Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রূপি রেকর্ড নিম্নে, সোনার দাম উর্ধ্বমুখী ও শেয়ারবাজারে চাপ

রূপি প্রায় রেকর্ড নিম্নে — সোনার দাম বাড়ছে, শেয়ারবাজারে চাপ ভারতের মুদ্রা রূপি (INR) ডলারের বিপরীতে নতুন নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে এক ডলারের দাম ₹88.61 থেকে ₹88.80 এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা রূপির ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল স্তর। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফান্ড প্রত্যাহার, এবং আমদানিনির্ভর খরচের চাপ—এই তিনটি কারণেই রূপির মান কমে গেছে। এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সোনার দাম ও শেয়ারবাজারে। দুর্বল রূপির কারণে স্বর্ণ আমদানি খরচ বেড়েছে, ফলে দেশে সোনার দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন সোনা ও সিলভার-এর দিকে ঝুঁকছেন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী কোম্পানি (যেমন আইটি ও ফার্মা) লাভবান হচ্ছে, কারণ ডলারে আয় বাড়ছে। তবে আমদানিনির্ভর কোম্পানি (যেমন অটোমোবাইল, তেল, ইলেকট্রনিক্স) বাড়তি খরচের চাপে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি রূপি ₹89 ছাড়িয়ে যায়, তবে দেশের মুদ্রাস্ফীতি (inflation) আরও বাড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ, আমদানি পণ্যের দাম, এমনকি পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়তে পারে। RBI পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডলার বিক্রি ও মুদ্রা হস্তক্ষেপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, রূপির স্থিতিশীলতা এখন নির্ভর করছে বৈশ্বিক সুদের হার ও তেলের দামের উপর। সব মিলিয়ে, রূপির দুর্বলতা ভারতের অর্থনীতির জন্য এক দ্বিমুখী চিত্র তৈরি করছে — স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ, কিন্তু শেয়ারবাজার ও সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ।

রেকর্ড নিম্নে রূপি: সোনার দাম বাড়ছে, শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা

ভারতের মুদ্রা রূপি (INR) ডলারের বিপরীতে প্রায় রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে রূপি প্রতি ডলারে ₹88.61 থেকে ₹88.80-এর মধ্যে লেনদেন করছে, যা আগের সর্বনিম্ন স্তর ₹88.97-এর কাছাকাছি।

এই পতনের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একাধিক বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক ফ্যাক্টর এর সঙ্গে যুক্ত। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তহবিল প্রত্যাহার, এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ব্যয় বৃদ্ধি—এই তিনটি প্রধান কারণ রূপির মান কমিয়ে দিচ্ছে।


কেন রূপির মান কমছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সুদের হার (interest rate) ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিকে আবার মার্কিন বাজারে টেনে নিচ্ছে। ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিদেশি ফান্ড আউটফ্লো বেড়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। যেহেতু ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ, তাই রূপির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, চীনের অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপীয় অর্থনীতির অস্থিরতা, এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতীয় রূপির ওপরও।


সোনার বাজারে রূপির পতনের প্রভাব

রূপির মান কমে গেলে সোনার দাম বাড়ে — কারণ স্বর্ণ মূলত ডলারে আমদানি হয়। দুর্বল রূপির ফলে স্বর্ণ আমদানির খরচ বেড়ে যায়, ফলে দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়।

অক্টোবর-নভেম্বর মাসে উৎসব ও বিবাহ মরশুমে স্বর্ণের চাহিদা বেশি থাকে। এই সময় রূপি দুর্বল হওয়ায় সোনার দাম আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রতি ১০ গ্রামে ₹৬৫,০০০ অতিক্রম করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এখন সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে — কারণ দুর্বল মুদ্রার সময় সোনা নিরাপদ সম্পদ (safe haven) হিসেবে বিবেচিত হয়।


শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রূপির পতন শেয়ারবাজারে দ্বিমুখী প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে অস্থিরতা (volatility) বাড়ছে, এবং Nifty ও Sensex-এর কিছু সেক্টরে বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে।


RBI-এর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা

Reserve Bank of India (RBI) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি ও বাজারে হস্তক্ষেপ করছে যাতে রূপির পতন সীমিত রাখা যায়।
তবে RBI সতর্কভাবে এগোচ্ছে, কারণ অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ রিজার্ভ কমিয়ে দিতে পারে।

মুদ্রা বাজারে RBI-এর মূল লক্ষ্য হলো — রূপির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, RBI রূপিকে ₹89-এর নিচে রাখার চেষ্টা করবে, কারণ এই সীমা ছাড়ালে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।


সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব

রূপির পতন মানে সরাসরি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। এর ফলে —

  • পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে।

  • ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য আরও দামি হতে পারে।

  • বিদেশ ভ্রমণ বা বিদেশে শিক্ষা গ্রহণের খরচও বাড়বে।

একইসঙ্গে, মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)-এর চাপ বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।


বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব ও ভারতের অবস্থান

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি এখন মুদ্রা-অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ডলারের শক্তি শুধু ভারত নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় মুদ্রাকেও প্রভাবিত করছে।

তবে ভারতের অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল অবস্থানে আছে — উচ্চ রিজার্ভ, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও প্রবৃদ্ধি হার ৭% বজায় রাখায় কিছুটা সুরক্ষা পেয়েছে।

তবুও, রূপির এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে বাণিজ্য ঘাটতি (trade deficit)মূলধন প্রবাহে (capital flow) সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Preview image