বিশ্ববাজারে রূপার দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করার পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই রূপার দাম ১৭% কমে গেছে, যা প্রতি কেজিতে প্রায় ₹৩১,০০০ টাকার পতন। বর্তমানে প্রতি কেজি রূপার দাম প্রায় ₹১.৪৭ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই পতনের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়া—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে বিশাল পরিমাণ রূপা লন্ডনের ভল্টে এসে পৌঁছেছে, যার ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দামের ওপর চাপ পড়েছে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের লাভ তোলার প্রবণতা (profit booking)—সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রূপার দাম দ্রুত বাড়ায় অনেকেই উচ্চ দামে বিক্রি করে লাভ তুলে নিয়েছেন। তৃতীয় কারণ হলো শিল্পক্ষেত্রে চাহিদার মন্দা। ইলেকট্রনিক্স, সৌর শক্তি, ৫জি নেটওয়ার্ক ও ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পে রূপা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই সেক্টরগুলিতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হয়েছে। এছাড়া, ডলার শক্তিশালী হওয়া ও মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রূপা এবং সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা এই পতনকে বাজার সংশোধন (market correction) হিসেবে দেখছেন, আতঙ্কের কারণ হিসেবে নয়। তাদের মতে, রূপার দাম গত কয়েক মাসে অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন একটি স্থিতিশীলতার পর্যায়ে ফিরে আসছে। নিপ্পন ইন্ডিয়া মিউচুয়াল ফান্ডের বিক্রম ধাওয়ান বলেছেন, “রূপার এই পতনকে আতঙ্ক হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে রূপা এখনও আকর্ষণীয় সম্পদ।” এদিকে, অনেক খুচরা বিনিয়োগকারী ও ছোট ফান্ড হাউস এই পতনের সুযোগে ধীরে ধীরে রূপা-সম্পর্কিত ETF ও বুলিয়নে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। তাদের বিশ্বাস, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও শিল্পচাহিদা আবার বেড়ে গেলে রূপার দাম পুনরায় বাড়বে। LKP Securities-এর জতীন ত্রিবেদী বলেন, “রূপার দাম কমলেও এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘buy-on-dip’ সুযোগ তৈরি করছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা সবসময়ই শক্তিশালী থাকে।” সারসংক্ষেপে, যদিও রূপার দাম স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, এটি স্থায়ী পতন নয়। বরং, বাজারে সরবরাহ ও লাভ তোলার পর্ব শেষ হলে রূপা আবারও তার উজ্জ্বলতা ফিরে পাবে, বিশেষ করে যখন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে এর চাহিদা পুনরুজ্জীবিত হবে।
বিশ্ববাজারে রূপার দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে — মাত্র দশ দিনের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এই সাদা ধাতুর মূল্য। চলতি মাসের শুরুর দিকে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এখন প্রতি কেজি রূপার দাম প্রায় ₹১.৪৭ লাখে নেমে এসেছে, যা আগের তুলনায় ₹৩১,০০০ কম।
এই তীব্র পতনের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, লন্ডনে রূপার সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে বিশাল পরিমাণ রূপা লন্ডনের ভল্টে পৌঁছেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আগে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ভারতীয় বাজারে রূপার দাম ₹১.৭৮ লাখ প্রতি কেজি পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের লাভ তোলার প্রবণতা (profit booking) এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রূপার দাম বাড়তে থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী উচ্চ দামে বিক্রি করে লাভ তুলছেন, যা বিক্রির চাপ বাড়াচ্ছে।
তৃতীয়ত, শিল্পক্ষেত্রে চাহিদার সাময়িক মন্দা রূপার দামে প্রভাব ফেলেছে। সৌর শক্তি, ইলেকট্রনিক্স, ৫জি নেটওয়ার্ক এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপা অপরিহার্য উপাদান হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই খাতে কিছু ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
চতুর্থত, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছে। যখন ডলারের মান বাড়ে, তখন সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম সাধারণত নিচে নামে, কারণ এগুলির চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
IMF ও Silver Institute-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী রূপার মোট উৎপাদন ২৬,০০০ টন, অথচ চাহিদা রয়েছে ৩২,০০০ টনেরও বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৬,০০০ থেকে ৭,৫০০ টনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ঘাটতি। তবুও, উৎপাদন সীমিত থাকায় এই ঘাটতি দ্রুত কাটানো সম্ভব নয়, কারণ রূপার বেশিরভাগই সোনা, সীসা বা দস্তার খনির উপ-উৎপাদন হিসেবে মেলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি এক ধরনের বাজার সংশোধন (market correction) — অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও, অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির পর সাময়িক পতন বাজারের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
নিপ্পন ইন্ডিয়া মিউচুয়াল ফান্ডের কমোডিটি প্রধান বিক্রম ধাওয়ান বলেন,
“এই পতনকে আতঙ্কের চোখে না দেখে এটিকে বাজারের স্বাভাবিক সমন্বয় হিসেবে দেখা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।”
একই সঙ্গে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সুযোগে রিটেল বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারে ফিরে আসছেন। তারা এখন ছোট পরিমাণে রূপা বা রূপা-সম্পর্কিত ETF কিনছেন, কারণ দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে রূপা এখনো একটি আকর্ষণীয় সম্পদ।
ভারতের খুচরা বাজারে সোনার দামও সামান্য কমেছে — ১০ গ্রামে প্রায় ₹৮,৩৯৫ কমে দাঁড়িয়েছে ₹১,২২,৪১৯ (GST বাদে)। তবে, সোনা ও রূপা উভয়ই বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মোতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর বিশ্লেষক মানব মোধি বলেছেন,
“বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা যেমন যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক স্থগিত হওয়া, তেমনি অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আবারও সোনা-রূপার দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।”
রূপার দাম কমলেও অনেকেই এটিকে ক্রয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অনেক বিনিয়োগকারী আশা করছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও শিল্প চাহিদা পুনরুজ্জীবিত হলে রূপার দাম আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।
LKP Securities-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জতীন ত্রিবেদী বলেন,
“অনেক রিটেল বিনিয়োগকারী এখন ধীরে ধীরে ছোট পরিমাণে লগ্নি করছেন। বাজারে ওঠানামা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রূপা এখনো স্থিতিশীল বিনিয়োগ হিসেবে রয়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে বাজারে একটি “buy-on-dip” মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, দাম কমলেই বিনিয়োগকারীরা সুযোগ নিচ্ছেন, কারণ দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।
শেষ পর্যন্ত, যদিও রূপার দাম স্বল্পমেয়াদে ১৭% কমেছে, এটি কোনো স্থায়ী পতনের ইঙ্গিত নয়। বরং বাজার সাময়িকভাবে চাপের মধ্যে থাকলেও, শিল্প চাহিদা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, এবং গ্লোবাল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রূপার ভবিষ্যৎ পুনরায় উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বর্তমান পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হলেও, এটি রূপার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় না। মূল্যবান ধাতুর বাজারে পরিবর্তনশীলতা থাকলেও, রূপা আজও এক শক্তিশালী সম্পদ — যা আগামী বছরগুলোতেও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক আশ্রয় হয়ে থাকতে পারে।