২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষে, দুবাই এয়ারশোতে প্রদর্শনীর সময় ভারতীয় বায়ুসেনার তেজস যুদ্ধবিমান এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি অ্যাল মাক্তৌম বিমানবন্দরের কাছে একটি তাকানো গতি­চক্র বা নেগেটিভ G-টার্ন করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং নিচের দিকে দ্রুত পড়ে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়। এতে পাইলট হতাহত হলে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি আদালত জিজ্ঞাসা গঠন করে ঘটনা তদন্ত শুরু করে। এই দুর্ঘটনা ছিল তেজসের দ্বিতীয় বড় ঘটনা প্রথমটি ঘটেছিল মার্চ ২০২৪-এ, যখন রাজস্থানের জয়সলমেরে একটি ফ্লাইট অনুশীলনের সময় বিমান প্রবল গতি হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। ঐ ঘটনায় পাইলট সেফলি ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুর্ঘটনায় ইঞ্জিন সিজার ছিল এক সম্ভাব্য কারণ। বিশেষ করে, তেজস Mk-1 বিমানে ব্যবহৃত GE F404 ইঞ্জিনে তেল পাম্পে ত্রুটি থাকার পর তা সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় ইঞ্জিন চালু রাখতে ব্যর্থ হয়। এই সমস্যা ইঞ্জিনের লুব্রিকেশন ও শীতলকরণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। দু্যাবিতে দুর্ঘটনার সময়েও ইঞ্জিন-সংক্রান্ত সম্ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে: বিভিন্ন সংবাদ রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বিমানটি নিম্ন উচ্চতায় জটিল মনুভার করছিল, কিন্তু অ্যাঙ্গেল অব অ্যাটাক ঠিক রাখতে ব্যর্থ হয় এবং তা একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নাক-ডাইভে চলে যায়।এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে নানা তত্ত্ব উত্থাপিত হয়েছে কেউ একে রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি বলছেন, কেউ সাবোটাজ বা দুষপ্রচার বলছেন। তবে সরকার এবং বিমানবাহিনী উভয়ই সতর্কতার সহিত তদন্ত চালাচ্ছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেজস বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেহেতু এটি ভারতের গর্ববাহ বিনির্মাণপ্রযুক্তির একটি প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম, তাই এই দুর্ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত বিপর্যয়ই নয়, বরং ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও বড় প্রশ্ন তোলে।
যুদ্ধবিমানের sky-story কখনোই শুধু আকাশে ওড়ার গল্প নয়। একটি যুদ্ধবিমান জন্মায় গবেষণাগারে, বড় হয় প্রকৌশলীদের হাতে, এবং পূর্ণতা পায় পাইলটদের সাহসের সঙ্গে। কিন্তু কখনো কখনো সেই গল্পের মাঝেই এমন ছেদ পড়ে যা আমাদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। তেজসের ভেঙে পড়া সেই ধরনের এক গল্প; এটি কোনো যান্ত্রিক ব্যর্থতার সরল কাহিনী নয়, আবার কোনো মানবিক ভুলের সরাসরি ফলও নয়। বরং এটি এক দীর্ঘ যাত্রার এক মোড়—যেখানে প্রযুক্তি, বাস্তবতা, ভুল বোঝাবুঝি, সিদ্ধান্তের সময়, আর আকাশের নির্মম গণিত মিলেমিশে এক দুঃখজনক পরিণতিতে দাঁড়ায়।
তেজস—ভারতের গর্ব, এক আধুনিক হালকা যুদ্ধবিমান, যা বহু বছর ধরে এক দেশীয় স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠেছিল। বিস্ময় এই নয় যে একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে; বিশ্বের সব দেশই যুদ্ধবিমানের ইতিহাসে অসংখ্য দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। বিস্ময় হলো, কেন এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটল যখন ভারতীয় বিমান প্রযুক্তি এতদূর এগিয়েছে, যখন তেজসের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক আকাশমঞ্চে দেশীয় প্রতিভার পরিচয় বহন করছিল। তাই প্রশ্নটি শুধু কেন ভেঙে পড়ল তেজস—এই নয়; বরং, কীভাবে ভেঙে পড়ল, কোন চেইনে চেইনে ভুল বা ব্যর্থতা যুক্ত হয়ে সেই শেষ পতনের সিদ্ধান্ত জারি করল, এবং কী শেখাল এই পতন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
দীর্ঘদিন ধরেই তেজসকে একটি পরীক্ষিত ও পরিণত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন এয়ারশোতে বিমানের প্রদর্শনী দেখে মনে হয়েছিল—এই বিমান শুধু ব্যবহারযোগ্য নয়, বরং যথেষ্ট স্থিতিশীলও। কিন্তু আকাশযান সম্পর্কে একটি কঠিন সত্য হলো—যে কোনো বিমানের প্রকৃত চরিত্র দেখা যায় চরম পরিস্থিতিতে, যেমন তীব্র বাঁক, দ্রুত আরোহণ, হঠাৎ পতন, বা নিম্ন উচ্চতায় আক্রমণাত্মক চলন। এ ধরনের মুহূর্তগুলোতে বিমান ও পাইলট একসঙ্গে এমন একটি নাচে অংশ নেয় যেখানে একটি সামান্য ভুল পদক্ষেপও প্রাণঘাতী হতে পারে। ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল তেজসের ক্ষেত্রে।
বলা হয়, একটি দুর্ঘটনা কখনোই একক কারণে ঘটে না। বাস্তবিক অর্থে এটি ঘটে একাধিক ছোট ব্যর্থতার সমষ্টিতে, যাকে বিমানবিশ্বে “চেইন অব ইভেন্টস” বলা হয়। এই চেইনে প্রতিটি লিংক দেখতে হয়, প্রতিটি সম্ভাবনাকে পরীক্ষা করতে হয়। তেজসের পতনের ঘটনাটিও এমনই। প্রথমত, তেজস যে প্ল্যাটফর্মে ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে, তাতে রয়েছে Relaxed Static Stability নামের একটি আধুনিক নকশা-দর্শন। এই নকশায় বিমানকে জোর করে অস্থির রাখা হয়, যাতে এটি খুব দ্রুত মোড় নিতে পারে এবং আক্রমণাত্মক ফ্লাইট করতে পারে। কিন্তু এর অর্থ হলো—বিমানকে স্থিতিশীল রাখতে কম্পিউটারের ওপর নির্ভরতা শতভাগ। যদি কম্পিউটার ভুল ডেটা পায়, বা সেন্সর কোনো ত্রুটি দেখায়, তখন বিমানটি মুহূর্তেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।
তেজসের ঘটনাটি পুনর্গঠনে অনেক বিশেষজ্ঞই সন্দেহ করছেন যে কোনো একটি সেন্সরে—বিশেষত Angle-of-Attack সেন্সর বা পিটট-টিউবে—একটি ক্ষণিকের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেন্সর ভুল ডেটা পাঠানোর মানে হলো বিমান ভুলভাবে ধরে নিল যে এটি হয়তো স্টল করছে, অথবা স্টল থেকে বেরিয়ে এসেছে, এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটার ভুল কমান্ড দিয়েছিল। এই ভুল কমান্ডের ফলে যদি এলিভেটর যথাযথ পরিমাণে ডিফ্লেক্ট না করে, বা বিপরীতভাবে করেও ফেলে, তাহলে বিমান কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভারসাম্য হারাতে পারে। আর যখন মনুভারটি নিম্ন উচ্চতায় করা হয়—যেমন এয়ারশোতে হয়—তখন এই কয়েক সেকেন্ডই জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে।
ইঞ্জিনের দিক থেকেও সন্দেহ রয়েছে। GE F404 ইঞ্জিন শক্তিশালী হলেও এটি এমন পরিবেশে কাজ করে যেখানে ধুলা, গরম, উচ্চ G-লোড, দ্রুত গতি পরিবর্তনের চাপ—সবকিছু প্রতিনিয়ত ইঞ্জিনকে টেস্ট করে। ইঞ্জিন যদি হঠাৎ করে থ্রাস্ট কমিয়ে দেয়, বা কম্বাস্টশন চেম্বারে একটি ক্ষুদ্রতম বিঘ্ন ঘটে, কিংবা ফুয়েল লোড সঠিক ছন্দ বজায় না রাখে—তাহলে বিমান চালনার সময় তীব্র প্রতিকূলতা তৈরি হতে পারে। ইঞ্জিনের থ্রাস্ট কমার অর্থ হলো—পাইলট যে উঠতি বা বাঁক নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নেগেটিভ G-মনুভারের সময়, যেখানে বিমান দ্রুত নিচের দিকে চাপ তৈরি করে, তখন ইঞ্জিনের প্রতিক্রিয়া মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয়। যদি সেই প্রতিক্রিয়ায় দেরি হয় বা অনিয়ম আসে, তখন বিমান দ্রুত নাকডাইভ করতে পারে।
তেজসের দুর্ঘটনার সময় পাইলট ছিলেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত এবং বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট ঘণ্টার অধিকারী। তাই মানবিক ভুল বিশ্লেষণে সন্দেহের পাল্লা তুলনামূলকভাবে কম। তবে মানবিক ভুল মানেই পাইলটের অদক্ষতা নয়; এটি পরিস্থিতির ভুল সূত্রায়ণেরও ফল হতে পারে। যদি তাঁর সামনে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো ভুল তথ্য দেখায়, যদি সতর্কতা ভুলভাবে সক্রিয় হয়, বা বিপরীতভাবে সক্রিয়ই না হয়—তাহলে পাইলটের সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। একটি যুদ্ধবিমান চালানোর সময় পাইলটের প্রতিক্রিয়ার জন্য থাকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই কখনো কখনো দুর্ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়, এবং এটিকে মানবিক ভুল বলা ঠিক হলেও, দায়টি শুধুমাত্র পাইলটের নয়।
রক্ষণাবেক্ষণের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যায় না। তেজস একটি আধুনিক বিমান হলেও, রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাঠামোগত দুর্বলতা বহু বছর ধরে সমালোচিত। স্পেয়ার পার্টসের অভাব, যান্ত্রিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা, জরুরি আপডেটের দেরি, ও মেশিন স্বাস্থ্য-পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতা সবই বিমানকে সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। কোনো সেন্সর ঠিকমতো ক্যালিব্রেট না হওয়া, কোনো অয়েল লাইনে ব্লকেজ থাকা, অথবা হাইড্রলিক লাইন আংশিক দুর্বল থাকা—এসবই ক্রমে বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
এই পুরো ঘটনার আরেকটি মানবিক স্তর রয়েছে—এয়ারশো। এয়ারশো সাধারণ প্রশিক্ষণ বা অপারেশনাল ফ্লাইটের মতো নয়। এখানে পাইলটকে বিমানটি তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে যেতে হয়, দর্শকদের সামনে বিমানের শক্তি প্রদর্শন করতে হয়, এবং সীমিত জায়গায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মুভ করতে হয়। এটি পাইলটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এয়ারশো ফ্লাইটে বিমান উচ্চতায় খুব বেশি ওঠে না, ফলে কোনো গড়মিল হলে উদ্ধার করার সময় থাকে খুবই কম। তেজসের পতনের সময়ও দেখা গেছে, বিমানটি একটি জটিল মনুভার থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। যদি এই হারানোর মুহূর্তটি মাত্র দুই বা তিন সেকেন্ড দেরিতে ধরা হয়, তাহলে নাকডাইভের পথ আর রোধ করা সম্ভব হয় না। যেসব বিদেশি বিমানও এয়ারশোতে এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যায়—সেন্সর/ইঞ্জিন/ফ্লাইট-কম্পিউটার/পাইলট সিদ্ধান্ত—সবকিছুর মিলিত মুহূর্তে পতন অনিবার্য হয়ে যায়।
তেজসের পতনের ফলে আরেকটি স্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রাজনৈতিক স্তর। প্রতিরক্ষা প্রকল্প কখনোই শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এটি জাতীয় গর্ব, কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক বাজার, এবং মিডিয়ার চোখে দেশের সামর্থ্যের প্রতীক। একটি দুর্ঘটনা তাই প্রায়ই বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করে। তেজসের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কেউ কেউ নকশাগত ত্রুটি বলে দায় চাপিয়েছে, আবার কেউ বিদেশি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছে। তবে প্রকৃত বিশ্লেষণ বলে—এই ধরনের কোনো সরল কারণ খুব কমই সত্য হয়। যুদ্ধবিমানের দুর্ঘটনা সাধারণত বহু স্তরের ব্যর্থতার সমষ্টি—একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’। তেজসের ক্ষেত্রে এটি ঠিক তেমনই।
এই দুর্ঘটনা কি তেজস প্রকল্পকে ব্যর্থ করে দিল? একেবারেই নয়। বরং বিশ্বের প্রতিটি সফল যুদ্ধবিমানই তার জীবনের শুরুর বছরগুলোতে একাধিক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। F-16 প্রথম দশ বছরে কয়েকশো দুর্ঘটনা দেখেছে। Gripen বহুবার স্টল-ক্র্যাশে পড়েছে। Eurofighter পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে পাইলট হারিয়েছে। Mirage-2000 তো ভারতে প্রায় নিয়মিতই দুর্ঘটনায় পড়ে। এগুলো প্রমাণ করে, দুর্ঘটনা মানেই বিমান ব্যর্থ নয়। বরং দুর্ঘটনা থেকেই তৈরি হয় উন্নত সংস্করণ। তেজসও ঠিক সেই পথ ধরে এগোবে।
তেজসের পতন তাই শেষ নয়—এটি শুরু। এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল কোথায় আরও উন্নতি প্রয়োজন। ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে আরও বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত-অ্যালগরিদম প্রয়োজন। সেন্সর স্বাস্থ্য-পর্যবেক্ষণ আরও উন্নত করা দরকার। আক্রমণাত্মক মুভের সময় বিমানকে আরও সেফটি-রেল দিতে হবে। ইঞ্জিনের থ্রাস্ট-ড্রপ আচরণ আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। রক্ষণাবেক্ষণকে আরও নির্ভুল, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এবং মানবনির্ভরতা-হ্রাসকারী করতে হবে। তেজসের ভবিষ্যৎ এখানেই; উন্নতির প্রতিটি ধাপেই এই দুর্ঘটনার শিক্ষা ছড়িয়ে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত, একটি যুদ্ধবিমানের পতন শুধু একটি যন্ত্রের মৃত্যু নয়। এটি মানুষের কাছে এক সতর্কবার্তা—আমরা যত প্রযুক্তি উন্নত করি, আকাশের নিয়ম ততই কঠোর হয়ে ওঠে। তেজসের এই পতন ভারতের আকাশযাত্রাকে থামাতে পারবে না। বরং এটি আরও দৃঢ় করে তুলবে, কারণ আকাশে ওড়ার ইতিহাসে প্রতিটি মহান যুদ্ধবিমানই কোনো না কোনো দিন এমন এক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছে। তেজসও তার ব্যতিক্রম নয়।
আকাশের নীল বিস্তারে তেজস আবার উঠবে—আরও শক্তি নিয়ে, আরও স্থিতিশীল হয়ে, আরও পরিণত হয়ে। কারণ পতন কখনোই শেষ নয়; পতন শুধু ভবিষ্যতের উড্ডয়নের প্রথম পদক্ষেপ।