Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গাজ়িয়াবাদে তিন বোনের মৃত্যু: ফোন উদ্ধার কিশোরীদের, পাঁচ গেমিং অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রাজ্য সরকারকে আবেদন পুলিশের

ডিসিপি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তে খুনের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়নি। তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবে ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদে তিন বোনের ফোন উদ্ধার করল পুলিশ। দুর্ঘটনার মাস তিনেক আগে কিশোরীদের একটি ফোন বিক্রি করেছিলেন তাদের বাবা চেতন কুমার। পরে কন্যাদের আরও একটি ফোন বিক্রি করে দেন। চেতন মোট দু’টি ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু কাদের কাছে সেই ফোন বিক্রি করা হয়েছিল, সেই তথ্য পেতেই দু’টি ফোন উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কিশোরীদের ফোন ঘেঁটে দেখা হচ্ছে কী ধরনের গেম, গান, নাটক এবং ছবি দেখত তাঁরা। তবে শুধুই কি গেমে আসক্তির জন্য আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে, পরিবারের মধ্যে অশান্তির একটা চোরাস্রোত বইছিল। কিশোরীদের ডায়েরিতেও তার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তিন বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ নেই তো?

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটে বেশ কয়েকটি অনলাইন গেমের উল্লেখ রয়েছে। সেই গেমগুলি ইতিমধ্যেই বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে পুলিশ। ডিসিপি-র বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ‘‘সুইসাইড নোটে পাঁচটি অনলাইন গেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারকে এই পাঁচটি গেম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছেও যাবে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, যে পাঁচটি গেমের কথা সুইসাইড নোটে উল্লেখ ছিল, সেগুলি হল— পপি প্লেটাইম, দ্য বেবি ইন ইয়েলো, ইভিল নান, আইসক্রিম ম্যান এবং আইসক্রিম গেম।

ডিসিপি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তে খুনের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়নি। তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবে ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে পুলিশের একটি দল গিয়েছে কিশোরীদের মামারবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গাজ়িয়াবাদের একটি বহুতলের ১০তলা থেকে তিন বোন ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। কেন তিন বোন আত্মহত্যা করল, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে অনলাইম গেমে আসক্তিকে কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সমান্তরাল ভাবে সেই মতো তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

গাজ়িয়াবাদের বহুতল থেকে তিন বোনের ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই পরিবারের তিন কিশোরীর একসঙ্গে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া শুধু মানবিক ট্র্যাজেডিই নয়, বরং সমাজ, পরিবার, প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বহুস্তরীয় প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যে তথ্য সামনে আনছে, তা আরও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে—বিশেষ করে অনলাইন গেমে আসক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে একাধিক অনলাইন গেমের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এই তথ্য সামনে আসতেই তদন্তের দিক নতুন মোড় নেয়। কারণ এর অর্থ, তিন বোনের মানসিক অবস্থার উপর ডিজিটাল কনটেন্ট বা গেমিং অভিজ্ঞতার প্রভাব থাকতে পারে।

ডিসিপি-র বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইসাইড নোটে মোট পাঁচটি অনলাইন গেমের নাম উল্লেখ ছিল। সেই গেমগুলিকে নিষিদ্ধ করার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। শুধু রাজ্য নয়, এই প্রস্তাব কেন্দ্র সরকারের কাছেও পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যে পাঁচটি গেমের নাম সুইসাইড নোটে ছিল, সেগুলি হল—
পপি প্লেটাইম,
দ্য বেবি ইন ইয়েলো,
ইভিল নান,
আইসক্রিম ম্যান,
এবং আইসক্রিম গেম।

এই গেমগুলির অধিকাংশই হরর বা থ্রিলার ঘরানার, যেখানে ভয়, তাড়া করা, বন্দিদশা, পালানোর চ্যালেঞ্জ—এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির উপাদান থাকে। যদিও এগুলি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, তবু অল্পবয়সীদের মানসিকতার উপর এর প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—এই গেমগুলির কোনও নির্দিষ্ট টাস্ক, চ্যালেঞ্জ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কি তিন বোনকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে? নাকি এটি শুধুই আসক্তির ফল, যেখানে বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়?

ডিসিপি নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, ফলে অন্য কোনও সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দিল্লিতেও পুলিশের একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। কারণ জানা গেছে, কিশোরীদের মামারবাড়ির সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলে মানসিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গাজ়িয়াবাদের একটি বহুতলের দশতলা থেকে ঝাঁপ দেয় তিন বোন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গোটা আবাসন, স্থানীয় এলাকা এবং প্রশাসনিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানিয়েছেন—তিন বোনই শান্ত স্বভাবের ছিল, পড়াশোনাতেও মন্দ ছিল না। বাইরে থেকে তাঁদের আচরণে এমন কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি, যা এত বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়।

এই কারণেই অনলাইন গেম আসক্তির সম্ভাবনাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরর গেম বা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গেম দীর্ঘসময় খেললে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, নিঃসঙ্গতা, বাস্তববোধের বিকৃতি—এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি তারা মানসিকভাবে সংবেদনশীল হয়, বা পর্যাপ্ত পারিবারিক যোগাযোগ না থাকে।

news image
আরও খবর

অনেক সময় গেমের চরিত্রের সঙ্গে আত্মপরিচয় তৈরি হয়। গেমের ভয়ের পরিবেশ, পালানোর চাপ, বন্দিদশা—এসব মনোজগতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে বলেনি যে গেমই একমাত্র কারণ। বরং সমান্তরালভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—পারিবারিক চাপ, পড়াশোনার চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, সাইবার বুলিং বা অন্য কোনও মানসিক ট্রিগার ছিল কি না।

ডিজিটাল ফরেনসিক দল মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, চ্যাট হিস্ট্রি, সার্চ হিস্ট্রি—সব কিছু পরীক্ষা করছে। তারা দেখছে, আত্মহত্যার আগে কোনও নির্দিষ্ট অনলাইন ইন্টারঅ্যাকশন, টাস্ক, ভয় দেখানো বার্তা বা গোপন গেম গ্রুপে যুক্ত ছিল কি না।

এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রতিবারই সমাজকে নতুন করে ভাবায়।

এর আগেও “ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ” বা অনুরূপ বিপজ্জনক অনলাইন টাস্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও সব ক্ষেত্রে গেমই দায়ী নয়, তবু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানসিক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না।

এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। শিশু ও কিশোরদের জন্য কোন গেম উপযুক্ত, বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, প্যারেন্টাল মনিটরিং—এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন গেম নিজে অপরাধী নয়—বরং নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারই সমস্যা। দিনে কতক্ষণ খেলছে, কী ধরনের গেম খেলছে, একা খেলছে নাকি কারও সঙ্গে—এসব বিষয়ে পরিবারের নজরদারি জরুরি।

তিন বোনের পরিবার এখনও শোকস্তব্ধ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁদের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ডিজিটাল যুগে সন্তানদের শুধু বাস্তব জগত নয়, ভার্চুয়াল জগত থেকেও সুরক্ষিত রাখা সমান জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
খোলা আলোচনা দরকার,
মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা দরকার,
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ দরকার,
এবং সবচেয়ে বেশি দরকার—পারিবারিক সংযোগ।

এই ঘটনার পর শিশু-কিশোরদের অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন অভিভাবক মহল ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রযুক্তি আজকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—তাই একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার। অনেক সময় বাবা-মা সন্তানের হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেন পড়াশোনা বা বিনোদনের জন্য, কিন্তু তারা কী ধরনের কনটেন্টে যুক্ত হচ্ছে, কতক্ষণ সময় কাটাচ্ছে, মানসিকভাবে কী প্রভাব পড়ছে—এসব বিষয়ে সচেতন নজরদারি থাকে না।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিশোর বয়স এমন এক পর্যায় যেখানে আবেগ প্রবল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরিপক্ব নয়, আর কৌতূহল অত্যন্ত তীব্র। এই সময়ে ভয়ভিত্তিক গেম, চ্যালেঞ্জ বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিকারী কনটেন্ট মানসিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি কোনও শিশু আগে থেকেই উদ্বেগ, নিঃসঙ্গতা বা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সচেতনতার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায়ে কাউন্সেলিং, ডিজিটাল সেফটি ওয়ার্কশপ, এবং অভিভাবক-শিক্ষক যৌথ আলোচনা—এসব কার্যক্রম শিশুদের মানসিক সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে—অনলাইন গেমের বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, এবং বিপজ্জনক কনটেন্ট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আরও জোরদার করা যায় কি না তা নিয়ে। কারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে দায়িত্বও।

তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু তাই শুধু একটি তদন্তের বিষয় নয়—এটি সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে, কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।


Preview image