আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, রশিদ খানদের কোচ হতে হলে থাকতে হবে রসবোধ, অফিস দক্ষতা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় করার ক্ষমতা। শর্তগুলো শুনে ভক্তদের হাসি রোখা যাচ্ছে না।
ক্রিকেট অভিজ্ঞতা বা অতীত সাফল্য নয়, কোচ হিসেবে কাজ করতে হলে থাকতে হবে রসবোধ এবং জানতে হবে মাইক্রোসফ্ট অফিস। সম্প্রতি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এমন একটি বিস্ময়কর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, রশিদ খানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের কোচ হতে গেলে কোন গুণগুলো থাকা বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর তা ভক্ত এবং ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করেছে।
সমাজমাধ্যমে এই বিজ্ঞপ্তি শেয়ার করার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোচের মূল কাজ দলকে উন্নতি করা এবং সাফল্য এনে দেওয়া। সেখানে রসবোধ বা মাইক্রোসফ্ট অফিসের প্রয়োজন কেন? যেখানে দলের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য আলাদা স্টাফ থাকে, সেখানে প্রধান কোচকে কি সব করতে হবে? এই ধরনের শর্ত থাকলে কেউ কোচ হতে রাজি হবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোচকে ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করতে হবে, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে হবে, প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার পর বিশ্লেষণ করতে হবে। বিশেষ করে স্পিন বোলিং কোচকে প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া, বোর্ডের দেওয়া সব নির্দেশ অপ্রশ্নাত্মকভাবে মেনে নেওয়ার নির্দেশও বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান কোচ জোনাথন ট্রটও বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এশিয়া কাপের পর তিনি বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, দলের প্রতি আমার কোনও অধিকার নেই। বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় না। কোচ হিসাবে আমার কিছু বলা থাকা উচিত, কিন্তু তা শোনার কেউ নেই। এভাবে কীভাবে সাফল্য আসবে?” এসব কারণে হয়তো ট্রট তার চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর থাকবেন না। এখন সবাই দৃষ্টি ঘোরাচ্ছে তার পরিবর্তে কে আসবেন সে দিকে।