Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সোনারপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে তৃণমূলের অবস্থান-বিক্ষোভ, মিছিলে উত্তাল নিউ রোড

সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদে কুলটি বিধানসভার নিয়ামতপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার অভিযোগে শুক্রবার নিয়ামতপুর নিউ রোডে কুলটি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য নেতা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা ও কর্মী। বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে নিউ রোড মোড় থেকে নিয়ামতপুর মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল হয়। কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিয়ামতপুর: সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি বিধানসভার নিয়ামতপুর এলাকায়। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় কর্মীদের কাছে যাওয়ার পথে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে শুক্রবার নিয়ামতপুর নিউ রোডে অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে কুলটি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক তৎপরতা। দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

সোনারপুরের ঘটনাকে তৃণমূল নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি নিজের দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে যেতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েন, তবে তা শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা। এই অভিযোগের প্রতিবাদেই নিয়ামতপুরে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য নেতা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতা, কর্মী ও সমর্থক।

নিয়ামতপুর নিউ রোডে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা সোনারপুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক সৌজন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতের প্রতি সহনশীলতার প্রশ্ন। তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেন, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু কোনওভাবেই শারীরিক হেনস্থা বা বাধা দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তাদের কথায়, রাজনীতির ময়দানে লড়াই হবে আদর্শের, উন্নয়নের এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতে; কিন্তু হিংসা, হেনস্থা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমানো যায় না।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দাবি, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা পরিকল্পিতভাবে দলের মনোবল ভাঙার চেষ্টা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার জন্য বিরোধীরা নানা ধরনের উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদিও এই অভিযোগের রাজনৈতিক জবাব অন্য দলগুলি আলাদাভাবে দিতে পারে, তবে নিয়ামতপুরের কর্মসূচিতে তৃণমূলের বার্তা ছিল স্পষ্ট—দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ বা হেনস্থার অভিযোগকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছে না।

কর্মসূচির শুরুতে তৃণমূল নেতারা দলীয় কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। কিন্তু অবস্থান-বিক্ষোভ শেষে নিউ রোড মোড়ে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। যান চলাচলে সাময়িক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে কুলটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধের চেষ্টা সরিয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

এরপর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা নিউ রোড মোড় থেকে নিয়ামতপুর মোড় পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালীন তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানান। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও পোস্টার। স্লোগানে উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। মিছিলের সময় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা যায়।

নিয়ামতপুরের এই কর্মসূচি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ কুলটি বিধানসভা এলাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগঠন রয়েছে এবং জনমত গঠনে রাস্তার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই প্রেক্ষাপটে সোনারপুরের ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের এই অবস্থান-বিক্ষোভ শুধু একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়, বরং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার একটি রাজনৈতিক বার্তাও বটে।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বারবার উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও দলের নেতা-কর্মীরা যদি মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিশেষ করে যখন কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা কোনও এলাকায় যাচ্ছেন, তখন তাঁর নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোনারপুরের ঘটনায় সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই তৃণমূলের একাংশের দাবি।

এই অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি করে। কোনও কর্মী আক্রান্ত হলে বা কোনও পরিবার রাজনৈতিক হিংসার শিকার হলে দলের নেতৃত্ব সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করে। সেই কাজ করতে গিয়েই যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বাধার মুখে পড়েন, তাহলে তা সাধারণ কর্মীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয়। বক্তাদের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা দলের কর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে এবং গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।

news image
আরও খবর

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও রাস্তা অবরোধ বা টায়ার জ্বালানোর মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ হতে পারে। দোকানদার, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের মধ্যে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হয়। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের বড় দায়িত্ব।

কুলটি থানার পুলিশের ভূমিকা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অবস্থান-বিক্ষোভ এবং মিছিল চলাকালীন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। নিউ রোড মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ দ্রুত তা সরিয়ে দেয়। প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়। পুলিশের এই তৎপরতার ফলে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করার চেষ্টা করতে পারে। কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর সঙ্গে জড়িত কোনও ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মীদের আবেগকে প্রভাবিত করে। ফলে বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তরে এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি দলের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে পারে।

নিয়ামতপুরে তৃণমূলের অবস্থান-বিক্ষোভে উপস্থিত নেতারা বলেন, তাঁরা কোনও অশান্তি চান না, কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ তাঁরা করবেনই। তাঁদের দাবি, সোনারপুরের ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনও রাজনৈতিক নেতার কর্মসূচি ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার ও জনসমক্ষে প্রতিবাদের পদ্ধতি। তৃণমূলের কর্মসূচিতে স্লোগান, মিছিল এবং অবস্থান—সবই ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ। তবে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা ও জনসাধারণের সুবিধার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রতিবাদের রূপ নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে বলে মত অনেকের।

নিয়ামতপুর নিউ রোড এলাকাটি ব্যস্ত রাস্তা হওয়ায় সেখানে কোনও ধরনের অবরোধ বা উত্তেজনা দ্রুত জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁদের প্রতিবাদ ছিল প্রতীকী এবং সোনারপুরের ঘটনার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম। তাঁরা জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এই আন্দোলন এখানেই শেষ নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁরা মানুষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন। ব্লক স্তর থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সংগঠিত করে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, সোনারপুরের ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশুভ ইঙ্গিত, তাই এর বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সরব হওয়া উচিত।

প্রতিবাদ মিছিল নিয়ামতপুর মোড়ে পৌঁছনোর পর কর্মসূচি শেষ হয়। মিছিল শেষে নেতারা কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হতে পারে। কর্মসূচি শেষে এলাকায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। দোকানপাট, যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক হয়।

সব মিলিয়ে, সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়ামতপুরে তৃণমূলের অবস্থান-বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ মিছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল এই ঘটনার মাধ্যমে দলীয় ঐক্য ও প্রতিবাদের বার্তা দিতে চেয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনও দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আগামী দিনে সোনারপুরের ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয় এবং তৃণমূল এই ইস্যুকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

Preview image