ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযানে এখন ঝুলে রয়েছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার ছায়া। টুর্নামেন্টের শুরুতে যেভাবে দল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নেমেছিল, শেষ দিকের ম্যাচগুলোয় যেন সেই ধার হারিয়ে ফেলেছে। ক্যাপ্টেন হারমানপ্রীত কৌর ও উপ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানার উপর এখন বিরাট চাপ — কারণ বাকি থাকা ম্যাচগুলোই ঠিক করবে, ভারত সেমিফাইনালে পৌঁছাবে কি না। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে ধারাবাহিকতা না থাকায় রান আটকাতে হিমশিম খাচ্ছে দল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটিং লাইনআপেও স্থিরতা নেই। এক ম্যাচে টপ অর্ডার ঝলসে উঠলেও, পরের ম্যাচেই ব্যর্থতা। মিডল অর্ডারে রান তোলার গতি কমে যাচ্ছে, যা বড় লক্ষ্য তাড়া করতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও সমর্থকদের আশা, শেষ মুহূর্তে ভারতীয় মেয়েরা আবার জেগে উঠবে। কারণ ক্রিকেটে কিছুই অসম্ভব নয়—একটি জয়ই বদলে দিতে পারে পুরো চিত্র। এখন প্রশ্ন একটাই, ভারতীয় নারী বাহিনী কি পারে ইতিহাস গড়তে, নাকি বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যাবে মাঝপথে?
ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযান এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। টুর্নামেন্টের শুরুতে দারুণ ছন্দে থাকা দলটি মাঝপথে এসে হার ও অনিয়মিত পারফরম্যান্সে পিছিয়ে পড়েছে। এখন হারমানপ্রীত কৌর–নেতৃত্বাধীন ভারতকে সেমিফাইনালে পৌঁছতে হলে কেবল নিজেদের খেলা নয়, পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণেও নজর রাখতে হবে।
প্রথমত, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার শুরুটা ভালো হলেও, মিডল অর্ডারে রান তোলার গতি কমে যাচ্ছে। হারমানপ্রীতের অভিজ্ঞতা ও রিচা ঘোষের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে কাজে লাগিয়ে শেষ দিকের ওভারগুলোতে রান বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বোলিং ইউনিটকে আরও ধারালো হতে হবে। দীপ্তি শর্মা ও রেনুকা সিং-এর উপর নির্ভরতা অনেক, তবে অন্য বোলারদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি ম্যাচেই পাওয়ারপ্লেতে অন্তত দুইটি উইকেট তুলে নেওয়া এখন অপরিহার্য।
তৃতীয়ত, ফিল্ডিং বিভাগে শৃঙ্খলা ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় ক্যাচ ফেলা ও ভুল থ্রো ভারতের ক্ষতি করেছে। বড় দলের বিরুদ্ধে এসব ভুল আর মাফযোগ্য নয়।
সবশেষে, দলকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে হবে। প্রতিটি ম্যাচ এখন নকআউটের মতো — যেখানে একটিমাত্র হারই বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।
হারমানপ্রীত কৌরদের সামনে চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু সামর্থ্যও কম নয়। ভারতের নারী বাহিনী যদি একসঙ্গে খেলতে পারে, তাহলে এখনও সেমিফাইনালের দরজা খোলা রয়েছে। এখন কেবল দরকার আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতা।