Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ, আন্দোলনে আইডসো

ফি বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত চার্জের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র সংগঠন আইডসোর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার দাবিতেই এই আন্দোলন বলে দাবি ছাত্রদের।

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ, আন্দোলনে আইডসো

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্র আন্দোলনের আবহ। আবেদন ফি, টিউশন ফি, অ্যাডমিশন ফি এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত চার্জ বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হল ছাত্র সংগঠন আইডসো (AIDSO)। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা। পরে উপাচার্যের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিযোগ, ধাপে ধাপে বিভিন্ন খাতে ফি বৃদ্ধি করে উচ্চশিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে বহু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে বহু পড়ুয়া উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।

ছাত্র সংগঠন আইডসোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু আবেদন ফি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষেবা, পরীক্ষার ফি, টিউশন ফি এবং অন্যান্য খাতেও একাধিক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে না। শিক্ষা মৌলিক অধিকার, তাই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। “শিক্ষা বাঁচাও”, “ফি বৃদ্ধি মানি না”, “সবার জন্য শিক্ষা চাই”— এই ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, “উচ্চশিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ চলবে না” এবং “গরিব ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা বন্ধ করতে হবে”।

রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্র সংগঠনগুলি আন্দোলনের পথে নেমেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আন্দোলন নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।

আইডসোর নেতৃত্বের দাবি, শিক্ষার ক্রমবর্ধমান খরচের ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক আর্থিক চাপ এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারই সন্তানদের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ফি চাপ সাধারণ পড়ুয়াদের উপর আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেন, শুধুমাত্র ফি কমানো নয়, ছাত্রবান্ধব শিক্ষা নীতিও চালু করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, স্কলারশিপ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক নীতির দাবিও তোলা হয়েছে আন্দোলনের মঞ্চ থেকে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রস্বার্থ, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে একাধিক আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আন্দোলনকেও গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ কর্মীদের। যদিও আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গিয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনও অশান্তি সৃষ্টি করা নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরা।

উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে একাধিক দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ কমানো, ছাত্রবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা। আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়গুলি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। ছাত্র রাজনীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেছে, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত।

অন্যদিকে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ যেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

সামাজিক মাধ্যমেও এই আন্দোলনের ভিডিও ও ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হলে আর্থিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মতভেদও তৈরি হয়েছে।

news image
আরও খবর

বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। তাই আর্থিক সমস্যার কারণে কোনও ছাত্রছাত্রী যেন পড়াশোনা থেকে দূরে সরে না যায়, সেই দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলার মতো রাজ্যে যেখানে বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন, সেখানে ফি বৃদ্ধি একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

আইডসোর নেতৃত্ব জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটা হতে পারে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। ফলে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশও জানিয়েছেন, তারা চান শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হোক, কিন্তু তার জন্য ছাত্রদের উপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ছাত্রবান্ধব করার দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেই কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন, অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থও সমানভাবে রক্ষা করতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলন নতুন করে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আইডসোর নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলন আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর ছাত্রসমাজ, শিক্ষা মহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক বৈষম্যের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যদি শুধুমাত্র অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে। সেই কারণেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করার দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস বলছে, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার স্বার্থে হওয়া আন্দোলন বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলনও সেই ধারার অংশ বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের ক্ষোভ এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শিক্ষা কখনও শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করতে পারে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য।

আইডসোর নেতৃত্ব আরও দাবি করেছে, বর্তমানে শুধু ফি বৃদ্ধি নয়, বিভিন্ন কোর্সে সিট কমে যাওয়া, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং ছাত্র পরিষেবার মান নিয়েও পড়ুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সেই কারণেই এই আন্দোলন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, বহু পরিবার কষ্ট করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেন। সেখানে প্রতি বছর ফি বৃদ্ধি হলে সেই স্বপ্ন ধাক্কা খায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অনেক পড়ুয়াকে বাধ্য হয়ে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র আন্দোলন সবসময়ই রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলে। কারণ শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান— এই দুই বিষয় সরাসরি যুবসমাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই ছাত্রদের ক্ষোভ বা অসন্তোষ ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হতে পারে। সেই কারণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না মিললেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান পড়ুয়ারা। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি, গবেষণা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই খরচের ভার পুরোপুরি ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। বরং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সব মিলিয়ে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইডসোর নেতৃত্বে হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন শুধুমাত্র একটি ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নেয় কিনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ছাত্রসমাজ, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক মহলের।

Preview image