দীর্ঘদিনের নোংরা ও অব্যবস্থার ছবি বদলাতে শিয়ালদহ স্টেশনে শুরু হয়েছে বড়সড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। প্রশাসনের এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই চোখে পড়ছে অনেকটা পা
কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শিয়ালদহ স্টেশন বহু বছর ধরেই পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় ও রাজ্যের নানা প্রান্তে যাতায়াত করেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড়, ট্রেনের আসা-যাওয়া, হকারদের আনাগোনা এবং লাগাতার ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই শিয়ালদহ স্টেশনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নোংরা প্ল্যাটফর্ম, জমে থাকা আবর্জনা, দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেন এবং অগোছালো পরিবেশ যাত্রীদের কাছে একপ্রকার নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি সেই চেনা ছবিতে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রেল প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে জোরকদমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান। স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশপথ, অপেক্ষাকক্ষ, টিকিট কাউন্টার এলাকা এবং রেললাইন সংলগ্ন অংশে চলছে বিশেষ সাফাই অভিযান। বহু বছর ধরে জমে থাকা ময়লা সরিয়ে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে গোটা স্টেশন চত্বরকে। প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র সৌন্দর্য বাড়ানো নয়, যাত্রীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
সকালের প্রথম ট্রেন ধরতে আসা যাত্রীরা এখন স্টেশনে ঢুকেই পার্থক্য অনুভব করছেন। আগের তুলনায় অনেক কম আবর্জনা চোখে পড়ছে। প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে, ময়লা ফেলার জন্য অতিরিক্ত ডাস্টবিন বসানো হয়েছে এবং স্টেশন চত্বরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর শিয়ালদহ স্টেশনে এমন পরিষ্কার পরিবেশ দেখতে পেয়ে তারা সত্যিই অবাক।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে একাধিক বিশেষ টিম নিয়োগ করা হয়েছে। দিনে কয়েক দফায় প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার করার পাশাপাশি রাতে চলছে গভীর পরিষ্কার অভিযান। রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট এবং অন্যান্য বর্জ্য সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ যন্ত্রপাতি। স্টেশনের ড্রেন পরিষ্কার করতেও আলাদা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
শুধু স্টেশন চত্বর নয়, শিয়ালদহের বাইরের অংশেও পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছে। স্টেশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অবৈধ দখল এবং অস্থায়ী আবর্জনার স্তূপ সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। এর ফলে যানজট অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। যাত্রীদের ওঠানামার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
স্টেশনের দোকানদারদেরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বা প্লাস্টিক জমিয়ে রাখলে জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র কয়েকদিনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েই এই পরিষ্কার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বড় রেলস্টেশনগুলির অন্যতম বড় সমস্যা হল অতিরিক্ত যাত্রী চাপ। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ ব্যবহার করায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। শিয়ালদহও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলেই মনে করছেন তারা।
স্টেশনে যাত্রীদের সচেতন করতেও শুরু হয়েছে বিশেষ প্রচার অভিযান। মাইকিং করে যাত্রীদের ডাস্টবিন ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে সচেতনতামূলক পোস্টার। “নিজের স্টেশন পরিষ্কার রাখুন” — এই বার্তা নিয়েই চলছে প্রচার। রেল কর্মীদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি।
অনেক যাত্রী আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও শিয়ালদহ স্টেশনের পরিবর্তনের ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন। কেউ লিখছেন “অবিশ্বাস্য পরিবর্তন”, কেউ আবার বলছেন “এভাবেই পরিষ্কার থাকুক স্টেশন”। বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মের পরিষ্কার পরিবেশ এবং কম দুর্গন্ধ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
তবে কিছু যাত্রীর মতে, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। স্টেশনের কিছু অংশে পুরনো সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে পিক আওয়ারে ভিড় বাড়লে পরিষ্কার পরিবেশ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।
রেল প্রশাসন অবশ্য আশাবাদী। তাদের দাবি, এবার শুধুমাত্র অস্থায়ী সাফাই নয়, দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক পরিষ্কার ব্যবস্থা, বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রকল্প এবং ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে। স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের কাজও চলছে। কিছু অংশে নতুন রঙ করা হয়েছে, দেওয়ালে আঁকা হচ্ছে চিত্রকর্ম এবং আলো ব্যবস্থার উন্নতি করা হচ্ছে। রাতে স্টেশনের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উজ্জ্বল ও গোছানো দেখাচ্ছে।
শিয়ালদহ স্টেশন শুধুমাত্র একটি রেলস্টেশন নয়, এটি কলকাতার প্রতিদিনের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাজার হাজার মানুষের কর্মজীবন, ব্যবসা এবং দৈনন্দিন যাতায়াত এই স্টেশনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই স্টেশনের উন্নতি মানে শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়াও।
অনেক প্রবীণ যাত্রী জানিয়েছেন, অতীতে শিয়ালদহ স্টেশন অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ছিল। সময়ের সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাই বর্তমান উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, প্রশাসন যদি ধারাবাহিকভাবে এই কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে শিয়ালদহ দেশের অন্যতম পরিষ্কার স্টেশনে পরিণত হতে পারে।
স্টেশনের কুলিদের মধ্যেও এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের বক্তব্য, পরিষ্কার পরিবেশ থাকলে যাত্রীদের অভিজ্ঞতাও ভালো হয় এবং কাজের পরিবেশও উন্নত হয়। একইসঙ্গে দোকানদারদের একাংশ মনে করছেন, পরিষ্কার স্টেশন হলে বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের কাছেও শহরের ভাবমূর্তি ভালো হবে।
কলকাতার মতো ঐতিহাসিক শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার হল শিয়ালদহ স্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার বাইরের মানুষ প্রথমবার এই স্টেশনে পা রাখেন। তাই স্টেশনের পরিবেশ শহরের পরিচয় বহন করে। দীর্ঘদিনের নোংরা এবং বিশৃঙ্খলার বদলে এখন যদি পরিষ্কার ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে শহরের ভাবমূর্তি উন্নত করবে।
শিয়ালদহ স্টেশনে চলতে থাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বহুদিন ধরে অবহেলা, নোংরা পরিবেশ এবং অব্যবস্থার অভিযোগে জর্জরিত এই ব্যস্ততম স্টেশন এখন ধীরে ধীরে বদলের পথে হাঁটছে। প্রশাসনের উদ্যোগ, কর্মীদের পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একসঙ্গে কাজ করলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তন সম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকেই।
তবে শুধু কয়েকদিনের অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কঠোর নজরদারি এবং যাত্রীদের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ একটি স্টেশন পরিষ্কার রাখা শুধুমাত্র প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সাধারণ মানুষেরও সামাজিক দায়িত্ব।
বর্তমানে যে পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে, তা যদি দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকে, তাহলে শিয়ালদহ স্টেশন শুধুমাত্র কলকাতার নয়, গোটা দেশের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং আধুনিক স্টেশন গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে শহরের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তবে এবার সেই পুরনো চিত্র বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে রেল প্রশাসন। শিয়ালদহ স্টেশনকে পরিষ্কার ও আধুনিক রূপ দিতে শুরু হয়েছে বড়সড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান। স্টেশনের বিভিন্ন অংশে চলছে লাগাতার সাফাই কাজ। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে ইতিমধ্যেই চোখে পড়ছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্টেশনে ঢুকলেই এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো এবং পরিষ্কার পরিবেশ নজরে আসছে বলে জানিয়েছেন বহু যাত্রী।
স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিশেষ সাফাই কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দিনে একাধিকবার ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, চায়ের কাপ, থার্মোকল এবং অন্যান্য আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ময়লা পড়ে থাকত, এখন সেখানে দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে। প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ, টিকিট কাউন্টার, অপেক্ষাকক্ষ, প্রবেশদ্বার এবং শৌচাগার এলাকাতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র সাধারণ পরিষ্কার নয়, এবার ‘ডিপ ক্লিনিং’ বা গভীর পরিষ্কার অভিযানের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বহুদিন ধরে জমে থাকা ময়লা, ধুলো এবং নোংরা সরানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। বিশেষ করে রেললাইনের মাঝখানে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য আলাদা টিম কাজ করছে। কারণ রেললাইনের পাশে জমে থাকা প্লাস্টিক ও খাবারের বর্জ্য শুধু নোংরা পরিবেশই তৈরি করে না, তা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
স্টেশনের ড্রেন পরিষ্কার করার কাজও চলছে জোরকদমে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কাদা, প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে অনেক ড্রেন কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বর্ষার সময় জল জমে সমস্যা তৈরি হত। এবার সেই ড্রেন পরিষ্কারের জন্য বিশেষ কর্মী নামানো হয়েছে। বড় বড় মেশিন ব্যবহার করে নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল করার চেষ্টা চলছে।
শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নয়, স্টেশনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজও শুরু হয়েছে। কিছু জায়গায় নতুন রঙ করা হয়েছে, দেওয়ালে আঁকা হচ্ছে বিভিন্ন চিত্রকর্ম। আলোর ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে। রাতের শিয়ালদহ এখন আগের তুলনায় অনেক উজ্জ্বল এবং পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। স্টেশনের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ডাস্টবিন বসানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা সহজেই ময়লা ফেলতে পারেন।
প্রশাসনের তরফে স্টেশন এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। দোকানদারদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা যেখানে সেখানে বর্জ্য না ফেলেন। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে বলা হয়েছে। নিয়ম না মানলে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অনেক দোকানদারই এখন নিজের দোকানের সামনে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছেন।