কলকাতায় ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা। কয়েকদিন ধরে শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে। সকালে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দিনের বেলায় রোদের তেজ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। ফলে শীতের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। তবে পুরোপুরি শীত বিদায় নেয়নি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ভোরের দিকে কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীঘেঁষা অঞ্চল ও খোলা এলাকায় কুয়াশার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। এর ফলে সকালের দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের শেষ পর্যায়ে এই ধরনের তাপমাত্রার ওঠানামা স্বাভাবিক। উত্তর দিকের ঠান্ডা হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়ায় উষ্ণ বাতাসের প্রভাব বাড়ছে। ফলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বসন্তের আবহ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।nসব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতায় শীতের বিদায় শুরু হলেও কুয়াশার উপস্থিতি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতার আকাশে এখন আর সেই শীতল সকালের ছোঁয়া নেই। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে শহর কুয়াশার চাদরে মোড়া ছিল, সকালে হাঁটতে বেরোলে যে ঠান্ডা হাওয়ার কামড় অনুভূত হত, এখন তা অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। জানুয়ারির শেষভাগে এসে কলকাতার তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী। দিনের বেলা সূর্যের তেজ বাড়ছে, রাতের ঠান্ডাও আগের মতো তীব্র নয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—এ বার কি তবে শীত বিদায়ের পালা শুরু হয়ে গেল? গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকালে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দুপুরের দিকে রোদ বেশ তীব্র হয়ে উঠছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে শীতের সেই কনকনে অনুভূতি অনেকটাই কমে এসেছে। শহরের মানুষদের কাছে শীতের এই বিদায় যেন একটু আগেভাগেই হাজির হয়েছে। তবে কলকাতার তাপমাত্রা বাড়লেও রাজ্যের অন্য অংশে আবহাওয়ার চিত্র পুরোপুরি একরকম নয়। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় এখনও কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। নদীঘেঁষা অঞ্চল, নিম্নভূমি এবং খোলা মাঠের এলাকায় কুয়াশার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। এর ফলে সকালের দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণের সাতটি জেলায় কুয়াশার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে শীত পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, বরং তার শেষ অধ্যায় চলছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়টায় তাপমাত্রা ওঠানামা করা স্বাভাবিক। শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে আবহাওয়ার চরিত্র বদলে যায়। উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়া ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, আর পশ্চিম দিক থেকে উষ্ণ বাতাসের প্রভাব বাড়তে থাকে। এই দুই ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষের ফলেই কখনও হালকা ঠান্ডা, কখনও আবার তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া দেখা যায়। কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতিও তারই প্রতিফলন। শীতের এই ধীরে ধীরে বিদায়ের প্রভাব শহরের জীবনযাত্রায়ও স্পষ্টভাবে পড়ছে। সকালে মোটা জামা বা সোয়েটার পরার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমে এসেছে। রাস্তার ধারে শীতকালীন খাবারের দোকানগুলির ভিড়ও কিছুটা কমেছে। ফুচকা, কফি, গরম চা, পিঠে-পুলি কিংবা ভাজাভুজির প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনও থাকলেও, শীতের সেই বিশেষ আমেজ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। শহরের পার্ক, ময়দান এবং নদীর ধারে সন্ধ্যায় মানুষের ভিড় বাড়লেও, ঠান্ডার তীব্রতা আর আগের মতো অনুভূত হচ্ছে না। কেবল শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে। কৃষকদের কাছে এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন ফসল যেমন আলু, সরষে, গম এবং নানা ধরনের শাকসবজির উপর আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়ে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ফসলের বৃদ্ধি দ্রুত হয়, তবে অতিরিক্ত উষ্ণতা কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণও হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, যদি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, তবে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব ফসলের উপর কীভাবে পড়বে, তা নিয়েও নজর রাখতে হবে। কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন চোখে পড়ছে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে সকালে কুয়াশার সম্ভাবনা থাকলেও, দিনের বেলা তাপমাত্রা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি শহরের যান চলাচলের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে রাস্তা ঝাপসা হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে জাতীয় সড়ক এবং রেলপথে কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা যায়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শীতের বিদায় মানেই বসন্তের আগমন। বাংলার সংস্কৃতিতে বসন্তের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণ, নতুন রঙ, নতুন উৎসবের আবহ। শীতের শেষে বসন্তের আগমন মানুষের মনেও এক ধরনের পরিবর্তন আনে। প্রকৃতিতে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনই মানুষের জীবনযাত্রাতেও নতুন ছন্দ যোগ হয়। কলকাতার রাস্তায় এখন ধীরে ধীরে সেই পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গাছের পাতায় নতুন কুঁড়ি, সকালের আকাশে উজ্জ্বল রোদ, সন্ধ্যায় হালকা উষ্ণ বাতাস—সব মিলিয়ে শহর যেন নতুন এক ঋতুর দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—শীত কি পুরোপুরি বিদায় নেবে, নাকি আবার ফিরে আসবে? অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে কখনও কখনও আবার হালকা শীত ফিরে আসে। উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত হলে তার প্রভাব কিছুটা হলেও সমতলে এসে পড়ে। সেই কারণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেও হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও হঠাৎ করে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি যে কোনও সময় বদলে যেতে পারে, তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি। কলকাতার মানুষদের কাছে শীতের বিদায় এক ধরনের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আসে। একদিকে ঠান্ডা কমে গেলে দৈনন্দিন জীবন কিছুটা সহজ হয়, অন্যদিকে শীতের সেই রোমাঞ্চ, সকালের কুয়াশা, সন্ধ্যার ঠান্ডা হাওয়া—সব মিলিয়ে যে অনুভূতি, তা আর পাওয়া যায় না। অনেকের কাছে শীত মানেই উৎসব, ভ্রমণ, নতুন পোশাক, গরম খাবার এবং দীর্ঘ সন্ধ্যার আনন্দ। সেই শীত যখন ধীরে ধীরে বিদায় নেয়, তখন মনে হয় যেন একটি পরিচিত সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের পরিবেশেও পরিবর্তন আসে। বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে, কারণ শীতকালে বায়ু স্থির থাকায় দূষণ বেশি জমে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসের চলাচল বাড়ে, ফলে দূষণের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পায়। তবে অন্যদিকে, উষ্ণ আবহাওয়ায় ধুলোবালির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই পরিবেশগত দিক থেকেও এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। শীত থেকে বসন্তে রূপান্তরের সময় অনেকের সর্দি, কাশি, জ্বর কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়টায় খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার উপর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার বর্তমান আবহাওয়া আসলে একটি বড় প্রাকৃতিক চক্রের অংশ। প্রতি বছরই শীত আসে, আবার বিদায় নেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আবহাওয়ার চরিত্রে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখনও শীত দেরিতে আসে, কখনও আবার তাড়াতাড়ি চলে যায়। কখনও তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়, আবার কখনও হঠাৎ করে কমে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই অঞ্চলেও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে শীতের দৈর্ঘ্য এবং তীব্রতা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। কলকাতার আকাশে এখন যে পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছে, তা শুধু একটি শহরের গল্প নয়, বরং একটি ঋতুচক্রের রূপান্তরের গল্প। শীতের শেষ প্রহর এবং বসন্তের প্রথম ডাক—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতা। কুয়াশার হালকা ছোঁয়া এখনও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় অনুভূত হচ্ছে, আবার দিনের বেলায় সূর্যের তাপে শীতের অস্তিত্ব প্রায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এই দ্বৈত চরিত্রই এখনকার আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। সামনের দিনগুলিতে কলকাতার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির দিকে এগোলে শীতের প্রভাব আরও কমে যাবে, আর বসন্তের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে কুয়াশার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। বিশেষ করে ভোরের দিকে কিছু এলাকায় হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ফলে শীতের শেষ স্মৃতিটুকু হয়তো আরও কিছুদিন ধরে শহরের আকাশে ভাসতে থাকবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতায় শীতের বিদায় শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু তা এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। কুয়াশার পূর্বাভাস, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং আবহাওয়ার অনিশ্চিত চরিত্র—সব মিলিয়ে শহর এখন এক ধরনের পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। শীতের শেষ অধ্যায় এবং বসন্তের শুরু—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতা যেন প্রকৃতির এক অনবদ্য নাটকের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। শহরের মানুষ এখন অপেক্ষায়—আগামী দিনে আবহাওয়া কোন দিকে মোড় নেয়। শীত কি আবার ফিরে আসবে, নাকি বসন্ত পুরোপুরি নিজের জায়গা করে নেবে? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, কলকাতার আকাশে যে পরিবর্তনের ছাপ এখন দেখা যাচ্ছে, তা শুধু আবহাওয়ার নয়, বরং সময়ের প্রবাহেরও প্রতিচ্ছবি। শীতের বিদায় মানেই নতুন ঋতুর আগমন, নতুন দিনের সূচনা, আর সেই নতুন দিনের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে কলকাতা।