Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হুগলির পর বীরভূমেও ভোটার তালিকায় চাঞ্চল্য, জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানোয় তীব্র বিতর্ক

নির্বাচনের আগে ফের একবার রাজ্যের ভোটার তালিকা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। হুগলির ঘটনার পর এ বার বীরভূম জেলা থেকেও অভিযোগ উঠেছে যে জীবিত বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় মৃত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর নাম খুঁজতে গিয়ে অনেকেই দেখেন, তাঁদের নামের পাশে লেখা রয়েছে ডিলিটেড ডিউ টু ডেথ। অথচ তাঁরা জীবিত সুস্থ এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। বিষয়টি সামনে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাড়ি বাড়ি যাচাই ঠিকভাবে হয়নি। কোথাও বুথ লেভেল অফিসার আসেননি, কোথাও আবার নামমাত্র তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই কিছু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এটিকে মানবিক ভুল বলে জানিয়েছে এবং সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, তবু একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানুষ চাইছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান, যাতে তাঁদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

নির্বাচনের আগে ফের একবার রাজ্যের ভোটার তালিকা ঘিরে চাঞ্চল্য। হুগলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার একই ধরনের অভিযোগ উঠে এল বীরভূম জেলা থেকে। অভিযোগ, জীবিত একাধিক ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ ছড়িয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বীরভূমের একাধিক ব্লক ও গ্রামাঞ্চল থেকে সামনে এসেছে এই অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর অনেকেই নিজের নাম খুঁজতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘ডিলিটেড ডিউ টু ডেথ’ বা মৃত্যুর কারণে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই ব্যক্তিরা জীবিত, সুস্থ এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। হঠাৎ করে নিজের নামকে মৃত হিসেবে দেখতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। একজন মধ্যবয়সি বাসিন্দা জানান, তিনি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভোটার কার্ড বৈধ রয়েছে, আধার ও অন্যান্য নথিতেও তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তা সত্ত্বেও এবারের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন। কারও ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম একসঙ্গে মৃত বলে চিহ্নিত। এই ধরনের ভুল কীভাবে হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করার কথা থাকলেও বহু জায়গায় সেই কাজ সঠিকভাবে হয়নি। কোথাও বুথ লেভেল অফিসার আসেননি, আবার কোথাও নামমাত্র তথ্য সংগ্রহ করে চলে গিয়েছেন। এর ফলেই এমন মারাত্মক ভুল হয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কিছু নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনার রাজনৈতিক দিকও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারচুপি করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, যাঁরা নিয়মিত ভোট দেন এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাঁদের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বীরভূমে এই অভিযোগ ওঠায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকেও বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া হয়নি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভুল অত্যন্ত গুরুতর। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভোটাধিকার, আর সেই অধিকার খর্ব হলে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যদিও প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘মানবিক ভুল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে নাম আপডেট করা হয়। কোনও ক্ষেত্রে পুরনো তথ্য বা ভুল রিপোর্টের কারণে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং কেউ বঞ্চিত হবেন না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একই ধরনের ভুল বারবার কেন হচ্ছে। হুগলির পরে বীরভূমে একই অভিযোগ উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। শুধুই কি প্রশাসনিক গাফিলতি, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ, যাঁদের কাছে ভোট দেওয়াই গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের প্রধান উপায়, তাঁরা নিজেদের অসহায় বোধ করছেন। এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, তিনি সারা জীবন ভোট দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক নির্বাচন দেখেছেন। কিন্তু জীবিত থাকা সত্ত্বেও নিজের নাম মৃত হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া তাঁর কাছে অপমানজনক এবং ভীতিকর। তাঁর আশঙ্কা, যদি সময়মতো সংশোধন না হয়, তাহলে তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাবেন। একই আশঙ্কা আরও বহু মানুষের মনেই। বীরভূমের কয়েকটি এলাকায় দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ব্লক অফিসে লম্বা লাইন পড়েছে। মানুষ নিজের পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, এমনকি চিকিৎসকের সার্টিফিকেট পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছেন প্রমাণ করার জন্য যে তাঁরা জীবিত। এই পরিস্থিতি প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা আরও দুর্বল করছে বলে মত অনেকের। রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভোটার তালিকা একটি মৌলিক নথি, যার উপর নির্ভর করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া। সেখানে যদি এমন গুরুতর ভুল থেকে যায়, তবে নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের অভাব থেকেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বীরভূমের এই ঘটনায় প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বুথ লেভেল অফিসারদের। পাশাপাশি, যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ গেছে, তাঁদের বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে মানুষের ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। অনেকেই বলছেন, বারবার একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, আর সাধারণ মানুষকেই শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই চক্র কবে ভাঙবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে। বীরভূম একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। সেখানে যদি বড় সংখ্যায় ভোটারের নাম নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনের ফলাফলেও। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। সব মিলিয়ে, হুগলির পরে বীরভূমে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর ঘটনা রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থার সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি কঠিন পরীক্ষা। দ্রুত, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে মানুষের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে। আর সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—তাঁদের জীবিত থাকা প্রমাণ করতে যেন আর লাইনে দাঁড়াতে না হয়, ভোট দেওয়ার অধিকার যেন কোনও ভুলের কারণে কেড়ে না নেওয়া হয়। বীরভূমের বিভিন্ন ব্লক ও গ্রামাঞ্চল থেকে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর বহু মানুষ নিজের নাম খুঁজে দেখেন যে তাঁদের নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘ডিলিটেড ডিউ টু ডেথ’। অথচ তাঁরা জীবিত, সুস্থ এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কেউ কেউ জানান, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ভোটার কার্ড ও আধার-সহ সমস্ত নথি বৈধ। তা সত্ত্বেও এ ভাবে নাম বাদ পড়ায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ স্বাভাবিক।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ঠিকমতো হয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় বুথ লেভেল অফিসার আসেননি বা নামমাত্র তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর ফলেই এমন গুরুতর ভুল হয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কিছু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এটিকে প্রাথমিকভাবে মানবিক ভুল বলা হলেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একই ধরনের ভুল বারবার কেন হচ্ছে। বীরভূমের ঘটনায় ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত ও স্বচ্ছ সংশোধনের দাবি জানিয়ে মানুষ চাইছেন, তাঁদের ভোটাধিকার যেন কোনও ভুলের কারণে কেড়ে না নেওয়া হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাড়ি বাড়ি যাচাই ঠিকভাবে হয়নি। কোথাও বুথ লেভেল অফিসার আসেননি, কোথাও আবার নামমাত্র তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই কিছু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এটিকে মানবিক ভুল বলে জানিয়েছে এবং সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, তবু একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানুষ চাইছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান, যাতে তাঁদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

news image
আরও খবর
Preview image