Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

“শরীর নাকি মন? সম্পর্কের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে নতুন বিতর্কে বলিউড”

“শরীর নাকি মন? সম্পর্কের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে নতুন বিতর্কে বলিউড” “মানসিক না শারীরিক প্রতারণা—কোনটা বেশি ভয়ানক? তারকাদের বক্তব্যে জ্বলছে বিতর্ক” “ভালোবাসার মাপজোক—মন দেওয়া বড় পাপ, না শরীর?” “কাজল-টুইঙ্কল বনাম জাহ্নবী: সম্পর্ক ভাঙে কোনো কারণে?” “শরীরের ঘনিষ্ঠতা নাকি মনের দূরত্ব—ভালোবাসার আসল পরীক্ষা কোনটা?”

সম্পর্কের মাপজোক—শরীর না মন? বলিউডে নতুন বিতর্কে তোলপাড় নেটদুনিয়া

সম্পর্ক মানে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু সেই সম্পর্কের মধ্যে যদি “প্রতারণা” ঢুকে পড়ে, তাহলে সেটি আসলে কোথা থেকে শুরু হয়? শরীর দিয়ে না মন দিয়ে? এই প্রশ্ন এখন বলিউড থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি অভিনেত্রী কাজল এবং টুইঙ্কল খন্না একটি জনপ্রিয় শো-তে সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন, আর সেই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

কাজল বলেন, “যদি কেউ শারীরিকভাবে অন্য কারও সঙ্গে যুক্তও হয়, কিন্তু মনের দিক থেকে নিজের সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে, তাহলে সম্পর্কটা ভাঙে না।” তাঁর মতে, মন হারানোই সম্পর্কের প্রকৃত বিশ্বাসঘাতকতা। টুইঙ্কলও একই সুরে বলেন, “মন অন্য কারও দিকে চলে গেলে সম্পর্কের ভিত নড়ে যায়। কিন্তু শারীরিক প্রলোভন অনেক সময় সাময়িক।”

তাঁদের এই বক্তব্যে বলিউডে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় পড়ে যায়। কেউ কাজল ও টুইঙ্কলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “মানুষ মাংসের, তাই শারীরিক ভুল ক্ষমাযোগ্য।” আবার কেউ কেউ তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, “প্রতারণা মানে প্রতারণাই—তা মন হোক বা শরীর!”

news image
আরও খবর

অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর এই মন্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নন। তিনি বলেন, “ভালোবাসা মানে কেবল মন নয়, শরীরও তার একটি অংশ। যদি কেউ শারীরিকভাবে অন্য কারও সঙ্গে জড়িত হন, তাহলে সেটিও সম্পর্কের প্রতি প্রতারণা।” তাঁর মতে, ভালোবাসা মানে একাগ্রতা—তা মন বা শরীর যেটিই হোক না কেন।

জাহ্নবীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনরা বিভক্ত হয়ে যান—একপক্ষ কাজল-টুইঙ্কলের ভাবনা সমর্থন করেন, অন্যপক্ষ জাহ্নবীর সঙ্গে একমত।

মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক সমাজে “ইনফিডেলিটি” বা বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে মানুষ একদিকে আবেগগতভাবে আরও উন্মুক্ত, আবার অন্যদিকে মানসিক দূরত্বও বাড়ছে। মানসিক প্রতারণা অনেক সময় শারীরিক সম্পর্কের চেয়েও গভীর আঘাত দিতে পারে। তবে শারীরিক প্রতারণাকেও খাটো করে দেখা ঠিক নয়, কারণ এতে বিশ্বাস, সম্মান ও নিরাপত্তা—তিনটিই নষ্ট হয়।

আজকের যুগে “রিলেশনশিপ”, “সিচুয়েশনশিপ” বা “ওপেন রিলেশন”—এসব নতুন সম্পর্কের ধরন সমাজে জায়গা করে নিয়েছে। তাই সম্পর্কের সীমা, দায়বদ্ধতা, এমনকি প্রতারণার সংজ্ঞাও বদলে গেছে। কেউ মানসিক সংযোগকেই ভালোবাসার মাপকাঠি বলছেন, আবার কেউ বলছেন শারীরিক সান্নিধ্যও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকে যায়—ভালোবাসা আসলে কী? মন হারানোই কি অপরাধ, না শরীরের বিশ্বাসঘাতকতাও সমান গুরুতর? উত্তরটা হয়তো নির্ভর করে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক পরিপক্বতার ওপর।
তবে একটি জিনিস পরিষ্কার—প্রেম বা সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাস, সততা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর। সেই মূল্যবোধ হারিয়ে গেলে, মন বা শরীর—দুটোই তখন প্রতারণার প্রতীক হয়ে ওঠে।

Preview image