Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়েও উঠে দাঁড়াতে হবে জাতীয় গান নিয়ে বিধি স্থির করে দিল কেন্দ্র শেষ করতে হবে কত সময়ে

জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে গত জানুয়ারিতেই দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক বরিষ্ঠ আধিকারিক, অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা।

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করল কেন্দ্র: সরকারি অনুষ্ঠানে নতুন দিশা

ভারতের জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং দেশপ্রেমের আবেগকে একসূত্রে বেঁধে রাখা গান ‘বন্দে মাতরম’ অবশেষে পেল নির্দিষ্ট সরকারি বিধি ও নিয়ম। এত দিন জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর মতো স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকলেও, এবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গানটি পরিবেশন করতে হবে। এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ এবং দেশপ্রেমী নাগরিকরা।


‘বন্দে মাতরম’—জাতীয় চেতনার প্রতীক

‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে এই গান রচনা করেন, যা পরে ১৮৮২ সালে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ প্রকাশিত হয়। এই গান ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ভারতীয়দের উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং স্বাধীনতার মন্ত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।

১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান জনসমক্ষে গেয়েছিলেন, যা গানটির জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পরে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিপ্লবী ও নেতারা ‘বন্দে মাতরম’কে তাঁদের সংগ্রামের শ্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেন।

ভারতের সংবিধানেও ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদিও এত দিন গানটি পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সরকারি বিধি ছিল না।


কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা: কী কী নিয়ম মানতে হবে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়সীমা

‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। জাতীয় সঙ্গীতের মতোই এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিধান, যাতে সরকারি অনুষ্ঠান পরিচালনায় সামঞ্জস্য বজায় থাকে।


কোন কোন অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশন করতে হবে

নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিচের সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় গান পরিবেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—

  • জাতীয় পতাকা উন্মোচনের সময়

  • রাষ্ট্রপতির সরকারি অনুষ্ঠানে আগমন ও প্রস্থানের সময়

  • জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এবং পরে

  • রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপাল (লেফটেন্যান্ট গভর্নর)-দের সরকারি অনুষ্ঠানে আগমন ও প্রস্থানের সময়

  • নাগরিক সম্মান বা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে

  • কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময়

এই নিয়ম কার্যকর হলে দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে নিয়মিত ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হবে।


উঠে দাঁড়ানো ও কণ্ঠ মেলানোর নির্দেশ

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে—

  • ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে

  • জনগণকে গানটির সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে

এটি জাতীয় সঙ্গীতের মতোই জাতীয় গানকে সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ।


জাতীয় সঙ্গীতের আগে জাতীয় গান

কেন্দ্র জানিয়েছে, যে সরকারি অনুষ্ঠানে বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়, সেখানে ভবিষ্যতে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জনগণমন’ পরিবেশন করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীত—দু’টিরই মর্যাদা সমানভাবে রক্ষা পাবে।


‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। এই উপলক্ষে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী ও ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন।

গানটি স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হয়ে আছে যে—

  • এটি বিপ্লবীদের মুখে মুখে ফিরেছে

  • জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশনে গাওয়া হয়েছে

  • ব্রিটিশ সরকার একসময় এই গান নিষিদ্ধ করেছিল

স্বাধীনতার পরে ভারতের সংবিধানে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়, যদিও এটি আনুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীত নয়।

news image
আরও খবর

কেন এত দিন আলাদা বিধি ছিল না

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • ‘বন্দে মাতরম’ মূলত একটি দেশাত্মবোধক গান হিসেবে পরিচিত ছিল

  • জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ‘জনগণমন’ সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছিল

  • তাই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি প্রটোকল নির্ধারিত হয়নি

বর্তমান সময়ে জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমর্থকদের বক্তব্য

অনেকেই মনে করছেন, এটি জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্ত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত করবে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরবে।

সমালোচকদের মত

কিছু মহল মনে করছে, গানটির কিছু অংশ ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত, তাই সরকারি অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান আলাদা রাখাই উচিত।

তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী এবং এটি সকল ভারতীয় নাগরিকের ঐতিহ্যের অংশ।


আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ

বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় গান বা দেশপ্রেমমূলক গান সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশনের নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে—

  • স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় গান আরও বেশি পরিবেশন করা হবে

  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জাতীয় দিবসে ‘বন্দে মাতরম’-এর ব্যবহার বাড়বে

  • নতুন প্রজন্মের কাছে গানটির ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরা সহজ হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক চেতনাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ।


ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বাস্তবায়ন

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি সংস্থাকে এই নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে।

এতে সরকারি অনুষ্ঠানগুলির প্রোটোকল আরও আনুষ্ঠানিক ও ঐতিহ্যসম্মত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 

উপসংহার

ভারতের জাতীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বহনকারী গান ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি সংগীত রচনা নয়, বরং এটি একটি জাতির আবেগ, সংগ্রাম, আত্মপরিচয় এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলম থেকে জন্ম নেওয়া এই গান যুগে যুগে ভারতবাসীর মনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। দীর্ঘ একশো পঞ্চাশ বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজও এই গান ভারতীয় সমাজে এক গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে চলেছে।

এত দিন জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর জন্য স্পষ্ট সরকারি বিধি থাকলেও ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট প্রটোকল বা নির্দেশিকা ছিল না। ফলে সরকারি অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সমারোহ বা জাতীয় দিবসে গানটি কখন, কীভাবে এবং কতক্ষণ পরিবেশন করতে হবে—সে বিষয়ে একরকম অনিশ্চয়তা ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘদিনের শূন্যস্থান পূরণ করল।

এই নির্দেশিকা শুধু প্রশাসনিক নিয়মের একটি তালিকা নয়, বরং এটি ভারতের সাংস্কৃতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গানকেও আনুষ্ঠানিক মর্যাদার আওতায় এনে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের ইতিহাস, সাহিত্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীকগুলিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও শক্তভাবে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় উঠে দাঁড়ানো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছয়টি স্তবক পরিবেশন করা এবং সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ে গানটি বাজানো—এসব নির্দেশনা জাতীয় চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি সাংবিধানিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা। এত দিন ‘জনগণমন’ সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান ভূমিকা পালন করলেও, ‘বন্দে মাতরম’ অনেক ক্ষেত্রে শুধু সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন থেকে জাতীয় সঙ্গীতের আগে জাতীয় গান পরিবেশনের নির্দেশ দেশপ্রেমের ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে। এতে দেশের নাগরিকরা ইতিহাসের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্তম্ভ—বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ—উভয়ের অবদানকে একই মঞ্চে অনুভব করার সুযোগ পাবেন।

তবে এই সিদ্ধান্তের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে অতীতে কিছু বিতর্ক ছিল, বিশেষ করে গানটির কিছু স্তবকের ধর্মীয় রূপক ও প্রতীকের কারণে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের নির্দেশিকা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তবুও সংবিধান অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য মর্যাদা পায়, এবং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই সত্যকে সামনে রেখেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আরও নিয়মিতভাবে জাতীয় গান শুনবে ও গাইবে, ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বাড়বে। জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি সমারোহ—সব জায়গায় ‘বন্দে মাতরম’-এর উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় পরিচয়ের অনুভূতি আরও দৃঢ় করতে পারে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্ত ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। অনেক দেশেই জাতীয় গান বা দেশপ্রেমমূলক সংগীত সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবেশিত হয়। ভারতের এই উদ্যোগ দেশটির ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের অংশ করে তুলে ধরছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে।

সবশেষে বলা যায়, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি বিধি নির্ধারণ শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের বার্তা আরও শক্তভাবে পৌঁছে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভারতের ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠানে, প্রতিটি জাতীয় দিবসে এবং প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে জীবন্ত করে তোলাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ‘বন্দে মাতরম’ তাই আজ আর শুধু একটি গান নয়, এটি রাষ্ট্রীয় চেতনার এক আনুষ্ঠানিক অভিব্যক্তি, যা ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় গেঁথে রাখবে।

Preview image