Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শুভমনের ইচ্ছেপূরণ, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা বোর্ডের

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় শুরুর আগে লাল বলে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারত। শুভমন গিলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রস্তুতির বিশেষ ব্যবস্থা করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

শুভমনের দাবি মেনে নিউ জ়িল্যান্ড সফরের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে ভারত, টেস্টের প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব বোর্ডের

অক্টোবরের শেষের দিকে নিউ জ়িল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সেখানে তিন ফরম্যাটের সিরিজ় খেলবে ভারত। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পাশাপাশি আসন্ন টেস্ট সিরিজ়কে ঘিরেও এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই লক্ষ্যেই টেস্ট সিরিজ় শুরুর আগে লাল বলে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অধিনায়ক শুভমন গিল বছরের শুরুতে যে দাবি জানিয়েছিলেন, এ বার সেই দাবিকে গুরুত্ব দিতে চলেছে বোর্ড। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের সামনে এই প্রস্তুতি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলা বরাবরই ভারতের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেখানকার আবহাওয়া, পিচের চরিত্র এবং বোলারদের সুইং আদায় করে নেওয়ার ক্ষমতা ব্যাটারদের সামনে বড় পরীক্ষা তৈরি করে। বিশেষ করে নতুন বলে নিউ জ়িল্যান্ডের পেসারদের সামলানো সহজ নয়। তাই টেস্ট সিরিজ়ের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া ভারতীয় দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অনুশীলন করে নয়, ম্যাচের পরিস্থিতিতে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেই এই চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হতে চাইছে দল।

শুভমন গিলের দাবিকে গুরুত্ব বোর্ডের

ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমন গিল আগেই বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ়ের আগে ক্রিকেটারদের যেন পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিদেশের মাটিতে গিয়ে সরাসরি টেস্ট খেলতে নামার পরিবর্তে সেখানকার পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় পাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যে সব ক্রিকেটার আগে নিউ জ়িল্যান্ডে টেস্ট খেলেননি, তাঁদের জন্য এই ধরনের ম্যাচ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে ব্যাটারেরা বুঝতে পারবেন, সেখানকার পিচে বল কী ভাবে ব্যাটে আসছে, নতুন বলে কতটা সুইং হচ্ছে এবং কোন ধরনের শট খেলা বেশি কার্যকর। একই ভাবে বোলারেরাও সেখানকার পরিবেশে নিজেদের লাইন ও লেংথের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে মূল সিরিজ় শুরু হওয়ার আগে দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার নিজেদের প্রস্তুতির জায়গাগুলি বুঝে নিতে পারবেন।

দীর্ঘ সফরে অনেক সময় সূচির চাপে প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ পাওয়া যায় না। ফলে ক্রিকেটারদের নেট অনুশীলন করেই মূল ম্যাচে নামতে হয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ এবং কৌশলনির্ভর ফরম্যাটে ম্যাচের অভিজ্ঞতা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। সেই কারণেই শুভমনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে বোর্ড।

কবে হতে পারে প্রস্তুতি ম্যাচ?

ভারত এ এবং নিউ জ়িল্যান্ড এ দলের তৃতীয় বেসরকারি টেস্ট শেষ হওয়ার পরে এবং মূল দলের টেস্ট সিরিজ় শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচটি আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হলে ভারতীয় দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারেরা লাল বলে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের চূড়ান্ত সূচি, প্রতিপক্ষ এবং প্রথম সারির কোন কোন ক্রিকেটার খেলবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আপাতত মূল লক্ষ্য হল, টেস্ট সিরিজ়ের আগে ক্রিকেটারদের যতটা সম্ভব ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া।

একটি প্রস্তুতি ম্যাচ যে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে, এমন নয়। কিন্তু বিদেশের পরিবেশে টেস্টের আগে লাল বলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। ব্যাটারেরা নিজেদের টেকনিক যাচাই করার সুযোগ পাবেন। বোলারেরা বুঝতে পারবেন, কোন জায়গায় বল ফেললে সেখানকার পিচ থেকে বেশি সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ফিল্ডিং এবং ম্যাচের কৌশল নিয়েও দল প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করতে পারবে।

২০২০ সালের স্মৃতি ভুলতে চায় ভারত

নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে ভারতের শেষ টেস্ট সফরের স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই টেস্টের সিরিজ় খেলতে গিয়ে দু’টি ম্যাচেই হারতে হয়েছিল ভারতকে। সেই সিরিজ়ে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের সামনে ভারতীয় ব্যাটিংকে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। বিশেষ করে পেস ও সুইংয়ের সহায়তা পাওয়া পিচে ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ় জিততে হলে শুধু দক্ষতা থাকলেই চলে না, স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াও জরুরি। নিউ জ়িল্যান্ডের পিচে বলের গতিপ্রকৃতি, বাউন্স এবং সুইংয়ের চরিত্র উপমহাদেশের পরিচিত পরিবেশের থেকে আলাদা হতে পারে। তাই সফরের শুরুতেই এই বিষয়গুলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে টেস্ট ম্যাচে তার প্রভাব পড়ে।

২০২০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এ বার বাড়তি সতর্ক ভারতীয় শিবির। টেস্ট সিরিজ়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ পেলে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে দলের নতুন ক্রিকেটারদের জন্য এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যাঁরা আগে নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেননি, তাঁদের কাছে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ এবং স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের লক্ষ্য

ভারতের প্রস্তুতির পিছনে শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় জেতার লক্ষ্য নেই। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখেও টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছে দল। দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় প্রতিটি সিরিজ়ের ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিদেশের মাটিতে খেলার সময় ছোট ছোট ভুলও অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

তাই টেস্ট সিরিজ়ের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হলে তা ভবিষ্যতের জন্যও কার্যকর হতে পারে। ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা চিহ্নিত করা, বোলিংয়ের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং দলের ভারসাম্য ঠিক করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে ভাল ফল করতে হয়। তার জন্য দেশের বাইরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিশেষ প্রয়োজন। নিউ জ়িল্যান্ডের মতো জায়গায় টেস্ট খেলতে নামার আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলন সেই প্রস্তুতিরই একটি অংশ। বোর্ডের এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে বিদেশের মাটিতে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

শুভমন, রাহুল, বুমরাহদের দিকে নজর

প্রস্তুতি ম্যাচটি হলে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ভারতের প্রথম সারির টেস্ট ক্রিকেটারদের দিকে। শুভমন গিল, কেএল রাহুল, জসপ্রীত বুমরাহ এবং রবীন্দ্র জাডেজার মতো ক্রিকেটারেরা সেই ম্যাচে খেলবেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা হলেও টেস্ট ক্রিকেটে দলের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

শুভমন গিলের সামনে থাকবে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে টেস্ট সিরিজ়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের পরিকল্পনাও যাচাই করে নিতে পারবেন। পেসারদের বিরুদ্ধে নতুন বলে ব্যাটিং করা, অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়া এবং ইনিংসের শুরুতে ধৈর্য ধরে খেলার মতো বিষয়গুলি ম্যাচের মধ্যে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন তিনি।

কেএল রাহুলের অভিজ্ঞতাও দলের কাজে লাগতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে ধৈর্য, মনোযোগ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরন বদলানোর ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেলে তিনি নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন সিরিজ়ের জন্য পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারবেন।

জসপ্রীত বুমরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে বোলিংয়ের ছন্দ এবং সঠিক লেংথ খুঁজে নেওয়া। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে পেসারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বুমরাহ কী ভাবে নিজের দক্ষতা কাজে লাগান, তা দেখার বিষয়। প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করলে তিনি স্থানীয় পিচের চরিত্র বুঝে নিতে পারবেন এবং মূল সিরিজ়ের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল তৈরি করতে পারবেন।

অন্য দিকে, রবীন্দ্র জাডেজার মতো অলরাউন্ডারের ভূমিকা টেস্ট ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই তাঁর অবদান দলকে ভারসাম্য দেয়। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেলে তিনি লাল বলের ক্রিকেটে নিজের ছন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ভূমিকায় বেশি কার্যকর হতে পারেন, তা বুঝে নিতে পারবেন।

news image
আরও খবর

তবে এই ক্রিকেটারেরা প্রত্যেকেই প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবেন, এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। তাঁদের ওয়ার্কলোড, শারীরিক অবস্থা এবং টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার উপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

এক দিনের সিরিজ়ের পর টেস্টের প্রস্তুতি

ভারতের এক দিনের সিরিজ় শেষ হওয়ার কথা ১৫ নভেম্বর। তার পরে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর। অর্থাৎ দুই সিরিজ়ের মধ্যে সময় খুব বেশি নেই। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদের সাদা বলের ক্রিকেট থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ সরাতে হবে। টেস্টের প্রস্তুতির জন্য আলাদা করে সময় বের করা তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শুভমন গিল-সহ কয়েক জন টেস্ট ক্রিকেটার যে এক দিনের সিরিজ়ের শেষ দু’টি ম্যাচে খেলবেন না, তা আগেই জানা গিয়েছে। এর ফলে তাঁদের সামনে টেস্টের প্রস্তুতির জন্য কিছুটা বাড়তি সময় তৈরি হতে পারে। সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো সম্ভব হলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

সীমিত ওভারের ক্রিকেট এবং টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য অনেক। এক দিনের ম্যাচে দ্রুত রান তোলা এবং নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে পরিকল্পনা কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে, টেস্টে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য ধৈর্য ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

সাদা বলের ক্রিকেট থেকে লাল বলে ফিরে আসার জন্য ব্যাটারদের টেকনিকের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। প্রস্তুতি ম্যাচে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বোলারেরা টেস্টের দীর্ঘ স্পেলে বল করার অভ্যাস ফিরে পেতে পারেন। ফলে মূল সিরিজ়ের আগে দলের প্রস্তুতি আরও সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি সুযোগ

বর্তমান ভারতীয় টেস্ট দলের অনেক ক্রিকেটারেরই নিউ জ়িল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাঁদের কাছে এই সফর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। পরিচিত পরিবেশে ভাল খেলা এবং বিদেশের মাটিতে একই পারফরম্যান্স ধরে রাখা এক বিষয় নয়। বিশেষ করে সিমিং পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে পেস আক্রমণের মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

প্রস্তুতি ম্যাচে নতুন ক্রিকেটারেরা নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পাবেন। কোন ধরনের বল খেলতে সমস্যা হচ্ছে, কোন জায়গায় বোলিং আরও উন্নত করা প্রয়োজন এবং ফিল্ডিংয়ে কোথায় সতর্ক থাকতে হবে, তা বোঝা সম্ভব হবে। কোচিং স্টাফেরাও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে মূল সিরিজ়ের আগে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।

এই ধরনের ম্যাচে রান বা উইকেট পাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং ম্যাচের পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বোঝা এবং নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটে একটি ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রস্তুতি ম্যাচে সেই ভুলগুলি করার এবং সেগুলি থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকে।

ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পরিকল্পনা তৈরির সুযোগ

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য নতুন বল সামলানো বড় পরীক্ষা হতে পারে। শুরুতে উইকেট না হারিয়ে ইনিংস গড়ে তোলা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী রান করার গতি নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি ম্যাচে এই বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদের জন্যও প্রস্তুতি ম্যাচ সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিউ জ়িল্যান্ডের পিচে কোথায় বল ফেললে সুইং বা সিম মুভমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, তা বোঝার সুযোগ থাকবে। পেসারদের জন্য দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করা এবং ধারাবাহিক ভাবে একই জায়গায় বল রাখার অভ্যাস ফিরে পাওয়া প্রয়োজন। স্পিনারদেরও বুঝতে হবে, পিচ থেকে কতটা সাহায্য পাওয়া যেতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁদের ব্যবহার করা কার্যকর হবে।

দলের ফিল্ডিং সাজানো, প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর ক্ষেত্রেও এই ম্যাচ কাজে লাগতে পারে। মূল টেস্টে নামার আগে যত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে, ততই প্রস্তুতি আরও মজবুত হবে।

প্রস্তুতি ম্যাচে কী কী দেখার থাকবে?

প্রস্তুতি ম্যাচটি আয়োজন করা হলে কয়েকটি বিষয় বিশেষ ভাবে নজরে থাকবে। প্রথমত, শুভমন গিল এবং কেএল রাহুলের মতো ব্যাটারেরা কতটা সময় ক্রিজ়ে কাটাতে পারেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হবে। দ্বিতীয়ত, জসপ্রীত বুমরাহ-সহ ভারতীয় পেসাররা নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে কেমন বোলিং করেন, তা দেখার বিষয়। তৃতীয়ত, রবীন্দ্র জাডেজার মতো অলরাউন্ডারেরা ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেদিকেও নজর থাকবে।

এর পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্ট কী ভাবে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে খেলানো হবে, নাকি নির্দিষ্ট কয়েক জন ক্রিকেটারকে বেশি সময় দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে দলের প্রয়োজনের উপর। কারও ম্যাচ অনুশীলনের প্রয়োজন বেশি হলে তাঁকে ব্যাটিং বা বোলিংয়ের জন্য বেশি সময় দেওয়া হতে পারে। আবার শারীরিক ধকলের কথা মাথায় রেখে কোনও ক্রিকেটারকে সীমিত সময়ের জন্য খেলানোও হতে পারে।

প্রস্তুতি ম্যাচের ফলের চেয়ে দলের প্রস্তুতির মান এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যাটার বড় রান না পেলেও যদি দীর্ঘ সময় ব্যাট করে নিজের টেকনিক যাচাই করতে পারেন, তা তাঁর জন্য কার্যকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। একই ভাবে কোনও বোলার বেশি উইকেট না পেলেও যদি সঠিক লাইন ও লেংথে ধারাবাহিক ভাবে বল করতে পারেন, তা মূল সিরিজ়ের আগে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কঠিন সফরের আগে সঠিক পদক্ষেপ?

বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ় জিততে হলে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা—তিনটিই প্রয়োজন। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের ভাবনা সেই দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। শুভমন গিল যে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন, বোর্ড সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই এই উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে।

২০২০ সালের সফরে পাওয়া ধাক্কা ভারতীয় দল নিশ্চয়ই ভুলতে চাইবে। তবে অতীতের ফল বদলানোর জন্য শুধু আগের ভুলের কথা মনে রাখলেই হবে না, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিকেটারেরা নিজেদের তৈরি করার সুযোগ পেলে তা টেস্ট সিরিজ়ে কাজে লাগতে পারে।

সব কিছু ঠিক থাকলে ভারতীয় দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারদের সামনে নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে লাল বলে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। শুভমন গিল, কেএল রাহুল, জসপ্রীত বুমরাহ এবং রবীন্দ্র জাডেজার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ক্রিকেটারেরাও বিদেশের পরিবেশে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের চূড়ান্ত সূচি এবং ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি আয়োজন করা হলে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ের আগে ভারতীয় দলের প্রস্তুতি আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। লাল বলের ক্রিকেটে শুভমনদের সামনে যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, তার আগে এই বাড়তি সুযোগ কতটা কাজে লাগে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটমহলের।

Preview image