Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

AI-এর বাড়বাড়ন্তে ক্ষুব্ধ SALMAN KHAN ! ‘ধরে জেলে ঢোকানো উচিত’, বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় সমাজমাধ্যম

‘বিগ বস্‌ ২০’-এর মঞ্চে এআই নিয়ে সরব সলমন খান। ভুয়ো ছবি ও ভিডিয়োর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

‘বিগ বস্‌ ২০’-এর সাপ্তাহান্তিক পর্বে এ বার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)-এর অপব্যবহার। সমাজমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো ছবি, ভিডিয়ো এবং নকল কণ্ঠস্বরের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বলিউড অভিনেতা সলমন খান। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এআই ব্যবহার করে কাউকে বিভ্রান্ত করা, কারও কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা কোনও ব্যক্তিকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখানো সম্ভব, যা তিনি আদৌ করেননি। এই ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে আরও কড়া আইন এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন অভিনেতা।

‘বিগ বস্‌ ২০’-এর সাপ্তাহান্তিক পর্বে সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় সলমনকে। গত সপ্তাহেও ছবিশিকারিদের আচরণ, তারকাদের চেহারা নিয়ে কটাক্ষ এবং সমাজমাধ্যমে সমালোচনার প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। এ বার তাঁর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তার সম্ভাব্য অপব্যবহার।

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব সহজেই ছবি পরিবর্তন করা, ভিডিয়ো তৈরি করা কিংবা কারও কণ্ঠস্বরের মতো শোনানো অডিয়ো তৈরি করা সম্ভব। প্রযুক্তির এই সুবিধাগুলি যেমন বিনোদন, শিক্ষা, গবেষণা এবং সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনই এর অপব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে কোনও ছবি বা ভিডিয়ো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে একটি ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর বিষয় অল্প সময়ের মধ্যেই বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই সলমন খান এআই-নির্ভর ভুয়ো ভিডিয়ো এবং নকল কণ্ঠস্বরের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির সাহায্যে কারও কণ্ঠস্বর নকল করে সেই ব্যক্তির নামে এমন বক্তব্য তৈরি করা সম্ভব, যা তিনি কখনও বলেননি। শুধু কণ্ঠস্বর নয়, ভিডিয়োর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কারসাজি করা যায়। ফলে সাধারণ দর্শকের পক্ষে আসল এবং নকল বিষয়বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সলমন একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাঁর কথায়, কারও কণ্ঠস্বর নিয়ে সেটিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য একটি বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি বাস্তবে কোনও কথা না বললেও প্রযুক্তির সাহায্যে এমন একটি অডিয়ো বা ভিডিয়ো তৈরি করা যেতে পারে, যাতে মনে হবে ওই ব্যক্তিই কথাগুলি বলেছেন। অভিনেতার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি কোনও ব্যক্তির এআই-নির্মিত কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তাঁকে দিয়ে আপত্তিকর বা অশালীন কথা বলিয়ে দেয়, তা হলে সেই ব্যক্তির সামাজিক সম্মান এবং ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রসঙ্গেই সলমন প্রশ্ন তোলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ভুয়ো বিষয়বস্তু তৈরি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিনেতার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সমাজমাধ্যমে ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি। তাঁর মতে, সমস্যা শুধু ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় দর্শকরা বুঝতে পারেন না যে কোনও ছবি, ভিডিয়ো বা অডিয়ো প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কিংবা পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে তাঁরা সেটিকে সত্যি মনে করে নিজেরাও সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে ফেলেন। এর ফলে একটি মিথ্যা তথ্য খুব দ্রুত আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

এখানেই এআই-নির্ভর ভুয়ো কনটেন্টের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি রয়েছে। একটি ভিডিয়ো বা ছবি প্রথমে কোথা থেকে তৈরি হয়েছে, সেটি অনেক সময় জানা কঠিন হয়ে যায়। পরে সেটি একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার হতে হতে মূল উৎসের সঙ্গে যোগাযোগও হারিয়ে ফেলতে পারে। দর্শকের কাছে তখন শুধুমাত্র একটি ছবি, ভিডিয়ো বা অডিয়ো পৌঁছয়। সেটি সত্যি না মিথ্যা, তা যাচাই না করেই অনেকে বিশ্বাস করে ফেলেন।

সলমন খান এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে আরও কড়া নিয়মের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, কী ধরনের ছবি, ভিডিয়ো বা অডিয়ো প্রকাশ করা যাবে এবং কোন ধরনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও কঠোর নিয়ম থাকা দরকার। বিশেষ করে কারও পরিচয়, কণ্ঠস্বর বা চেহারা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।

এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ডিপফেক তৈরি করা এখন আর শুধুমাত্র প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়। বিভিন্ন সহজলভ্য টুল এবং সফটওয়্যারের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও ছবি ও ভিডিয়ো পরিবর্তন করতে পারছেন। এর ফলে বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। কোনও তারকার মুখ অন্য কারও শরীরে বসিয়ে দেওয়া, কারও কণ্ঠস্বর নকল করা অথবা কোনও ব্যক্তিকে এমন কোনও জায়গায় উপস্থিত দেখানো, যেখানে তিনি আদৌ ছিলেন না—এই ধরনের প্রযুক্তিগত কারসাজি এখন সমাজমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

তারকাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বড় আকার নিতে পারে। জনপ্রিয় অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের মুখ এবং কণ্ঠস্বরের অসংখ্য নমুনা অনলাইনে থাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেগুলি ব্যবহার করে নকল কনটেন্ট তৈরি করা তুলনামূলক ভাবে সহজ হতে পারে। সেই কারণেই সলমনের মতো জনপ্রিয় তারকার মুখে এআই-এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে।

সলমন বলেন, জেনেশুনে এই ধরনের ভুয়ো ভিডিয়ো তৈরি করা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কারও কণ্ঠস্বর বা পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর বক্তব্য তৈরি করা শুধুমাত্র মজার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান, সম্পর্ক, কাজ এবং সামাজিক পরিচয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই প্রসঙ্গেই অভিনেতার কড়া মন্তব্য, ‘‘ওই ধরনের মানুষদের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত।’’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারকে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। বরং এর সঙ্গে আইন, সামাজিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত বলে মনে করছেন তিনি।

news image
আরও খবর

সমাজমাধ্যমের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই ভুয়ো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আগে কোনও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে একটি নির্দিষ্ট সময় লাগত। এখন একটি ভিডিয়ো বা ছবি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সেই কনটেন্ট যদি বাস্তবের মতো দেখতে হয়, তা হলে দর্শকদের পক্ষে সেটি যাচাই করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এআই-এর উন্নতির ফলে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র ক্ষতিকর প্রযুক্তি নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, যোগাযোগ, গবেষণা, ব্যবসা এবং সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার প্রশ্নের বদলে এর ব্যবহার কী ভাবে নিরাপদ এবং দায়িত্বশীল রাখা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সলমনের বক্তব্যেও মূলত এআই-এর অপব্যবহার রুখতে নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছেও বর্তমানে এআই-নির্ভর ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। কারণ কোনও ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাঁর মুখ, কণ্ঠস্বর বা পরিচয় ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিচয়ের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে ভুয়ো কনটেন্ট ব্যবহার করে প্রতারণা, মানহানি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে।

সলমন খানের বক্তব্য সেই বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেই যুক্ত। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে ছবি, ভিডিয়ো এবং সমাজমাধ্যমের নানা ধরনের আলোচনার মধ্যে থাকেন। ফলে প্রযুক্তির সাহায্যে কোনও ব্যক্তির চেহারা বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে নতুন কনটেন্ট তৈরি করার সম্ভাব্য সমস্যাগুলি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘বিগ বস্‌ ২০’-এর সাপ্তাহান্তিক পর্বে সলমনের মন্তব্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সাধারণ দর্শকদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা। কোনও ভিডিয়ো বা ছবি দেখলেই সেটিকে সত্যি ধরে নেওয়ার আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কোনও কনটেন্ট যদি অত্যন্ত চমকপ্রদ, বিতর্কিত বা অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়, তা হলে সেটি শেয়ার করার আগে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি ভুয়ো কনটেন্ট শেয়ার করার মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত ভাবেও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য তাই ডিজিটাল সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কোনও ভিডিয়োতে কোনও পরিচিত তারকার মুখ বা কণ্ঠস্বর দেখা বা শোনা গেলেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একই ভাবে, কোনও ছবি বাস্তবের মতো দেখতে হলেও সেটি সম্পাদিত বা এআই দিয়ে তৈরি কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার।

এআই নিয়ে সলমনের এই বক্তব্য ‘বিগ বস্‌ ২০’-এর আলোচনাকে বিনোদনের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গেল। রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমসাময়িক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার দিকে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্যে যেমন এআই-এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তেমনই রয়েছে আরও কড়া নিয়ম এবং নিয়ন্ত্রণের দাবি।

উল্লেখ্য, ‘বিগ বস্‌ ২০’ থেকে দ্বিতীয় প্রতিযোগী হিসেবে বাদ পড়েছেন বাদশার প্রাক্তন স্ত্রী ঈশা রিখী। চলতি মরসুমে একাধিক বিষয় নিয়ে সলমনকে নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ছবিশিকারিদের আচরণ, তারকাদের চেহারা নিয়ে মন্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন। এই সপ্তাহে সেই আলোচনার পরিধি আরও বড় হয়ে পৌঁছেছে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে।

কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময়ের মধ্যে রয়েছেন সলমন খান। চিত্রাঙ্গদা সিংহের সঙ্গে তাঁর ‘মাতৃভূমি’ ছবিটি চলতি বছর মুক্তি পাওয়ার কথা। পাশাপাশি প্রযোজক দিল রাজুর সঙ্গে তাঁর একটি অ্যাকশন ছবির কাজও চলছে। ছবিটির নাম এখনও পর্যন্ত ‘মনস্টার’ বলে জানা যাচ্ছে। এই ছবিতে সলমনের সঙ্গে রয়েছেন নয়নতারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছবিটি ২০২৭ সালের ইদে মুক্তি পাওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, ‘বিগ বস্‌ ২০’-এর মঞ্চে সলমন খানের এআই নিয়ে মন্তব্য নতুন করে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো ছবি, ভিডিয়ো এবং নকল কণ্ঠস্বরের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কী ভাবে আইন এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো যায়, সেই প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এআই-এর সুবিধা যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই, তেমনই এর অপব্যবহারের সম্ভাবনাও উপেক্ষা করা যায় না। সলমনের মন্তব্য সেই ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথাই সামনে এনেছে।

বিশেষ করে কোনও ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা পরিচয় তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শকদেরও কোনও ছবি, ভিডিয়ো বা অডিয়ো যাচাই না করে শেয়ার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সত্যি এবং কৃত্রিম কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য করাও তত কঠিন হয়ে উঠছে।

‘বিগ বস্‌ ২০’-এর মঞ্চে সলমন খানের বক্তব্য তাই শুধু একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, নকল কণ্ঠস্বর, সমাজমাধ্যমে ভুয়ো তথ্য এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে তাঁর মন্তব্য। আগামী দিনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়তে থাকলে এই ধরনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে আইন, প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Preview image