Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টিলজলা-কসবার বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, চলছে ভাঙার কাজ

টিলজলা-কসবা এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অভিযান শুরু হয়েছে। নিয়ম ভেঙে তৈরি হওয়া একাধিক কাঠামো ভাঙার কাজ চলছে জোরকদমে।

অর্থনৈতিক/দুর্নীতি

কলকাতার টিলজলা-কসবা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ঘিরে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল, নিয়ম না মেনে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই একাধিক বহুতল ও নির্মাণকাজ চলছিল এলাকায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। পুরসভা ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিতকরণ এবং ভাঙার কাজ।

সূত্রের খবর, যেসব নির্মাণে বিল্ডিং নিয়ম মানা হয়নি কিংবা অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অংশ তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলিকেই মূলত টার্গেট করা হচ্ছে। সকাল থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের। নিরাপত্তার স্বার্থে বহু জায়গায় ব্যারিকেড করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে কোনও বড় দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ শুধু আইন ভঙ্গই নয়, তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পক্ষেও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম না মেনে তৈরি বহুতল ভবিষ্যতে বিপদের কারণ হতে পারে।

এদিকে, প্রশাসনের এই অভিযানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বেআইনি নির্মাণ বাড়ছিল এবং তাতে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। তাই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। তবে অন্যদিকে, কিছু বাসিন্দা ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁদের পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প ব্যবস্থা না দিয়েই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী দিনেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। নিয়ম মেনে নির্মাণের উপরই জোর দেওয়া হবে এবং কোনও রকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। টিলজলা-কসবার এই অভিযান ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

কলকাতার টিলজলা-কসবা এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, এলাকায় নিয়ম না মেনে একাধিক নির্মাণকাজ চলছে। কোথাও অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এবার অভিযানে নেমেছে প্রশাসন।

সকালের দিক থেকেই টিলজলা ও কসবার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক আধিকারিক, পুরসভার কর্মী এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এরপর একে একে চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে ভাঙার কাজ শুরু হয়। গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি রাস্তা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং বহু জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। আধিকারিকদের দাবি, নিয়ম ভেঙে তৈরি হওয়া নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেআইনি বহুতল বা দুর্বল কাঠামো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তাই আদালতের নির্দেশ এবং পুরসভার নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই কিছু নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চলছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকারীরা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অংশ তৈরি করছেন। কিছু ক্ষেত্রে রাস্তা বা নিকাশি ব্যবস্থার উপরেও প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে বর্ষাকালে জল জমার সমস্যাও বাড়ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জমা পড়ার পর অবশেষে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অভিযান চলাকালীন এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশও তৈরি হয়। যাঁদের নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাঁদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা সমস্ত নিয়ম মেনেই নির্মাণ করেছিলেন অথবা বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, আগেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণের কারণে অনেক সময় নিয়ম ভেঙে নির্মাণকাজ বেড়ে যায়। কিন্তু তাতে শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ নিয়ম না মেনে তৈরি ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা বা নিরাপত্তার মান বজায় থাকে না।

news image
আরও খবর

নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র বেআইনি নির্মাণ ভাঙলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। যাতে শুরুতেই অনিয়ম রোখা যায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে যাতে তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে কোনও ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি না কেনেন।

টিলজলা-কসবার এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর তরজা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে বেআইনি নির্মাণ দিনের পর দিন বাড়তে পেরেছে। আবার শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় যেভাবে লাগাতার বহুতল তৈরি হচ্ছিল, তাতে পরিবেশ ও পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়ছিল। রাস্তাঘাট সরু হয়ে যাওয়া, জলনিকাশি সমস্যা এবং যানজটও বাড়ছিল বলে অভিযোগ। তাই সময়মতো এই অভিযান প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, কিছু মানুষ আবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, হঠাৎ করে নির্মাণ ভাঙার ফলে বহু পরিবার সমস্যার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, সাধারণ ক্রেতারা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না কোন নির্মাণ বৈধ আর কোনটি নয়। ফলে পরে সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদেরই।

প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভার তরফে নাগরিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে অনুমোদিত নকশা ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই না করে কোনও সম্পত্তি কেনাবেচা না করেন।

সব মিলিয়ে, টিলজলা-কসবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযান এখন শহরজুড়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কলকাতার অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রশাসনের এই অভিযানের পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এবার প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় নিয়ম না মেনে বহুতল নির্মাণ ভবিষ্যতে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র নির্মাণ ভাঙা নয়, ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোনও বেআইনি নির্মাণ গড়ে না ওঠে, তার জন্যও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন চালানো হবে। যেসব নির্মাণে অনিয়ম ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং নাগরিক পরিষেবার বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিকল্পনাহীন নির্মাণ শুধু যানজট বা জলনিকাশি সমস্যাই বাড়ায় না, বরং অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিপদের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। তাই শহরের পরিকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টিলজলা-কসবার এই অভিযান ঘিরে এখন সাধারণ মানুষের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আগামী দিনে শহরের অন্য এলাকাতেও একইভাবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতাজুড়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

Preview image