Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম কল্যাণী শ্রীনিকেতনকেও হারিয়ে গেল কলকাতার তাপমাত্রাও কমল জাঁকিয়ে শীত কবে শেষ হবে

কলকাতায় রবিবার তাপমাত্রা বেড়ে ১৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল, তবে সোমবার ফের পারদ নেমেছে। দক্ষিণবঙ্গে গত কয়েক দিন শ্রীনিকেতনের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম ছিল, তবে এবার কল্যাণী শীতলতম হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণবঙ্গে শীতের অবস্থা: শ্রীনিকেতনকে হারিয়ে শীতলতম কল্যাণী

দক্ষিণবঙ্গের শীত আজকাল এমন এক পর্বে পৌঁছেছে, যেখানে শীতের তীব্রতা একাধিক জায়গায় আলাদা বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বীরভূমের শ্রীনিকেতন ছিল দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান, যেখানে প্রতিদিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যেত। শ্রীনিকেতনের পারদ এতটাই নিচে নেমে গিয়েছিল যে, কিছুদিন আগে সেখানে তাপমাত্রা সাড়ে ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল। তবে শীতের এই ছবিটি সোমবার বদলে গেছে এবং শ্রীনিকেতনকে হারিয়ে দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান হিসেবে উঠে এসেছে নদিয়ার কল্যাণী। সেখানে তাপমাত্রা নেমে গেছে সাড়ে ৭ ডিগ্রিতে, যা দার্জিলিঙের পরবর্তী সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তালিকায়।

কলকাতা, যে শহরে শীতের তীব্রতা অনেকটাই কম ছিল, রবিবার তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে ১৫ ডিগ্রিতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সোমবার আবার পারদ নেমে আসে। সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি কম ছিল। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ২৩.৯ ডিগ্রির উপরে ওঠেনি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৯ ডিগ্রি কম ছিল।

এছাড়া, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু'দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে। তবে পরবর্তী ৪-৫ দিনে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে না। এর মানে, দক্ষিণবঙ্গের রাতের তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের নিচেই থাকবে।

তবে, শুধু তাপমাত্রা নয়, কুয়াশার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে। বিশেষ করে, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত। উত্তরের জেলাগুলিতে ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে, যেখানে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, এবং উত্তর দিনাজপুরে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে যেতে পারে ৫০ মিটারেও।

তবে তাপমাত্রার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে যে, দার্জিলিঙের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রাজ্যের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গের অন্য কোথাও তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে নামেনি। কিন্তু কল্যাণীতে তাপমাত্রা নেমে গেছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঝাড়গ্রামে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আসানসোলে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বসিরহাটে ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সিউড়িতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ব্যারাকপুরে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পুরুলিয়ায় ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বর্ধমানে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বহরমপুরে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ক্যানিংয়ে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং বাঁকুড়ায় ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পারদ নেমেছিল।

এই শীতের পরিস্থিতি রাজ্যবাসীকে একেবারে কনকনে ঠান্ডায় ফেলছে। বিশেষ করে সকাল এবং সন্ধ্যার দিকে কুয়াশার জন্য সড়কপথে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাস, ট্রেন ও অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দু'দিনে রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় তাপমাত্রা আরও কমবে। তবে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে দার্জিলিঙে, তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার এই পরিবর্তন খুব বড় হবে না।

দক্ষিণবঙ্গের শীতের বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে কিছুটা সমস্যার মধ্যে ফেলছে। শীত, কুয়াশা এবং তাপমাত্রার পতন একসাথে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে, বিশেষত কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শীতের তীব্রতা এবং কুয়াশার কারণে সড়কপথে চলাচল, যানবাহন চলাচল এবং বাস, ট্রেনের সময়সূচী বিঘ্নিত হতে পারে। শীতের তীব্রতা বাড়ানোর ফলে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাও বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে।

news image
আরও খবর

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে সংক্রান্তির সময়ে, যা পৌষসংক্রান্তি এবং মকরসংক্রান্তির সময় পড়ে। এই সময় সাধারণত শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, এবং এর প্রভাব মানুষের উপর আরও তীব্র হতে পারে। সকালের কুয়াশা এবং ঠান্ডা, বিশেষ করে বাইরে কাজ করা মানুষদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে উঠবে।

এদিকে, শীতের এই পরিস্থিতি কৃষির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষকরা জানেন যে, শীতের তীব্রতার কারণে তাদের শস্যের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে, তাপমাত্রা যদি অতিরিক্ত কমে যায়, তবে শস্যের গুণমান কমে যেতে পারে। শীতকালীন ফসল, যেমন পেঁপে, টমেটো, শাকসবজি, ইত্যাদি ফসলের ক্ষতি হওয়া সাধারণ ব্যাপার। শীতকালীন ফল এবং শস্যের উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। কৃষকদের এই সমস্যা মোকাবেলা করতে রাজ্য সরকারের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। তাদের জন্য উপযুক্ত সাহায্য বা সতর্কতার ব্যবস্থা করা জরুরি, যাতে তারা ক্ষতির সম্মুখীন না হয় এবং কৃষি উৎপাদন সঠিকভাবে চলতে পারে।

রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সাহায্য বা জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কৃষি ভাতা ঘোষণা করতে পারে, যা কৃষকদের এই শীতকালীন সমস্যার মোকাবিলায় সহায়তা করবে। এছাড়া, সরকার কৃষকদের মধ্যে সঠিক কৃষি কৌশল এবং ফসল রক্ষার উপায় সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাতে পারে, যাতে তারা শীতের কুয়াশা এবং তাপমাত্রার পতন থেকে ফসল রক্ষা করতে পারে।

পরিশেষে, দক্ষিণবঙ্গের শীতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে কল্যাণী এবং শ্রীনিকেতনের তাপমাত্রার পার্থক্য, প্রকৃতির অতিরিক্ত আচরণের একটি প্রমাণ। প্রকৃতি কখনও কখনও আমাদের সীমা ছাড়িয়ে যায়, এবং এমন পরিস্থিতিতে আমাদের তার সঙ্গে মানিয়ে চলা প্রয়োজন। শীতের এই তীব্রতা মানুষের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কিন্তু এটি প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়মও বটে, যার সম্মুখীন আমরা প্রতিটি বছর হই। প্রকৃতি আমাদের জীবনে এমন শক্তিশালী প্রভাব ফেলে, যা একদিকে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, আবার অন্যদিকে আমাদের সহ্যশক্তি ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়।

এই শীতের প্রকৃতির উন্মুক্ত রূপ, বিশেষত কুয়াশা, শীতের তীব্রতা, এবং তাপমাত্রার পতন আমাদের জীবনযাত্রাকে অসুবিধায় ফেলছে। কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময়, সড়কপথে চলাচলে বিরক্তি সৃষ্টি হচ্ছে, এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাবও পড়ছে। যদিও এই শীত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করছে, তবুও প্রকৃতির এই শীতল প্রকৃতির মধ্যে কিছু অদ্ভুত সৌন্দর্যও রয়েছে। যখন শীতের তীব্রতা আমাদের সহ্য করতে কঠিন হয়ে ওঠে, তখন আমরা প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের সম্মুখীন হই, যা আমাদের মন ও মস্তিষ্ককে নতুন শক্তির সাথে চ্যালেঞ্জ করে।

প্রকৃতির এই শক্তি আমাদের জীবনে গভীর শিক্ষার বার্তা বহন করে। এটি আমাদের শেখায় ধৈর্য, সহ্যশক্তি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতা। যখন প্রকৃতি তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে আমাদের সামনে আসে, যেমন শীতের তীব্রতা, প্রবল বৃষ্টি বা তীব্র গরম, তখন আমাদের পারাপার বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এসব পরিবর্তনের মধ্যে আমরা শিখি কিভাবে এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়।

প্রকৃতির কঠিন সময়ের মধ্যে মানবমনের উজ্জীবন ঘটে। এটি আমাদের শেখায় কিভাবে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। আমাদের জীবন যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তখন আমরা বুঝতে পারি যে প্রকৃতির এই পরিবর্তন আমাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করে। প্রকৃতি যতই কঠিন হোক, আমরা তার সঙ্গে লড়াই না করে, শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করি। এর মাধ্যমে আমাদের জীবন আরও দৃঢ় হয় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি উদিত হয়।

প্রকৃতির শক্তির সঙ্গে আমাদের মানিয়ে চলার এই শিক্ষা আমাদের জীবনের নানা দিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, বিশেষত আমাদের মনোবল এবং সৃষ্টিশীলতা। শীত, গরম, বৃষ্টি বা যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়, সব কিছুতেই আমাদের মানসিক শক্তির পরীক্ষা হয়। এসব পরিস্থিতি আমাদের সহ্যশক্তি বাড়ায়, আমাদের সংকল্প দৃঢ় করে এবং আমাদের অপ্রতিরোধ্য হতে সাহায্য করে। প্রকৃতি যখন কঠিন হয়ে ওঠে, তখন সেটি আমাদের সামর্থ্য ও সহ্যশক্তির প্রতি পরীক্ষার মত কাজ করে। এতে করে আমরা শিখি কিভাবে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়, একে চাপ হিসেবে না নিয়ে, একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হয়।

এভাবে, প্রকৃতির চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শান্তির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। কঠিন পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিরক্তিকর হলেও, এর মধ্যে নিজেদের উন্নতির সুযোগ খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল বাড়িয়ে আমরা যে কোন বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারি। জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে, প্রকৃতি আমাদের শেখায় যে, যতই সমস্যা হোক, ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা দিয়ে সব কিছুই সহজ হয়ে ওঠে।

Preview image