Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বুধবার থেকেই টালিগঞ্জে শুরু শুটিং, তবে আপাতত লীনার সঙ্গে কাজ করবেন না কেউ! সিদ্ধান্ত হল আর্টিস্ট ফোরামের মিটিংয়ে

সকাল ১০টা থেকে প্রায় বিকেল ৫টা। ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় দফায় দফায় বৈঠক চলল আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল সেই বৈঠকে? জানালেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়েরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় একত্রিত হওয়ার কথা ছিল টলিপাড়ার শিল্পীদের। ‘আর্টিস্ট ফোরাম’, ‘ফেডারেশন’, ‘ইম্‌পা’, টেলিভিশন প্রযোজক এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক এবং কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কর্মবিরতি শেষের ঘোষণা করলেন। ‘ম‍্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা।

এই দিন বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, হরনাথ চক্রবর্তী, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, দেব-সহ শিল্পীদের অনেকেই। অন্য দিকে ছিলেন ইম্‌পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। আলোচনায় যোগ দেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। শুটিংয়ে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা ছিল বৈঠকের মুখ্য বিষয়। বৈঠকে ছিলেন রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তুলেছে অনেক প্রশ্ন। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারি গিয়েছিলেন অভিনেতা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালসারিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। ওড়িশা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রযোজনা সংস্থা পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি নেয়নি। তার পরেই প্রযোজকের দিকে ওঠে আঙুল।রাহুলের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে আইনি পরামর্শ মাফিক আর্টিস্ট ফোরামের তরফে চিঠি পাঠানো হয় ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্‌’ প্রযোজনা সংস্থাকে। কিন্তু যথাযথ উত্তর না মেলায় আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ শিল্পীরা কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই রাতে তালসারি থানায় ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এগ্‌জ়িকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং প্রযোজক সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, শনিবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কর্মবিরতির। মঙ্গলবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মতো সোমবার বেশি ক্ষণ ধরে শুটিং হয়েছিল বাংলা ধারাবাহিকগুলির। মঙ্গলবার সকালে বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, আগামী দিনে ঠিক কী ভাবে কাজ এগোবে? আলোচনা করে স্থির হয়েছে, আগামী পনেরো থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া, আরও আঁটোসাঁটো করতে এই সিদ্ধান্ত। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য তৈরি হবে বীমা। এমনকি যাঁরা চুক্তিবদ্ধ নন, সেই সব কলাকুশলী এবং শিল্পীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। তবে যত দিন না সেই বীমা তৈরি হচ্ছে, তত দিন ঝুঁকি নিয়ে এমন কোনও জায়গায় শুটিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিনোদন জগতে যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু গাঠনিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। শনিবার রাতের সেই আকস্মিক সিদ্ধান্ত—আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা—প্রথমে অনেকের কাছেই চমকপ্রদ মনে হলেও, গভীরে গেলে বোঝা যায় যে এই সিদ্ধান্তের পেছনে জমে থাকা উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভই মূল কারণ।

বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘদিন ধরে দ্রুতগতির প্রোডাকশন চক্রের মধ্যে কাজ করে আসছে। প্রতিদিন নতুন এপিসোড সম্প্রচার করার চাপ, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুটিং শেষ করার তাগিদ এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতা—এই সবকিছু মিলিয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের উপর পড়ে প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি অনেক সময়ই অবহেলিত থেকে যায়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ছিল একপ্রকার প্রতিবাদ, আবার একই সঙ্গে সতর্কবার্তা। এটি ছিল ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে একটি শক্ত বার্তা—নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে আর কাজ করা যাবে না। মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করে তোলে। এর ফলে প্রযোজনা সংস্থাগুলির উপর চাপ তৈরি হয় এবং তারা বাধ্য হয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে।

সোমবার দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করার ঘটনা এই পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। কারণ, প্রোডাকশন থেমে গেলে আর্থিক ক্ষতি যেমন হয়, তেমনই সম্প্রচারের সময়সূচিও বিঘ্নিত হয়। তাই কর্মবিরতির আগে যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শুধুমাত্র কাজ চালিয়ে যাওয়া নয়, কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা আরও বেশি জরুরি।

মঙ্গলবার সকালের বৈঠক ছিল এই পুরো পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষ—শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা—একত্রিত হয়ে ভবিষ্যতের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে আসে: আগামী পনেরো থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (SOP) তৈরি করা হবে।

এই SOP আসলে একটি গাইডলাইন, যা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরে কাজের সময় কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে, তা নির্ধারণ করবে। এতে থাকবে শুটিং সেটে নিরাপত্তা বিধি, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিয়ম, লোকেশন সিলেকশনের মানদণ্ড এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকনির্দেশ। এর ফলে কাজের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বীমার ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির বহু কলাকুশলী—বিশেষ করে যারা চুক্তিবদ্ধ নন—তারা কোনওরকম সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করে আসছেন। দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের চিকিৎসা খরচ বা ক্ষতিপূরণের কোনও নিশ্চয়তা থাকে না। এই নতুন উদ্যোগের ফলে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি হবে। বীমা থাকলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অন্তত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই বীমা সুবিধা শুধু চুক্তিবদ্ধ শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ফ্রিল্যান্স বা অস্থায়ীভাবে কাজ করা ব্যক্তিরাও এর আওতায় আসবেন। এটি ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। কারণ, একটি প্রোডাকশনের সাফল্যের পেছনে শুধু মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই নন, বরং অসংখ্য অদৃশ্য কর্মীর অবদান থাকে।

তবে এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে। তাই যতদিন না এই বীমা ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে, ততদিন ঝুঁকিপূর্ণ লোকেশনে শুটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। কারণ, কোনও দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকি এড়ানো অনেক বেশি কার্যকর।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ইন্ডাস্ট্রি এখন পরিবর্তনের পথে। শুধুমাত্র কাজের গতি বা আউটপুট বাড়ানো নয়, বরং কাজের মান এবং নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি সুস্থ ও টেকসই কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে বড় পদক্ষেপ।

তবে এই পরিবর্তন সফল করতে গেলে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু সংগঠন বা প্রযোজকদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, শিল্পী ও কলাকুশলীদেরও সচেতন হতে হবে। তাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে এবং কোনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আপত্তি জানাতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, এই ঘটনা বাংলা বিনোদন জগতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হলেও, একই সঙ্গে এটি একটি নতুন সূচনার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। যদি এই SOP কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং বীমা ব্যবস্থা সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রি আরও সুরক্ষিত, সংগঠিত এবং পেশাদার হয়ে উঠবে। এটি শুধু শিল্পীদের জন্য নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আশা করা যায়, বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি শুধু বিষয়বস্তুতে নয়, কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রেও একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।

news image
আরও খবর

 

 

 

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে, যা ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, SOP বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর তৈরি হওয়ার পর সেটির যথাযথ প্রয়োগ এবং মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, নীতিমালা তৈরি হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না বা তা যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। তাই একটি নির্দিষ্ট মনিটরিং টিম বা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যারা নিয়মিতভাবে শুটিং সেটগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং SOP অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে।

এছাড়াও, নিয়মিত সেফটি অডিট চালু করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর শুটিং ফ্লোর, আউটডোর লোকেশন এবং ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলির নিরাপত্তা যাচাই করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। বিশেষ করে যেসব শুটিংয়ে স্টান্ট, আগুন, জল বা উচ্চতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই অডিট বাধ্যতামূলক করা উচিত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং। শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য বেসিক সেফটি ট্রেনিং চালু করা গেলে তারা জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে তা শিখতে পারবেন। যেমন—আগুন লাগলে কী করতে হবে, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা হলে কীভাবে সাহায্য করতে হবে, অথবা কোনও সহকর্মী আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে দিতে হবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মানসিক স্বাস্থ্যও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। টানা কাজের চাপ, অনিয়মিত সময়সূচি এবং অনিশ্চয়তা—এই সবকিছু মিলিয়ে অনেক শিল্পী ও কর্মীর মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়। তাই কাউন্সেলিং সাপোর্ট বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চালু করা গেলে তা কর্মীদের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী হবে। একটি সুস্থ মন ছাড়া নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।

প্রযুক্তির ব্যবহারও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আধুনিক সেফটি ইকুইপমেন্ট, ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অনেক ঝুঁকি কমানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, বিপজ্জনক দৃশ্যগুলিতে ডামি বা ভিএফএক্স (VFX) ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে, যাতে বাস্তবে শিল্পীদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না হয়।

অন্যদিকে, এই পরিবর্তনের আর্থিক দিকটিও বিবেচনা করা জরুরি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি, বীমা, ট্রেনিং—এই সবকিছুর জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে, যা প্রযোজনা সংস্থাগুলির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত। কারণ, একটি দুর্ঘটনা শুধু মানবিক ক্ষতিই নয়, আর্থিক ক্ষতিও ডেকে আনে। তাই আগাম সুরক্ষায় বিনিয়োগ করাই অধিক লাভজনক।

সবশেষে, এই পুরো উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে ইন্ডাস্ট্রির সম্মিলিত মানসিকতার উপর। যদি সবাই এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে খুব শীঘ্রই একটি নিরাপদ, সংগঠিত এবং পেশাদার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই ঘটনাটি তাই শুধু একটি সংকট নয়, বরং একটি সুযোগ—নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

 

 

 

Preview image