লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে ফেব্রুয়ারিতে পায়ে চোট পেয়েছিলেন ওয়াটারু এনডো। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতার পথে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাপানের অধিনায়ককে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার অপেক্ষায় ছিল গোটা জাপান। দীর্ঘ প্রস্তুতি কঠোর পরিশ্রম এবং নতুন স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ব্লু সামুরাইরা। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরুর দিনেই জাপানের ফুটবল মহলে নেমে এল হতাশার ছায়া। দলের অধিনায়ক ওয়াটারু এনডো শুধু বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন না একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের ঘোষণা করলেন। ফলে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই নতুন সংকটের মুখে পড়েছে এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তি।
লিভারপুলের ৩৩ বছর বয়সি মিডফিল্ডার গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। মাঠে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল স্থিরতা নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস। সেই ফুটবলারকেই বিশ্বকাপের আগে হারাতে হচ্ছে জাপানকে।
সবকিছুর শুরু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান এনডো। প্রথমে মনে করা হয়েছিল সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হয়েছিল।
চোট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হলেও হার মানেননি জাপানের অধিনায়ক। প্রতিদিনের অনুশীলন, ফিটনেস সেশন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
জাপান ফুটবল সংস্থা এবং জাতীয় দলের কোচিং স্টাফও আশাবাদী ছিলেন। বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার সময় এনডোকে ২৬ জনের দলে রাখা হয়। কারণ মনে করা হয়েছিল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠবেন।
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা বলছিল।
অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরেছিলেন এনডো। ফিটনেসও অনেকটাই ফিরে পেয়েছিলেন। সেই কারণেই গত ৩১ মে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানো হয়।
ম্যাচটি ছিল তাঁর জন্য এক ধরনের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বিশ্বকাপে খেলার মতো অবস্থায় তিনি আছেন কি না সেটাই যাচাই করতে চেয়েছিল জাপান দল।
কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচের পর আবারও পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন এনডো। তখনই উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে।
পরবর্তী কয়েক দিনে জাপান দলের মেডিক্যাল স্টাফ একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপ খেললে এনডোর চোট আরও গুরুতর হতে পারে।
শুধু বিশ্বকাপ নয়, তাঁর ক্লাব কেরিয়ারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবরের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একটি আবেগঘন সিদ্ধান্তের কথা জানান এনডো। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। চোট পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল সবই করেছি। তাই আমার কোনও আফসোস নেই। অবশ্যই এ বারের বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় আমি হতাশ। কাতার বিশ্বকাপের পর আমরা সকলে মিলে যে উন্নতি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত।
এরপর সতীর্থদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন কাতারে আমি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আমরা সকলে মিলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে সফল করতে চেয়েছিলাম। এই দলটা সত্যিই দুর্দান্ত। আমার বিশ্বাস ওরা দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেবে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠবে। এমন কিছু উপহার দেবে যা জাপানের সমর্থকেরা আগে দেখেননি।
বিদায়বার্তার শেষ অংশটি ছিল সবচেয়ে আবেগঘন।
এনডো বলেন বিশ্বকাপ খেলতে পারব না। তাই জাতীয় দল থেকেও অবসর নিচ্ছি। এখন থেকে আমি জাপানের জাতীয় দলের সমর্থক। জাপান নিশ্চয়ই এক দিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। এই বিশ্বাস অটুট রেখে সমর্থন করে যাব।
একজন ফুটবলারের কাছে জাতীয় দলের জার্সি সবচেয়ে বড় সম্মানের প্রতীক। সেই জার্সিকে বিদায় জানানো কখনও সহজ নয়। এনডোর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তাঁর বক্তব্যে হতাশা যেমন ছিল, তেমনই ছিল দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অগাধ আস্থা।
এনডোর বিদায় জাপানের জন্য শুধু একজন ফুটবলারের অনুপস্থিতি নয় বরং নেতৃত্বেরও বড় ক্ষতি। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞ অধিনায়কের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যখন দলটি ইতিমধ্যেই একাধিক চোট সমস্যায় ভুগছে।
জাপানের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা কাওরু মিতোমা এবং তাকুমি মিনামিনোও চোটের কারণে বিশ্বকাপ খেলতে পারছেন না। ফলে দলের আক্রমণভাগ এবং সৃজনশীলতার উপর বড় প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এনডোকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কোচ। তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
এখন জাপান কোচিং স্টাফের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নতুন অধিনায়ক কে হবেন
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের মাত্র তিন দিন আগে নেতৃত্বের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। তবে এনডোর মতো নেতৃত্বগুণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই রয়েছে।
অধিনায়কত্ব শুধু মাঠে নির্দেশ দেওয়ার বিষয় নয়। ড্রেসিংরুমে দলের মনোবল ধরে রাখা চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তরুণদের পথ দেখানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন অধিনায়কের কাঁধে থাকবে বিশাল দায়িত্ব।
আগামী ১৫ জুন নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জাপান। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ থেকেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে ব্লু সামুরাইদের।
বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক হারানো, গুরুত্বপূর্ণ দুই তারকার অনুপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের দলগত পরিবর্তন—সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে ধাক্কা খেয়েছে জাপান। তবে অতীতেও প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে তাদের।
কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি এবং স্পেনকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়েছিল জাপান। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবারও মাঠে নামবে তারা।
ওয়াটারু এনডোর অবসর জাপানি ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। বহু বছর ধরে তিনি দলের মধ্যমাঠ সামলেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবারের মতো তাঁকে দেখার আশা করেছিলেন লক্ষ লক্ষ সমর্থক। কিন্তু চোট সেই স্বপ্ন ভেঙে দিল। তবুও জাপানের ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিনেই তাঁর বিদায়বার্তা ফুটবলপ্রেমীদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। এখন দেখার অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে জাপান কতটা সফলভাবে নিজেদের স্বপ্নের লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার অপেক্ষায় ছিল গোটা জাপান। দীর্ঘ প্রস্তুতি কঠোর পরিশ্রম এবং নতুন স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ব্লু সামুরাইরা। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরুর দিনেই জাপানের ফুটবল মহলে নেমে এল হতাশার ছায়া। দলের অধিনায়ক ওয়াটারু এনডো শুধু বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন না একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের ঘোষণা করলেন। ফলে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই নতুন সংকটের মুখে পড়েছে এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তি।
লিভারপুলের ৩৩ বছর বয়সি মিডফিল্ডার গত কয়েক বছর ধরে জাপান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব অভিজ্ঞতা এবং লড়াই করার মানসিকতা দলের অন্যতম বড় সম্পদ ছিল। সেই কারণেই চোট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়েছিল। জাপান শিবিরের আশা ছিল সময়মতো সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন এনডো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হল না।
সমস্যার শুরু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান তিনি। চোটের পর অস্ত্রোপচারও করাতে হয়। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেলেও হাল ছাড়েননি এনডো। চিকিৎসক এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই জাপান দলের কোচিং স্টাফ তাঁকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।