রাজস্থানের আজমের জেলার মসুদা জালখেডা গ্রামে জমি নিয়ে পুরনো বিবাদ থেকে ঘটে গেল ভয়ংকর হামলা। কুলহাড়ি ও লাঠি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তির হাত ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আহতকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিত আক্রমণ, যা গ্রামজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজস্থান-এর আজমের জেলার মসুদা জালখেডা-এর একটি গ্রামে গতকাল গভীর সন্ধ্যায় ঘটে গেল জমি সংক্রান্ত বিবাদের এক নৃশংস অপরাধ। স্থানীয় এক জমি খণ্ড নিয়ে লেগে থাকা বিরোধ পরিণত হয় ভয়ংকর সহিংসতায়, যেখানে হামলাকারীরা ঘুষি-লাঠি ও কুলহাড়ি ব্যবহার করে এক ব্যক্তির হাতে এমন আঘাত করল যে, তার হাত ধড় থেকে আলাদা হয়ে যায়।
জমি-বিবাদ ছিল মূল কারণ। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক বছর ধরে ওই জমি নিয়ে ওঠা-নামা চলছিল। জমির সীমা, ব্যবহার ও দখল নিয়ে মতৈক্য বাড়ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় লাঠি-কাঠি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে এসে বিরোধী পক্ষের এক সদস্যকে হেয় ভাষায় ঢেঁকিয়ে বলে বসে। হঠাৎ উত্তেজনা পরিস্থিতি এমন রূপ নেয় যে, উত্তেজিত এক ব্যক্তি কুলহাড়ি তুলে যায়।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা জানান, বিকেলের পর ওই ব্যক্তি (যিনি পরে গুরুতর আহত হয়) তার চাষের কাজে নিচে নেমেছিলেন। এই সময়ে অন্য পক্ষের কয়েকজন এসে তাঁকে সামনে থেকে ধাওয়া করে। প্রথমে লাঠি-বিজড়িত হামলা শুরু হয় — লাঠি ঘোরানো, ঘুষি-মারার আক্রমণ। এরপর একটি মুহূর্তে কুলহাড়ি নিয়ে একজন ঘুরে দেখা যায়। একে বিস্ফোরণের মতো হঠাৎ মুহূর্তে কাটা মার হয়, আর হাত ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সহকর্মী ও স্থানীয়রা চিৎকার করে আক্রমণকারীদের থামাতে এগিয়ে গেলেও, তখনও অনেক ভয়ংকর আক্রমণ চলছে। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় পুলিশের খবর অনুযায়ী, গুরুতর অবস্থা দেখে রেফার করা হয়েছে— জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। ইতিমধ্যে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঐ জমি-বিবাদের পটভূমি খতিয়ে দেখায় জানা গেছে, ওই জমি বছরের পর বছর ধরে সামনে-পিছনে দখল পরিবর্তন করছে। একপক্ষ দাবি করেছে, “জমিটি আমার পৈতৃক” এবং বাকি পক্ষ বলছে, “আপনারা অনথেকে দখল করে আছেন”। এই বিবাদের উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনায় ব্যবহৃত কুলহাড়ি ও লাঠি দেখিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা—শুধু উন্মত্ত রাগ নয়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি গোপন রাখছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “এটি সাধারণ মারামারি নয় — হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাটি সবচেয়ে ভয়াবহ।” পুলিশ বলেছে, দুই-তিনজন সন্দেহভাজন ইতিমধ্যে নিরীক্ষায় রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল লোকেশনে অভিযুক্তদের গতিবিধি খুঁজছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি লাঠি, একটি কুলহাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গ্রামের ভাব শান্ত হলেও এই ঘটনার পর এক ধকল পড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন ভয় অনুভব করছেন— “কেউ কখনো জমি-বিবাদে এমন রূপ নেবে, ভাবিনি”- এমন মন্তব্য করছেন তারা। গ্রামের শিক্ষিত যুবকরা বলছেন, “যেকোনো জানাজানি জমি-বিবাদ কখনো এমন হিংস্রতায় পরিবর্তিত হতে পারে, যে হাতোৎসাহী কাণ্ড ঘটাতে পারে।”
এই ঘটনাটি শুধুই একটি পারিবারিক ওপরে ওপরে জমি ধান্ধা নয়, বরং গ্রামীণ রূপের মধ্যেও ভয়াবহ “বল প্রয়োগে দখল” ও প্রতিশোধের সংস্কার রূপ নিয়েছে। বিচারসংস্থার জন্য এটি একটি উত্তরবহারযোগ্য বিষয়: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটিকে জমি-বিবাদে হিংসার সম্ভাব্যতা ও প্ররোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বলছে।
শেষকথা হিসেবে বলা যায়, মসুদা জালখেডার এই ঘটনাটি আমাদের সামনে এক খোলস ফেলে দিয়েছে—যে, জমি-বিবাদ শুধু কথায় সমাধান হয় না, যদি সময়মতো মীমাংসা না হয় তাহলে তা রূপ নিতে পারে ভয়ানক রূপে। হাত কাটা-চামড়া বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই ভয়ঙ্কর রূপের চিহ্ন। গ্রামের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত প্রতিকার ও হস্তক্ষেপ জরুরি।