, গয়না, প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানেও ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ফলে পুজোর আবহ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই কেনাকাটা

পুজোর বাজারে এবার আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বৃষ্টির পরিবেশ থাকলেও তাতে ক্রেতাদের উৎসাহে বিশেষ ভাটা পড়েনি। ছাতা মাথায় দিয়ে বাজারে পৌঁছেছেন বহু মানুষ। বৃষ্টির মধ্যেও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখিয়েছে, পুজোর কেনাকাটার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ কতটা বেশি।

অনেকেই মনে করছেন, পুজোর ঠিক আগে বাজারে আরও বেশি ভিড় হতে পারে। তাই আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে রাখতে চাইছেন অনেকে। বিশেষ করে পরিবারের একাধিক সদস্যের পোশাক কিনতে হলে সময় লাগে। তাই সপ্তাহান্তের অপেক্ষা না করে কর্মব্যস্ত দিনের মধ্যেই অনেকে বাজারে চলে আসছেন।

news image
আরও খবর

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা

ভবানীগঞ্জ বাজার শুধু কোচবিহার শহরের বাসিন্দাদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও নিয়মিত এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। পুজোর মরশুমে সেই ভিড় আরও বাড়ে। দিনহাটা, সাহেবগঞ্জ, তুফানগঞ্জ, ঘোকসাডাঙা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা কোচবিহারে এসে পুজোর বাজার করছেন।

দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে পছন্দের জিনিস এক জায়গায় পাওয়ার সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। শাড়ির ক্ষেত্রে ডিজাইন, কাপড়, কাজ এবং দামের তুলনা করে পছন্দের শাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগও তাঁরা খুঁজছেন। তাই পুজোর আগে ভবানীগঞ্জের মতো বড় বাজারে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে।

কেন নজর কাড়ছে মিরর ওয়ার্ক জামদানি?

চলতি পুজোর বাজারে মিরর ওয়ার্ক জামদানির প্রতি আগ্রহের অন্যতম কারণ এর উজ্জ্বল এবং উৎসবমুখর লুক। মিররের কাজ শাড়িকে আলোর মধ্যে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পুজোর সন্ধ্যা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করার সময় এই ধরনের শাড়ি অনেকের কাছেই পছন্দের হয়ে উঠছে।

শাড়ির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের সঙ্গে আধুনিক ডিজাইনের সংযোজন থাকায় মিরর ওয়ার্ক জামদানি নতুন প্রজন্মের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। অনেকেই এমন পোশাক চাইছেন, যা একদিকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া রাখবে, অন্যদিকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গেও মানানসই হবে। মিরর ওয়ার্ক জামদানি সেই জায়গাতেই নজর কাড়ছে।

কারদানা জামদানির আলাদা আকর্ষণ

কারদানা জামদানিও পুজোর বাজারে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূক্ষ্ম কাজ ও নকশার কারণে এই ধরনের শাড়ির মধ্যে একটি আভিজাত্যের অনুভূতি পাওয়া যায়। পুজোর মতো বিশেষ উৎসবে অনেকেই একটু আলাদা ধরনের শাড়ি পরতে চান। তাই সাধারণ ডিজাইনের পাশাপাশি নতুন ধরনের জামদানি খুঁজছেন ক্রেতারা।

কারদানা জামদানির আরেকটি আকর্ষণ হল এর ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়। বাঙালি শাড়ির ঐতিহ্য বজায় রেখেও নকশায় নতুনত্ব থাকায় এটি নানা বয়সের ক্রেতার নজর কাড়ছে।

পুজোর কেনাকাটায় শাড়ির গুরুত্ব

বাঙালির উৎসবের সঙ্গে শাড়ির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পুজোর চার দিন নতুন শাড়ি পরার রীতি এখনও বহু পরিবারে রয়েছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য আলাদা পোশাক বেছে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কেউ ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পছন্দ করেন, কেউ আবার আধুনিক ডিজাইনের শাড়ি খোঁজেন।

এই বৈচিত্র্যের কারণে বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাড়ির চাহিদা থাকে। ক্রেতাদের পছন্দের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও নতুন ডিজাইন ও নতুন ধরনের কাজের শাড়ি দোকানে রাখছেন। কারদানা জামদানি ও মিরর ওয়ার্ক জামদানির চাহিদা সেই পরিবর্তিত ফ্যাশন পছন্দেরই একটি উদাহরণ।

পুজোর আগে আরও বাড়তে পারে বাজারের ভিড়

পুজো যত এগিয়ে আসবে, বাজারে ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে যারা আগেভাগে কেনাকাটা করছেন, তাঁদের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের ক্রেতারাও পরে বাজারে আসবেন। ফলে ভবানীগঞ্জ বাজার সহ কোচবিহারের বিভিন্ন বাজারে ব্যস্ততা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে পুজোর কয়েকদিন আগে শাড়ি ও পোশাকের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পছন্দের ডিজাইন ও রং শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগে কেনাকাটা করছেন। আবার অনেকে শেষ মুহূর্তের নতুন কালেকশনের অপেক্ষাও করছেন।

সব মিলিয়ে পুজোর আগে কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারের চিত্র বলছে, উৎসবের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। কর্মব্যস্ত সোমবার, সকালবেলার বৃষ্টি—কোনও কিছুই ক্রেতাদের বাজারমুখী হওয়া আটকাতে পারেনি। বরং ছাতা মাথায় দিয়েই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পৌঁছে গিয়েছেন পুজোর কেনাকাটা করতে।

চলতি মরশুমে শাড়ির বাজারে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কারদানা জামদানি এবং মিরর ওয়ার্ক জামদানি। ঐতিহ্যবাহী জামদানির সঙ্গে নতুন ডিজাইন ও আধুনিক কাজের মেলবন্ধন ক্রেতাদের পছন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুজোর ফ্যাশনে কোন শাড়ি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে, তার ইঙ্গিত যেন ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে ভবানীগঞ্জ বাজারে।

পুজোর আগে বাজারে মানুষের এই ভিড় শুধু কেনাকাটার ছবি নয়, বরং উৎসবকে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও প্রস্তুতিরও প্রতিচ্ছবি। বৃষ্টির মধ্যেও পরিবারের সঙ্গে বাজারে আসা, পছন্দের শাড়ি খোঁজা, নতুন পোশাক কেনা—সব মিলিয়ে কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। আর সেই আবহে এবারের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে কারদানা জামদানি ও মিরর ওয়ার্ক জামদানি।

Preview image