Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ষষ্ঠীতেই বক্স অফিসে ছবির লড়াই! চার বাংলা ছবির মুক্তি, অন্য ভাষার সিনেমাতেও বড় চমক—কোন ছবিতে বাজিমাত?

দুর্গাপুজোর আনন্দের সঙ্গে ষষ্ঠীতেই জমে উঠতে চলেছে বক্স অফিসের লড়াই। পুজোর মরশুমে দর্শকদের মন জয় করতে বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে চারটি বাংলা ছবি। একদিকে বাংলা ছবির তারকাদের নতুন গল্প, অভিনয় ও চমকপ্রদ উপস্থাপনা, অন্যদিকে অন্য ভাষার সিনেমা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। ফলে পুজোর ছুটিতে কোন ছবি দেখতে হলে ভিড় জমাবেন দর্শক, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি কিংবা রহস্য বিভিন্ন স্বাদের ছবি দর্শকদের সামনে নতুন বিকল্প তুলে ধরতে চলেছে। বাংলা ছবির নির্মাতাদের কাছে এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উৎসবের মরশুমে দর্শক সমাগম ছবির ব্যবসায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন ছবি দর্শকদের মন জয় করবে এবং বক্স অফিসে বাজিমাত করবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। ষষ্ঠী থেকেই শুরু হচ্ছে সিনেমাপ্রেমীদের উৎসব, আর সেই লড়াইয়ে কোন ছবি এগিয়ে থাকবে, সেটাই এখন দেখার।

বষষ্ঠীতেই বক্স অফিসে ছবির লড়াই! চার বাংলা ছবির মুক্তি, অন্য ভাষার সিনেমাতেওড় চমক—কোন ছবিতে বাজিমাত?

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেল হপিং, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর উৎসবের আনন্দ। তবে এই উৎসবের সঙ্গে আরও একটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে—সিনেমা। পুজোর ছুটিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে নতুন ছবি দেখার আনন্দই আলাদা। আর সেই দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই ষষ্ঠীর দিন থেকে বড় পর্দায় ছবির লড়াই জমে ওঠার অপেক্ষা। এবারও বাংলা ছবির জগতে একাধিক নতুন ছবি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। চারটি বাংলা ছবির মুক্তির পাশাপাশি অন্য ভাষার সিনেমাও দর্শকদের সামনে নতুন বিকল্প তুলে ধরছে। ফলে পুজোর ছুটিতে কোন ছবি দেখবেন, কোন ছবির গল্প বেশি আকর্ষণ করবে এবং কোন ছবি বক্স অফিসে সাফল্য পাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী বাঙালির উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন থেকেই বহু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। শহরের রাস্তায় বাড়তে থাকে ভিড়, আলোর সাজে সেজে ওঠে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ, আর উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এই সময় সিনেমা হলগুলিতেও দর্শক সমাগম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিনে নতুন ছবি মুক্তি পেলে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তা নিয়ে আলাদা উৎসাহ দেখা যায়।

পুজোর মরশুমে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে নির্মাতাদের কাছে দর্শকদের মন জয় করা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই সময় দর্শকদের হাতে একাধিক বিনোদনের বিকল্প থাকে। কেউ প্যান্ডেল ঘুরতে ব্যস্ত থাকেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কেউ সিনেমা হলে বসে নতুন গল্প উপভোগ করতে চান। তাই দর্শকদের হলমুখী করতে ছবির গল্প, অভিনয়, পরিচালনা, প্রচার এবং দর্শকের সঙ্গে ছবির আবেগের সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এবার ষষ্ঠী থেকেই চারটি বাংলা ছবিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে প্রতিযোগিতার আবহ। একই সময়ে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পেলে দর্শকদের পছন্দের তালিকায় কোন ছবিটি প্রথম স্থান পাবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়। তার সঙ্গে অন্য ভাষার সিনেমা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতার পরিসর আরও বড় হতে পারে।

বাংলা সিনেমার দর্শক এখন নানা ধরনের গল্প দেখতে পছন্দ করেন। একদিকে যেমন পারিবারিক আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রেমের গল্প দর্শকদের আকর্ষণ করে, অন্যদিকে রহস্য, থ্রিলার, অ্যাকশন ও কমেডির প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। ফলে পুজোর মরশুমে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলির সামনে দর্শকদের মন জয় করার একাধিক সুযোগ রয়েছে।

চারটি বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়ার অর্থ শুধু চারটি নতুন গল্পের আগমন নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সময়ও। উৎসবের মরশুমে দর্শকদের মধ্যে সিনেমা দেখার প্রবণতা বাড়লে প্রেক্ষাগৃহে টিকিট বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। তবে শুধু উৎসবের সময় মুক্তি পেলেই কোনও ছবি সফল হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। দর্শকের প্রতিক্রিয়া, গল্পের গ্রহণযোগ্যতা, অভিনয়ের মান এবং মুখে মুখে প্রচারের ওপরও ছবির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

একটি ছবির প্রচার যতই জোরালো হোক, শেষ পর্যন্ত দর্শক সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে কী অনুভূতি নিয়ে ফিরছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক যদি গল্পের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন, চরিত্রগুলির আবেগ অনুভব করেন কিংবা ছবির বিনোদনমূল্য উপভোগ করেন, তাহলে সেই ছবি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার প্রত্যাশা বেশি থাকলেও গল্প বা নির্মাণ দর্শকের মনমতো না হলে বক্স অফিসে তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এবারের পুজোয় চারটি বাংলা ছবির মধ্যে কোনটি দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করবে, তা নির্ধারণ করার জন্য শুধু তারকাদের জনপ্রিয়তার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। ছবির বিষয়বস্তু এবং দর্শকের প্রকৃত প্রতিক্রিয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের সিনেমার লড়াইয়ের আরেকটি আকর্ষণ হল অন্য ভাষার ছবির উপস্থিতি। বাংলা ভাষার ছবি দেখতে ভালোবাসেন এমন দর্শকদের মধ্যেও হিন্দি, দক্ষিণ ভারতীয় কিংবা অন্যান্য ভাষার সিনেমা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন ভাষার ছবি এখন নানা মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে কোনও ছবির ভাষা দর্শকের আগ্রহের একমাত্র মাপকাঠি নয়।

বিশেষ করে অ্যাকশন, থ্রিলার, কল্পবিজ্ঞান, রহস্য কিংবা বড় বাজেটের দৃশ্যনির্ভর সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল দেখা যায়। অন্য ভাষার কোনও ছবির গল্প বা উপস্থাপনা যদি দর্শকদের আকর্ষণ করে, তাহলে বাংলা ছবির পাশাপাশি সেই ছবিও পুজোর সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে আসল প্রতিযোগিতা। বাংলা ছবির নির্মাতাদের একদিকে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্প তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে অন্য ভাষার ছবির সঙ্গে একই দর্শকের মনোযোগ পাওয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তবে এই প্রতিযোগিতাকে শুধু বাংলা বনাম অন্য ভাষার লড়াই হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। দর্শকদের জন্য একাধিক ভালো ছবি মুক্তি পাওয়া সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্র জগতের পক্ষেই ইতিবাচক।

একজন দর্শক একই উৎসবে বাংলা ছবি দেখতে পারেন, আবার অন্য দিন অন্য ভাষার সিনেমাও উপভোগ করতে পারেন। তাঁর কাছে মূল আকর্ষণ হল ভালো গল্প, মানসম্মত অভিনয় এবং বিনোদনের অভিজ্ঞতা। তাই পুজোর বক্স অফিসে কোন ছবি এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারণে দর্শকের পছন্দই শেষ কথা বলবে।

চলচ্চিত্রের ব্যবসায় উৎসবের মরশুম দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। দুর্গাপুজোর সময় বহু মানুষ কাজের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা অবসর পান। স্কুল-কলেজের ছুটি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ এবং উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে বিনোদনের চাহিদা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সিনেমা হল নতুন ছবি দেখার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে।

তবে পুজোর সময় ছবির ব্যবসার সম্ভাবনা যেমন বেশি, তেমনই প্রতিযোগিতাও তীব্র। একই সময়ে একাধিক ছবি মুক্তি পেলে দর্শকদের মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়। একটি ছবি যদি প্রথম সপ্তাহেই ভালো সাড়া পায়, তাহলে পরবর্তী দিনগুলিতেও তার দর্শকসংখ্যা বাড়তে পারে। আবার অন্য কোনও ছবি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেলে প্রথম দিকে তুলনামূলক কম প্রচার থাকা সত্ত্বেও দর্শকের আগ্রহ অর্জন করতে পারে।

সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য বিচার করার সময় শুধু প্রথম দিনের আয় দেখলেই সম্পূর্ণ ছবি বোঝা যায় না। প্রথম দিনের দর্শকসংখ্যা, পরবর্তী দিনের টিকিট বিক্রি, প্রেক্ষাগৃহের শোয়ের সংখ্যা, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং সামগ্রিক আয়ের প্রবণতা—সবকিছু বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছবির বাজেট ও প্রচারের খরচের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে ষষ্ঠীর দিন থেকেই কোন ছবি কতটা সাড়া পাচ্ছে, তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও প্রথম কয়েক ঘণ্টার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। অনেক সময় দর্শকের মুখে মুখে প্রচারই কোনও ছবির ব্যবসাকে নতুন গতি দেয়।

বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দর্শক টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরিচিত মুখকে বড় পর্দায় দেখার জন্য অনেক দর্শক আগাম আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারকার উপস্থিতি ছবির প্রচারেও সাহায্য করে। ট্রেলার, গান, সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে দর্শকের কাছে ছবির পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব হয়।

তবে তারকা থাকলেই ছবি সফল হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। জনপ্রিয় অভিনেতার অভিনয়ও তখনই দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে, যখন চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য হয় এবং গল্পের সঙ্গে তার যথাযথ সংযোগ থাকে। একটি শক্তিশালী চিত্রনাট্য, দক্ষ পরিচালনা, উপযুক্ত সম্পাদনা এবং সঙ্গীত ছবিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

আবার নতুন মুখের ছবিও দর্শকদের চমকে দিতে পারে। যদি গল্পে নতুনত্ব থাকে এবং নির্মাণে যত্নের ছাপ দেখা যায়, তাহলে দর্শক সেই ছবির প্রতি আগ্রহী হতে পারেন। অনেক সময় কোনও ছবির প্রচার শুরুতে খুব বেশি নজর কাড়ে না, কিন্তু মুক্তির পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে সেটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

এই কারণেই চারটি বাংলা ছবির মধ্যে কোনটি বাজিমাত করবে, তা নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। দর্শক কোন গল্পকে বেশি আপন করে নেবেন, কোন চরিত্র তাঁদের মনে থাকবে এবং কোন ছবি নিয়ে বেশি আলোচনা হবে, তা মুক্তির পরই স্পষ্ট হতে শুরু করবে।

news image
আরও খবর

বক্স অফিসের প্রতিযোগিতা মানেই শুধু কে বেশি টাকা আয় করল, তা নয়। একটি ছবির দর্শকসংখ্যা, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা, সমালোচকদের মতামত এবং দর্শকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও ছবির জনপ্রিয়তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এই সব মাপকাঠি এক নয়। কোনও ছবি সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও তার ব্যবসা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে। আবার কোনও বিনোদনমূলক ছবি দর্শকের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে।

পুজোর সময় পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্রবণতা থাকায় ছবির বিষয়বস্তুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনও ছবি পারিবারিক দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শক টানতে পারে। অন্যদিকে তরুণ দর্শকদের আকর্ষণ করা অ্যাকশন বা থ্রিলারধর্মী ছবি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় হতে পারে।

এছাড়া শহর ও মফস্‌সলের দর্শকদের পছন্দের মধ্যেও পার্থক্য থাকতে পারে। কোনও ছবি কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে ভালো সাড়া পেলেও অন্য অঞ্চলে তার প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই সামগ্রিক সাফল্য বুঝতে হলে বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকসংখ্যা এবং ব্যবসার প্রবণতা বিবেচনা করা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে ষষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া ছবির লড়াই শুধু একটি দিনের প্রতিযোগিতা নয়। উৎসবের পরবর্তী দিনগুলিতে দর্শকদের আগ্রহ কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে দর্শকদের সামনে বিনোদনের একাধিক মাধ্যম রয়েছে। সিনেমা হলের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ছবি দেখার সুযোগ রয়েছে। তবু বড় পর্দায় নতুন ছবি দেখার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বড় পর্দার দৃশ্য, উন্নত শব্দব্যবস্থা এবং একসঙ্গে অনেক দর্শকের প্রতিক্রিয়া সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে অন্য মাত্রা দেয়।

বিশেষ করে উৎসবের সময় সিনেমা দেখতে যাওয়া অনেক পরিবারের কাছে একটি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ। ঠাকুর দেখা, খাওয়াদাওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি সিনেমা দেখা পুজোর আনন্দ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সময় নতুন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ তৈরি হয়।

তবে টিকিটের দাম, যাতায়াতের খরচ, শোয়ের সময় এবং প্রেক্ষাগৃহের অবস্থানও দর্শকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। দর্শক কোন ছবি দেখতে যাবেন, তা শুধু ছবির নাম বা তারকার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না। সুবিধাজনক সময়ে শো পাওয়া এবং পরিবারের সবার পছন্দের সঙ্গে ছবির বিষয়বস্তু মিলে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে চারটি বাংলা ছবি এবং অন্য ভাষার সিনেমার মধ্যে দর্শকের পছন্দ ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একেকটি ছবি একেক ধরনের দর্শককে আকর্ষণ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত যে ছবি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করবে, সেটিই আলোচনায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

এবারের পুজোয় চারটি বাংলা ছবির মুক্তি সিনেমাপ্রেমীদের সামনে একাধিক বিকল্প এনে দিচ্ছে। পাশাপাশি অন্য ভাষার সিনেমার উপস্থিতি এই প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে কোন ছবিটি বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তার জন্য ছবিগুলির মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, টিকিট বিক্রি এবং পরবর্তী দিনের ব্যবসার তথ্যের দিকে নজর রাখতে হবে।

একটি ছবির ট্রেলার দেখে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হতে পারে, কিন্তু পুরো ছবির অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত তাঁর মতামত নির্ধারণ করবে। আবার কোনও ছবির গল্প বা অভিনয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হলে সেই আগ্রহ আরও অনেক দর্শকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে পুজোর বক্স অফিসে প্রথম দিন থেকেই প্রতিযোগিতা থাকলেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ধারাবাহিক দর্শক সমর্থনের ওপর।

বাংলা সিনেমার জন্যও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকেরা যদি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বাংলা ছবিকে সমর্থন করেন, তাহলে নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা এবং বিভিন্ন ধরনের ছবির জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য ভাষার ভালো সিনেমা দেখার স্বাধীনতাও দর্শকদের বিনোদনের পরিসর বাড়ায়।

সব মিলিয়ে ষষ্ঠী থেকেই শুরু হচ্ছে সিনেমাপ্রেমীদের নতুন উত্তেজনা। চারটি বাংলা ছবি, অন্য ভাষার সিনেমার চমক এবং উৎসবের আবহ—সব মিলিয়ে এবারের পুজোর সিনেমার লড়াই হতে চলেছে নজরকাড়া। তবে শেষ পর্যন্ত কোন ছবি দর্শকের মন জয় করবে, কোন ছবি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে এবং কোন ছবি বক্স অফিসে এগিয়ে থাকবে, তার উত্তর দেবে দর্শকদের ভালোবাসা ও মুক্তির পরের ব্যবসার পরিসংখ্যান।

পুজোর সময় ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা হল দর্শকের প্রত্যাশা। কোনও ছবির ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দর্শকেরা তার গল্প, অভিনয়শিল্পী এবং নির্মাণ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ট্রেলার প্রকাশের পর সেই আগ্রহ কখনও বাড়ে, কখনও আবার দর্শকের মনে তৈরি হয় নতুন প্রশ্ন। ফলে মুক্তির আগের প্রচার এবং মুক্তির পরের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

চারটি বাংলা ছবির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। একই সময়ে একাধিক ছবি মুক্তি পেলে দর্শকের হাতে পছন্দের সুযোগ বাড়ে। কেউ পরিচিত অভিনেতার ছবি দেখতে চাইবেন, কেউ আবার নতুন ধরনের গল্পের খোঁজ করবেন। আবার অনেক দর্শক এমন ছবি পছন্দ করেন, যা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। এই বিভিন্ন ধরনের পছন্দের কারণেই বক্স অফিসের ফলাফল সব সময় আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হয় না।

অন্য ভাষার ছবির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনও ছবির জনপ্রিয়তা, প্রচারের ব্যাপ্তি এবং দর্শকদের আগ্রহ তার ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলা ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য শুধু বড় বাজেট বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচার যথেষ্ট নয়। দর্শকের কাছে ছবির গল্প কতটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে, সেটাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্গাপুজোর আনন্দে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা বহু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। ষষ্ঠী থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের আগ্রহ কোন দিকে যায়, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সিনেমাপ্রেমীরা। চারটি বাংলা ছবির পাশাপাশি অন্য ভাষার সিনেমাও দর্শকদের সামনে বিকল্প তৈরি করছে। ফলে এবারের পুজোয় সিনেমা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা যে জমবে, তা বলাই যায়।

তবে কোনও ছবিকে আগেভাগে বক্স অফিসের বিজয়ী ঘোষণা করা ঠিক হবে না। মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক ব্যবসার তথ্যই সাফল্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে। প্রথম দিনের ভালো সাড়া যেমন ইতিবাচক সূচনা হতে পারে, তেমনই পরবর্তী দিনগুলিতে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখাও জরুরি।

এবারের পুজোয় কোন বাংলা ছবি দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করবে, কোন ছবির গল্প মনে দাগ কাটবে এবং অন্য ভাষার কোনও সিনেমা প্রতিযোগিতায় চমক দেখাবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ থাকছেই। তাই সিনেমাপ্রেমীদের নজর এখন ষষ্ঠীর মুক্তির দিকে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে বড় পর্দার এই লড়াইও হয়ে উঠতে পারে পুজোর অন্যতম আলোচিত বিষয়।

সম্পাদকীয় নোট: নির্দিষ্ট চারটি বাংলা ছবি ও অন্য ভাষার ছবির নাম এই শিরোনামে উল্লেখ নেই। তাই এখানে সাধারণভাবে পুজোর সিনেমা ও বক্স অফিসের প্রতিযোগিতা নিয়ে লেখা হয়েছে। ছবির নাম ও মুক্তির তথ্য দিলে প্রতিবেদনটি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত করা যাবে।

Preview image