Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বেহালায় মহিলাদের রোষে গুঁড়িয়ে গেল তিন নেশার ঠেক, আদি গঙ্গা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

বেহালা ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদি গঙ্গার পাশে দুই নম্বর ক্যানেল রোডে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেশার ঠেক ভেঙে দিলেন এলাকার মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং যুবক-যুবতীরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছিল। ক্ষোভে একজোট হয়ে মহিলাদের এই পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

বেহালার ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদি গঙ্গার পাশবর্তী দুই নম্বর ক্যানেল রোডে নেশার ঠেক ভাঙাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে নেশার আসর বসত বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বারবার প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো সত্ত্বেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার মহিলারা একজোট হয়ে তিনটি নেশার ঠেক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই নম্বর ক্যানেল রোডের ওই অংশে অসামাজিক কাজকর্ম চলছিল। দিনের পর দিন সেখানে নেশার আসর বসত। এলাকাবাসীর দাবি, সন্ধ্যা নামলেই ওই জায়গায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যেত। প্রকাশ্যে নেশা করার অভিযোগও ওঠে। এর ফলে এলাকার পরিবেশ ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে এলাকার যুবকদের একটি অংশ এই নেশার পরিবেশের প্রভাবে বিপথে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মহিলারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শুধু এলাকার যুবকরাই নয়, আশপাশে একটি বেসরকারি কলেজ থাকায় অনেক ছাত্র-ছাত্রীও ওই এলাকায় এসে নেশা করত বলে তাঁদের অভিযোগ। এই অভিযোগের জেরে অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এমন নেশার ঠেক থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পড়াশোনার পরিবেশের বদলে যদি ছাত্র-ছাত্রীরা নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর।

এলাকার মহিলাদের দাবি, তাঁরা বহুবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। দিনের পর দিন অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে থাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে মহিলারা সন্ধ্যার পর ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় পেতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ এলাকার মহিলারা একজোট হয়ে নেশার ঠেকগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদে নামেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উপর বারবার ভরসা করেও ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা নিজেরা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁরা ওই তিনটি নেশার ঠেক ভেঙে দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ভিড় জমে যায়। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা মহিলাদের পাশে দাঁড়ান। আবার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কতটা সঠিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্য, “বারবার পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আমাদের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। ছেলে-মেয়েরা বিপথে চলে যাচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়েই আজ আমরা নিজেরাই এই পদক্ষেপ নিয়েছি।” তাঁদের কথায় স্পষ্ট, এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের ফল। তাঁরা চান, এলাকায় স্থায়ীভাবে নেশার ঠেক বন্ধ হোক এবং প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিক।

এই ঘটনার পর বেহালা ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জনরোষের চিত্র সামনে এসেছে। এলাকার সাধারণ মানুষদের একাংশের দাবি, নেশার বিরুদ্ধে শুধু একদিনের অভিযান যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নজরদারি, পুলিশি টহল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, নেশার ঠেক ভাঙলেই সমস্যার শেষ হবে না। যারা এই ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাজের জন্য নেশা একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যখন নেশার কবলে পড়ে, তখন শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। নেশার কারণে পড়াশোনা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক নিরাপত্তা সবকিছুতেই প্রভাব পড়ে। তাই বেহালার এই ঘটনাকে শুধু একটি স্থানীয় প্রতিবাদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে সমাজের একটি বড় সমস্যার প্রতিফলন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নেশার আসর চলছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি এতদিন ধরে এই অভিযোগ ছিল, তাহলে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এল না কেন? যদি অভিযোগ জানানো হয়ে থাকে, তাহলে তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? সাধারণ মানুষের এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যদি নিরাপত্তাহীন বোধ করেন, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তবে একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বিপজ্জনক হতে পারে। কোনও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও আইনানুগ পথেই তার সমাধান হওয়া উচিত। কিন্তু যখন সাধারণ মানুষ মনে করেন যে তাঁদের অভিযোগ শোনা হচ্ছে না, তখন ক্ষোভ জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বেহালার ঘটনায় সেই ক্ষোভই সামনে এসেছে। তাই এই ঘটনা প্রশাসনের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।

news image
আরও খবর

এলাকার মহিলাদের এই প্রতিবাদ দেখিয়েছে, সমাজের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সাধারণ মানুষ আর চুপ করে থাকতে রাজি নন। বিশেষ করে মহিলারা যখন নিজের এলাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য একজোট হন, তখন তা একটি বড় সামাজিক বার্তা দেয়। তাঁদের দাবি, তাঁরা কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতেই এই পদক্ষেপ করেছেন।

এই ঘটনার পর এখন নজর প্রশাসনের দিকে। পুলিশ কি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবে? নেশার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? ওই এলাকায় নিয়মিত টহল বাড়ানো হবে কি? স্থানীয় কাউন্সিলর বা প্রশাসন কি বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একদিনের উত্তেজনার পর যদি পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।

বেহালার এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, তা হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা। কলেজ বা স্কুলের কাছাকাছি যদি নেশার আসর বসে, তাহলে তা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়। অভিভাবকদের উদ্বেগ তাই অমূলক নয়। প্রশাসনের উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো। শুধু বেহালা নয়, শহরের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

স্থানীয়দের দাবি, নেশার ঠেকের কারণে এলাকায় অশান্তি, অস্বস্তি এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রাতে ওই এলাকায় চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মহিলারা এবং বয়স্ক মানুষরা বিশেষভাবে সমস্যায় পড়তেন। এই অভিযোগগুলি যদি সত্যি হয়, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর। কারণ কোনও আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে নেশার আসর চলা আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনার সামাজিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নেশা শুধু অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি পরিবার ভাঙে, কর্মক্ষমতা নষ্ট করে এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। অনেক সময় ছোটখাটো নেশা থেকে বড় আসক্তি তৈরি হয়। তারপর সেই আসক্তি থেকে চুরি, মারামারি, পারিবারিক অশান্তি এবং অন্যান্য অপরাধের জন্ম হয়। তাই নেশার বিরুদ্ধে লড়াই শুধু পুলিশের কাজ নয়, সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

তবে এই লড়াইকে আইনসম্মত পথে পরিচালনা করা জরুরি। প্রশাসন, স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠন—সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এলাকায় সচেতনতা শিবির করা যেতে পারে। নেশাগ্রস্ত যুবকদের কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শুধু ঠেক ভাঙলে হবে না, নেশার চক্র কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত, কোথা থেকে নেশার সামগ্রী আসছে—এসব খুঁজে বের করতে হবে।

বেহালার দুই নম্বর ক্যানেল রোডের ঘটনায় মহিলাদের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। কারণ তাঁরা সরাসরি বলেছেন, এলাকার পরিবেশ বাঁচাতে বাধ্য হয়েই তাঁরা পথে নেমেছেন। তাঁদের এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং অসহায়তার চিত্র তুলে ধরে। প্রশাসনের কাছে এই ঘটনা একটি স্পষ্ট বার্তা—মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকলে তা জনরোষে পরিণত হতে পারে।

এখন প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ সমাধান। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা, স্থানীয়দের অভিযোগ শোনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো দরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও উচিত কোনও অসামাজিক কার্যকলাপ দেখলে আইন নিজের হাতে না তুলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো এবং লিখিত অভিযোগের রেকর্ড রাখা।

সব মিলিয়ে, বেহালা ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনা শহরের নেশা সমস্যাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এলাকার মহিলাদের ক্ষোভ, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং স্থানীয় নিরাপত্তার দাবি—সব মিলিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনার পর কী পদক্ষেপ নেয় এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের কোনও স্থায়ী সমাধান হয় কি না।

Preview image