Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ! ‘চোর’ স্লোগানের মাঝে চড়-ঘুষি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় হেলমেট

সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন Abhishek Banerjee। বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে, যার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

রাজনীতি

ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শনিবার সোনারপুরে তীব্র বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর উপর শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রের খবর, চারচাকার গাড়ি ছেড়ে মূল রাস্তা থেকে দলীয় কর্মীর মোটরবাইকে চেপে সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক। সেই সময় রাস্তাজুড়ে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি সমর্থকরা। ‘গো ব্যাক’ ও ‘চোর-চোর’ স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, অভিষেকের বাইক ঘিরে ধরেন একদল বিক্ষোভকারী। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। এমনকি চড়-ঘুষি মারারও অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়, ভেঙে যায় চশমা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে মোটরবাইকে তিনি যাচ্ছিলেন সেটিও।

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরে এগিয়ে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিজেপি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। অভিষেকের দাবি, হেলমেট না থাকলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, আগাম কর্মসূচির কথা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।

নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, তাঁকে আক্রমণ করা হলেও তিনি সেখান থেকে সরে যাবেন না। তাঁর আশঙ্কা, তিনি চলে গেলে সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপরও হামলা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি হাই কোর্ট ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানান এবং এলাকায় অবিলম্বে পুলিশ মোতায়েনের দাবি তোলেন।

এদিনের কর্মসূচির শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে প্রথমে বেলেঘাটায় যান অভিষেক। পরে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে সিআইডির একটি নোটিস গ্রহণ করেন। বিধানসভার সই-কাণ্ড সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে সিআইডির এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। তবে সাংবাদিকদের সামনে অভিষেক স্পষ্ট জানান, কোনও তদন্ত বা প্রশাসনিক চাপ তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

কালীঘাট থেকে সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁর কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়। সোনারপুরে প্রবেশের আগেই একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। কালো পতাকা প্রদর্শন থেকে শুরু করে স্লোগান, ডিম নিক্ষেপ ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ—সব মিলিয়ে শনিবারের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই এই বিক্ষোভ। সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং শারীরিক হেনস্থার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে বিজেপি সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি ছিল স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ।

শনিবারের কর্মসূচি ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এবং আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা। দীর্ঘদিন পর বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি কলকাতার বেলেঘাটায় গিয়ে নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর তিনি কালীঘাটে নিজের বাসভবনে ফিরে আসেন, যেখানে সিআইডির একটি নোটিস গ্রহণ করেন। যদিও সেই নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তোলেন তিনি, তবুও নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল না করে সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

সোনারপুরে যাওয়ার আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছিল। বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের কালো পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ‘গো ব্যাক অভিষেক’ স্লোগান ওঠে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত শুরু হয়েছিল। ফলে অভিষেকের সফরকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মূল রাস্তা দিয়ে চারচাকার গাড়িতে না গিয়ে অভিষেক দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মোটরবাইকে চেপে সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে রওনা দেন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তৃণমূল সূত্রে জানা যায়। মোট তিনটি বাইক একসঙ্গে চলছিল। মাঝের বাইকের পিছনের আসনে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁদের ঘিরে ফেলে বলে অভিযোগ।

news image
আরও খবর

এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বাইক লক্ষ্য করে ধাওয়া করে এবং অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। পাশাপাশি জুতো নিক্ষেপ করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধাক্কাধাক্কি, চড়-ঘুষি এবং শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে অভিষেকের পরনের সাদা শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং তাঁর চশমাও ভেঙে যায়। যে মোটরবাইকে তিনি যাচ্ছিলেন সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তৃণমূলের দাবি।

তবে এই পরিস্থিতিতেও তিনি সফর মাঝপথে বন্ধ করেননি। মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরে তিনি হেঁটে এগিয়ে যান নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে। সেই সময়ও ‘চোর-চোর’ স্লোগান শোনা যায় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের একাংশ তাঁকে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে এগিয়ে নিয়ে যান।

নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, হেলমেট না থাকলে তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগতে পারত। তিনি বলেন, তাঁকে আক্রমণ করা হলেও তিনি ভয় পান না এবং আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে মারতে চাইলে মারুক, কিন্তু আমি সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের পাশে থাকব।” পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে নিহত কর্মীর পরিবারের উপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অভিষেক পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সফরের বিষয়ে আগাম প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কোনও বড় পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে তিনি জেলা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাজ্যপাল ও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানান।

রাজনৈতিক ভাষণে তিনি বিজেপি নেতৃত্ব এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলিকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, কোনও পরিকল্পিত হামলা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাত্র। বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যারই প্রতিফলন দেখা গেছে সোনারপুরে।

ঘটনার ভিডিও এবং ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেলমেট পরে হাঁটতে দেখা যায়। ছেঁড়া জামা এবং ভাঙা চশমা নিয়েও আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের উপর হামলা বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। তার মধ্যে বিরোধী শাসিত রাজ্যে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার উপর হামলার অভিযোগ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক দুই স্তরেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল দাবি করছে, বিরোধী শিবির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, মানুষের ক্ষোভকে দমন করতে না পেরে তৃণমূল নাটক করছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে শনিবারের সোনারপুর পর্ব শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রশাসনের ভূমিকা এবং জনঅসন্তোষ—সবকিছু মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

Preview image