আন্তর্জাতিক অপরাধে নতুন মোড়! ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দরশন সিং সাহসি (Darshan Singh Sahsi)-কে কানাডার মাটিতে গুলি করে খুন করেছে কুখ্যাত Lawrence Bishnoi গ্যাং। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাবটসফোর্ড শহরে নিজের বিলাসবহুল গাড়ির ভেতরেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় সাহসিকে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক কোনো ডাকাতি নয়, বরং ছিল পরিকল্পিত “টার্গেট কিলিং”।
কে ছিলেন দরশন সিং সাহসি?
৬৮ বছর বয়সী এই পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী লুধিয়ানার দোরা-হা এলাকার রাজগড় গ্রামের সন্তান। বহু বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছিলেন তিনি।
তিনি ছিলেন Canam International নামের এক বিশাল টেক্সটাইল রিসাইক্লিং কোম্পানির প্রেসিডেন্ট — যেটি উত্তর আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ ভারতীয় মালিকানাধীন ব্যবসা।
সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি পাঞ্জাবি কমিউনিটিতেও সাহসির ছিল প্রবল প্রভাব। অনেকেই তাঁকে “কানাডার পাঞ্জাবি টাইকুন” বলে ডাকতেন।
ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মুহূর্ত
স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৫টা নাগাদ একাধিক গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে অ্যাবটসফোর্ডের শান্ত এলাকা।
চোখের সামনে গাড়ির জানালা ভেঙে পড়ে সাহসির দেহ। হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে — হামলাকারীরা গাড়ি থেকে নেমে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়, পুরো ঘটনাটি ছিল “একটি পেশাদার সুপরিকল্পিত অপারেশন।”
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দাবি — “চাঁদা না দিলে মৃত্যু!”
হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, Lawrence Bishnoi-র গ্যাং-এর সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে উঠে আসে পোস্ট —
“Darshan Sahsi refused to pay what was due. This is a message to all those who think money can buy safety.”
অর্থাৎ, সাহসি নাকি গ্যাংয়ের দাবি করা ‘প্রোটেকশন মানি’ দিতে রাজি হননি। আর সেই কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
এই বক্তব্যে নেটমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে — অনেকে বলছেন এটি “কানাডায় বসে ভারতীয় গ্যাংওয়ারের সম্প্রসারণ!”
? কানাডা-ভারত সম্পর্কের ছায়া
কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল Nijjar হত্যার পর।
এখন সাহসি হত্যায় আবারও মাথা তুলছে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক টানাপোড়েন।
বিষ্ণোই গ্যাং ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের “সন্ত্রাসী সংগঠন” তালিকায়। অথচ সেই গ্যাং কানাডার মাটিতে খুনের দায় নিচ্ছে —
এটা নিঃসন্দেহে কানাডার আইনের মুখে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।
পাঞ্জাবি প্রবাসীদের আতঙ্ক
লুধিয়ানায় সাহসির গ্রামে চলছে শোক ও ক্ষোভের মিশ্র পরিবেশ।
অনেকেই বলছেন —
“যে মানুষ নিজে পরিশ্রম করে সাম্রাজ্য গড়েছিলেন, তাকেই আজ অপরাধীরা খুন করল চাঁদাবাজির কারণে! এটা শুধু কানাডার নয়, আমাদের সমাজেরও ব্যর্থতা।”