বিচ্ছেদের পর সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। এ বছর ভাইফোঁটায় প্রাক্তন দেওর সায়ককে ফোঁটা দিলেন না অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়।২০২৪ সালে সায়ককে ফোঁটা দিয়েছিলেন সুস্মিতা, কিন্তু এ বছর নেই সেই দৃশ্য। সমাজমাধ্যমে জল্পনা তুঙ্গে।বিচ্ছেদের পর দূরত্ব বাড়ছে? ভাইফোঁটায় সায়ক–সুস্মিতা এক ফ্রেমে নেই।ভাইফোঁটায় সায়ককে নয়, নিজের ভাইকেই ফোঁটা দিলেন সুস্মিতা রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নের ঝড়।সায়ক–সুস্মিতা দু’জনেই জানিয়েছেন, তিক্ততা নেই, তবে এখন দু’জনেই নিজেদের মতো জীবন সাজাচ্ছেন।
২০২৪ সালেও স্বামীর ভাই সায়ক চক্রবর্তীকে ভাইফোঁটা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। সেই সময় ছবিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়— হাসিমুখে ফোঁটা দিচ্ছেন সুস্মিতা, পাশে দাঁড়িয়ে সায়ক। অনেকেই বলেছিলেন, এ যেন এক আদর্শ শ্বশুরবাড়ির বন্ধন! কিন্তু বছর ঘুরতেই ছবিটা বদলে গেল। ২০২৫-এর ভাইফোঁটায় আর দেখা গেল না সেই দৃশ্য।
এ বছর নিজের ভাইকেই ফোঁটা দিয়েছেন অভিনেত্রী, সেই ছবিও নিজেই পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে। কিন্তু পুরনো দর্শকরা যেন সেটাতেই শান্তি পেলেন না। একের পর এক মন্তব্যে দেখা গেল প্রশ্নের স্রোত — “সায়ককে ফোঁটা দেবেন না?” “সায়ক কোথায় গেল?” এমনকি কেউ কেউ পুরনো ভাইফোঁটার ছবি আবার শেয়ার করতে শুরু করেছেন, সঙ্গে নানান জল্পনা-কল্পনা।
সুস্মিতা রায় ও তাঁর স্বামী অর্ণব চক্রবর্তীর বিচ্ছেদ হয়েছে কয়েক মাস আগে। একসময় এই জুটি ছিল টেলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত দম্পতি। একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হতেন, একে অপরের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের রসায়ন বদলে যায়।
বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটমাধ্যমে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল— কী কারণে আলাদা হলেন তাঁরা, তৃতীয় কোনও ব্যক্তি কি এর মধ্যে ছিলেন, নাকি শুধুই মতভেদের কারণে এই সিদ্ধান্ত? কিন্তু দু’জনেই খুব সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা কেউ কারও বিরুদ্ধে নই। শুধু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, একসঙ্গে থাকা আমাদের দু’জনের জন্যই ঠিক নয়।”
এই সম্পর্কের ছেদ পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সুস্মিতার সঙ্গে তাঁর প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ঠিক সেই কারণেই, হয়তো, এ বছর ভাইফোঁটায় দেখা গেল না দেওর সায়ক চক্রবর্তীকে।
২০২৪ সালে ভাইফোঁটার সকালে সুস্মিতা পোস্ট করেছিলেন কয়েকটি ছবি। তাতে দেখা গিয়েছিল, ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরে হাসিমুখে ফোঁটা দিচ্ছেন তিনি সায়ককে। পাশে ছিল মিষ্টির থালা, আর রঙিন আলপনা। ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “ভাইয়ের মুখে হাসি থাক, মন যেন থাকে চনমনে।”
ছবিগুলি ভাইরাল হয়েছিল মুহূর্তেই। দর্শকরা প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন কমেন্ট সেকশন — “আপনাদের সম্পর্ক সত্যিই দারুণ!”, “বউদি-দেওর জুটির মতো আদর্শ সম্পর্ক দেখা যায় খুব কম।”
কিন্তু কে জানত, সেই ছবি-ভরা সম্পর্কের পাতা এত দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে!
২০২৫ সালের ভাইফোঁটায় দেখা গেল এক অন্য চিত্র। সায়ক চক্রবর্তী নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে কয়েকটি ছবি শেয়ার করলেন, যেখানে তাঁকে ফোঁটা দিচ্ছেন অভিনেত্রী প্রেরণা ভট্টাচার্য। দু’জনের মধ্যেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বহুদিনের, এবং টেলিপাড়ায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখনই সেই ছবি প্রকাশ্যে এলো, দর্শকরা তুলনা টানতে শুরু করলেন আগের বছরগুলির সঙ্গে।
অনেকে বললেন, “সুস্মিতার জায়গায় এ বছর প্রেরণা?” কেউ আবার লিখলেন, “সবাই নতুন জীবনে এগিয়ে যাচ্ছেন, ভালোই।” আবার কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, “যা হোক, সম্পর্কের বন্ধনটা সময়ের সঙ্গে বদলে গেল।”
এই পুরো প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি সুস্মিতা রায়। ভাইফোঁটার ছবিতে তিনি শুধু লিখেছেন— “ভাইয়ের জন্য শুভেচ্ছা, চিরদিন থাকুক তার মুখে হাসি।” কোথাও কোনও ইঙ্গিত নেই অতীত সম্পর্কের প্রতি, নেই কোনও অভিযোগও।
তবে দর্শকেরা নীরব নন। কেউ কেউ লিখেছেন, “সায়ককে ফোঁটা দেবেন না?” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “একটা সময় ভাইফোঁটা মানেই ছিল সায়কের সঙ্গে সুস্মিতা। এখন শুধু স্মৃতি।”
এমনকি অনেকেই পুরনো ভাইফোঁটার ছবি তুলে ধরে বলেছেন, “ওই সময়টা কত সুন্দর ছিল!”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন আলোচনা যে কত দ্রুত ছড়ায়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
এর আগেও এমনই এক মুহূর্তে নজর কেড়েছিলেন এই প্রাক্তন জুটি। রাখিপূর্ণিমায় সায়ক জানিয়েছিলেন, “প্রতি বছরই রাখি পরায়, এ বছর একটা কলও করল না।” সেই কথাই শিরোনাম হয়েছিল টেলিপাড়ায়।
যদিও কিছুদিন পরেই সুস্মিতা তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন— “শুভ জন্মদিন সায়ক, সুখে থেকো।” অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, সম্পর্কের বরফ গলছে হয়তো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, দু’জনেই কেবল নিজের নিজের মতো করে শান্ত জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সুস্মিতা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “সব সম্পর্কই তো চিরকাল টিকে না। কোনও সম্পর্ক ভাঙলে সেটা সবসময় খারাপ কিছু হয় না। অনেক সময় ভাঙন মানে নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়া।”
অন্যদিকে, সায়ক বলেছিলেন, “আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের মতো— দূর থেকে ভালো চাই।”
এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তাঁরা একে অপরকে দোষ দিচ্ছেন না। বরং, নিজের মতো করে জীবন সাজানোর পথ বেছে নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা মত প্রকাশ করেছেন দর্শকরা। কেউ কেউ বলছেন, “ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অত আলোচনা না করাই ভালো।” আবার কেউ মন্তব্য করছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন সব কিছু শেয়ার করা হয়, তখন প্রশ্নও উঠবেই।”
একটি ফ্যান পেজে দেখা গেছে, এক অনুসারী লিখেছেন, “সুস্মিতা খুব সংযতভাবে বিষয়টা সামলেছেন। কাউকে খারাপ দেখানোর চেষ্টা করেননি।”
আরেকজনের মন্তব্য, “সায়কও এখন নিজের কেরিয়ারে মন দিচ্ছেন, পুরনো সম্পর্ক টেনে এনে লাভ নেই।”
এই দুই দিক থেকেই বোঝা যায়, দর্শকরা তাঁদের ভালোবাসেন, তবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কৌতূহল প্রচুর।
টেলিপাড়ার সহ-অভিনেতা ও সহকর্মীদের কাছ থেকেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ বলেছেন, “দু’জনেই পরিণত মনোভাব দেখিয়েছেন।” কেউ আবার মৃদু হাসি দিয়ে বলেছেন, “এমন তো হয়ই, কাজের জায়গায় দেখা হয়েই যায়, তাই বন্ধুত্বটা থাকুক।”
কিছু ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সুস্মিতা এখন নতুন একটি ধারাবাহিকের কাজে ব্যস্ত, যেখানে তিনি একদম নতুন চরিত্রে অভিনয় করছেন। ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতনের পর পেশাদার জীবনে নতুন করে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
প্রাক্তন স্বামী অর্ণবের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সুস্মিতা এখন একাই থাকেন। মাঝে মাঝে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় তাঁকে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর পোস্টগুলিতে এখন ইতিবাচক বার্তাই বেশি— “নিজের সুখ নিজেকেই তৈরি করতে হয়”, “নতুন সকাল, নতুন আমি”— এমন ক্যাপশনই যেন জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।
সায়কও পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি তিনি একটি নতুন সিরিয়ালের শুটিং শুরু করেছেন, এবং বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রেরণা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েও তিনি বলেছেন, “ও শুধু ভালো বন্ধু, এর বেশি কিছু নয়।”
সব মিলিয়ে, দু’জনেই যেন নিজেদের জীবনে নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন।
সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলায়— কখনও কাছাকাছি, কখনও দূরে। সুস্মিতা রায় ও সায়ক চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হচ্ছে। একসময় ভাইফোঁটা ছিল তাদের পারিবারিক আনন্দের দিন, এখন সেটাই দর্শকদের মনে এক নস্টালজিক স্মৃতি।
তবে তাঁদের নীরবতা থেকেই যেন একটিই বার্তা পাওয়া যায়— সম্পর্ক ভাঙলেও শ্রদ্ধা যেন অটুট থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, সেখানে ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু সুস্মিতা রায় ও সায়ক চক্রবর্তী সেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, নিজের নিজের মতো করে।
তাই ভাইফোঁটায় যদিও তাঁদের আর একসঙ্গে দেখা গেল না, তবু দর্শকরা চাইবেন, তাঁদের জীবন যেন আলোয় ভরে উঠুক— আলাদা পথে হলেও, দু’জনেই সুখে থাকুন।